খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

ফোনের ইন্টারনেট স্লো? ৯টি সহজ কৌশলে মিলবে ঝড়ের গতি

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:৫০ এএম
ফোনের ইন্টারনেট স্লো? ৯টি সহজ কৌশলে মিলবে ঝড়ের গতি

বর্তমান সময়ে ধীরগতির ইন্টারনেট যেন সবচেয়ে বিরক্তিকর বিষয়গুলোর একটি। বিশেষ করে যখন ভিডিও দেখছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্রাউজ করছেন বা অফিসের জরুরি কাজ করছেন— ঠিক তখনই নেট ধীর হয়ে গেলে অস্বস্তি চরমে ওঠে। ফোনের সফটওয়্যার সমস্যা, অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ, কিংবা নেটওয়ার্ক ত্রুটি— সব মিলিয়ে ইন্টারনেট স্পিড কমে যেতে পারে।

কিন্তু চিন্তার কারণ নেই। কয়েকটি সহজ পদক্ষেপ নিলেই বাড়ানো যায় ফোনের ইন্টারনেটের গতি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এমন নয়টি কার্যকর উপায়, যেগুলো মেনে চললে আপনার ফোনে ইন্টারনেট চলবে অনেক মসৃণভাবে।

১. ফোন রিস্টার্ট করুন

দীর্ঘদিন একটানা ব্যবহারে ফোনে কিছু সফটওয়্যার ত্রুটি জমতে পারে, যা ইন্টারনেট ধীর করে দেয়। ফোন রিস্টার্ট করলে সেই গ্লিচ দূর হয়ে সিস্টেম নতুনভাবে চালু হয় এবং ইন্টারনেটের গতি কিছুটা বেড়ে যায়।

২. সফটওয়্যার আপডেট রাখুন

পুরোনো সফটওয়্যার বা অ্যাপ অনেক সময় নেটওয়ার্কের পারফরম্যান্স কমিয়ে দেয়। তাই ফোনের সেটিংসে গিয়ে নিয়মিত চেক করুন যে, নতুন কোনো আপডেট এসেছে কি না। আপডেট ইনস্টল করলে ফোনের কর্মক্ষমতা এবং ইন্টারনেট স্পিড, দুই-ই উন্নত হয়।

৩. ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ বন্ধ রাখুন

ফোনে একাধিক অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে এবং অজান্তেই প্রচুর ডাটা ব্যবহার করে। এতে নেট ধীর হয়ে যায়। তাই যেসব অ্যাপ ব্যবহার করছেন না, সেগুলো বন্ধ করে দিন। এতে ডাটাও বাঁচবে, নেটওয়ার্কও হবে দ্রুত।

৪. ভিপিএন ব্যবহার করুন

অনেকে মনে করেন ভিপিএন ব্যবহার করলে ইন্টারনেট ধীর হয়ে যায়, কিন্তু অনেক সময় এটি উল্টো সাহায্য করে। ভিপিএন আপনার ডাটাকে এনক্রিপ্ট করে নিরাপদ সার্ভারের মাধ্যমে পাঠায়, ফলে সংযোগ আরও স্থিতিশীল হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে গতি বাড়তেও পারে।

৫. নেটওয়ার্ক পরিবর্তন করে দেখুন

কখনো কখনো সমস্যা ফোনে নয়, নেটওয়ার্কেই থাকে। তাই প্রয়োজনে অন্য কোনো ওয়াইফাই বা মোবাইল ডেটা সংযোগে গিয়ে দেখুন গতি কেমন হয়। এতে বোঝা যাবে, সমস্যা আসলে কোথায়।

৬. অ্যাড ব্লকার ইনস্টল করুন

পপ-আপ বিজ্ঞাপন শুধু বিরক্তিকরই নয়, বরং ওয়েবসাইট লোড হতে দেরি করে। এসব বিজ্ঞাপন অতিরিক্ত ছবি ও লিংক ডাউনলোড করে ডাটা খরচ বাড়ায়। ফোনে একটি ভালো অ্যাড ব্লকার অ্যাপ ইনস্টল করলে এসব বিজ্ঞাপন বন্ধ থাকবে, আর ব্রাউজারও দ্রুত চলবে।

৭. ক্যাশে ও কুকি মুছে ফেলুন

সময় গড়ালে ফোনে বিভিন্ন অ্যাপের অপ্রয়োজনীয় ডাটা জমে থাকে। এতে ফোনের কর্মক্ষমতা এবং ইন্টারনেটের গতি— দুটিই কমে যায়। নিয়মিত ক্যাশে ও কুকি মুছে ফেললে ফোন অনেকটা হালকা হয় এবং ব্রাউজিংও দ্রুত হয়।

৮. নেটওয়ার্ক সেটিংস রিসেট করুন

উপরের সব পদ্ধতি কাজ না করলে ফোনের নেটওয়ার্ক সেটিংস রিসেট করে দেখতে পারেন। এতে ওয়াই-ফাই, মোবাইল ডেটা ও ব্লুটুথ সংক্রান্ত সব পুরোনো সেটিংস মুছে গিয়ে ফোন নতুনভাবে সংযোগ নেবে।

৯. ‘ম্যাক্সিমাম লোডিং ডাটা’ অপশন চালু করুন

অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ওয়্যারলেস অ্যান্ড নেটওয়ার্ক সেটিংসে ‘GPRS to Data Prefer’ বা ‘Maximum Loading Data’ নামে একটি ফিচার থাকে। এটি অন করলে ওয়েবসাইট লোডের সময় ফোন বেশি ডাটা ব্যবহার করতে পারে, ফলে পেজ দ্রুত খুলে যায়।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে দুই দল গ্রামবাসী মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৫/২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে এ সংঘর্ষ। দুই পক্ষ ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে বারটার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন। এর জের ধরে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।