খুঁজুন
, ,

কোরবানির পশু জবাই করার নিয়ম ও দোয়া

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ৭:০৬ পূর্বাহ্ণ
কোরবানির পশু জবাই করার নিয়ম ও দোয়া

কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। হাদিস শরিফে এ ইবাদতের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। রাসুল (সা.) হজরত ফাতেমা (রা.)-কে তাঁর কোরবানির নিকট উপস্থিত থাকতে বলেন এবং ইরশাদ করেন, ‘এই কোরবানির প্রথম রক্তবিন্দু প্রবাহিত হওয়ার সাথে সাথে আল্লাহ তায়ালা তোমার গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।’ তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ইয়া রাসুল (সা.)! এটা কি শুধু আহলে বায়তের জন্য, নাকি সকল মুসলিমের জন্য?’ উত্তরে রাসুল (সা.) বললেন, ‘এই ফজিলত সকল মুসলিমের জন্য।’ (মুসনাদে বাজযার-আত্তারগীব ওয়াত্তারহীব: ২/১৫৪)

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘অতএব তুমি তোমার রবের উদ্দেশে নামাজ আদায় করো এবং কোরবানি করো’ (সুরা কাওসার: ২)। তাই প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্ক সম্পন্ন প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী, যে ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজন-অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে, তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব। (আলমুহিতুল বুরহানি: ৮/৪৫৫, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া: ১৭/৪০৫)

এ ক্ষেত্রে যারা কোরবানি দিতে চান, তাদের অনেকেই কোরবানির পশু জবাইয়ের সঠিক নিয়ম জানেন না। তাই নিচে কালবেলার পাঠকদের জন্য পশু জবাই করার নিয়ম ও দোয়া তুলে ধরা হলো।

কোরবানির পশু জবাই করার নিয়ম ও দোয়া

ইসলামে খাদ্য গ্রহণ কেবল দৈহিক চাহিদা পূরণের বিষয় নয়; এটি ইবাদত ও তাকওয়ার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। একজন মুসলমান কী খাবে, কীভাবে খাবে—এমনকি সেই খাদ্য প্রস্তুতের প্রক্রিয়াও ইসলামি শরিয়তের অধীন। পশু জবাই করার নিয়ম এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কোরআন ও হাদিসে পশু জবাইয়ের পদ্ধতি সুস্পষ্টভাবে নির্ধারিত হয়েছে, যাতে মানবিকতা, পবিত্রতা ও আল্লাহভীতির সমন্বয় ঘটে।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত জন্তু, রক্ত, শূকরের মাংস এবং যা আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে জবাই করা হয়েছে।’ (সুরা মায়িদা: ৩)

ইসলামি স্কলার শায়খ শামছুদ্দীন ‍দুর্লভপুরি বলেন, এই আয়াত স্পষ্ট করে দেয়, জবাইয়ের পদ্ধতি ও উদ্দেশ্য যদি আল্লাহর জন্য না হয়, তবে সেই খাদ্য হালাল নয়। তাই পশু জবাই কেবল ছুরি চালানোর কাজ নয়; এটি একটি ইবাদতসম আচরণ।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত জন্তু, রক্ত, শূকরের মাংস এবং যা আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে জবাই করা হয়েছে।’ (সুরা মায়িদা: ৩)

ইসলামি স্কলার শায়খ শামছুদ্দীন ‍দুর্লভপুরি বলেন, এই আয়াত স্পষ্ট করে দেয়, জবাইয়ের পদ্ধতি ও উদ্দেশ্য যদি আল্লাহর জন্য না হয়, তবে সেই খাদ্য হালাল নয়। তাই পশু জবাই কেবল ছুরি চালানোর কাজ নয়; এটি একটি ইবাদতসম আচরণ।

পশু জবাইয়ের নিয়ম ও মৌলিক শর্ত

পশু-পাখির জবাই সহিহ হওয়ার জন্য শর্ত হচ্ছে, জবাইকারী মুসলমান কিংবা আহলে কিতাব তথা কোনো আসমানি কিতাবের অনুসারী এবং সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন বুঝমান ব্যক্তি হওয়া।

জবাইয়ের শুরুতে আল্লাহ তায়ালার নাম উচ্চারণ করা এবং কোনো ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলার দিক থেকে জবাই করা।

শ্বাসনালি, খাদ্যনালি ও দুই শাহরগের অন্তত একটি কেটে রক্ত প্রবাহিত করে জবাই সম্পন্ন করা।

