খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

শাবান মাস: রমজানকে স্বাগত জানানোর সময়

মাওলানা মিজানুর রহমান
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:২৩ এএম
শাবান মাস: রমজানকে স্বাগত জানানোর সময়

হিজরি বর্ষের অষ্টম মাস শাবান। রমজান মাসের আগমনী বার্তা নিয়ে শাবান মাসের প্রারম্ভ ঘটে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে একটি গনিমতের সময়। এ মাসে নফল রোজা ও ইবাদতের এক অপূর্ব মেলবন্ধনের সূচনা হয়। রমজানের পরশে যেন এটাও আরেকটি রমজানের রূপ ধারণ করে। মহানবী (সা.) এ মাসে অনেক বেশি আমল করতেন। রমজানের পর এ মাসেই সবচেয়ে বেশি ইবাদত করতেন।

হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে জানা যায়, ‘নবীজি (সা.) শাবান মাসের চেয়ে অধিক রোজা অন্য মাসে পালন করতেন না। তিনি প্রায় পুরো মাসই রোজা পালন করতেন এবং বলতেন, তোমরা সাধ্য অনুযায়ী আমল করে নাও। কেননা আল্লাহতায়ালা প্রতিদান বা সওয়াব দিতে বিরক্ত হন না যতক্ষণ না তোমরা ইবাদত করতে বিরক্ত হও।’ (বুখারি: ১৯৭০)। নবীজি (সা.)-এর অনুসরণে সাহাবিরাও এ মাসে অনেক বেশি পরিমাণে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল হতেন।

শাবান-পরবর্তী রমজান মাসের প্রধান আমল রোজা রাখা। নবীজি (সা.) রমজানের রোজার প্রস্তুতি ও অনুশীলন করতেন শাবান মাসে। বলা যায়, শাবান ও রমজান এ দুটো মাসই নবীজি (সা.)-এর রোজা ও উপবাসে কেটে যেত। হজরত উম্মে সালামাহ (রা.) বলেন, ‘নবীজি (সা.) শাবান ও রমজানে লাগাতার দুই মাস রোজা পালন করতেন। এ ছাড়া অন্য কোনো মাসে এভাবে রোজা পালন করতেন না।’ (নাসায়ি: ২৩৫২)। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর কাছে সবচেয়ে পছন্দের মাস ছিল শাবান। এ মাসে রোজা পালন করতে করতে রমজানে উপনীত হতেন।’ (নাসায়ি: ২৩৬০)। অবশ্য নবীজি (সা.) শাবান মাসেও কিছু কিছু রোজা বাদ দিতেন বলে জানা যায়। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত—‘তিনি শাবান মাসেও কিছু কম রোজা পালন করতেন।’ (মুসলিম: ১১৫৬)।

এ মাসেই মহান আল্লাহর কাছে বান্দার আমলনামা পেশ করা হয়। বান্দার ভালো-মন্দ কর্মের বিবরণ প্রকাশিত হয়। হজরত উসামা ইবনে জায়েদ (রা.) একবার নবীজি (সা.)কে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আপনাকে শাবান মাস ছাড়া অন্য কোনো মাসে এত বেশি ইবাদত করতে দেখি না। এর প্রকৃত কারণ কী? নবীজি (সা.) উত্তরে বললেন, এটা রজব ও রমজানের মধ্যবর্তী এমন একটি মাস, যে মাসে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে বান্দার আমলগুলো পেশ করা হয়। অথচ এ মাসে মানুষ উদাসীন হয়ে যায়। কিন্তু আমি চাই আমি রোজা পালনকারী অবস্থায় আমার আমলগুলো মহান আল্লাহর কাছে পেশ করা হোক।’ (নাসায়ি: ২৩৫৭)।

রমজানের সম্মানে শাবানের আগমন হয়। মুমিনের ইবাদতের বসন্ত মাস রমজান। রমজানের শুভ আগমনকে উপলক্ষ করে শাবান মাসও সম্মানিত হয়ে যায়। হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত—‘নবীজি (সা.)কে জিজ্ঞাসা করা হলো, রমজানের পর কোন রোজা সর্বোত্তম? তখন তিনি বললেন, রমজানের সম্মানার্থে শাবান মাসে রোজা পালন করা। আরও জিজ্ঞাসা করা হলো, কোন সদকা সর্বোত্তম? তখন তিনি বললেন, রমজানে সদকা করা।’ (তিরমিজি: ৬৬৩)। পূর্ববর্তী কোনো রোজা কাজা থাকলে তা পালনেও এ মাসে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমার ওপর রমজানের যেসব কাজা রোজা থাকত, সেগুলো শাবান মাসের ভেতরেই আদায় করে ফেলতাম।’ (মুসলিম: ১১৪৬)।

শাবান মাসের সবচেয়ে মহত্ত্বপূর্ণ সময় হচ্ছে মধ্যবর্তী রাত। এ রাতে বান্দার গুনাহ মাফ করা হয়। অভাবীকে রিজিক দেওয়া হয়। উপমহাদেশে এ রাত ‘শবেবরাত’ হিসেবে প্রসিদ্ধ। ‘শব’ শব্দটি ফার্সি, অর্থ রাত। ‘বারাআত’ শব্দটি আরবি, অর্থ মুক্তি। তথা জাহান্নাম থেকে মুক্তির রাত হলো ‘শবেবরাত’। শবেবরাতকে হাদিসের পরিভাষায় ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ বলা হয়। এ রাতে আল্লাহতায়ালা সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীর আসমানে নেমে আসেন। বান্দাকে ডাকতে থাকেন। বান্দার যাবতীয় প্রয়োজন আল্লাহর কাছে পেশ করার আহ্বান করেন। হাদিসে এসেছে, ‘রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যখন শাবান মাসের অর্ধেকের রজনি আসে, তখন তোমরা রাতে নামাজ পড়ো, দিনের বেলা রোজা রাখো। নিশ্চয়ই আল্লাহ এ রাতে সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীর আসমানে এসে বলেন, আমার কাছে কোনো গুনাহ ক্ষমাপ্রার্থী আছে কি? আমি তাকে ক্ষমা করে দেব। কোনো রিজিকপ্রার্থী আছে কি? আমি তাকে রিজিক দেব। কোনো বিপদগ্রস্ত মুক্তি পেতে চায় কি? আমি তাকে মুক্তি দেব। আছে কি এমন, আছে কি তেমন? এমন বলতে থাকেন ফজর পর্যন্ত।’ (ইবনে মাজা: ১৩৮৮)।

