খুঁজুন
শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন, ১৪৩২

ভূমিকম্প হলে কী করবেন? ইসলামের দৃষ্টিতে করণীয়

আবু সাঈদ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:২৩ এএম
ভূমিকম্প হলে কী করবেন? ইসলামের দৃষ্টিতে করণীয়

সৃষ্টিকুলের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম সৃষ্টি মানুষ। আল্লাহ তায়ালা বড় ভালোবাসেন তার এই সৃষ্টিকে। তিনি চান, বান্দা তার অভিমুখী হোক। তার প্রতি থাকুক চিরকৃতজ্ঞ। কিন্তু মানুষের প্রকৃতি ভিন্ন। কখনো আল্লাহর প্রতি থাকে ধাববান। কখনো ভুলে যায় স্রষ্টাকে। কেউ তার ইবাদতে রত থাকে।

ভুলে যায় অন্যের প্রতি দায়িত্ববোধ। কেউ নাফরমানিতে ডুবে যায়। ভারি করে তোলে নূরানি পরিবেশ। ফলে মাঝে মধ্যে আল্লাহ তায়ালা লাগাম টেনে ধরেন। শাস্তি দেন কোনো জাতিকে। আবারো কাউকে সুযোগের মেয়াদ বাড়িয়ে দেন। সতর্ক করে দেন নিজের বিশেষ কোনো নিদর্শনের মাধ্যমে। ভূমিকম্প এমনি একটি নিদর্শন।

আল্লাহ তায়ালা ভূমিকম্পের মাধ্যমে বান্দাকে সতর্ক করেন। বান্দা যেন আল্লাহর দিকে ফিরে আসে। নাফরমানি থেকে যেন নিবৃত হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমি ভীতিপ্রদর্শনের জন্যই আমার নিদর্শনাবলী প্রেরণ করি। (সুরা ইসরা, আয়াত : ৫৯)। অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর আমি তোমার পূর্বেকার জাতিসমূহের কাছে অনেক রাসূল পাঠিয়েছি, (কিন্তু নবীগণকে অমান্য করার কারণে) আমি তাদের প্রতি ক্ষুধা, দারিদ্র্য রোগ-ব্যাধি চাপিয়ে দিয়েছি, যেন তারা নম্রতা প্রকাশ করে আমার সামনে নতি স্বীকার করে।

সুতরাং তাদের প্রতি যখন আমার শাস্তি পৌঁছল, তখন তারা কেন নম্রতা ও বিনয় প্রকাশ করল না? বরং তাদের অন্তর আরও কঠিন হয়ে পড়ল, আর শয়তান তাদের কাজকে তাদের চোখের সামনে শোভাময় করে দেখাল। অতঃপর তাদের যা কিছু উপদেশ ও নসীহত করা হয়েছিল তা যখন তারা ভুলে গেল তখন আমি তাদের জন্যে প্রতিটি বস্তুর দরজা উম্মুক্ত করে দিলাম, শেষ পর্যন্ত যখন তারা তাদেরকে দানকৃত বস্তু লাভ করে খুব আনন্দিত ও উল্লসিত হল, তখন হঠাৎ একদিন আমি তাদেরকে পাকড়াও করলাম, আর তারা সেই অবস্থায় নিরাশ হয়ে পড়ল। অতপর অত্যাচারী সম্প্রদায়ের মূল শিকড় কেটে ফেলা হল। (সুরা আনআম, আয়াত ৪২-৪৫)

ভূমিকম্পের মাধ্যমে কখনো আজাবও দেওয়া হয়। আল্লাহ তায়ালা হজরত শুয়াইব আ.-এর সম্প্রদায়কে ভূমিকম্পের মাধ্যমেই শাস্তি দিয়েছিলেন। পবিত্র কুরআন শরীফে এর বিবরণে বলা হয়েছে, ‘অতঃপর ভূমিকম্প তাদের পাকড়াও করল। তারপর তারা তাদের গৃহে উপুড় হয়ে পড়ে রইল। যেন শোয়াইবকে অস্বীকারকারীরা সেখানে কোনো দিন বসবাসই করেনি। যারা শোয়াইবকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেল।’ (সুরা আরাফ, আয়াত : ৯১-৯২)

