খুঁজুন
রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৬ বৈশাখ, ১৪৩৩

শুক্রবারে মারা গেলে কি কবরের আজাব মাফ হয়?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩০ পূর্বাহ্ণ
শুক্রবারে মারা গেলে কি কবরের আজাব মাফ হয়?

শুদ্ধতা আর শুভ্রতার মহোৎসবে পরিপূর্ণ দিবসের নাম শুক্রবার। পুরো সপ্তাহের ক্লান্ত দেহ, অতৃপ্ত মন এ দিনটিতে সুখের পরশে জেগে ওঠে। উল্লাসে মাতে। হাদিস শরিফে এসেছে, জুমার দিন কেবল মোহাম্মদি উম্মাতেরই বৈশিষ্ট্য।

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমাদের পূর্ববর্তী উম্মাতকে জুমার দিন সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা অজ্ঞ রেখেছেন। ইহুদিদের ফজিলতপূর্ণ দিবস ছিল শনিবার। খ্রিষ্টানদের ছিল রোববার। অতঃপর আল্লাহ তায়ালা আমাদের দুনিয়ায় পাঠালেন এবং জুমার দিনের ফজিলত দান করলেন। সিরিয়ালে শনি ও রোববারকে শুক্রবারের পেছনে রাখা হয়েছে। কারণ, দুনিয়ার এই সিরিয়ালের মতো কেয়ামতের দিনও ইহুদি-খ্রিষ্টানরা মুসলমানদের পেছনে থাকবে। আমরা উম্মত হিসেবে সবার শেষে এলেও কেয়ামতের দিন সবার ওপরে থাকব। (মুসলিম : ১৪৭৩)

জুমাবারের ফজিলত সম্পর্কে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন ফরজ গোসলের মতো গোসল করে এবং প্রথম প্রহরে মসজিদে যায়, সে যেন একটি উট কোরবানি করল। দ্বিতীয় প্রহরে গেলে গরু কোরবানির সওয়াব, তৃতীয় প্রহরে গেলে ভেড়া, চতুর্থ প্রহরে গেলে মুরগি এবং পঞ্চম প্রহরে গেলে ডিম কোরবানির সওয়াব পাবে। এরপর যখন ইমাম খুতবা দিতে মিম্বারে ওঠেন, তখন ফেরেশতারা আর আমল লেখেন না, তারা খুতবা শুনতে থাকেন। (বোখারি : ৮৮১)

কিন্তু আমাদের সমাজে অনেকে জুমার দিনের অতিরিক্ত গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে বলেন, ‘এ দিন কেউ মৃত্যুবরণ করলে তার কবরের সব আজাব মাফ। তিনি বিনা হিসেবে জান্নাতে চলে যাবেন।’

চলুন, জেনে নিই শরিয়তের এই কথার বাস্তবতা কতটুকু—

হাদিসের ভাষ্য

আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে মুসলমান জুমার দিনে কিংবা জুমার রাতে মৃত্যুবরণ করবে, নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা তাকে কবরের ফিতনা থেকে বাঁচিয়ে রাখবেন। (তিরমিজি : ১০৯৫)

ইসলামি স্কলারদের ভাষ্য

উল্লিখিত হাদিসের আলোকে ইসলামি স্কলাররা বলছেন, শুক্রবারে মৃত্যুবরণ করলে বিনা হিসাবে জান্নাত বা কিয়ামত পর্যন্ত কবরের আজাব মাফ এ কথা বলার কোনো সুযোগ নেই।

এ সম্পর্কে মুল্লা আলী কারী (রহ.) বলেন, জুমার দিনে বা রাতে যে মারা যাবে, তার থেকে কবরের আজাব উঠিয়ে নেওয়ার কথা প্রমাণিত। তবে কিয়ামত পর্যন্ত আজাব আর ফিরে আসবে না এ কথার কোনো ভিত্তি আমার জানা নেই (মিনাহুর রাওদিল আযহার ফি শরহি ফিকহিল আকবার : পৃষ্ঠা ২৯৫-২৯৬)।

একইভাবে কথা বলেছেন খ্যাতিমান ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহও। নিজের ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত; এই সময়ে মধ্যে কোনো মুসলিম ব্যক্তির মৃত্যু হলে আল্লাহ তায়ালা তাকে বিশেষ মর্যাদা দিয়ে থাকেন। অর্থাৎ তাকে কবরের আজাব ও ফিতনা থেকে মুক্তি দান করেন। আর স্বাভাবিকতই কেউ যদি কবরের অজাব থেকে মুক্তি লাভ করেন, তাহলে কিয়ামতের দিনের হাশরের মাঠে হিসাব-নিকাশ তার জন্য সহজ হয়ে যাবে বলে আশা করা যায়।

আহমাদুল্লাহ জানান, এ সম্পর্কে তিরমিজি শরিফে উসমান ইবনে আওফান (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কবর হলো আখিরাতের ঘাঁটিগুলোর মধ্যে প্রথম ঘাঁটি। এই ঘাঁটিতে যদি কারও জন্য প্রশ্নোত্তর সহজ করে দেওয়া হয়, এই ঘাঁটিতে যদি কেউ কোনো বড় বিপদে না পড়েন অর্থাৎ সহজেই পার পেয়ে যান, তাহলে পরবর্তী ধাপগুলো ও তিনি সহজেই উত্তীর্ণ হতে পারবেন; সেই আশা করা যায়। আর যদি কবরের ঘাঁটি কারও জন্য কঠিন হয়ে যায়, তাহলে পরবর্তী যে ধাপগুলো রয়েছে সেগুলো আরও কঠিন হবে।

