খুঁজুন
শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২৮ চৈত্র, ১৪৩২

ইসলামে ব্যক্তিস্বাধীনতার নানা দিক

আলেমা হাবিবা আক্তার
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৪৬ অপরাহ্ণ
ইসলামে ব্যক্তিস্বাধীনতার নানা দিক

ইসলাম মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতার স্বীকৃতি প্রদান করে। আল্লাহ মানবজাতিকে যে সম্মান ও শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন তার দাবিও মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতা নিশ্চিত করা।

তবে ইসলামে ব্যক্তির স্বাধীনতা নিঃশর্ত নয়। কেননা নিঃশর্ত স্বাধীনতা মানুষের পশু প্রবৃত্তিকে জাগ্রত করে।

ফলে সে নিজের ও অন্যের ক্ষতি করে, তার ভ্রুক্ষেপহীন আচরণ মনুষ্যত্বকে অপমান করে। শুধু ইসলাম নয়, পৃথিবীর কোনো ধর্ম, সমাজ ও সভ্যতায় ব্যক্তিস্বাধীনতা নিঃশর্ত নয়।

সমাজেই ধর্মীয় বিধান ও আইনি বাধ্যবাধকতার মাধ্যমে মানুষের মন্দ প্রবণতা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ রয়েছে।
ইসলামের দৃষ্টিতে ব্যক্তির স্বাধীনতা নিছক কোনো বস্তুগত বিষয় নয়, বরং এর সঙ্গে ব্যক্তির আধ্যাত্মিক মুক্তির প্রশ্নটিও গভীরভাবে জড়িত।

ইসলামে ব্যক্তিস্বাধীনতার মূল দর্শন হলো ব্যক্তি গাইরুল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া সবকিছু) থেকে মুক্তি লাভ করবে এবং সে প্রবৃত্তির দাসত্ব থেকে দূরে থাকবে। সুতরাং ইসলাম ততক্ষণ পর্যন্ত মানুষের স্বাধীনতা স্বীকার করে, যতক্ষণ পর্যন্ত সে নিজের বা অন্যের ক্ষতির কারণ না হয়। ইসলাম সেই ব্যক্তির স্বাধীনতা স্বীকার করে না যে সমাজে ফেতনা ও বিশৃঙ্খলা ছড়াতে চায়। বিপরীতে আধুনিক সমাজের কেউ কেউ মানুষের এমন অবাধ স্বাধীনতার দাবিদার, যা মানুষের মনুষ্যত্বকে ধ্বংস করে এবং তাকে প্রবৃত্তির বলি বানায়; তারা এমন স্বাধীনতার কথা বলে, যা মানুষের দেহ ও আত্মার জন্য অপমানজনক।
ব্যক্তিস্বাধীনতার নানা দিক

ইসলামে ব্যক্তিস্বাধীনতার কয়েকটি দিক ও দর্শন তুলে ধরা হলো—

১. মানুষ স্বাধীন সত্তার অধিকারী : ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষ স্বাধীন সত্তার অধিকারী। তাকে দাসে পরিণত করা এবং তার সঙ্গে দাসসুলভ আচরণ করা অন্যায়। মানুষ দাসত্ব করবে কেবল তার মহান স্রষ্টার। এ জন্য মিসরের প্রশাসক আমর ইবনুল আস (রা.)-এর ছেলে এক নাগরিককে বেত্রাঘাত করলে ওমর (রা.) বলেন, ‘তোমরা কখন মানুষকে দাসে পরিণত করলে, অথচ তাদের মা তাদের স্বাধীন হিসেবে জন্ম দিয়েছে।’
(আল ফারুক ওমর (রা.) : ২/১৯৮)

এ কারণেই পবিত্র কোরআনে মানুষকে এই প্রার্থনা শেখানো হয়েছে, ‘আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং আপনারই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি।’
(সুরা : ফাতিহা, আয়াত : ৫)