ভূমিকম্পকে কেবল সতর্কবার্তা হিসেবেই পাঠ করা যথেষ্ট নয়। একে কিয়ামতের আলামত হিসেবেও পাঠ করতে হবে। আল্লাহর রাসুল সা. বারবার ভূমিকম্প হওয়াকে কিয়ামতের আলামত হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, কেয়ামত ততক্ষণ পর্যন্ত হবে না, যে পর্যন্ত না ইলম উঠিয়ে নেওয়া হবে, অধিক পরিমাণে ভূমিকম্প হবে, সময় সংকুচিত হয়ে আসবে, ফিতনা প্রকাশ পাবে এবং খুনখারাবি বাড়বে, তোমাদের সম্পদ এতো বাড়বে যে উপচে পড়বে। (সহিহ বুখারি, হাদিস ১০৩৬)।

জাগতিক বিজ্ঞানে ভূমিকম্পের বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া আছে। তবে ওসব ব্যাখ্যার উপরের সত্য হলো, মানুষের পাপের কারণে আল্লাহ তায়ালা ভূমিকম্প ঘটান। হাদিসে এসেছে, ভূমিকম্পের মাধ্যমেও যদি বান্দা সতর্ক না হয়, গুনাহের মাধ্যমে পরিবেশ যদি ভয়াবহ করে তোলে, তাহলে আল্লাহর শাস্তি আরো কঠোর হবে। এক হাদিসে নবীজি সা. বলেছেন, ‘এ উম্মত ভূমিকম্প, বিকৃতি এবং পাথরবর্ষণের মুখোমুখি হবে। এক সাহাবি জিজ্ঞাসা করলেন, সেটা কখন হবে হে আল্লাহর রাসুল? তিনি বলেন, যখন গায়িকা এবং বাদ্যযন্ত্রের প্রকাশ ঘটবে এবং মদপানে সয়লাব হবে।’ (সহিহ তিরমিজি, হাদিস : ২২১২)

সুতরাং ভূমিকম্পে আমাদের সতর্ক হতে হবে। গুনাহের জীবন থেকে মোড় ঘুরিয়ে আল্লাহর আনুগত্যে মনোনিবেশ করতে হবে। তাওবা-ইস্তেগফার করতে হবে। যাবতীয় নাফরমানি থেকে নিবৃত হতে হবে। তবেই হতে পারে ভূমিকম্পের সঠিক পাঠ। অবশ্য কেউ দুর্যোগে আক্রান্ত হলে কিংবা মারা গেলে দোষারোপ করা যাবে না। বরং নিজে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। দোয়া করতে হবে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্যও। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সঠিক পথ প্রদর্শন করেন। আমিন।

 

সরকারি জমি দখলকে কেন্দ্র করে সালথায় সংঘর্ষ, আহত ১৫

নিজস্ব প্রতিবেদক ও সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৫৫ এএম
সরকারি জমি দখলকে কেন্দ্র করে সালথায় সংঘর্ষ, আহত ১৫

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় সরকারি জমি দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের হরিনা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হরিনা গ্রামের বাসিন্দা সঞ্জয় মালোর সঙ্গে একই এলাকার মাসুদ চৌধুরী ও দুলাল চৌধুরীর মধ্যে সরকারি জমি লিজ ও দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধের জেরে গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে উভয়পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষ চলাকালে লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সংঘর্ষের পরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে টহল জোরদার করে।

সালথা থানার ওসি (তদন্ত) কেএম মারুফ হাসান রাসেল জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, বিরোধপূর্ণ সরকারি জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় যে কোনো সময় আবারও বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

মধুখালীতে পরকীয়ার অভিযোগে নারী-পুরুষকে গাছে বেঁধে হেনস্তা, এলাকায় চাঞ্চল্য

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৩৪ এএম
মধুখালীতে পরকীয়ার অভিযোগে নারী-পুরুষকে গাছে বেঁধে হেনস্তা, এলাকায় চাঞ্চল্য

