খুঁজুন
, ,

নামাজে শয়তানের ‘কুমন্ত্রণা’ থেকে বাঁচার সহজ উপায়

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ৮:০৯ পূর্বাহ্ণ
নামাজে শয়তানের ‘কুমন্ত্রণা’ থেকে বাঁচার সহজ উপায়

আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন শুধু তাঁর ইবাদতের জন্য। আর ইবাদতের শ্রেষ্ঠতম রূপ হলো নামাজ। প্রত্যেক মুসলমানের ওপর এই নামাজ ফরজ করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমরা আমার স্মরণোদ্দেশ্যে নামাজ কায়েম করো।’ (সুরা ত্বহা : ১৪)

অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তুমি সূর্য হেলার সময় থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত নামাজ কায়েম করো এবং ফজরের নামাজ (কায়েম করো)। নিশ্চয়ই ফজরের নামাজে সমাবেশ ঘটে।’ (সুরা বনি ইসরাঈল : ৭৮)

তবে, নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে মনোযোগ হারিয়ে ফেলা বা মনে আজেবাজে চিন্তা আসা অনেক মুমিনের জন্যই এক বড় সমস্যা। ইসলামি পরিভাষায় একে ‘ওয়াসওয়াসা’ বা শয়তানের কুমন্ত্রণা বলা হয়।

নামাজে একাগ্রতা বা খুশু-খুজু বজায় রাখা ইবাদতের প্রাণ। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য কোরআন ও হাদিসে অত্যন্ত কার্যকর ও মনস্তাত্ত্বিক কিছু সমাধান দেওয়া হয়েছে।

ওয়াসওয়াসা কি ইমানের লক্ষণ

নামাজে কুচিন্তা আসলে অনেকে ভয়ে পেয়ে যান। ভাবেন, হয়তো তাদের ইমান নষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু রাসুল (সা.) আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, এক সাহাবি নবীজি (সা.)-এর কাছে মনের কুমন্ত্রণা নিয়ে অভিযোগ করলে তিনি (সা.) বলেন, ‘এটিই হলো স্পষ্ট ইমান।’ (মুসলিম: ২৪০)

হাদিসটির ব্যাখ্যায় সিলেটের দারুল উলুম কানাইঘাট মাদ্রাসার নায়েবে শায়খুল হাদিস মাওলানা শামছুদ্দীন দুর্লভপুরি বলেন, কুমন্ত্রণা আসা ইমান নষ্ট হওয়ার প্রমাণ নয়, বরং ওই খারাপ চিন্তা নিয়ে আপনার মনে যে ভয় বা ঘৃণা তৈরি হচ্ছে, সেটিই আপনার খাঁটি ইমানের পরিচয়। চোর কখনো খালি ঘরে চুরি করতে যায় না, তেমনি শয়তানও ইমানহীন হৃদয়ে কুমন্ত্রণা দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করে না।

বাঁচার উপায় কী

শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচার সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো মহান সৃষ্টিকর্তার সাহায্য চাওয়া। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যদি শয়তানের পক্ষ থেকে কোনো কুমন্ত্রণা তোমাকে প্ররোচিত করে, তবে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করো; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।’ (সুরা আরাফ: ২০০)

আল-আজহার ফতোয়া কমিটির সাবেক প্রধান শেখ আতিয়্যাহ সাকার (রহ.) এই প্রসঙ্গে একটি সুন্দর উদাহরণ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আপনার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় যদি কোনো পালের কুকুর আপনাকে আক্রমণ করতে উদ্যত হয়, তবে লাঠি দিয়ে তাকে ঠেকানো দীর্ঘ ও কষ্টকর কাজ। তার চেয়ে সহজ হলো কুকুরের মালিককে ডাকা, যেন সে কুকুরটিকে থামিয়ে দেয়। শয়তানের ক্ষেত্রেও বিষয়টি তাই, তাকে তাড়াতে সরাসরি লড়াই করার চেয়ে তার মালিক অর্থাৎ আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া বেশি কার্যকর। (আতিয়্যাহ সাকার, ফাতাওয়া আল-আজহার: ১০/১২০, দারুত তাইয়িবাহ, রিয়াদ: ১৯৯৯)

নামাজে মনোযোগ ফেরাতে করণীয়

নামাজে মনোযোগ ধরে রাখতে এবং শয়তানের প্ররোচনা রুখতে শায়খ শামছুদ্দীন কিছু পরামর্শ দিয়েছেন:

