খুঁজুন
, ,

আল্লাহর কাছে প্রিয় ১০ আমল

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ
আল্লাহর কাছে প্রিয় ১০ আমল

মানবজীবনের প্রকৃত সফলতা আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন করা। তাই একজন মুমিনের প্রতিটি শ্বাস, প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি কাজই হওয়া উচিত সেই মহান সন্তুষ্টির সন্ধানে নিবেদিত।

কিন্তু কোন কোন কাজ আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয়-এ প্রশ্নটি যুগে যুগে প্রত্যেক ঈমানদারের হৃদয়ে অনুরণিত হয়েছে। যার মাধ্যমে একজন বান্দা সহজ, সুন্দর ও শুদ্ধভাবে তার রবের নৈকট্য অর্জন করতে পারে এবং দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতার আলোক পথে অগ্রসর হতে পারে।

১. নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করা
নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় ও উত্তম আমল। আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা.) বলেন, ‘আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম: কোন আমল আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়? তিনি জবাব দিলেন-নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করা।

আমি আবার জিজ্ঞাসা করলাম: তারপর কোনটি? তিনি বললেন, তারপর মাতা-পিতার সঙ্গে সদয় আচরণ করা। আমি বললাম, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, তারপর আল্লাহর পথে জিহাদ করা।

’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১০৯৫)

২. পিতামাতার প্রতি সদয় হওয়া
আল্লাহ তাআলা মাতা-পিতার প্রতি সদয়তার নির্দেশকে তাঁর একত্ববাদের (তাওহিদ) পরপরই উল্লেখ করেছেন। তিনি মাতা-পিতার প্রতি কৃতজ্ঞতাকে নিজের প্রতি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে সংযুক্ত করেছেন। আল্লাহ বলেন : ‘আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক কোরো না; আর মাতা-পিতার সঙ্গে সদয় হও।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৩৬)
তিনি আরও বলেন, ‘তোমার প্রতিপালক আদেশ দিয়েছেন যে তোমরা তাঁর বাইরে কারো ইবাদত করবে না এবং মাতা-পিতার সঙ্গে সদয় থাকবে।

তাদের একজন বা উভয়েই যদি বার্ধক্যে তোমার কাছে পৌঁছে যায়, তবে তাদেরকে ‘উফ’ বোলো না, তাদের ধমক দিয়ো না, বরং তাদের সঙ্গে সম্মান ও কোমলভাবে কথা বোলো।’
(সুরা : ইসরা/বনি ইসরাঈল, আয়াত : ২৩)

৩. সৎকর্মে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা
ছোট আমল হলেও যদি তা নিয়মিতভাবে করা হয়, তবে তার মূল্য আল্লাহর কাছে অনেক বেশি। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো সেই আমল, যা নিয়মিত করা হয়, যদিও তা অল্প হয়।’
(সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৭৮৩)
তাই একজন মুসলমানের জন্য সৎকর্মে স্থির থাকা এবং তা নিয়মিতভাবে করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৪. কোরআন তিলাওয়াত করা
কোরআন তিলাওয়াত করা, মুখস্থ করা, গভীরভাবে এর অর্থ ও মর্মার্থ নিয়ে চিন্তা করা এবং জীবনে বাস্তবায়ন করা-এসবের মাধ্যমে একজন মুসলিম দুনিয়া ও আখিরাতে আল্লাহর কাছে উচ্চ মর্যাদা লাভ করে।

আনাস ইবন মালিক (রা.) বর্ণনা করেন, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘মানুষদের মধ্যে কিছু বিশেষ মানুষ আছে, যারা আল্লাহর নিকটবর্তী।’ সাহাবিরা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, তারা কারা?’ তিনি বলেন, ‘তারা হলো কোরআনের লোকেরা-আল্লাহর লোক এবং আল্লাহর বিশেষ মনোনীত বান্দা।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৭৯)

