খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১৫ বৈশাখ, ১৪৩৩

ঈদের নামাজ কার জন্য ওয়াজিব, কার জন্য নয়—জেনে নিন বিস্তারিত

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ৭:০০ পূর্বাহ্ণ
ঈদের নামাজ কার জন্য ওয়াজিব, কার জন্য নয়—জেনে নিন বিস্তারিত

পবিত্র ঈদের দিন মুসলমানদের জন্য আনন্দ, কৃতজ্ঞতা ও ইবাদতের এক বিশেষ মুহূর্ত। এ দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলোর একটি হলো ঈদের নামাজ।

তবে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, ঈদের নামাজ কি সবার ওপরই ওয়াজিব, নাকি নির্দিষ্ট কিছু মানুষের ওপর? ইসলামি শরিয়তের আলোচনায় এ বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে।

ফিকহের কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে, কোন মুসলমানের ওপর ঈদের নামাজ ওয়াজিব এবং কারা এ বিধানের আওতার বাইরে থাকবেন। সেই আলোচনাই সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো।

যাদের ওপর ওয়াজিব:

শরিয়তের ভাষ্যমতে, যাদের ওপর জুমার নামাজ ফরজ, তাদের ওপর ঈদের নামাজ ওয়াজিব। অর্থাৎ, প্রাপ্ত বয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন, যেসকল মুসলিম পুরুষ জামাতে উপস্থিত হয়ে ঈদের নামাজ আদায়ের সক্ষমতা রাখে, তাদেরকে ঈদের নামাজ পড়তে হবে। (আলমুহীতুল বুরহানী : ২/৪৭৬, বাদায়েউস সানায়ে : ১/৬১৭, শরহুল মুনইয়া : পৃ. ৫৬৫)

যাদের ওপর ওয়াজিব নয়:

১. মহিলাদের ওপর ঈদের নামাজ ওয়াজিব নয়। অনুরূপ এমন অসুস্থ পুরুষ, যে ঈদগাহে উপস্থিত হয়ে ঈদের নামাজ আদায়ের সক্ষমতা রাখে না, তার ওপরও ঈদের নামাজ ওয়াজিব নয়। (কিতাবুল আছল : ১/৩২৩, মাবসূত-সারাখসী : ২/৪০, আলমুহীতুল বুরহানী : ২/৪৮৫, বাদায়েউস সানায়ে : ১/৬১৭)

২. মুসাফির তথা যে ৪৮ মাইল বা ৭৮ কি. মি. দূরত্বে যাওয়ার উদ্দেশে নিজ এলাকা ত্যাগ করেছে, এমন ব্যক্তির ওপর ঈদের নামাজ ওয়াজিব নয়। তবে সে যদি ঈদের নামাজ পড়ে, তাহলে তা সহিহ হবে এবং এর সওয়াবও পাবে। (আততাজরীদ-কুদুরী : ২/৯৮১, বাদায়েউস সানায়ে : ১/৬১৭, আযযাখীরাতুল বুরহানিয়া : ২/৩৯৬)

এ ছাড়া হজের সফরে থাকা লোকদের জন্য ঈদুল আজহার নামাজের বিধান নেই। (আজযাখিরাতুল বুরহানিয়া : ২/৩৯৪)

সূত্র : কালবেলা

বিদেশফেরত প্রবাসীদের পুনর্বাসনে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান, ফরিদপুরে কর্মশালা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৩৬ অপরাহ্ণ
বিদেশফেরত প্রবাসীদের পুনর্বাসনে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান, ফরিদপুরে কর্মশালা

বিদেশ থেকে দেশে ফেরা অভিবাসীদের যথাযথ সেবা প্রদান এবং সমাজে টেকসইভাবে পুনরেকত্রীকরণ নিশ্চিত করতে জেলা পর্যায়ে সরকারি ও বেসরকারি সব দপ্তরের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন বক্তারা। একইসঙ্গে প্রবাসীদের অর্জিত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির আহ্বানও জানানো হয়।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব কথা বলা হয়। সুইজারল্যান্ডের সহায়তায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের বাস্তবায়নে ‘রিইন্টিগ্রেশন অব মাইগ্রেন্ট ওয়ার্কার্স ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের অধীনে ‘রেফারেল পথনির্দেশনা ও সেবা সংযোগ’ শীর্ষক এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. ইলিয়াছুর রহমান। তিনি বলেন, বিদেশফেরত অভিবাসীদের দ্রুত ও কার্যকর সেবা দিতে সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও সক্রিয় হতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগই প্রবাসীদের নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করতে পারে।

সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) সুস্মিতা সাহা বলেন, অভিবাসীদের দক্ষতা ও শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা জরুরি। অনেকেই বিদেশে কাজ করলেও দেশে ফিরে সামাজিক সংকোচের কারণে একই পেশায় যুক্ত হতে চান না, ফলে তারা বেকার হয়ে পড়েন। এ ক্ষেত্রে সফল প্রত্যাবর্তনকারীদের উদাহরণ তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সহকারী পরিচালক আশিক সিদ্দিকী জানান, প্রবাসীদের পুনর্বাসনে সরকার নানা সুযোগ-সুবিধা প্রদান করছে। নির্দিষ্ট ট্রেডে প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহীদের সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।

জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এএসএম মঈনুল আহসান বলেন, ৩৫ বছরের কম বয়সী বিদেশফেরতদের জন্য প্রশিক্ষণ ও ঋণ সুবিধা রয়েছে, যা তাদের আত্মকর্মসংস্থানে সহায়ক হবে।

কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন কৃষি অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. রইছ উদ্দিন, ব্লাস্টের জেলা সমন্বয়কারী শিপ্রা গোস্বামীসহ সংশ্লিষ্টরা। বক্তারা প্রবাসীদের জন্য একটি সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আলফাডাঙ্গায় নিজের প্রতিষ্ঠানেই ফ্যানের সাথে ঝুঁলছিল যুবকের মরদেহ

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:২৯ অপরাহ্ণ
আলফাডাঙ্গায় নিজের প্রতিষ্ঠানেই ফ্যানের সাথে ঝুঁলছিল যুবকের মরদেহ

স্ত্রীকে ফোন করে সংসার নতুন করে শুরু করার আহ্বান জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আত্মহত্যা করেছেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার এক যুবক। পারিবারিক কলহ ও দাম্পত্য টানাপোড়েনের জেরে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

নিহত আরমানুজ্জামান রাজু (৩০) আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুড়াইচ গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে। তিনি আলফাডাঙ্গা পৌর সদরের কলেজ রোড এলাকায় অবস্থিত অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক ছিলেন। তার পরিবারে স্ত্রী মিতু আক্তার, ছয় বছরের এক ছেলে ও দেড় বছরের এক কন্যা সন্তান রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত প্রায় ৯টার দিকে অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারের একটি কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস নেন রাজু। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

এর আগে একই দিন বিকেলে স্ত্রী মিতু আক্তারকে ফোন করে রাজু বলেন, “সব ভুলে গিয়ে চলো নতুন করে সংসার করি।” তবে সেই আহ্বানের কয়েক ঘণ্টা পরই আসে তার মৃত্যুর খবর।

নিহতের স্ত্রী মিতু আক্তার জানান, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে রাজু একটি পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। কয়েক দিন আগে ঝগড়ার জেরে তিনি বাবার বাড়িতে চলে যান। সোমবার বিকেলে রাজু ফোন করে সম্পর্ক ঠিক করার কথা বলেন এবং বিকাশে এক হাজার টাকা চান। রাতে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন পেয়ে তিনি জানতে পারেন, রাজু আত্মহত্যা করেছেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বামীর মরদেহ দেখতে পান।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ফরিদপুরে তিনজনকে কুপিয়ে হত্যার নেপথ্যে যা জানা গেল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:১৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে তিনজনকে কুপিয়ে হত্যার নেপথ্যে যা জানা গেল

ফরিদপুরের সদর উপজেলার আলীয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধরডাঙ্গী গ্রামে দাদী, ফুপু ও এক প্রতিবেশীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মাত্র ১০ ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোদালও উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

পুলিশ সুপার বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পরিবার তাকে বিয়ে না দেওয়া এবং দীর্ঘদিনের মানসিক হতাশা থেকেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে আকাশ। তবে তার মানসিক অবস্থা এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামি জিজ্ঞাসাবাদে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে। স্থানীয়দের কাছ থেকেও জানা গেছে, কিছুদিন ধরে তার আচরণ অস্বাভাবিক ছিল। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে যাচাই করা হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, সোমবার (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নিহত কাবুল হোসেন (৪৯) বাড়িতে ফিরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে চা পান করতে বের হন। পথে রিয়াজুল মোল্লার সঙ্গে দেখা হলে তারা একসঙ্গে খুশির বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তারা গদাধরডাঙ্গী গ্রামের হারুন মোল্লার বাড়ির সামনে পৌঁছালে ভেতর থেকে চিৎকার শুনতে পান। স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে ঘরে প্রবেশ করলে তারা দেখতে পান, আকাশ মোল্লা (২৮) তার দাদি আমিনা বেগম (৮০) ও ফুপু রাহেলা বেগম (৫৫)-কে কোদাল দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করছে।

এ সময় কাবুল হোসেন চিৎকার করলে আসামি তার ওপরও হামলা চালায়। ঘটনাস্থলেই কাবুল হোসেন, আমিনা বেগম ও রাহেলা বেগম গুরুতর জখম হয়ে মারা যান। হামলায় রিয়াজুল মোল্লা (৩৬) ও আর্জিনা বেগম (৪৫) গুরুতর আহত হন। তাদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার পরপরই আসামি পালিয়ে যায়। পরে কোতয়ালী থানা পুলিশ, ডিবি ও র‍্যাবের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ভোরে তার বাড়ির পাশের একটি কলাবাগান থেকে আকাশ মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত কোদাল উদ্ধার করা হয়, যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।

এদিলে এ ঘটনায় নিহত কাবুল হোসেনের স্ত্রী কোহিনুর বেগম বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার নম্বর ৭৯, তারিখ ২৮ এপ্রিল ২০২৬; ধারা ৩০২/৩২৬/৩০৭/৩৪ পেনাল কোড।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামছুল আজম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।