খুঁজুন
সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১৪ বৈশাখ, ১৪৩৩

ঈদের নামাজের নিয়ম-নিয়ত, এক নজরে দেখে নিন

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ৭:৫৭ পূর্বাহ্ণ
ঈদের নামাজের নিয়ম-নিয়ত, এক নজরে দেখে নিন

রমজান মাসের দীর্ঘ সিয়াম সাধনার পর মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে আনন্দময় ও তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্তগুলোর একটি হলো ঈদের সকাল। সারা মাস সংযম, ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির অনুশীলনের পর ঈদের দিনটি আসে খুশি, কৃতজ্ঞতা ও আল্লাহর দরবারে মাথা নত করার এক অনন্য বার্তা নিয়ে।

এই দিনের সূচনা হয় পবিত্র ঈদের নামাজের মাধ্যমে। ঈদের জামাতে মুসল্লিদের ঢল, তাকবিরের ধ্বনি, পরস্পরের কোলাকুলি; সব মিলিয়ে এটি শুধু একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও আনন্দের প্রতীক।

তবে অনেকের মধ্যেই ঈদের নামাজের নিয়ত ও নিয়ম নিয়ে কিছুটা সংশয় বা প্রশ্ন দেখা যায়। ঈদের নামাজে অতিরিক্ত তাকবির থাকার কারণে এর পদ্ধতিও সাধারণ ফরজ নামাজের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন। তাই সঠিকভাবে নামাজ আদায়ের জন্য নিয়ত, তাকবির, কেরাত ও অন্যান্য বিধান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

ইসলামি শরিয়তে ঈদুল ফিতরের নামাজ ওয়াজিব। এই নামাজে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ছয়টি অতিরিক্ত তাকবির বলা হয় এবং তা জামাতে আদায় করা হয়। নিয়ত করার পদ্ধতি, নামাজের ধাপগুলো কীভাবে সম্পন্ন করতে হয়, কোন সুরা পড়া সুন্নত এবং কেরাত কীভাবে আদায় করতে হয়—এসব বিষয় জানা থাকলে ঈদের নামাজ আরও সুন্দর ও শুদ্ধভাবে আদায় করা সম্ভব হয়।

নিচে ঈদের নামাজের নিয়ত, নিয়ম, কেরাত এবং এ সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় বিধানগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো

ঈদের নামাজের নিয়ত

মনের ইচ্ছাই নিয়ত। ঈদুল ফিতরের নামাজে দাঁড়ানোর সময় আমাদের স্মরণে থাকে, আমরা ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করছি, এই স্মরণটাই মূলত নিয়ত। এই নিয়তের সঙ্গে মনে রাখতে হবে, ‘ঈদের নামাজ ওয়াজিব এবং এ নামাজে ছয় তাকবির আছে।’

এভাবে নিয়ত করা যায়, ‘আমি কেবলামুখী হয়ে ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ ছয় তাকবিরের সঙ্গে আদায়ের নিয়ত করছি।’ তারপর আল্লাহু আকবার বলে নামাজ শুরু করা। যারা বিশুদ্ধভাবে আরবি বলতে পারেন, তারা আরবিতেও নিয়ত করতে পারেন। আরবি নিয়ত করা বা মুখে উচ্চারণ করা আবশ্যকীয় নয়।

প্রচলিত আরবি নিয়তটি হলো, نَوَيْتُ أنْ أصَلِّي للهِ تَعَالىَ رَكْعَتَيْنِ صَلَاةِ الْعِيْدِ الْفِطْرِ مَعَ سِتِّ التَكْبِيْرَاتِ وَاجِبُ اللهِ تَعَالَى اِقْتَضَيْتُ بِهَذَا الْاِمَامِ مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اللهُ اَكْبَرْ