২. জ্ঞান আহরণের স্বাধীনতা : ইসলাম সর্বশ্রেণির মানুষের জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও গবেষণার দরজা উন্মুক্ত রেখেছে এবং ইসলাম মানুষকে শৈশব থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জ্ঞান আহরণে উদ্বুদ্ব করেছে। পবিত্র কোরআনের একাধিক আয়াতে মানুষকে আল্লাহর সৃষ্টিজগত নিয়ে গভীর অনুসন্ধান ও গবেষণা করার আহবান জানানো হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে, রাত-দিনের পরিবর্তনে, যা মানুষের উপকার করে তাসহ সমুদ্রে বিচরণশীল নৌযানগুলোতে, আল্লাহ আকাশ থেকে যে বারিবর্ষণ দ্বারা পৃথিবীকে তার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন তাতে এবং তার মধ্যে যাবতীয় জীবজন্তুর বিস্তারণে, বায়ুর দিক পরিবর্তনে, আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যে নিয়ন্ত্রিত মেঘমালায় জ্ঞান জাতির জন্য নিদর্শন আছে।’
(সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৬৪)

৩. রাজনৈতিক স্বাধীনতা : মানুষের ব্যক্তিজীবনে রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিশেষ গুরুত্ব আছে। ইসলাম মানুষের এই অধিকার প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে। ফলে ইসলামী রাষ্ট্রে ব্যক্তি শাসক নির্বাচনে মতামত দিতে পারে, শরিয়তের সীমার মধ্যে থেকে শাসককে ভালো-মন্দের পরামর্শ দিতে পারে, শাসকের যৌক্তিক সমালোচনা করতে পারে, কোনো জুলুম ও অবিচারের শিকার হলে তার প্রতিকার রাষ্ট্রের কাছে চাইতে পারে, শাসক যদি আল্লাহর অবাধ্য হয় তবে ব্যক্তিও তার অবাধ্য হতে পারে। আর জনগণের মতামতের মূল্যায়ন করতে আল্লাহর নির্দেশনা হলো, ‘আর কাজে-কর্মে তাদের সঙ্গে পরামর্শ কোরো।’
(সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৫৯)

৪. সমাজজীবনে স্বাধীনতা : ইসলাম ব্যক্তিকে সমাজজীবনে স্বাধীনভাবে নিজের মতামত প্রকাশের অধিকার দিয়েছে। ফলে সে সমাজের মানুষকে মন্দ থেকে বারণ করতে পারবে এবং নেক কাজে উৎসাহিত করতে পারবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মুমিন নর ও মুমিন নারী একে অন্যের বন্ধু, তারা সৎকাজের নির্দেশ দেয় এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করে, নামাজ কায়েম করে, জাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, তাদেরই আল্লাহ কৃপা করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী।’
(সুরা : তাওবা, আয়াত : ৭১)

৫. ধর্মবিশ্বাসের স্বাধীনতা : ইসলাম মানুষের ধর্মীয় জীবনের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। ইসলাম মনে করে, ব্যক্তি বিশ্বাসের ক্ষেত্রে স্বাধীন এবং পরকালে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি তাকেই করতে হবে। তবে কেউ ইসলাম গ্রহণের পর তা ত্যাগ করার অধিকার রাখে না। কেননা এতে মহান আল্লাহ, তাঁর রাসুল ও দ্বিন ইসলামের অসম্মান হয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘দ্বিন সম্পর্কে জোর-জবরদস্তি নেই; সত্যপথ ভ্রান্ত পথ থেকে সুস্পষ্ট হয়েছে। যে তাগুতকে অস্বীকার করবে এবং আল্লাহে ঈমান আনবে সে এমন এক মজবুত হাতল ধরবে যা কখনো ভাঙবে না। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, প্রজ্ঞাময়।’
(সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৫৬)

৬. ভাষা ও সংস্কৃতির স্বাধীনতা : পৃথিবীর মানুষ বিচিত্র ভাষা, বর্ণ ও সংস্কৃতির মধ্যে বসবাস করে। প্রত্যেকের জীবনধারা ও রীতিনীতি ভিন্ন। ইসলাম মৌলিক কিছু শর্তে পৃথিবীর ভাষা, বর্ণ ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের স্বীকৃতি দেয়। আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহর নিদর্শন হলো আসমানগুলো ও পৃথিবীর সৃষ্টি, তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য। নিশ্চয়ই এতে জানীদের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে।’
(সুরা : রোম, আয়াত : ২২)

মোট কথা, ইসলাম মানবপ্রকৃতি ও মানবকল্যাণের শর্তে মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে স্বাধীনতা স্বীকার করে। ইসলামে ব্যক্তিস্বাধীনতার মূলকথা হলো, মানুষ আল্লাহর দাসত্বের অধীনে থেকে যাবতীয় স্বাধীনতা ভোগ করবে। আল্লাহ সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন।