ইস্তিগফার ও দোয়া: নামাজের আগে ও পরে বেশি বেশি আল্লাহর কাছে দোয়া করা যেন তিনি মনকে স্থির রাখেন। বিশেষ করে আল্লাহর বড়ত্ব ও মহিমা অন্তরে জাগ্রত করা যে, আপনি কার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন।

দৃঢ় সংকল্প: শয়তান আসবেই—এটি মনে রেখে নিজের মনকে বারবার নামাজের দিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা। একবার মনোযোগ চলে গেলে হতাশ না হয়ে পুনরায় সুরা বা জিকিরের অর্থের দিকে খেয়াল করা।

তীব্র অনীহা: কুমন্ত্রণা আসার সঙ্গে সঙ্গে সেটিকে গুরুত্ব না দেওয়া। শয়তান যখন দেখবে আপনি তার চিন্তায় কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন না, তখন সে নিরাশ হয়ে পড়বে।

মনে রাখবেন, শয়তানের কোনো ক্ষমতা নেই তাদের ওপর যারা আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখে (সুরা হিজর: ৪২)। তাই নামাজে কুমন্ত্রণা আসলে আল্লাহর অসীম দয়া এবং সঠিক কৌশলের মাধ্যমে শয়তানের এই প্রতিবন্ধকতা জয় করার চেষ্টা করতে হবে।

সূত্র : কালবেলা

ফরিদপুরে ব্যাংক কর্মকর্তাকে মুক্তিপণ আদায়ের পর মহাসড়কে ফেলে দিল দুর্বৃত্তরা

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১:০৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ব্যাংক কর্মকর্তাকে মুক্তিপণ আদায়ের পর মহাসড়কে ফেলে দিল দুর্বৃত্তরা

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মিডল্যান্ড ব্যাংকের এক কর্মকর্তাকে অপহরণ করে মারধরের পর ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ নিয়ে মহাসড়কের পাশে আহত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছন।

এর আগে ​সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের সোনাখোলা নামক স্থান থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে আহত অবস্থায় ওই ব্যাংক কর্মকর্তাকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

​আহত বাহাউদ্দিন শেখ (৩৪) ভাঙ্গা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ছিলাধরচর মহল্লার বাসিন্দা। তিনি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পাচ্চর শাখায় মিডল্যান্ড ব্যাংকের কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

​হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাহাউদ্দিন শেখ জানান, সোমবার সকাল সোয়া সাতটার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গা পৌরসভার দক্ষিণপাড়া বাসস্ট্যান্ডে তিনি কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার তার সামনে এসে থামে। চালক তাকে ঢাকায় যাওয়ার যাত্রী হিসেবে উঠতে বলেন। এ ছাড়া গাড়িতে থাকা আরও তিনজন নিজেদের যাত্রী হিসেবে পরিচয় দেন।

​তিনি জানান, গাড়িতে ওঠার দেড়-দুই মিনিট পরই ভেতরে থাকা দুজন তার মুখ বেঁধে মারধর শুরু করেন। এ সময় হাতুড়ি দিয়ে তাকে পিটিয়ে জিম্মি করা হয় এবং স্বজনদের কাছে বিকাশ নম্বরে টাকা চেয়ে তা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। প্রাইভেটকারটি প্রথমে ঢাকামুখী কিছুদূর যাওয়ার পর পুনরায় ঘুরে ভাঙ্গা হয়ে ফরিদপুরের দিকে এবং পরে গ্রামীণ কাঁচা সড়কে কিছুক্ষণ চালানো হয়। স্বজনদের পক্ষ থেকে দুর্বৃত্তদের দেওয়া বিকাশ নম্বরে ১ লাখ টাকা পাঠানোর পর তাকে প্রায় অচেতন অবস্থায় মহাসড়কের পাশে ফেলে দেওয়া হয়। যাওয়ার সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল সিমটি নিয়ে প্রাইভেটকারটি ফরিদপুরের দিকে চলে যায়।

​ভুক্তভোগীর চাচাতো ভাই সোহাগ শেখ বলেন, “বাহাউদ্দিনকে জিম্মি করে আমাদের কাছে ফোন করা হয়। পরে আমরা বাধ্য হয়ে বিকাশের মাধ্যমে ১ লাখ টাকা পাঠিয়ে দিই।”

​ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সহকারী মো. আখতারুজ্জামান জানান, বাহাউদ্দিন শেখের বুক, হাত ও পায়ে পেটানোর একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে হাতুড়ি দিয়ে পেটানো হয়েছে।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, “এ ব্যাপারে একটি মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। প্রাথমিক তদন্ত চলছে। লিখিত অভিযোগ পেলে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং সত্যতা সাপেক্ষে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