৫. রাস্তা থেকে ক্ষতিকারক জিনিস অপসারণ করা
সমাজ ও মানুষের উপকারে আসে এমন কাজ করা ইসলামে অত্যন্ত মহৎ আমল। তার মধ্যে অন্যতম হলো রাস্তা থেকে ক্ষতিকারক বা বিরক্তিকর জিনিস দূর করা। এটি জান্নাতে প্রবেশের কারণ হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘আমি এক ব্যক্তিকে জান্নাতে আনন্দ করতে দেখলাম, কারণ সে রাস্তা থেকে একটি কাঁটাযুক্ত ডাল বা গাছ অপসারণ করেছিল, যা মানুষের ক্ষতি করছিল।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৯১৪)

৬. আল্লাহর পথে দাওয়াত
আল্লাহর দিকে মানুষকে আহবান করা, ইসলামের বার্তা প্রচার করা এবং ছড়িয়ে দেওয়া-আল্লাহর কাছে অত্যন্ত সম্মানজনক ও প্রিয় আমলগুলোর একটি। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর কথায় তার চেয়ে উত্তম কে হতে পারে, যে আল্লাহর দিকে ডাকে, সৎকর্ম করে এবং ঘোষণা করে ‘নিশ্চয়ই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।’ (সুরা : ফুসসিলাত, আয়াত : ৩৩)

৭. বিপদগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাকে অবকাশ দেওয়া
যে ব্যক্তি আর্থিক কষ্টে আছে, যে ঋণ পরিশোধ করতে অক্ষম, তার প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করা ইসলামে অত্যন্ত মহৎ গুণ। নবী করিম (সা.) বিপদগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাকে সময় দেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। আবদুল্লাহ ইবন আবি কাতাদাহ (রা.) বলেন, আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি-‘যে ব্যক্তি চায় যে আল্লাহ তাকে কিয়ামতের দিনের বিপদ ও কষ্ট থেকে রক্ষা করুন, সে যেন কোনো বিপদগ্রস্ত ঋণগ্রহীতা ব্যক্তিকে অবকাশ দেয় অথবা তার ঋণ মাফ করে দেয়।’
(মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২২৫৫৯)

৮. মানুষের উপকার করা
আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বর্ণনা করেন যে নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘মানুষের মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় তারা, যারা মানুষের সবচেয়ে বেশি উপকার করে। আর আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় কাজ হলো কোনো মুসলিমকে আনন্দ দেওয়া, তার কষ্ট দূর করা, তার ঋণ পরিশোধ করে দেওয়া অথবা ক্ষুধার সময় তাকে আহার করানো।’
(তবারানি, হাদিস : ৬০২৬)

৯. আল্লাহর স্মরণ (জিকির) করা
আল্লাহর স্মরণ পাপ মোচনের পথ, হৃদয়ের প্রশান্তি, তাকওয়া বৃদ্ধি এবং মর্যাদা উন্নীত করার অন্যতম মাধ্যম। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যারা পুরুষ, আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করে এবং যারা নারী, আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে—আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও মহান প্রতিদান প্রস্তুত রেখেছেন।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৩৫)

মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) বর্ণনা করেন, ‘আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর কাছে কোন আমলটি সবচেয়ে প্রিয়? তিনি বলেন, ‘এভাবে মৃত্যুবরণ করা যে তোমার জিহ্বা আল্লাহর স্মরণে সিক্ত থাকবে।’
(সুনানে বায়হাকি, হাদিস : ৫১৬)

১০. রাতে ইবাদত করা ও নফল রোজা রাখা
রাতের বেলা ইবাদত করা এবং নফল রোজা রাখা—উভয়ই আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় আমল। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) আমাকে বললেন, ‘আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় রোজা হলো দাউদ (আ.)-এর রোজা; তিনি এক দিন রোজা রাখতেন এবং পরদিন রোজা ভাঙতেন। আর আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় সালাত হলো দাউদ (আ.)-এর নামাজ; তিনি রাতের অর্ধেক অংশ ঘুমাতেন, এরপর এক-তৃতীয়াংশ সময় তাহাজ্জুদ পড়তেন এবং শেষ এক-ষষ্ঠাংশ ঘুমাতেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১১৩১)

এ দুটি মহৎ অভ্যাস—রোজা ও রাতের ইবাদত বান্দাকে তার প্রভুর সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত করে।

কমলা নাকি কলা, রক্তে শর্করার জন্য কোনটি বেশি ভালো?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ
কমলা নাকি কলা, রক্তে শর্করার জন্য কোনটি বেশি ভালো?