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় পরকীয়ার অভিযোগ তুলে এক যুবক ও এক প্রবাসীর স্ত্রীকে গাছে বেঁধে হেনস্তা করার ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার গাজনা ইউনিয়নের মথুরাপুর গাংনীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রবাসে থাকা অলেমান নামে এক ব্যক্তির স্ত্রীর সঙ্গে একই এলাকার রাকিব শেখ নামে এক যুবকের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় আগে থেকেই গুঞ্জন ছিল। বিষয়টি নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যেও একাধিকবার আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।

শুক্রবার সকালে স্থানীয়রা ওই নারী ও যুবককে একটি নির্জন ঘরে একসঙ্গে দেখতে পান। এ সময় উত্তেজিত লোকজন তাদের আটক করে বাড়ির সামনে একটি আমগাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। পরে তাদের নিয়ে প্রকাশ্যে নানা ধরনের কটূক্তি ও হেনস্তা করা হয়। ঘটনাস্থলে ভিড় জমায় উৎসুক জনতা।

অভিযুক্ত যুবক রাকিব শেখ দাবি করেন, “এই মেয়ের সঙ্গে আমার বিয়ের আগ থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আমি তাকে দেখতে এসেছিলাম। আমাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।” তবে এ বিষয়ে ওই নারীর পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তারা বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি জানান, এ ধরনের ঘটনা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার শামিল। এতে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয় এবং ভুক্তভোগীদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়।

এ বিষয়ে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান বলেন, “এ ধরনের কোনো লিখিত অভিযোগ এখনো পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সচেতন মহল এ ধরনের জনতার বিচার বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ফরিদপুরে মাদক ব্যবসায় বাধা, স্ত্রী-সন্তানকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০১ এএম
ফরিদপুরে মাদক ব্যবসায় বাধা, স্ত্রী-সন্তানকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় নিজের স্ত্রী ও স্কুলপড়ুয়া সন্তানকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সাহিদ শেখ (৪৫) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ক্ষোভের বশে তিনি নিজের সন্তানের বইখাতাও পুড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মাঝারদিয়া গ্রামে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত সাহিদ শেখ ওই গ্রামের মৃত আকুব্বর শেখের ছেলে এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এর আগে একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়ে কারাভোগ করলেও তার মাদক ব্যবসা বন্ধ হয়নি। বরং বর্তমানে আরও সক্রিয়ভাবে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবেশীরা জানান, সাহিদের বড় ছেলে আশিক শেখ এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। বাবার মাদক ব্যবসার কারণে সামাজিকভাবে অপমানিত হতে হওয়ায় সে বাবাকে এই পথ থেকে ফিরে আসতে বারবার অনুরোধ করে। কিন্তু এতে উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সাহিদ। গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তিনি বাড়িতে মাদক সেবনের সময় স্ত্রী ও ছেলে বাধা দিলে তাদের ঘরের বাঁশের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করেন। এ সময় ছেলের পড়াশোনার সব বইখাতাও আগুনে পুড়িয়ে দেন।

এ ঘটনার একটি ভিডিও শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

নির্যাতনের শিকার সাহিদের স্ত্রী জাহানারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, তার স্বামী নিয়মিত মাদক সেবন করেন এবং সংসারের দায়িত্বও ঠিকভাবে পালন করেন না। মাদক ব্যবসা ও সেবনে বাধা দিলেই তিনি প্রায়ই স্ত্রী ও সন্তানদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালান। সর্বশেষ ঘটনায় তাদের মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এমনকি তাদের ছোট সন্তান জুনায়েদকেও আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বর্তমানে আশিক ও তার মা পাশের একটি গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। এদিকে নিজের বাবার বিরুদ্ধে সালথা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আশিক শেখ।

এ বিষয়ে সালথা থানার ওসি (তদন্ত) মো. মারুফ হাসান রাসেল বলেন, “স্ত্রী-সন্তানকে নির্যাতনের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”

স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত অভিযুক্তের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।