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তাআলা রাকাআতাইন সালাতিল ঈদিল ফিতরি মাআ সিত্তাতিত তাকবিরাতি ওয়াজিবুল্লাহি তাআলা ইকতাদাইতু বিহাজাল ইমামি মুতাওয়াজজিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি আল্লাহু আকবার।

বাংলা অর্থ : আমি ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ অতিরিক্ত ৬ তাকবিরের সঙ্গে এই ইমামের পেছনে কেবলামুখী হয়ে আল্লাহর জন্য আদায় করছি আল্লাহু আকবার।

ঈদের নামাজের নিয়ম

ঈদের নামাজ দুই রাকাত। নিয়ত করে তাকবিরে তাহরিমা বলে নামাজ শুরু করে ছানা পড়বে। ছানা পড়ার পর ‘আল্লাহু আকবার’ ‘আল্লাহু আকবার’ ‘আল্লাহু আকবার’ বলে আরও তিনটি তাকবির বলবে।

প্রথম দুই তাকবির বলার সময় উভয় হাত কানের লতি পর্যন্ত উঠিয়ে হাত না বেঁধে ছেড়ে দেবে। তৃতীয় তাকবির বলার সময় কানের লতি পর্যন্ত হাত উঠিয়ে বেঁধে নেবে। অতঃপর সুরা-কেরাত পড়ে রুকুতে যাবে এবং প্রথম রাকাত শেষ করবে।

দ্বিতীয় রাকাতে দাঁড়িয়ে সুরা-কেরাত পড়ে রুকুতে যাওয়ার পূর্বে আগের নিয়মে তিনটি তাকবির বলবে। তবে দ্বিতীয় রাকাতে তৃতীয় তাকবির বলার সময়ও হাত না বেঁধে ছেড়ে দেবে। অতঃপর চতুর্থ তাকবির বলে রুকু করবে। এরপর অন্যান্য নামাজের ন্যায় যথারীতি নামাজ শেষ করবে। (কিতাবুল আছল : ১/৩১৯, আলহাবীল কুদসী : ১/২৪৩)

কেরাত

ঈদের নামাজে প্রথম রাকাতে ‘সুরা আ‘লা’ এবং দ্বিতীয় রাকাতে ‘সুরা গাশিয়াহ’ বা প্রথম রাকাতে ‘সুরা কফ’ এবং দ্বিতীয় রাকাতে ‘সুরা কমার’ পড়া সুন্নত। হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের নামাজে এ সুরাগুলো পড়তেন। তবে অন্য যে কোনো সুরাও পড়া যেতে পারে। (মুসলিম : ৮৭৮, সুনানে নাসায়ী : ১৫৬৭, কিতাবুল আছল : ১/৩২১, আলমুহীতুল বুরহানী : ২/৫০০)

কেরাত কীভাবে পড়বে?

জুমার নামাজের ন্যায় ঈদের নামাজের কেরাতও উচ্চৈঃস্বরে পড়া ওয়াজিব। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদ ও ইস্তেসকার নামাজে কেরাত উচ্চৈঃস্বরে পড়তেন (সুনানে দারাকুতনী : ১৮০৩, জামে সগীর : পৃ. ১১৪)। তাই ইমাম সাহেব উভয় রাকাতেই কেরাত উচ্চৈঃস্বরে পড়বেন।

সূত্র : কালবেলা

ফরিদপুরের পদ্মায় জেলের বরশিতে ধরা পড়ল কুমির

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৩৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের পদ্মায় জেলের বরশিতে ধরা পড়ল কুমির

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মা নদীতে জেলের বরশিতে একটি কুমির ধরা পড়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার গোপালপুর এলাকার পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে জেলেদের হাজাইরা বরশিতে কুমিরটি আটকা পড়ে।

স্থানীয় জেলেরা জানান, প্রতিদিনের মতোই তারা ভোরে নদীতে মাছ ধরতে যান। এ সময় হঠাৎ করে তাদের বরশিতে বড়সড় কিছু আটকে যায়। প্রথমে মাছ ভেবে টানতে থাকলেও পরে কাছে এনে দেখেন সেটি একটি কুমির। পরে তারা সতর্কতার সঙ্গে কুমিরটিকে উদ্ধার করে চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়নের কাজি বাড়ির ঘাটে নিয়ে আসেন।