সুস্থ থাকতে ফলের কোনো বিকল্প নেই। তবে যখন প্রশ্ন আসে রক্তে শর্করার বা ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণের, তখন অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যান যে কোন ফলটি বেছে নেবেন। বিশেষ করে জনপ্রিয় দুটি ফল কমলা এবং কলার মধ্যে কোনটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বা যারা চিনি নিয়ে সচেতন তাদের জন্য বেশি উপকারী, তা নিয়ে বিতর্ক অনেক দিনের।

যদিও উভয় ফলেই প্রাকৃতিক চিনি থাকে, কিন্তু পুষ্টিগত গঠন এবং গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের (জিআই) পার্থক্যের কারণে শরীরের রক্তে শর্করার মাত্রায় এদের প্রভাব ভিন্ন হয়।

আজকের ফিচারে আমরা বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে খুঁজে দেখব, আপনার শরীরের জন্য এই দুটি ফলের মধ্যে কোনটি বেশি নিরাপদ এবং কীভাবে খেলে আপনার শর্করা থাকবে নিয়ন্ত্রণে।

গ্লাইসেমিক ইনডেক্সে কে এগিয়ে?

রক্তে শর্করার ব্যবস্থাপনায় কমলার পাল্লা কিছুটা ভারী বলে মনে করা হয়। কারণ কমলার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই) মাত্র ৩৫, যা বেশ কম। অন্যদিকে, একটি পাকা কলার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স সাধারণত ৪৮ এর কাছাকাছি থাকে। যেহেতু কমলার জিআই কম, তাই এটি রক্তে শর্করার মাত্রা কলার তুলনায় ধীরে বৃদ্ধি করে।

পুষ্টির তুলনা: একনজরে

একটি মাঝারি আকারের কলা (১১৮ গ্রাম) এবং একটি মাঝারি কমলার (১৩১ গ্রাম) পুষ্টিগুণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:

ক্যালরি: কলায় থাকে ১০৫ ক্যালরি, যেখানে কমলায় থাকে মাত্র ৬১.৬ ক্যালরি।

কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা: কলায় শর্করার পরিমাণ ২৬.৯ গ্রাম, অন্যদিকে কমলায় তা ১৫.৫ গ্রাম।

ভিটামিন সি: কমলায় প্রায় ৬৯ দশমিক ৭ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকে (দৈনিক চাহিদার ৭৭%), যা কলার (১০.৩ মিলিগ্রাম) তুলনায় অনেক বেশি। শর্করার পরিমাণ কম এবং ভিটামিন সি-এর আধিক্যের কারণে কমলা রক্তে শর্করার ভারসাম্য রক্ষায় কিছুটা বেশি সুবিধাজনক।

কলার গুণাগুণ: পাকা নাকি আধাপাকা?

কলা খাওয়ার ক্ষেত্রে এর পরিপক্কতা বা কতটা পেকেছে তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কম পাকা বা কিছুটা সবুজ কলায় ‘রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ’ নামক এক ধরণের কার্বোহাইড্রেট থাকে, যা সহজে হজম হয় না এবং রক্তে শর্করার শোষণকে ধীর করে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এই ধরণের স্টার্চ ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতেও সাহায্য করতে পারে। তবে কলা যত বেশি পাকে, তার জিআই তত বাড়তে থাকে এবং তা দ্রুত রক্তে শর্করা বাড়িয়ে দিতে পারে।

কমলার বিশেষ বৈশিষ্ট্য

কমলায় থাকা সাইট্রাস পেকটিন নামক দ্রবণীয় ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয় এবং খাবারের পর রক্তে শর্করার শোষণ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। এছাড়া এতে থাকা হেস্পেরিডিন এবং নারিঞ্জিনের মতো ফ্ল্যাভোনয়েডগুলি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা বিপাকীয় স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়।

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রেখে ফল খাওয়ার কিছু কৌশল

আপনি কলা বা কমলা যা-ই পছন্দ করুন না কেন, রক্তে শর্করার প্রভাব কমাতে নিচের নিয়মগুলো মেনে চলতে পারেন:

১. আস্ত ফল খান, রস নয়: ফলের রস করলে এর প্রয়োজনীয় ফাইবার নষ্ট হয়ে যায়, ফলে তা দ্রুত রক্তে শর্করা বাড়িয়ে দেয়। তাই সব সময় আস্ত ফল খাওয়ার চেষ্টা করুন।

২. প্রোটিন বা স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের সাথে খান: ফলের সাথে কিছু বাদাম, গ্রিক ইয়োগার্ট বা পনির মিশিয়ে খেলে হজম ধীর হয় এবং সুগার স্পাইক বা শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি কমে।

৩. পরিমিত মাত্রা: ফল যত উপকারীই হোক না কেন, পরিমাণে বেশি খেলে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই সব সময় পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস করুন।

৪. কলা কিনুন কিছুটা কাঁচা: ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিস থাকলে খুব বেশি পাকা কলার চেয়ে কিছুটা কম পাকা বা শক্ত কলা বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

শেষকথা

কমলা এবং কলা উভয়ই স্বাস্থ্যকর ডায়েটের অংশ হতে পারে। তবে যাদের রক্তে শর্করার সমস্যা আছে, তাদের জন্য কম শর্করার কারণে কমলা কিছুটা এগিয়ে থাকলেও, নিয়ম মেনে পরিমিত পরিমাণে কলা খাওয়াও সম্পূর্ণ নিরাপদ।

তথ্যসূত্র: ভেরিওয়েল হেলথ

 

ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে সেক আব্দুল্লাহ (৫) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত আব্দুল্লাহ উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের চর অমরাপুর গ্রামের সেক শাহেদের ছেলে। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল পরিবারের সবার ছোট এবং অত্যন্ত আদরের সন্তান।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে বাড়ির পেছনে খেলাধুলা করছিল আব্দুল্লাহ। এ সময় একটি কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে থাকা বিষাক্ত সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। কামড় খাওয়ার পর শিশুটি বাড়িতে এসে মাকে জানায়, তাকে ‘ব্যাঙে কামড় দিয়েছে’। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না নেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে নিয়ে যান, যিনি নিজেকে ঝাড়ফুঁক ও চিকিৎসাজ্ঞানসম্পন্ন বলে পরিচয় দেন।

শিশুটির চাচি আখি আক্তার জানান, স্থানীয় শহীদ ফকির নামে এক ব্যক্তির কাছে নেওয়ার পর তিনি কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন, এটি সাপের কামড় নয়। তার কথায় আশ্বস্ত হয়ে কিছু সময় সেখানে কাটানো হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই আব্দুল্লাহর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে শুরু করে।

পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও দুপুরের দিকে শিশুটি মারা যায়।

গাজিরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “প্রথমে শিশুটিকে স্থানীয় এক ফকিরের কাছে নেওয়া হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”

আব্দুল্লাহর অকাল মৃত্যুতে পরিবারজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো চর অমরাপুর গ্রাম। প্রতিবেশীরাও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে শ্বশুরবাড়িতে এসে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন আব্দুল কারিম মুন্সী (৪২) নামে এক ব্যক্তি।

শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের আলগাদিয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল কারিম মুন্সী ভাঙ্গা উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মৃত জালাল মুন্সীর ছেলে। তিনি নগরকান্দার আলগাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ওমর আলী শেখের জামাতা ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল কারিম ও তার স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং কোনো স্থায়ী পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এসব কারণে তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি লেগেই থাকত। একপর্যায়ে কোরবানির ঈদের প্রায় এক সপ্তাহ আগে তার স্ত্রী একতরফাভাবে তাকে তালাক দেন।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের ধারণা, তালাকের পর থেকেই আব্দুল কারিম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। ঘটনার আগের রাতে তিনি শ্বশুরবাড়িতে আসেন। পরে শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় শ্বশুর ওমর আলী শেখের টিনশেড বসতঘরের সিঁড়ির আড়ার সঙ্গে দড়ি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে খবর পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।