খুঁজুন
সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন, ১৪৩২

ইখলাসের আলোয় আমল: নিয়ত বিশুদ্ধ না হলে মহৎ কাজও অগ্রাহ্য

মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:০০ এএম
ইখলাসের আলোয় আমল: নিয়ত বিশুদ্ধ না হলে মহৎ কাজও অগ্রাহ্য

মানুষ এই দুনিয়ায় নানা প্রলোভন ও আবেদনের তাড়নায় কাজ করে থাকে। কখনো অর্থের মোহ, কখনো খ্যাতি ও যশের লালসা, কখনো ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা—আবার কখনো নারীসঙ্গ বা লোকরঞ্জনের বাসনা তাকে চালিত করে। প্রভুত্বপ্রিয়তা ও মানুষের প্রশংসা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাও অনেক সময় মানুষের কর্মপ্রেরণার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।

ইসলামের দৃষ্টিতে এসব জাগতিক উদ্দেশ্যকে বলা হয় ‘গায়রুল্লাহ’। আর এই ধরনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত আমলকে শরিয়তের পরিভাষায় ‘রিয়া’ বলা হয়। রিয়ায় আক্রান্ত কোনো কাজ, তা যত মহৎই মনে হোক না কেন, আল্লাহ তাআলার কাছে কখনো গ্রহণযোগ্য হয় না। এমন আমল কবুলিয়তের মর্যাদা লাভ করে না।

নবীজি হজরত মুহাম্মদ (সা.) সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন—কোনো মহৎ কাজে যদি বিন্দুমাত্র রিয়া বা লোক দেখানোর প্রবণতা থাকে, তবে তা আল্লাহর কাছে গৃহীত হয় না।
(ইমাম নাসায়ি, আস-সুনান, হাদিস: ৩১৪০)

আরেক হাদিসে নবীজি (সা.) কিয়ামতের দিনের এক ভয়াবহ দৃশ্য তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, সেদিন আল্লাহর সামনে তিন শ্রেণির মানুষকে হাজির করা হবে—একজন খ্যাতিমান আলেম, একজন প্রসিদ্ধ দানশীল এবং একজন বিখ্যাত শহীদ। আলেমকে জিজ্ঞাসা করা হবে, সে দুনিয়ায় কী করেছে। সে বলবে, দ্বিনের ইলম অর্জন ও তার প্রচারে জীবন ব্যয় করেছে। কিন্তু আল্লাহ বলবেন, এসব কাজ সে করেছে খ্যাতির জন্য, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নয়। ফলে তাকে অধোমুখ করে জাহান্নামে নিক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হবে। একই পরিণতি হবে দানশীল ও শহীদ পরিচয়ে খ্যাত ব্যক্তিদেরও—নিয়তের বিশুদ্ধতা না থাকার কারণে।
(ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ, হাদিস: ১৯০৫)

অন্যদিকে, আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করা অল্প আমলও নাজাতের জন্য যথেষ্ট হতে পারে। নবীজি (সা.) বলেছেন,
“তোমরা দ্বিনকে খালিস ও নির্ভেজাল করো—অল্প আমলই তোমাদের জন্য যথেষ্ট হবে।”

আল্লাহ তাআলা সৎ বান্দাদের প্রশংসা করে কোরআনে বলেন,“তারা আল্লাহর জন্যই তাদের দ্বিন ও আমলকে নির্ভেজাল করে।”
(সুরা বায়্যিনাহ: ৫)

আরও স্পষ্টভাবে আল্লাহ ইরশাদ করেন,
“জেনে রেখো, খালিস ও বিশুদ্ধ দ্বিন আল্লাহরই জন্য।”
(সুরা জুমার: ৩)

নিয়তের গুরুত্ব বোঝাতে নবীজি (সা.) বলেছেন,
“সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। যে যেমন নিয়ত করবে, সে তেমন প্রতিদান পাবে। যার হিজরত হবে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের জন্য, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের জন্যই গণ্য হবে। আর যার হিজরত হবে দুনিয়া লাভ বা কোনো নারীকে বিয়ের উদ্দেশ্যে, তার হিজরত সে উদ্দেশ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।”
(ইমাম বুখারি, আস-সহিহ, হাদিস: ১)

একজন প্রকৃত মুমিন তার আমলের বিনিময়ে প্রাপ্তি বা অপ্রাপ্তির হিসাবেও আবদ্ধ থাকে না। জান্নাত লাভ কিংবা জাহান্নাম থেকে মুক্তির চিন্তাও তার কাছে গৌণ হয়ে যায়। কারণ সে জানে—পুরস্কার হলো পুরস্কারদাতার অনুগ্রহ, লক্ষ্য নয়। তার একমাত্র লক্ষ্য থাকে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি।