কুমির ধরা পড়ার খবর দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতা নদীর পাড়ে ভিড় জমায়। স্থানীয়দের অনেকেই জীবনে প্রথমবারের মতো কাছ থেকে কুমির দেখার সুযোগ পান।

উদ্ধার কাজে অংশ নেওয়া প্রত্যক্ষদর্শী স্বপন ব্যাপারী, রাজীব ব্যাপারী, রবিউল ব্যাপারী ও বিল্লাল খান জানান, কুমিরটি বরশির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ায় তারা সেটিকে সাবধানে নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং প্রশাসনের কাছে হস্তান্তরের জন্য ঘাটে নিয়ে আসেন।

এ বিষয়ে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজ বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার পর আমরা বনবিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কুমিরটিকে নিরাপদে উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

চরভদ্রাসন উপজেলা ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা ফজলে করিম জানান, তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। কুমিরটি উদ্ধারের জন্য খুলনা থেকে একটি বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল রওনা দিয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নদীর পানির স্রোত ও পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে কুমিরটি পদ্মা নদীর এই অংশে চলে এসেছে। বনবিভাগের দল এসে কুমিরটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে এবং প্রয়োজন হলে এটিকে নিরাপদ আবাসস্থলে স্থানান্তর করা হবে।

এদিকে, স্থানীয় প্রশাসন জনসাধারণকে কুমিরটির কাছাকাছি না যাওয়ার জন্য সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে।

কওমি সনদের স্বীকৃতি : পূর্ণ বাস্তবায়নের অপেক্ষা আর কতকাল?

মুফতী নিজাম উদ্দিন আল আদনান
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:১০ পূর্বাহ্ণ
কওমি সনদের স্বীকৃতি : পূর্ণ বাস্তবায়নের অপেক্ষা আর কতকাল?

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড এবং দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি। একটি ভূখণ্ডে যখন বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠী রাষ্ট্রস্বীকৃত শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে অবস্থান করে, তখন দেশের সুষম উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে বাধ্য।

এই বাস্তবতা উপলব্ধি করেই ২০১৮ সালে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোর সর্বোচ্চ স্তর ‘দাওরায়ে হাদিস’কে মাস্টার্স (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) সমমান দিয়ে আইন পাস করা হয়েছিল। নিঃসন্দেহে এটি ছিল যুগান্তকারী এবং প্রশংসনীয় একটি পদক্ষেপ।

এর মাধ্যমে যুগ যুগ ধরে অবহেলিত লাখ লাখ কওমি শিক্ষার্থীর সামনে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির এক বিশাল দ্বার উন্মোচিত হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আইনি স্বীকৃতি মিললেও প্রায় এক দশক পার হয়ে যাওয়ার পরও এই স্বীকৃতির পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর বাস্তবায়ন আজও অধরাই থেকে গেছে। ফলে যে বিপুল সম্ভাবনা নিয়ে এই সিদ্ধান্তের সূচনা হয়েছিল, তা যেন আজ এক অদৃশ্য দেয়ালে এসে থমকে দাঁড়িয়েছে।

কওমি সনদের এই খণ্ডিত স্বীকৃতির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো এর নিচের স্তরগুলোর কোনো স্বীকৃতি না থাকা। একজন শিক্ষার্থী যখন দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন, তখন তিনি কেবল মাস্টার্স সমমানের একটি সনদ পান। কিন্তু এর পূর্ববর্তী ধাপগুলো অর্থাৎ ইবতিদাইয়্যাহ, মুতাওয়াসসিতাহ, সানাবিয়্যাহ ও ফজিলতকে যথাক্রমে প্রাথমিক, জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি সমমান প্রদান করা হয়নি।

