খুঁজুন
, ,

ঈদের নামাজ মসজিদে নাকি ঈদগাহে—কোথায় পড়া উত্তম?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ৮:৫৬ পূর্বাহ্ণ
ঈদের নামাজ মসজিদে নাকি ঈদগাহে—কোথায় পড়া উত্তম?

ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা মুসলমানদের জন্য আনন্দ ও ইবাদতের এক বিশেষ দিন। এদিন সকালে ঈদের নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়েই মূলত উৎসবের সূচনা হয়। তবে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, ঈদের নামাজ কোথায় পড়া উত্তম, মসজিদে নাকি খোলা মাঠে?

এই প্রশ্নের উত্তরে রাজধানীর জামিয়া মাহমুদিয়া যাত্রাবাড়ীর প্রধান মুফতি রেজাউল করীম আবরার বলেন, ঈদের নামাজ ঈদগাহে ও খোলা মাঠে পড়া সুন্নত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং খোলাফায়ে রাশেদিন সকলেই ঈদের নামাজ ঈদগাহে পড়তেন।

হজরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিন (ঈদের নামাজের জন্য) ঈদগাহে যেতেন (বোখারি : ৯৬৫)। হজরত আলী (রা.) বলেন, দুই ঈদে (ঈদের নামাজের জন্য) খোলা মাঠে যাওয়া সুন্নত। (আলমুজামুল আওসাত, তবারানি : ৪০৪০)

মুফতি আবরার বলেন, মাঠে ঈদের নামাজ পড়ার ব্যবস্থা থাকলে বিনা ওজরে মসজিদে ঈদের জামাত করবে না। তবে কোথাও বিনা জরুরতে এমনটি করা হলে ঈদের নামাজ আদায় হয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে শহরে ঈদগাহ কম, বিধায় অধিকাংশ মসজিদে ঈদের জামাত হয়। জায়গা সংকুলান না হওয়া বা বৃষ্টি ইত্যাদির কারণে মসজিদে ঈদের নামাজ পড়লে সুন্নতের খেলাফ হবে না। ওজরের সময় মসজিদে পড়া হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, কোনো এক ঈদের দিন বৃষ্টি তাঁদেরকে পেয়ে বসে। ফলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবিদের নিয়ে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেন। (আবু দাউদ : ১১৫৩)

উল্লেখ্য, যাদের ওপর জুমার নামাজ ফরজ, তাদের ওপর ঈদের নামাজ ওয়াজিব। অর্থাৎ, প্রাপ্ত বয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন, যেসকল মুসলিম পুরুষ জামাতে উপস্থিত হয়ে ঈদের নামাজ আদায়ের সক্ষমতা রাখে, তাদেরকে ঈদের নামাজ পড়তে হবে। (আলমুহীতুল বুরহানী : ২/৪৭৬, বাদায়েউস সানায়ে : ১/৬১৭, শরহুল মুনইয়া : পৃ. ৫৬৫)

সূত্র : কালবেলা

নগরকান্দায় উদয়ন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নতুন পোশাক উপহার

এহসানুল হক মিয়া, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৫ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় উদয়ন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নতুন পোশাক উপহার

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার জুঙ্গুরদী উদয়ন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১১টায় বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক এ টি এম নুরুল আলম মনা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নগরকান্দা প্রেসক্লাবের সভাপতি শওকত আলী শরীফ। লস্করদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এ এফ এম সিদ্দিকিল আলম বাবলুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ফেরদৌসুর রহমান মুন্সী, মিজানুর রহমান মিজান, মোস্তফা মুন্সী, সাহিদ মেম্বার, মিরাজ মুন্সী, সহিদ মিয়া, রিজু খান ও রোকেয়া বেগমসহ অন্যরা।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস তুলে দেওয়া হয়। নতুন পোশাক পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়।

ফরিদপুরে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে যুবকের মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে যুবকের মৃত্যুদণ্ড

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় স্কুলে যাওয়ার পথে আট বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের মামলায় আকিদুল শেখ (২৫) নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. আবুল বাশার মিঞা এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে পুলিশ প্রহরায় কারাগারে পাঠানো হয়।

​দণ্ডপ্রাপ্ত আকিদুল শেখ আলফাডাঙ্গা উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের সেলিম শেখের ছেলে।

​মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২০ জুন সকাল ১০টার দিকে নওয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী স্কুলে যাচ্ছিল। আগের দিনের বৃষ্টিতে স্কুলে যাওয়ার রাস্তায় পানি ও কাদা জমে ছিল। এ সময় আকিদুল শিশুটিকে কাদা রাস্তা পার করে স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে পার্শ্ববর্তী একটি বাঁশবাগানে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে পালিয়ে যান।

​ঘটনার পর রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটি বিদ্যালয়ে পৌঁছালে শিক্ষকরা তার পরিবারকে খবর দেন। প্রথমে তাকে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

​এ ঘটনায় ২১ জুন শিশুটির বাবা শংকর কুমার মন্ডল বাদী হয়ে আকিদুল শেখকে আসামি করে আলফাডাঙ্গা থানায় মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত আজ এই রায় দেন।

​রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের জঘন্য অপরাধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থার গুরুত্ব দিয়েছেন আদালত।”

ফরিদপুরে ৭ হাজার ৯০০ পিস ইয়াবাসহ কক্সবাজারের যুবক গ্রেপ্তার

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ৭ হাজার ৯০০ পিস ইয়াবাসহ কক্সবাজারের যুবক গ্রেপ্তার

কক্সবাজার পৌরসভা এলাকা থেকে ইয়াবার বড় চালানের খবর পেয়েই তৎপর হন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) সদস্যরা। দীর্ঘ নজরদারি শেষে ফরিদপুরের ভাঙ্গা এলাকা থেকে আটক করা হয় তরুণ মাদক কারবারি মো. হারুন রশীদকে (২৪)।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে চালানের সাত হাজার নয়শত (৭,৯০০) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট।

​মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টা থেকে ১১ টার মধ্যে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানাধীন ভাঙ্গা বাসস্টপ সংলগ্ন ভাঙ্গা-বরিশাল কাউন্টারের পশ্চিম পাশে পাকা রাস্তার ওপর এক বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় সন্দেহভাজন হিসেবে টেকনাফ-কক্সবাজার রুট দিয়ে আসা যুবকদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়। পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে মো. হারুন রশীদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

​গ্রেফতারকৃত হারুন রশীদ কক্সবাজার পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের টেকপাড়া এলাকার (ইউনুছ এর বাড়ির ভাড়াটিয়া) মৃত সিদ্দিক মিয়া ও মৃত রেনুয়ারা বেগমের ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা কক্সবাজার থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে ফরিদপুরসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে আসছিল।

​এ বিষয়ে ফরিদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শিরিন আক্তার ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে জানান, “মাদক সরবরাহ ও পাচারের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত জিরো টলারেন্স অভিযান চলছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আমরা বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ হারুনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। এ ঘটনায় ভাঙ্গা থানায় নিয়মিত ধারায় ১টি মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে।”

​ডিএনসি ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ের পরিচালিত এ অভিযানে আটক আসামিকে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। মাদকের এই বড় সিন্ডিকেটের পেছনে আর কারা জড়িত রয়েছে, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।