খুঁজুন
সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন, ১৪৩২

কোরআনের কিছু আয়াত কেন বারবার তিলাওয়াত করা হয়

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:১৯ পিএম
কোরআনের কিছু আয়াত কেন বারবার তিলাওয়াত করা হয়

পবিত্র কোরআনবিহীন মুমিনের জীবন কল্পনাও করা যায় না। কোনো না কোনোভাবে মুমিনের সঙ্গে কোরআনের সম্পর্ক থাকেই। এ ক্ষেত্রে কোরআনের বিশেষ আয়াতগুলো বারবার পাঠ করা এবং তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করার বিশেষ তাগিদ রয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) কোরআন তিলাওয়াত করার সময় গুরুত্বপূর্ণ আয়াত একাধিকবার তিলাওয়াত করতেন।

আবু জার (রা.) বলেন, এক রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাহাজ্জুদের সালাতে ভোর পর্যন্ত দাঁড়িয়ে একটি মাত্র আয়াত পড়তে থাকলেন, আয়াতটি হলো, ‘যদি আপনি তাদের শাস্তি দেন, তাহলে তারা আপনার বান্দা। আর যদি তাদের ক্ষমা করেন, তাহলে আপনি মহাপরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ১১৮)
তাবেঈ ইবনে আবি মুলাইকা (মৃ. ১১৭ হি.) বলেন, আমি মক্কা থেকে মদিনা পর্যন্ত আবু বকর (রা.)-এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি রাতের বেলা কিয়ামুল লাইল করতেন।

তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, সালাতে তাঁর তিলাওয়াত কেমন ছিল? জবাবে তিনি বললেন, তিনি ধীরে ধীরে তিলাওয়াত করতেন। আর যখন এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন—‘আর মৃত্যুযন্ত্রণা আসবে নিশ্চিতভাবে, যা থেকে তুমি পালিয়ে বেড়াতে।’ (সুরা : কাফ, আয়াত : ১৯)
তখন আয়াতটি বারবার তিলাওয়াত করতে থাকতেন এবং ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতেন এবং অনেক বেশি কাঁদতেন।

(মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহ, হাদিস : ৩৮৪৬৩; ২০/১১২; সিয়ারু আলামিন নুবালা : ৩/৩৫২)

একবার উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) সালাতে সুরা তুর তিলাওয়াত করতেন।

যখন তিনি এই আয়াতে পৌঁছতেন, ‘নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালকের শাস্তি অবশ্যই আসবে। একে প্রতিহত করার কেউ নেই।’ (সুরা : তুর, আয়াত : ৭-৮)
তিনি আয়াত দুটি বারবার তিলাওয়াত করতেন এবং আল্লাহর আজাবের ভয়ে অসুস্থ হয়ে পড়তেন। (ইবনুল কাইয়িম, আল-জাওয়াবুল কাফি : ১/৯২)

ইসহাক ইবনে ইবরাহিম (রহ.) বলেন, ‘ফুজাইল ইবনে ইয়াজ (রহ.) দুঃখভরা কণ্ঠে, প্রবল অনুরাগ নিয়ে এবং ধীরে ধীরে কোরআন তিলাওয়াত করতেন। মনে হতো—যেন তিনি কোনো মানুষকে সম্বোধন করে কিছু বলছেন।

যখন জান্নাতের আলোচনা সংবলিত কোনো আয়াত তিনি অতিক্রম করতেন, তখন সেই আয়াত বারবার তিলাওয়াত করতেন।’
(জাহাবী, সিয়ারু আলামিন নুবালা : ৮/৪২৮)

আগের মুসলিম মনীষীরা কোরআন তিলাওয়াতের সময় এর মাধ্যমে প্রবলভাবে প্রভাবিত হতেন। ইবনে আমর (রা.) বলেন, যখন সুরা যিলজাল নাজিল হয়, তখন আবু বকর (রা.) কাঁদতে শুরু করেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে বলেন, ‘হে আবুবকর! তুমি কাঁদছ কেন?’ জবাবে তিনি বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! এই সুরা আমাকে কাঁদাচ্ছে।’ (ইবনু আবিদ্দুনয়া, আর-রিক্কাহ ওয়াল বুকা, পৃ. ৮১)

মালিক বিন দিনার (মৃ. ১৪০ হি.) একদা কোরআন তিলাওয়াত করছিলেন। যখন তিনি এই আয়াতে পৌঁছলেন, ‘যদি এই কোরআন আমরা কোনো পাহাড়ের ওপর নাজিল করতাম, তাহলে অবশ্যই তুমি তাকে আল্লাহর ভয়ে বিনীত ও বিদীর্ণ হতে দেখতে। আর আমরা এসব দৃষ্টান্ত মানুষের জন্য বর্ণনা করি, যাতে তারা চিন্তা করে।’

(সুরা : হাশর, আয়াত : ২১)

তখন তিনি প্রবলভাবে কেঁদে উঠলেন এবং বলেন, ‘আমি তোমাদের কসম করে বলছি, যে ব্যক্তি সত্যিকার অর্থে এই কোরআনের প্রতি ঈমান আনবে, তার হৃদয় (কোরআনের মর্মবাণী অনুধাবন করে) বিগলিত হয়ে যাবে।’

(আহমাদ ইবনে হাম্বল, কিতাবুয জুহদ, পৃ. ২৫৮)

সূত্র: কালের কণ্ঠ

ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

সোহাগ মাতুব্বর, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:২৫ পিএম
ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়ে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় ভাঙ্গা উপজেলার হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে হাসপাতালের চেয়ারম্যান সহিদুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মানবসেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। দক্ষ ও মানবিক মনোভাবসম্পন্ন সেবাকর্মী তৈরি করতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের চর্চাও প্রয়োজন। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ভবিষ্যতে মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করার আহ্বান জানান।

ইফতার মাহফিলে হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের বিভিন্ন ট্রেডের প্রশিক্ষক, প্রশিক্ষণার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। ইফতারের আগে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রমজানের তাৎপর্য, সংযম ও মানবিকতার শিক্ষা নিয়ে বক্তব্য রাখেন উপস্থিত অতিথিরা।

পরে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং হাসপাতালের সার্বিক উন্নতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের কল্যাণ এবং সকলের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, এ ধরনের আয়োজন তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। একই সঙ্গে রমজানের পবিত্রতা ও সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে নতুন করে অনুপ্রাণিত হতে সহায়তা করে।

সর্বশেষে উপস্থিত সবাই একসঙ্গে ইফতার গ্রহণ করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও প্রশিক্ষণার্থীদের অংশগ্রহণে এ ধরনের সামাজিক ও ধর্মীয় আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

‘দৃষ্টির চশমা’

গোলাম কিবরিয়া
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:১২ পিএম
‘দৃষ্টির চশমা’

নিশুতি রাত, থমথমে ভাব, পুকুর ঘাটের পাড়ে,
দুইটি মানুষ বসলো এসে খুব সাবধানে আড়ে।
এক পাড়ে এক পাকা চোর, অন্য পাড়ে মুমিন,
দুজনারই ব্যস্ততা আজ বেড়েছে অন্তহীন।

​চোর বেচারা হাত ধুয়ে নেয়, পোটলাটি তার পাশে,
ওপার পানে তাকিয়ে সে মুচকি মনে হাসে।
ভাবছে, “আহা! ওই বেটা তো মস্ত বড় চোর,
নিশ্চয় সেও সিঁধ কেটেছে ওস্তাদ বড় জোর!”

​মনেহয় সে কোনো বাড়ির সিন্দুক করেছে ফাঁকা,
আমার চেয়েও বেশি হয়তো মাল রয়েছে রাখা!
বড্ড সেয়ানা চোর তো ওটা, বসলো জলের ধারে,
কাজ সেরে আজ ফুরফুরে সে, শান্তি খোঁজে পাড়ে।

​ওপার পাড়ে ধার্মিক জন করছে ওযু ধীর,
ভাবছে, “আহা! ওই পাড়ে কে? বড্ড খোদাভীর!
আমার চেয়েও মস্ত বড় বুজুর্গ এক পীর,
ইবাদতে মত্ত হতে তাই তো হলেন স্থির।”

​তাহাজ্জুদের এই বেলাতে আমার সাথে জাগে,
খোদার প্রেমে মশগুল সে, মরণ কিসের আগে?
আহা! কপাল আমার ভালো, এমন সাথী পেলাম,
দূর থেকেই সেই বুজুর্গে জানাই হাজার সালাম!

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান,
বরগুনা সরকারি কলেজ

ফরিদপুরে ঈদের প্রধান জামাত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮ টায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪২ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের প্রধান জামাত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮ টায়

পবিত্র ঈদুল ফিতর ২০২৬ উদযাপনকে সামনে রেখে ফরিদপুর জেলায় সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণের লক্ষ্যে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বাকাহীদ হোসেন, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সুস্মিতা সাহা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রামানন্দ পালসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা।

সভায় আসন্ন ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফরিদপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় জেলার প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বিকল্প হিসেবে জেলার বিভিন্ন মসজিদে ঈদের জামাত আয়োজনের ব্যবস্থা রাখা হবে।

এছাড়া ঈদ উপলক্ষে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা না করার বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঈদকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলে জানানো হয়। বিশেষ করে ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয় যে, ঈদ যাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি বাস টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা সভায় বলেন, ঈদ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। তাই এই উৎসবকে ঘিরে মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।

সভায় আরও জানানো হয়, ঈদের সময় হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগসহ জরুরি সেবাগুলো চালু রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।