যেকোনো সাধারণ বা সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে প্রতিটি স্তরের সনদের তথ্য এবং জিপিএ উল্লেখ করার বাধ্যবাধকতা থাকে। কিন্তু কওমি শিক্ষার্থীদের নিচের স্তরগুলোর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা রাষ্ট্রীয় সমমান না থাকায় তারা চাইলেও সাধারণ চাকরির প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারছেন না। ফলশ্রুতিতে মাস্টার্স সনদ পকেটে নিয়েও হাজার হাজার মেধাবী তরুণ বেকারত্বের গ্লানি টানছেন অথবা নির্দিষ্ট কিছু ধর্মীয় পরিমণ্ডলের বাইরে তাদের কর্মক্ষেত্রের পরিধি বাড়াতে পারছেন না। এটি কেবল ওই শিক্ষার্থীদের প্রতি অবিচার নয়, বরং জাতীয় মেধার অপচয়ও বটে।

অন্যদিকে, শুধু সনদ দিলেই সমস্যার সমাধান হয় না, যদি না সেই সনদের কার্যকারিতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা যায়। সরকারি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে কওমি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দৃশ্যমান নেই। বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা বিসিএস-এর সাধারণ ক্যাডারগুলোতে আবেদনের জন্য যে ধরনের সমন্বিত যোগ্যতা ও বয়সসীমার ফ্রেমওয়ার্ক প্রয়োজন, তা কওমি শিক্ষার্থীদের জন্য আজও পুরোপুরি স্পষ্ট বা প্রস্তুত করা হয়নি। এছাড়া দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কওমি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার দ্বার এখনো পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে তাদের যোগ্যতাকে অবমূল্যায়ন করা হয় কিংবা আমলাতান্ত্রিক জটিলতার অজুহাতে দূরে সরিয়ে রাখা হয়। এই বৈষম্য দূর না হলে সমমান প্রদানের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে।

তবে কওমি সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য কেবল সরকারের দিকে চেয়ে থাকলেই চলবে না, কওমি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকেও যুগের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন নিয়ে ভাবতে হবে। কওমি মাদ্রাসার নিজস্ব স্বকীয়তা ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের শেকড় অক্ষুণ্ণ রেখেই তাদের পাঠ্যক্রমে আধুনিক ভাষা শিক্ষা বিশেষ করে ইংরেজি, আধুনিক গণিত, বিজ্ঞান এবং তথ্যপ্রযুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। সনদের কার্যকর ব্যবহারের জন্য সাধারণ শিক্ষার সাথে একটি বৈজ্ঞানিক মেলবন্ধন তৈরি করা সময়ের দাবি। অন্যথায় আধুনিক প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বের কর্মক্ষেত্রে কওমি শিক্ষার্থীরা শুধু সনদের জোরে টিকতে পারবেন না।

সবশেষে বলা যায়, কওমি সনদের স্বীকৃতি কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ রাখার জন্য দেওয়া হয়নি। একে অর্থবহ করতে হলে একটি সমন্বিত ও সুদূরপ্রসারী জাতীয় নীতিমালা তৈরি করতে হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এবং আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআ’তিল কওমিয়া বাংলাদেশ-কে একসাথে বসে এই অচলাবস্থা দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে। কওমি শিক্ষার্থীদের মেধা ও শ্রমকে দেশের জাতীয় অগ্রগতিতে কাজে লাগাতে হলে সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। আমরা আশা করি, সরকার এই বিশাল জনগোষ্ঠীর অধিকার ও মেধার সঠিক মূল্যায়ন করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

লেখক: সাবেক সভাপতি, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ

খাবারের শুরুতে তিতা খাবার খেলে কী হয়?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৫ পূর্বাহ্ণ
খাবারের শুরুতে তিতা খাবার খেলে কী হয়?