এ কারণেই মুমিনের প্রতিটি কাজ হওয়া উচিত একান্তভাবে আল্লাহর জন্য, তাঁরই সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে। নিয়তের এই বিশুদ্ধতাকেই শরিয়তের ভাষায় বলা হয় ‘ইখলাস’। সাহাবায়ে কেরাম এই ইখলাসের সর্বোচ্চ স্তরে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তাই আল্লাহ তাআলা তাঁদের সম্পর্কে কোরআনে ঘোষণা করেছেন,“আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট, আর তাঁরাও আল্লাহর ওপর সন্তুষ্ট।”
(সুরা তাওবা: ১০০)

ইখলাসই আমলের প্রাণ—এ ছাড়া কোনো আমলই আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য নয়।

ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

সোহাগ মাতুব্বর, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:২৫ পিএম
ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়ে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় ভাঙ্গা উপজেলার হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে হাসপাতালের চেয়ারম্যান সহিদুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মানবসেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। দক্ষ ও মানবিক মনোভাবসম্পন্ন সেবাকর্মী তৈরি করতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের চর্চাও প্রয়োজন। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ভবিষ্যতে মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করার আহ্বান জানান।

ইফতার মাহফিলে হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের বিভিন্ন ট্রেডের প্রশিক্ষক, প্রশিক্ষণার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। ইফতারের আগে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রমজানের তাৎপর্য, সংযম ও মানবিকতার শিক্ষা নিয়ে বক্তব্য রাখেন উপস্থিত অতিথিরা।

পরে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং হাসপাতালের সার্বিক উন্নতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের কল্যাণ এবং সকলের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, এ ধরনের আয়োজন তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। একই সঙ্গে রমজানের পবিত্রতা ও সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে নতুন করে অনুপ্রাণিত হতে সহায়তা করে।

সর্বশেষে উপস্থিত সবাই একসঙ্গে ইফতার গ্রহণ করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও প্রশিক্ষণার্থীদের অংশগ্রহণে এ ধরনের সামাজিক ও ধর্মীয় আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

‘দৃষ্টির চশমা’

গোলাম কিবরিয়া
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:১২ পিএম
‘দৃষ্টির চশমা’

নিশুতি রাত, থমথমে ভাব, পুকুর ঘাটের পাড়ে,
দুইটি মানুষ বসলো এসে খুব সাবধানে আড়ে।
এক পাড়ে এক পাকা চোর, অন্য পাড়ে মুমিন,
দুজনারই ব্যস্ততা আজ বেড়েছে অন্তহীন।

​চোর বেচারা হাত ধুয়ে নেয়, পোটলাটি তার পাশে,
ওপার পানে তাকিয়ে সে মুচকি মনে হাসে।
ভাবছে, “আহা! ওই বেটা তো মস্ত বড় চোর,
নিশ্চয় সেও সিঁধ কেটেছে ওস্তাদ বড় জোর!”

​মনেহয় সে কোনো বাড়ির সিন্দুক করেছে ফাঁকা,
আমার চেয়েও বেশি হয়তো মাল রয়েছে রাখা!
বড্ড সেয়ানা চোর তো ওটা, বসলো জলের ধারে,
কাজ সেরে আজ ফুরফুরে সে, শান্তি খোঁজে পাড়ে।

​ওপার পাড়ে ধার্মিক জন করছে ওযু ধীর,
ভাবছে, “আহা! ওই পাড়ে কে? বড্ড খোদাভীর!
আমার চেয়েও মস্ত বড় বুজুর্গ এক পীর,
ইবাদতে মত্ত হতে তাই তো হলেন স্থির।”

​তাহাজ্জুদের এই বেলাতে আমার সাথে জাগে,
খোদার প্রেমে মশগুল সে, মরণ কিসের আগে?
আহা! কপাল আমার ভালো, এমন সাথী পেলাম,
দূর থেকেই সেই বুজুর্গে জানাই হাজার সালাম!

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান,
বরগুনা সরকারি কলেজ

ফরিদপুরে ঈদের প্রধান জামাত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮ টায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪২ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের প্রধান জামাত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮ টায়

পবিত্র ঈদুল ফিতর ২০২৬ উদযাপনকে সামনে রেখে ফরিদপুর জেলায় সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণের লক্ষ্যে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বাকাহীদ হোসেন, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সুস্মিতা সাহা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রামানন্দ পালসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা।

সভায় আসন্ন ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফরিদপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় জেলার প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বিকল্প হিসেবে জেলার বিভিন্ন মসজিদে ঈদের জামাত আয়োজনের ব্যবস্থা রাখা হবে।

এছাড়া ঈদ উপলক্ষে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা না করার বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঈদকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলে জানানো হয়। বিশেষ করে ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয় যে, ঈদ যাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি বাস টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা সভায় বলেন, ঈদ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। তাই এই উৎসবকে ঘিরে মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।

সভায় আরও জানানো হয়, ঈদের সময় হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগসহ জরুরি সেবাগুলো চালু রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।