একাকীত্বকে শক্তিতে বদলানোর ১০ উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ
একাকীত্বকে শক্তিতে বদলানোর ১০ উপায়

মানুষ সামাজিক জীব। পরিবার, বন্ধু ও পরিচিতজনদের সঙ্গে মিলেমিশে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে বেশির ভাগ মানুষ।কিন্তু জীবনের নানা বাস্তবতায় কখনো কখনো সেই চেনা জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে হয়। সম্পর্কের ভাঙন, প্রিয়জনকে হারানো কিংবা উচ্চশিক্ষা ও জীবিকার প্রয়োজনে পরিবার ছেড়ে দূরে চলে যাওয়া-এমন নানা কারণে তৈরি হয় একাকীত্ব।অচেনা পরিবেশে আপনজনের অভাব যখন তীব্র হয়ে ওঠে, তখন মনের ভেতর ভর করে হতাশা ও বিষণ্নতা। অনেক সময় নিজের কষ্ট ভাগ করে নেওয়ার মতো কাউকে পাওয়া যায় না।

আবার কখনো কারও সঙ্গে কথা বলতেও ইচ্ছা করে না। কর্মক্ষেত্রের চাপ, সম্পর্কের টানাপড়েন কিংবা জীবনের আকস্মিক পরিবর্তন থেকেও এমন অনুভূতি তৈরি হতে পারে।
বর্তমান যান্ত্রিক জীবনে একাকীত্ব অনেকের জন্য নীরব মানসিক সংকটে পরিণত হয়েছে। তবে একাকী থাকা মানেই অসুখী হওয়া নয়। এই সময়কে নিজের যত্ন নেওয়া, নতুন কিছু শেখা এবং আত্মোন্নয়নের সুযোগ হিসেবেও কাজে লাগানো যায়। ছোট ছোট কিছু অভ্যাস গড়ে তুলেই একাকীত্বের সময়কে আনন্দময় ও অর্থবহ করে তোলা সম্ভব।

মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে একাকীত্ব মোকাবিলায় মেনে চলতে পারেন ১০টি পরামর্শ-

১. নিজের সঙ্গে সময় কাটান

প্রতিদিন কিছুটা সময় নিজের জন্য রাখুন। নিজের ভালো লাগা, মন্দ লাগা, স্বপ্ন ও চিন্তাগুলো নিয়ে ভাবুন। চাইলে ডায়েরিতে মনের কথাগুলো লিখে রাখতে পারেন। নিজের সঙ্গে ইতিবাচক কথোপকথন গড়ে তুলুন। এতে নিজের অনুভূতি বুঝতে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়তা হতে পারে।

২. পছন্দের কাজকে গুরুত্ব দিন

বই পড়া, গান শোনা, ছবি আঁকা, বাগান করা কিংবা ব্যায়াম-যে কাজে আনন্দ পান, সেটির জন্য নিয়মিত সময় রাখুন। অবসর সময়ের এই পছন্দের কাজকে গুরুত্ব দিন।

ছবি আঁকতে ভালো লাগলে নতুন কৌশল শেখার চেষ্টা করুন। দৌড়াতে ভালোবাসলে কোনো ম্যারাথনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিতে পারেন। ইন্টারনেটে বিভিন্ন বিষয়ে অসংখ্য শিক্ষামূলক ভিডিও ও টিউটোরিয়াল রয়েছে। সেগুলো কাজে লাগিয়ে নিজের দক্ষতা বাড়াতে পারেন।

৩. নিয়মিত শরীরচর্চা করুন

প্রতিদিন হাঁটতে বের হন কিংবা হালকা ব্যায়াম করুন। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম মানসিক চাপ কমাতে, মেজাজ ভালো রাখতে এবং কর্মস্পৃহা বাড়াতে সহায়তা করে। শরীর ও মন ভালো রাখতে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুলুন।

৪. নতুন কিছু শিখুন

অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে নতুন কোনো দক্ষতা অর্জন করুন। রান্না, বিদেশি ভাষা, বাদ্যযন্ত্র বাজানো কিংবা কম্পিউটারের নতুন কোনো কাজ শিখতে পারেন। ফিটনেসে আগ্রহ থাকলে নতুন ব্যায়াম বা শারীরিক কসরত শেখার চেষ্টা করুন। নতুন কিছু শেখার আনন্দ একঘেয়েমি কাটাতে সাহায্য করবে।

৫. ঘরের বাইরে বের হন

সারাক্ষণ ঘরে বসে না থেকে সুযোগ পেলেই বাইরে বের হন। কাছাকাছি কোথাও হাঁটতে যান, পার্কে কিছুক্ষণ সময় কাটান কিংবা পছন্দের কোনো জায়গায় ঘুরে আসুন। সম্ভব হলে প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটান। পরিবেশের পরিবর্তন মনকে সতেজ করতে পারে।

৬. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার কমান

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের সাজানো জীবন দেখে নিজের বাস্তব জীবনকে ছোট করে দেখবেন না। অনলাইনে মানুষ সাধারণত জীবনের আনন্দময় মুহূর্তগুলোই বেশি তুলে ধরে। ফলে অন্যের জীবন যতটা নিখুঁত মনে হয়, বাস্তবে তা সব সময় তেমন নয়। তাই অযথা তুলনা না করে নিজের জীবন ও অর্জনের প্রতি মনোযোগ দিন।

৭. ঘুমের নিয়ম ঠিক রাখুন

প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন। ঘুমের অনিয়ম মেজাজ, মনোযোগ ও মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতিদিন সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। তাই সুস্থ থাকতে ঘুমের নিয়ম মেনে চলুন।

৮. ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন

জীবনে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকলে সময়কে অর্থবহভাবে কাজে লাগানো সহজ হয়। পেশাগত জীবন কিংবা ব্যক্তিগত শখ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের জন্য ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। নতুন দক্ষতা অর্জন, বই পড়া কিংবা প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ব্যায়াম করার মতো লক্ষ্য হতে পারে। লক্ষ্য পূরণের আনন্দ আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে।

৯. অন্যের পাশে দাঁড়ান

নিজের একাকীত্ব কাটাতে অন্যের কল্যাণে কিছু করার চেষ্টা করুন। অসহায় মানুষকে সাহায্য করুন কিংবা কোনো স্বেচ্ছাসেবামূলক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন। পথশিশু, অসহায় মানুষ কিংবা পথের প্রাণীদের পাশে দাঁড়াতে পারেন। মানুষের উপকারে আসার অনুভূতি মানসিক প্রশান্তি দিতে পারে। পাশাপাশি নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগও তৈরি হবে।

১০. প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন

একাকীত্ব দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে কিংবা তা দৈনন্দিন জীবন, কাজ ও সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেললে বিষয়টি অবহেলা করবেন না। প্রয়োজনে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, মনোবিজ্ঞানী বা প্রশিক্ষিত মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, মানসিক সংকটে অন্যের সাহায্য চাওয়া দুর্বলতা নয়; বরং সচেতনতার পরিচয়।

একাকীত্ব কাটিয়ে ওঠার কোনো তাৎক্ষণিক জাদুকরী উপায় নেই। প্রয়োজন ধৈর্য, ইতিবাচক অভ্যাস এবং নিজের প্রতি যত্নশীল হওয়া। নিজের পছন্দের কাজ, নতুন দক্ষতা অর্জন ও মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে একাকী সময়কেও সুন্দর করে তোলা সম্ভব। তবে একাকীত্বকে উপভোগ করতে শেখার অর্থ সামাজিক সম্পর্ক থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা নয়। নিজের সঙ্গে ভালো থাকার পাশাপাশি প্রিয়জনদের সঙ্গেও যোগাযোগ বজায় রাখুন।

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যুবক নিহত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:২৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যুবক নিহত

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এজাজুল মিয়া (২০) ও স্বাধীন সরকার (২০) নামের দুই যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন।

​সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভাঙ্গা গোলচত্বর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত এজাজুল মিয়া ভাঙ্গা পৌরসভার হাজরাহাটি গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে এবং স্বাধীন সরকার নগরকান্দা উপজেলার জিয়াকুলি গ্রামের শাহাদাৎ সরকারের ছেলে।

​আহতরা হলেন—নগরকান্দার জিয়াকুলি গ্রামের রহমান মাতুব্বরের ছেলে নাসিম মাতুব্বর (২০) এবং ভাঙ্গা পৌরসভার ভারইডাঙ্গা গ্রামের শওকত আলীর ছেলে রাজন আলী (২১)। তাদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় দুটি মোটরসাইকেলে করে চার যুবক বিশ্বরোড গোলচত্বর এলাকায় ঘুরতে বের হন। পথিমধ্যে বেপরোয়া গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেল দুটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই মোটরসাইকেল চালক নিহত হন।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদ আহম্মেদ জানান, ভাঙ্গা গোলচত্বর এলাকায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।