আল্লাহতায়ালা শবেবরাতে অসংখ্য বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। উদাহরণ হিসেবে মুহাম্মদ (সা.) বকরির পশমের চেয়ে বেশি বান্দাকে এ রাতে ক্ষমা করার কথা বলেছেন। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, এক রাতে রাসুল (সা.)কে না পেয়ে খুঁজতে বের হলাম। জান্নাতুল বাকিতে গিয়ে তাকে দেখতে পেলাম। তিনি বললেন, কী ব্যাপার আয়েশা? তোমার কী মনে হয়, আল্লাহ এবং তার রাসুল তোমার ওপর কোনো অবিচার করবেন? হজরত আয়েশা (রা.) বললেন, আমার ধারণা হয়েছিল আপনি অন্য কোনো স্ত্রীর ঘরে গিয়েছেন। রাসুল (সা.) তখন বললেন, যখন শাবান মাসের অর্ধেকের রাত আসে, আল্লাহ পৃথিবীর আসমানে নেমে আসেন। তারপর বনু কালব গোত্রের বকরির পশমের চেয়ে বেশিসংখ্যক বান্দাকে ক্ষমা করে দেন।’ (তিরমিজি: ৭৩৯)।

কোনো ব্যক্তি যদি অসুবিধা কিংবা প্রয়োজনবশত শাবান মাসের রোজা রাখতে না পারে, তাহলে সে রমজান মাসের পর রোজা রাখবে। তবে শাবান মাসের রোজা পরবর্তী সময়ে পালন করা ফরজ কিংবা ওয়াজিব নয়। হজরত ইমরান ইবনে হোসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত—‘নবী (সা.) এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি এ মাসের মধ্যভাগে কিছুদিন রোজা রেখেছিলে? সে বলল, না। রাসুল (সা.) বললেন, তুমি তার পরে রমজানের রোজা শেষ করে দুদিন রোজা রাখবে।’ (মুসলিম: ২৬৪২)। রমজান মাস শুরু হওয়ার কয়েক দিন আগে থেকে রোজা রাখার প্রয়োজন নেই। এক হাদিসে মাসের অর্ধেক হলেই রোজা না রাখার কথা বর্ণিত হয়েছে। আরেক হাদিসে দুদিন আগে না রাখার কথা পাওয়া যায়। সে দিনগুলোয় রমজানের রোজার প্রস্তুতি নেবে। তবে কোনো ব্যক্তি যদি সপ্তাহের সুন্নত রোজা (প্রতি বৃহস্পতি ও সোমবার) কিংবা দাউদ (আ.)-এর মতো রোজা (এক দিন রোজা রাখা ও পরদিন না রাখা) পালনের অভ্যাস থাকে, তাহলে সে ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারবে। প্রয়োজনে শেষ দিনও রোজা রাখতে পারবে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘শাবান মাসের অর্ধেক অতিবাহিত হলে তোমরা রোজা রাখবে না।’ (আবু দাউদ: ২৩৩৭)।

মহান আল্লাহর কাছে সবচেয়ে পছন্দের মাস রমজান। এই একটি মাসে আল্লাহ ও বান্দার মধ্যে গভীর ভালোবাসা তৈরি হয়। এ মাসের কল্যাণে শাবান মাসটিকেও আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সম্মানিত করেছেন। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও শাবান মাসে অনেক বেশি পরিমাণে ইবাদত করতেন। রাসুলের ইবাদত দেখে সাহাবি ও উম্মাহাতুল মুমিনিনরা মনে করতেন, যেন রমজান চলছে। এ যেন আরেকটি রমজান। এ ছাড়া রজব ও শাবান মাস চলাকালে নবীজি বারবার এই দোয়াটি পড়তেন এবং সবাইকে পড়তে উৎসাহিত করতেন—‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজাবা ওয়া শাবান ওয়া বাল্লিগনা রমাদান’, অর্থাৎ ‘হে আল্লাহ, রজব ও শাবানে আমাদের বরকত দান করুন; এবং আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দিন।’ (মুসনাদে আহমাদ: ২৫৯)।

সাহাবায়ে কেরামও নিয়মিত আমল করতেন। অতএব এই পবিত্র শাবান মাসে সব মুসলমানের উচিত ইবাদত বাড়িয়ে দেওয়া। বিগত কোনো রোজা-নামাজ বাকি থাকলে সেগুলো দ্রুত আদায় করে ফেলা। সেসঙ্গে আসন্ন রমজানের জন্য শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখা। মহান আল্লাহ সবার জন্য শাবান মাসকে ইবাদত ও বরকতময় করুন। রমজানের সফলতার মাধ্যমে সবাইকে নাজাতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করুন।

লেখক: ইমাম ও খতিব

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে দুই দল গ্রামবাসী মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৫/২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে এ সংঘর্ষ। দুই পক্ষ ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে বারটার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন। এর জের ধরে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।