চাকরির বড় সার্কুলার আসছে, ছয় মাসে ৫ লাখ নিয়োগের প্রস্তুতি

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৪১ অপরাহ্ণ
চাকরির বড় সার্কুলার আসছে, ছয় মাসে ৫ লাখ নিয়োগের প্রস্তুতি

নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী সরকারের বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থায় শূন্যপদে পাঁচ লাখ জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এসব নিয়োগ শেষ করতে চায় সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রমতে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-বিভাগ ও দপ্তর-সংস্থার শূন্যপদে নিয়োগের পরিকল্পনা ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পাঠিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

পিএসসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে জানতে চেয়েছে আগামী ৬ মাসের মধ্যে পিএসসি কতজন জনবল নিয়োগ দেবে। আমরা আমাদের পুরো পরিকল্পনা জানিয়েছি। তবে কোন পদে কতজন নিয়োগ হবে, তা নথি দেখে বলতে হবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সম্প্রতি জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সব মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পরিকল্পনা পেয়েছেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী বলেন, এখন বাস্তবায়নের কাজ চলছে।জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারীও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে ৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের চেষ্টা চলছে।

এদিকে পাঁচ লাখ নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিপরীতে সরকারের সাড়ে ৮ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্র। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) শেষ চার মাসে (মার্চ-জুন) লাগবে সাড়ে ৪ কোটি টাকা। আর আগামী অর্থবছরের (২০২৬-২৭) জুলাই ও আগস্টে লাগবে ৪ কোটি টাকা।

বড় এই নিয়োগে সরকার কত শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবে—এ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়া। তিনি বলেন, অনেক দপ্তর-সংস্থায় পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। কিন্তু নিয়োগবিধি তৈরি করা হয়নি। এ ছাড়া প্রবিধিমালা ও আইনি আরও কিছু সমস্যা রয়েছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ।

তিনি আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে পাঁচটি পদে রাজনৈতিক তদবির থাকে ১০টি। তখন নিয়োগ সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ জন্য রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না থাকলে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সহজ হবে।

বর্তমানে ১৪ লাখ ৫০ হাজারের বেশি সরকারি চাকরিজীবী কর্মরত। শূন্যপদ আছে আরও চার লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ।

বর্তমানে সরকারি চাকরির প্রথম শ্রেণিতে কর্মরত এক লাখ ৯০ হাজার ৭৭৩ জন, শূন্যপদ আছে আরও ৬৮ হাজার ৮৮৪টি। দ্বিতীয় শ্রেণিতে কর্মরত দুই লাখ ৩৩ হাজার ৭২৬ জন, শূন্যপদ এক লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি। তৃতীয় শ্রেণিতে কর্মরত ছয় লাখ ১৩ হাজার ৮৩৫ জন, শূন্যপদ এক লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি। চতুর্থ শ্রেণিতে কর্মরত চার লাখ চার হাজার ৫৭৭ জন, শূন্যপদ এক লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি।

তথ্যসূত্র: সমকাল

ব্র্যাক ব্যাংকে ইন্টার্নশিপের সুযোগ, মাসিক ভাতা ১৫,০০০

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৩০ অপরাহ্ণ
ব্র্যাক ব্যাংকে ইন্টার্নশিপের সুযোগ, মাসিক ভাতা ১৫,০০০

ব্র্যাক ব্যাংকে পিএলসি ইন্টার্ন পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ২১ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। মোট কতজন নেওয়া হবে, তা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।ইন্টার্নশিপের বিবরণ

এই ইন্টার্নশিপটি ৩ মাস মেয়াদি এবং এটি পূর্ণকালীন (ফুল-টাইম) ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।

যোগ্যতা

প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইন্টার্নশিপের অনুমতি থাকতে হবে। ব্যাংকিং, ফাইন্যান্স, প্রযুক্তি বা করপোরেট কার্যক্রমে আগ্রহ থাকা এবং ভালো একাডেমিক ফলাফল থাকতে হবে। পাশাপাশি ভালো যোগাযোগ দক্ষতা, ইন্টারপারসোনাল স্কিল এবং এমএস অফিসে মৌলিক দক্ষতা থাকা আবশ্যক। কর্মস্থল

বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে কাজ করার সুযোগ থাকবে।

ভাতা

নির্বাচিত ইন্টার্নদের মাসিক ১৫,০০০ টাকা ভাতা দেওয়া হবে।

আবেদনের নিয়ম

আগ্রহী প্রার্থীদের এই ওয়েবসাইটের  মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।

আবেদনের শেষ তারিখ: ২১ এপ্রিল ২০২৬

শিশুর হাম হলে খাদ্যতালিকায় যেসব খাবার রাখবেন

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:১৯ অপরাহ্ণ
শিশুর হাম হলে খাদ্যতালিকায় যেসব খাবার রাখবেন

আবহাওয়া পরিবর্তনের এই সময়ে ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে হাম আর চিকেন পক্স। এ রোগের প্রার্দুভাব বেশ জোরালো দেখা যাচ্ছে। প্রতিদিনেই হাম ও চিকেন পক্সের কারণে শিশুমৃত্যুর দুঃসংবাদ পাওয়া যাচ্ছে। এ রোগের প্রকোপ অনেকটা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে শিশুরা এসব রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এই সময়ে সুস্থ হতে ওষুধের চেয়ে মা-বাবার উচিত শিশুর সঠিক খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া।

এই সময়ে ঘন ঘন জ্বর আর সারা গায়ে অস্বস্তিকর র‌্যাশ বের হলে শিশু ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই শিশুকে শুধু ফলের রস না খাইয়ে মৌসুমি সবজি দিয়ে তৈরি পুষ্টিকর স্যুপ খাওয়ানো যেতে পারে। সোনা মুগ ডাল, গাজর ও পেঁপে সেদ্ধ করে তাতে সামান্য ঘি মিশিয়ে দিলে শরীরে প্রোটিনের চাহিদা মেটাবে।

কারণ হাম কিংবা চিকেন পক্স হলে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরল বেরিয়ে পানিশূন্যতা তৈরি হয়। সে কারণে ভাইরাসের প্রকোপে শিশুর শরীরে ভিটামিন এ, সি, জিঙ্ক ও প্রোটিনের প্রবল ঘাটতিও দেখা দিতে পারে। এর ফলে শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও অনেকটা কমে যায়।

আর শিশুর শরীরে ভিটামিন ‘সি’র চাহিদা পূরণে শিশুকে নিয়মিত কমলালেবু, মুসাম্বির রস কিংবা পেয়ারা খাওয়ানো ভীষণ প্রয়োজন। ভিটামিন ‘এ’র ঘাটতি মেটাতে এবং চোখের সংক্রমণ কমাতে খাদ্যতালিকায় গাজর, মিষ্টি কুমড়া, পাকা পেঁপে ও পালংশাকের মতো খাবার রাখতে হবে।

কারণ শিশুর অসুখের সময়ে অরুচি হয়। এ সময় জোর করে ভাত না খাইয়ে পাতলা করে দুধ-সুজি কিংবা সাবুদানার খিচুড়ি রান্না করে খাওয়াতে পারেন। ওটস বা সবজি দিয়ে ডালিয়াও এ সময়ে শিশুর জন্য বেশ উপকারী। দুপুরের দিকে ভাত আর ডাল-সবজি খাওয়ালে বিকাল কিংবা সন্ধ্যায় আম বা আপেল সেদ্ধ চটকে দিতে পারেন।

আর শিশু যদি দুধ খেতে না চায় কিংবা তার দুধে অ্যালার্জি থাকে, তাহলে বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন ধরনের বাদাম খাওয়ানো যেতে পারে। আখরোট, কাঠবাদাম কিংবা কাজুবাদাম শিশুর শরীরে ক্যালসিয়ামের অভাব মেটাতে সাহায্য করে।

শিশুর খাবারে প্রোটিন নিশ্চিত করতে ছোট মাছ কিংবা জ্যান্ত জিওল মাছ খাওয়ানো ভালো। শিং বা মাগুর মাছ থেকে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যাবে, সেই সঙ্গে তার শরীরের দুর্বলতাও দ্রুত কেটে যাবে। তবে এটা ঠিক—মাছ, মাংস কিংবা ডিম সব কিছু শিশুকে একদিনে খাওয়ার চেষ্টা করবেন না। খাবারের তালিকায় বৈচিত্র্য আনতে এগুলো ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেতে দিন।