এসব শর্তের কোনোটি না পাওয়া গেলে জবাই সহিহ হবে না এবং সে প্রাণী খাওয়াও জায়েজ হবে না। অবশ্য উপরিউক্ত শর্ত পাওয়া যায়, এমন কেউ যদি জবাইয়ের সময় আল্লাহ নাম উচ্চারণ করতে ভুলে যায় তাহলে জবাই সহিহ হবে। তবে কেউ যদি ইচ্ছাকৃত আল্লাহ নাম ছেড়ে দেয়, তাহলে জবাই সহিহ হবে না। (সুরা মায়েদা: ৩-৫, সুরা আনআম: ১২১, সহিহ বোখারি: ৫৫০৩, সহিহ ইবনে হিব্বান: ৫৮৮৮, মুসান্নাফে আব্দুর রাজযাক: ৮৫৭৮, ৮৫৪১ ও ৮৫৫৬, তাফসিরে তাবারি: ৪/৪৪০, আহকামুল কোরআন, জাসসাস: ৩/৭)

আর জবাইয়ের জন্য একাধিক ব্যক্তি হওয়া জরুরি নয়, একজনও জবাই করতে পারবে। এমনিভাবে আড়াই পোচে জবাই করাও জরুরি নয়। এটি একটি ভুল প্রচলন। মাসআলা হচ্ছে, রগ কেটে রক্ত প্রবাহিত করে দেওয়া, তা যত পোচেই হোক। তবে জবাইয়ের ক্ষেত্রে ধারালো অস্ত্র ব্যবহর করবে। যেন প্রাণীর অধিক কষ্ট না হয়।

উপরিউক্ত শর্ত ছাড়াও জবাইয়ের কিছু আদব ও মুস্তাহাব রয়েছে। সুন্নাহসম্মত ও উত্তমপন্থায় জবাই করতে চাইলে সে বিষয়গুলোর প্রতিও লক্ষ রাখা উচিত।

কোরবানির পশু জবাই করার দোয়া

إِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ حَنِيفًا، وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ، إِنَّ صَلَاتِي، وَنُسُكِي، وَمَحْيَايَ، وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، لَا شَرِيكَ لَهُ، وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ، وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ، اللَّهُمَّ مِنْكَ، وَلَكَ….بِسْمِ اللهِ اَللهُ اَكْبَر

উচ্চারণ: ইন্নি ওয়াজ্জাহতু ওয়াজহিয়া লিল্লাজ ফাতারাস সামাওয়াতি ওয়ালআরদা হানিফাও ওয়ামা আনা মিনাল মুশরিকীন। ইন্না সালাতি ওয়ানুসুকি ওয়ামাহইয়ায়া ওয়ামামাতি লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন। লা-শারিকালাহু ওয়াবিজালিকা উমিরতু ওয়াআনা আওয়ালুল মুসলিমীন। আল্লাহুম্মা মিনকা ওয়ালাকা।…বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার। (সুনানে আবু দাউদ: ২৭৯৫, সুনানে ইবনে মাজাহ: -৩১২১)

অর্থ: নিশ্চয়ই আমি দৃঢ়ভাবে সেই মহান সত্তার অভিমুখী হলাম, যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। আমি মুশরিকদের অন্তর্গত নই। নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ—সবই বিশ্ব প্রতিপালক মহান আল্লাহর জন্য নিবেদিত। তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি এ কাজের জন্য আদিষ্ট হয়েছি। আর আমি আত্মসমর্পণকারীদের একজন। আল্লাহর নামে, আল্লাহ সবচেয়ে মহান।

ইসলামি স্কলার মুফতি রেজাউল করীম আবরার বলেন, পুরো দোয়া না পারলে অন্তত ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলে কোরবানি করলে চলবে। তবে আল্লাহর নাম ছাড়া কোনোভাবেই কোরবানি জায়েজ হবে না।

সূত্র : কালবেলা

ফরিদপুরে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে সেমিনার, গণভোটের রায় কার্যকরের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৮:১৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে সেমিনার, গণভোটের রায় কার্যকরের আহ্বান

ফরিদপুরে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, নির্বাচনের আগে সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা আর বিলম্ব না করে বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে সরকারকে কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারা।

রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুর শহরের কবি জসীমউদ্দীন হলে ১১ দলীয় ঐক্য ফরিদপুর জেলা শাখার উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ১১ দলীয় ঐক্য ফরিদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ফরিদপুর জেলা শাখার আমির মাওলানা বদরুদ্দীন। যৌথভাবে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ১১ দলীয় ঐক্যের মুখপাত্র ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ফরিদপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি মুফতি আবু নাসির আইয়ুবী, সেমিনার বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল ওহাব এবং এনসিপি ফরিদপুর জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. বাইজিদ আহমদ শাহেদ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা। প্রধান আলোচক হিসেবে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এ.এস.এম. শাহরিয়ার কবির।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী শারাফাত হোসাইন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ফরিদপুর সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী প্রফেসর আবদুত তাওয়াব।

এছাড়া বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ফরিদপুর জেলা শাখার জেলা সভাপতি মাওলানা আমজাদ হোসাইন, পৌর আমির ড. এহসানুল মাহবুব রুবেল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বকুল, জেলা সভাপতি মাওলানা মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির জেলা সভাপতি মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ফরিদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক কাজী রিয়াজ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা শাহ আব্দুল মতিন বিন আব্দুল বারী এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ শামসুরের স্ত্রী মেঘলা আক্তারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, জুলাই সনদ জনগণের আকাঙ্ক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। এটি দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহিতা, সুশাসন এবং জনগণের মতামতের যথাযথ প্রতিফলন নিশ্চিত করতে হবে। তারা বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যে রায় দিয়েছে, তা সম্মান করে বাস্তবায়ন করা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা এখনো পূরণ হয়নি। তারা অবিলম্বে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

সেমিনার শেষে জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় কার্যকরের দাবিতে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মাওলানা এম এ করিমের মায়ের অসুস্থতা, দেশ-বিদেশের সবার কাছে দোয়া কামনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
মাওলানা এম এ করিমের মায়ের অসুস্থতা, দেশ-বিদেশের সবার কাছে দোয়া কামনা

বাংলাদেশ হেফাজতে ইসলামের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য এবং ঐতিহাসিক শাপলা চত্বর আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতৃত্বদানকারী আলেম মাওলানা এম এ করিম ইবনে মছব্বিরের মমতাময়ী মা আলহাজ্ব মোছা. কমলা বেগম (ব্রিটিশ নাগরিক) দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিল রোগে অসুস্থ রয়েছেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থান করছেন এবং চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।

মাওলানা এম এ করিম ইবনে মছব্বির তাঁর মায়ের দ্রুত সুস্থতা ও দীর্ঘ নেক হায়াত কামনায় দেশ-বিদেশে অবস্থানরত আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী, বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মী এবং সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানের কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া চেয়েছেন।

তিনি বলেন, “মা আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় নিয়ামত। আমার মায়ের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। মহান আল্লাহ তাআলা যেন তাঁকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন এবং কষ্ট লাঘব করেন—এই দোয়াই সকলের কাছে কামনা করছি।”

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আলহাজ্ব মোছা. কমলা বেগম দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। বয়সজনিত কারণে তাঁর শারীরিক দুর্বলতা বেড়ে যাওয়ায় নিয়মিত চিকিৎসা ও পরিচর্যার মধ্যে রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তাঁর সুস্থতার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে মাওলানা এম এ করিমের মায়ের অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর অনুসারী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দোয়া করছেন। অনেকে আল্লাহর কাছে তাঁর রোগমুক্তি, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ নেক হায়াত প্রার্থনা করেছেন।

ধর্মীয় অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তিত্বও আলহাজ্ব মোছা. কমলা বেগমের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, অসুস্থ মানুষের জন্য দোয়া করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা এবং একজন মায়ের সুস্থতার জন্য সন্তানের এই আবেদন মানবিকতারও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

মাওলানা এম এ করিম ইবনে মছব্বির শেষবারের মতো আবারও সকলের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন, যেন সবাই আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে তাঁর মায়ের জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করেন।

জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরের আহ্বান, ফরিদপুরে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৬:০৬ অপরাহ্ণ
জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরের আহ্বান, ফরিদপুরে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালিত

‘সবার জন্য নিরাপদ ও পরিকল্পিত পরিবার, টেকসই উন্নয়নের অঙ্গীকার’—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে ফরিদপুরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের যৌথ আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলার সম্মেলন কক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক কাজী ফারুক আহমেদ।

প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী এবং সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান।

এ সময় জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক (এফপিআই), স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে হলে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কমানো, নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করা, কৈশোরকালীন স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বক্তারা আরও বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনা, প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা এবং মানসম্মত পরিবার পরিকল্পনা সেবা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। এজন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

আলোচনা সভায় বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি জনগণের দোরগোড়ায় আধুনিক ও মানসম্মত সেবা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সকলের সম্মিলিত অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।