আমাদের অনেকের অভ্যাস দুপুরের খাবারের শুরুতেই তিতা কিছু দিয়ে ভাত খাওয়া। বিশেষ করে করলা ভাজি অনেকেরই পছন্দের তালিকায় থাকে, আবার অনেকে এর তিতা স্বাদের কারণে এড়িয়ে চলেন। তবে স্বাদে তিতা হলেও পুষ্টিগুণের দিক থেকে করলা অত্যন্ত সমৃদ্ধ একটি সবজি। নিয়মিত এটি খেলে শরীর নানা ধরনের উপকার পায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, তিতা স্বাদের খাবার পাকস্থলীতে গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিডের নিঃসরণ বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে পরবর্তী খাবারগুলো সহজে হজম হয়। অর্থাৎ আপনি যদি তিতা দিয়ে খাবার শুরু করেন, তাহলে মসলাযুক্ত বা ভারী খাবারও তুলনামূলক সহজে হজম হবে। এই কারণেই বিশেষজ্ঞরা বলেন, তেল-মসলাযুক্ত খাবারের আগে তিতা খাওয়া হজমের জন্য উপকারী।

করলার পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা

করলা শুধু হজমে সাহায্য করে না, বরং এটি নানা পুষ্টিগুণে ভরপুর। এতে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, আয়রন, পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত করলা খাওয়ার ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। ফলে সর্দি, কাশি বা মৌসুমি জ্বরের মতো ছোটখাটো অসুখ হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

এছাড়া করলা একটি প্রাকৃতিক রুচিবর্ধক হিসেবেও কাজ করে। যারা খেতে অনীহা বোধ করেন বা রুচি কম, তাদের জন্য করলা খুবই উপকারী।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে করলার ভূমিকা

করলার অন্যতম বড় উপকারিতা হলো এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এতে এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে, যা ইনসুলিনের মতো কাজ করে এবং গ্লুকোজের মাত্রা কমাতে সহায়তা করে।
যাদের ডায়াবেটিস আছে বা রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি, তারা যদি খাবারের শুরুতে করলা খান, তাহলে তা শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। যদিও এটি কোনো ওষুধের বিকল্প নয়, তবে খাদ্যাভ্যাসে করলা যুক্ত করা একটি ভালো সিদ্ধান্ত।

তিতা বাদ দিয়ে ভাজাভুজি খেলে কী হয়?

অনেকেই তিতা পছন্দ না করে খাবারের শুরুতে ভাজাপোড়া বা অন্য তেলযুক্ত খাবার খেয়ে থাকেন। কিন্তু এটি শরীরের জন্য ততটা ভালো নয়। তেল-চর্বিযুক্ত ভাজাভুজি খাবার হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে এবং রক্তে শর্করার মাত্রাও বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে শরীর ভারী লাগে এবং হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়।

অন্যদিকে তিতা খাবার হজমের প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে এবং শরীরকে প্রস্তুত করে পরবর্তী খাবারের জন্য। তাই তিতা বাদ দিয়ে অন্য খাবার দিয়ে শুরু করলে সেই উপকারিতা পাওয়া যায় না।

তিতা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত

প্রথমে করলার তিতা স্বাদ অনেকের কাছে অপছন্দনীয় মনে হতে পারে। তবে ধীরে ধীরে এটি অভ্যাসে পরিণত হলে শরীর তার উপকারিতা অনুভব করতে শুরু করে।

একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য ছোট ছোট অভ্যাস খুব গুরুত্বপূর্ণ। খাবারের শুরুতে করলা খাওয়ার মতো একটি সহজ অভ্যাসই আপনার হজমশক্তি, রুচি এবং স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

করলা স্বাদে তিতা হলেও এর উপকারিতা অনেক বেশি। খাবারের শুরুতে সামান্য করলা খাওয়ার অভ্যাস হজমে সহায়তা করে, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস