খুঁজুন
, ,

ব্যাংকিং অ্যাপে প্রতারণা: নিরাপদ থাকতে জানুন উপায়

শাহ্ মুহাম্মদ আজিজুল হক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ৬:৪৬ পূর্বাহ্ণ
ব্যাংকিং অ্যাপে প্রতারণা: নিরাপদ থাকতে জানুন উপায়

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে ডিজিটাল আর্থিক সেবার ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটেছে। ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম এবং ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার এই প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করেছে।

bKash, Nagad, Rocket এবং Upay-এর মতো সেবাগুলো আর্থিক লেনদেনের ধরন বদলে দিয়েছে, যা কোটি মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য হয়েছে। একইভাবে, অনলাইন মার্কেটপ্লেসের উত্থান নগদবিহীন লেনদেনকে উৎসাহিত করেছে, ব্যবসা ও ভোক্তাদের জন্য সুবিধা বাড়িয়েছে।

ইন্টারনেট ব্যাংকিং অ্যাপ ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে (যেমন bKash, Nagad, Rocket, Upay ইত্যাদি) লেনদেন সহজ হলেও একইসাথে ডিজিটাল প্রতারণাও বেড়েছে। নিচে কিছু সাধারণ ধরনের প্রতারণার ধরন ও পটভূমি তুলে ধরা হলো-

পটভূমি

• ইন্টারনেট ব্যাংকিং, এমএফএস ও ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার কয়েক কোটি গ্রাহককে যুক্ত করেছে।

• এই বিশাল ব্যবহারকারীর সংখ্যা হ্যাকার ও প্রতারকদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে।

• অনেক গ্রাহক এখনো ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে নতুন এবং তারা সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন নয়। তাই তারা সহজেই ফাঁদে পড়ে।

প্রতারণার ধাপসমুহ

১. আবেগীয় গল্প (Emotional Storytelling)

ইন্টারনেট ব্যাংকিং অ্যাপে প্রতারণার সবচেয়ে সাধারণ ও কার্যকর কৌশল হলো আবেগীয় গল্প বলা। প্রতারকরা জানে, মানুষ ভয়, আতঙ্ক বা লোভে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়। তাই তারা ফোনে বা মেসেজে এমন গল্প বানায় যা গ্রাহককে মানসিকভাবে দুর্বল করে ফেলে।

তারা প্রথমে ফোন করে এমন একটি গল্প শোনায় যা আপনাকে ভয় পাইয়ে দেয় বা কৌতূহলী করে তোলে।

• উদাহরণ

o ‘আপনার মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে, এখনই কোড দিলে বাঁচানো যাবে।’

o ‘আপনার অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে, রিপোর্ট দেখতে এখানে লগইন করুন।’

o ‘ভুল করে আপনার অ্যাকাউন্টে ৫ লাখ টাকা চলে এসেছে, এখনই ফেরত দিতে হবে।’

o ‘আপনার অ্যাকাউন্ট ব্লক হয়ে গেছে, এখনই সচল না করলে সব টাকা কেটে যাবে।’

o ‘আপনি সরকারি অনুদান/লটারি জিতেছেন, তথ্য দিলে টাকা পাবেন।’

এই গল্পগুলো শুনে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে প্রতারকের নির্দেশ মেনে নেয়।

২. ফিশিং লিংক (Phishing Link)

উপরের গল্পগুলো বলার পর তারা আপনাকে একটি লিংক পাঠাবে (SMS বা WhatsApp-এ)। এই লিংকটি দেখতে হুবহু আপনার ব্যাংকের অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মতো হবে। আপনি যখন লিংকে ক্লিক করবেন-

o সেখানে আপনার User ID, Password, অথবা PIN দিতে বলা হবে।

o অনেক সময় এই লিংকে ক্লিক করার সাথে সাথেই আপনার ফোনে একটি Malware (ক্ষতিকর সফটওয়্যার) ইনস্টল হয়ে যেতে পারে।

৩. ওটিপি (OTP) চুরি

আপনি যখন ওই ভুয়া লিংকে তথ্যগুলো দেবেন, হ্যাকাররা সেই তথ্য ব্যবহার করে আসল ব্যাংকিং অ্যাপে লগইন করার চেষ্টা করবে। তখন আপনার ফোনে একটি OTP আসবে। হ্যাকার আপনাকে ফোনে কথা বলে ভুলিয়ে সেই OTP-টিও নিয়ে নেবে।

৪. টাকা সরিয়ে ফেলা

একবার অ্যাকাউন্টে ঢুকে পড়লে তারা খুব দ্রুত টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে বা bKash/Nagad/Rocket এ পাঠিয়ে দেয়।

সুরক্ষার জন্য জরুরি টিপস

• লিংক এড়িয়ে চলুন : ব্যাংক কখনো ফোনে লিংক পাঠায় না।

o উদাহরণ : যদি SMS-এ লেখা থাকে ‘Click here to unblock your account’, সেটি ভুয়া।

• অফিসিয়াল অ্যাপ ব্যবহার করুন : সবসময় ব্যাংকের অফিসিয়াল অ্যাপ বা ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন।

o উদাহরণ : Play Store/App Store থেকে ডাউনলোড করা অ্যাপ ছাড়া অন্য কোনো লিংক থেকে অ্যাপ ইনস্টল করবেন না।

• সন্দেহ হলে ফোন কেটে দিন: অপরিচিত বা সন্দেহজনক কল এলে সাথে সাথে ফোন কেটে দিন।

o উদাহরণ: কেউ যদি বলে ‘আমি ব্যাংক থেকে বলছি, আপনার PIN দিন’, সাথে সাথে ফোন কেটে দিন। কারন সত্যিকারের ব্যাংক থেকে কখনো আপনার কাছে PIN/OTP চাওয়া হবে না। কারো সাথে PIN/OTP শেয়ার করবেন না।

o প্রতারণার শিকার হলে : সাথে সাথে ব্যাংকের কাস্টমার কেয়ারে কল করুন এবং থানায় জিডি করুন।

লেখক: শাহ্‌ মুহাম্মদ আজিজুল হক, আইসিটি ডিভিশন, এনসিসি ব্যাংক পিএলসি

 

একটি পোটলা, একটি লাঠি আর এক বৃদ্ধার অপেক্ষাহীন জীবন

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৯ পূর্বাহ্ণ
একটি পোটলা, একটি লাঠি আর এক বৃদ্ধার অপেক্ষাহীন জীবন

ঘড়ির কাঁটা রাত সাড়ে ৯টা ছুঁইছুঁই। বাইরে রিমঝিম বৃষ্টি। ফরিদপুর রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে মিটমিট করে জ্বলছে ডিম লাইটের ক্ষীণ আলো। দূরে কোথাও ট্রেনের হুইসেল মিলিয়ে যায় রাতের নিস্তব্ধতায়। একটি কুকুর ধীরে ধীরে পাশ ঘেঁষে চলে যায়। চারপাশে মানুষের আনাগোনা কমে এসেছে, অথচ একজন মানুষ তখনও জেগে আছে—না, চোখে নয়; জীবনের কঠিন বাস্তবতায়।

প্ল্যাটফর্মের এক কোণে মাটিতে শুয়ে আছেন এক বৃদ্ধা। গায়ে একটি পুরোনো শাড়ি। মাথার নিচে ছোট্ট কাপড়ের বালিশ। পাশে একটি পোটলা—হয়তো এটাই তার সমস্ত সম্বল। একজোড়া পুরোনো স্যান্ডেল, একটি লাঠি, আর একটি প্লাস্টিকের গামলায় রাখা পানির বোতল ও কিছু সামান্য জিনিসপত্র। মনে হয়, এই অল্প কয়েকটি জিনিসই তার পুরো পৃথিবী।

বয়স হয়তো ষাট পেরিয়েছে। মুখে সময়ের নির্মম আঁচড়, শরীরে ক্লান্তির ছাপ। সারাদিন তিনি কী খেয়েছেন, আদৌ খেতে পেরেছেন কি না—সেই খবর রাখার মানুষ হয়তো আর কেউ নেই। মাথার ওপর নেই কোনো ছাদ, অপেক্ষায় নেই কোনো আপনজন। দিনের শেষে তার ঠিকানা এই রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম, আর আকাশটাই যেন তার একমাত্র ছাদ।

হয়তো একদিন তারও ছিল একটি সংসার। ছিল সন্তানের মুখ, ছিল হাসি-আনন্দে ভরা উঠোন। সময়ের নির্মম স্রোতে হারিয়ে গেছে সব। আজ তিনি সমাজের হাজারো ব্যস্ত মানুষের চোখের সামনে থেকেও অদৃশ্য এক মানুষ। শত শত যাত্রী তার পাশ দিয়ে হেঁটে যায়, কিন্তু খুব কম মানুষই থেমে জানতে চায়—“মা, আপনি কেমন আছেন?”

সভ্যতার অগ্রগতির গল্প আমরা প্রতিদিন বলি। উন্নয়নের পরিসংখ্যান নিয়ে গর্ব করি। অথচ একটি অসহায় বৃদ্ধা যখন রেলস্টেশনের খোলা প্ল্যাটফর্মে বৃষ্টির রাতে ঘুমিয়ে থাকেন, তখন প্রশ্ন জাগে—আমাদের উন্নয়নের আলো কি তার কাছে পৌঁছেছে?

হয়তো এই বৃদ্ধা কোনো খবরের শিরোনাম হবেন না। কিন্তু তার নীরব ঘুম, তার পাশে পড়ে থাকা লাঠি আর ছোট্ট পোটলাটি আমাদের সমাজের এক কঠিন বাস্তবতার প্রতীক। মানবিকতার পরীক্ষা বড় বড় মঞ্চে নয়, এমন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই।

হয়তো একটি উষ্ণ খাবার, একটি শুকনো কম্বল, একটু চিকিৎসা কিংবা একটি নিরাপদ আশ্রয়—এসবই বদলে দিতে পারে তার আগামী সকাল। কারণ, প্রতিটি মানুষেরই সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। আর সেই অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু রাষ্ট্রের নয়, আমাদের সবার।

লেখক: সংবাদকর্মী, ফরিদপুর

এই ৪ অভ্যাস আছে? ভাইরাল হতে পারে আপনার ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি-ভিডিও

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৬:০৭ পূর্বাহ্ণ
এই ৪ অভ্যাস আছে? ভাইরাল হতে পারে আপনার ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি-ভিডিও

ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও হঠাৎ করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীরা বুঝতেই পারেন না, কীভাবে তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত অন্যের হাতে পৌঁছে গেল।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনন্দিন কিছু অসতর্ক অভ্যাসই এমন ঘটনার বড় কারণ। এসব অভ্যাস সম্পর্কে সচেতন থাকলে ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও ফাঁস বা ভাইরাল হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

কেন ভাইরাল হয় ব্যক্তিগত কনটেন্ট?

পুলিশি তদন্ত ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে সম্পর্কের অবনতি বা বিশ্বাসভঙ্গের জেরে ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও বাইরে চলে যায়। এ ছাড়া ব্ল্যাকমেল বা আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে হ্যাকাররাও এগুলোকে হাতিয়ার বানায়। হোটেল কক্ষে লুকানো ক্যামেরা বসানো, অচেনা লিংকে ক্লিক করিয়ে ফোনে ক্ষতিকর অ্যাপ ঢুকিয়ে দেওয়া কিংবা ফ্রি ক্লাউড-লিংকের ফাঁদেও পড়েন অনেকে।

ঝুঁকি বাড়ায় যে ৪ অভ্যাস–

১. সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করা

ভাইরাল ভিডিও দেখার লোভে অনেকেই অচেনা লিংকে ক্লিক করেন। সেখান থেকে টেলিগ্রাম চ্যানেল বা বিভিন্ন ক্লাউড স্টোরেজে ঢুকে পড়েন। এতে অজান্তেই গ্যালারির অ্যাক্সেস দিয়ে ফেলেন ব্যবহারকারীরা। আর সেই সুযোগ কাজে লাগায় সাইবার অপরাধীরা।

২. ভুয়া অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড

অজান্তে ভুয়া বা সন্দেহজনক অ্যাপকে গ্যালারির অনুমতি দিয়ে ফেলেন অনেকেই। এতে সরাসরি ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও চলে যায় হ্যাকারদের হাতে।

৩. সম্পর্কের টানাপড়েন

পুলিশি তদন্তে দেখা গেছে, ব্যক্তিগত মুহূর্ত ভাইরাল হওয়ার অন্যতম কারণ হলো সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া বা বিশ্বাসঘাতকতা। সঙ্গীর হাতে ফাঁস হচ্ছে ব্যক্তিগত মুহূর্ত।

৪. হোটেল কক্ষের স্পাই ক্যামেরা

বিভিন্ন হোটেল কক্ষে লুকানো ক্যামেরার ফাঁদে পড়ে বহু মানুষ ব্যক্তিগত মুহূর্ত হারাচ্ছেন। পরে সেই ছবি বা ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

কীভাবে বাঁচবেন?

পারমিশন হাইজিন মানুন: অচেনা অ্যাপকে কখনোই Photos/Media/Camera/Microphone–এর অনুমতি দেবেন না। ফোনের Settings → Apps → Permissions গিয়ে সময় নিয়ে পরখ করুন, অপ্রয়োজনীয় অনুমতি বন্ধ করুন।

লিংক-শৃঙ্খলা: কোনো ভাইরাল ভিডিও/ফটো দেখার কথা বলে আসা লিংকে ক্লিক করবেন না। বিশেষ করে ব্রাউজার থেকে অ্যাপ ইন্সটল বা ‘Join/Download’ চাপতে বললে সতর্ক হোন।

অফিসিয়াল স্টোর ব্যবহার করুন: অ্যাপ নামালেই হবে না; রেভিউ, ডাউনলোড সংখ্যা, প্রকাশকের পরিচয় দেখে নিন। Unknown Sources/Install unknown apps বন্ধ রাখুন।

ক্লাউড ব্যাকআপ বুদ্ধিমানের মতো: স্বয়ংক্রিয় ব্যাকআপ চালু থাকলে ব্যাকআপ ফোল্ডার এনক্রিপ্ট করুন, দুই স্তরের নিরাপত্তা (2FA) চালু রাখুন এবং শেয়ার্ড-লিংক সীমিত রাখুন।

ডিভাইস সুরক্ষা: ফোনে শক্তিশালী পাসকোড/বায়োমেট্রিক, স্ক্রিন-লক টাইমআউট কম, Find My Device চালু, নিয়মিত সফটওয়্যার/সিকিউরিটি আপডেট ইনস্টল করুন।

হোটেল রুমে সতর্কতা: অস্বাভাবিক স্থানে (ধোঁয়া-সেন্সর, চার্জার, ঘড়ি, টিভির নিচে) লেন্সের মতো জিনিস দেখলে পরীক্ষা করুন। ফ্ল্যাট/রুম নেওয়ার পর আলো কমিয়ে টর্চ বা ফোনের ফ্ল্যাশে লেন্সের ঝিলিক আছে কি না দেখে নিন।

সূত্র: আনন্দবাজার ডটকম

ফরিদপুরে ৫৩ লিটার চোলাই মদসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ৫৩ লিটার চোলাই মদসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ফরিদপুর সদর উপজেলার রঘুনন্দনপুর গ্রামে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৫৩ লিটার চোলাই মদ জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ সময় চোলাই মদ সংরক্ষণ ও বিক্রির অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ের একটি চৌকস দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে রঘুনন্দনপুর গ্রামের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের সময় ভারতী রানী দাস (৪০) নামে এক নারীর নিজ বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তার হেফাজত থেকে ৪৮ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে আশেক মোল্লা (৩০) নামে অপর এক ব্যক্তির হেফাজত থেকে আরও ৫ লিটার চোলাই মদ জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে মোট ৫৩ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকেই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে গোপনে ওই এলাকায় চোলাই মদ তৈরি ও বিক্রির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল বলে অভিযোগ ছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নজরদারি বাড়ানোর পর নিশ্চিত তথ্য পেয়ে অভিযান চালানো হয়।

ফরিদপুরের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক বেলায়েত হোসেন বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে ৫৩ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার এবং দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, মাদক নির্মূল এবং মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে মাদক সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।