এই হাদিসগুলোর আলোকে আশা বোঝা যায়, জুমার দিনে কারও মৃত্যু হলে সেটা একটি ভালো বা শুভ সংকেত। অর্থাৎ বলা যায়, সেই ব্যক্তি ভালো মৃত্যুবরণ করলেন এবং এর ফলে তার আখিরাতের প্রতিটি ধাপ তার জন্য সহজ হবে আশা করা যায়। তবে একটি কথা মনে রাখতে হবে, আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি না যে জুমার দিনে কেউ মৃত্যুবরণ করলে তিনি সরাসরি জান্নাতে যাবেন এবং তার কবর আজাব কেয়ামত পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। হ্যাঁ, সেই মৃত ব্যক্তির জন্য সুধারণা রাখা ভালো।

সূত্র : কালবেলা

এ বছর গরম কতটা দীর্ঘ হতে পারে?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৪৯ পূর্বাহ্ণ
এ বছর গরম কতটা দীর্ঘ হতে পারে?

বাংলা প্রবাদে শীতের তীব্রতা বোঝাতে যেমন নানা তুলনা আছে, তেমন গরম নিয়েও প্রবচন কম নেই। ‘চৈত্রের খরতাপ’ কিংবা ‘জ্যৈষ্ঠের তাপদাহ’— এই শব্দগুলোই বলে দেয়, বছরের একটি সময় জুড়ে এই অঞ্চলে গরমের প্রভাব কতটা পড়ে মানুষের জীবনে।

বাংলা পঞ্জিকার চৈত্র মাস সাধারণত ইংরেজি পঞ্জিকার মার্চ ও এপ্রিল মাসের মধ্যে পড়ে। আর জ্যৈষ্ঠ মাস পরে ইংরেজি মে ও জুন মাসের ভেতর। আর এর মাঝেই এপ্রিল-মে মাসে পড়ে বৈশাখ মাস।

অর্থাৎ, কাগজে-কলমে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মিলে গ্রীষ্মকাল হলেও বাংলাদেশে গরম শুরু হয় সেই মার্চ তথা চৈত্র মাস থেকেই। আর তা প্রলম্বিত হয় একেবারে শরৎকাল পর্যন্ত।

এ বছর মার্চে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঝড়-বৃষ্টির কারণে গরম অতটা টের পাওয়া না গেলেও এপ্রিলে, বিশেষ করে বৈশাখের শুরুতেই তাপপ্রবাহের দাপট টের পাওয়া যাচ্ছে।

এবার কতটা বাড়তে পারে তাপমাত্রা, আর গরমের তীব্রতাই বা চলতে পারে কতদিন?

আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, ক্যালেন্ডার অনুযায়ী গ্রীষ্মকাল দুই মাসজুড়ে থাকলেও মূলত গরমের সময়টা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

কতটা গরম পড়বে ২০২৬ সালে?

বাংলাদেশে এপ্রিল মাসকে বলা হয় সবচেয়ে উষ্ণ মাস।

আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত বাংলাদেশে এপ্রিল মাসের গড় তাপমাত্রা থাকে ৩৩ দশমিক দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর মে মাসের গড় তাপমাত্রা ৩২ দশমিক নয় ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মার্চ মাসে ৩১ দশমিক ছয় ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অফিস বলছে, এগুলো এই তিন মাসের স্বাভাবিক তাপমাত্রা, যা মূলত ১৯৯১ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত, মোট ৩০ বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার গড়।

আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, এ বছরের এপ্রিল মাসে তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকবে। অর্থাৎ, ওই গড় তাপমাত্রার আশেপাশে থাকার সম্ভাবনা আছে।

“কিন্তু রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের কোথাও কোথাও তাপমাত্রা কখনও কখনও ৪২ ডিগ্রি পর্যন্তও উঠতে পারে, বিশেষ করে তাপপ্রবাহের সময়,” যোগ করেন তিনি।

পহেলা বৈশাখের পরপরই, গতকাল বুধবার ২৪ ঘণ্টার তাপমাত্রার রেকর্ডে দেখা গেছে, সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে ৩৯. ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, এপ্রিল মাসে সারাদেশে দুই থেকে চারটি মৃদু ও এক থেকে দুইটি তীব্র তাপপ্রবাহ হতে পারে। তখন কোথাও কোথাও ৪০-৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, কুষ্টিয়া, ঈশ্বরদী, বদলগাছী ও রাজশাহীতে।

এদিকে, আগামী তিন মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এপ্রিল-জুনের মাঝে দেশে ছয় থেকে আটটি মৃদু এবং তিন থেকে চারটি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

উল্লেখ্য, কোনো এলাকায় যদি তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে তাহলে তাকে বলে তীব্র তাপপ্রবাহ। তাপমাত্রা যখন ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে, তাকে বলে মাঝারি তাপপ্রবাহ এবং তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকলে সেটিকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলে।

বাংলাদেশে আগে মার্চ থেকে মে মাস ছিল তাপপ্রবাহের সময়। কিন্তু মানবসৃষ্ট কারণে এখন মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত তাপপ্রবাহ থাকে। তাই, বিগত কয়েক বছরের মতো এ বছরের বর্ষাকালেও গরমের তীব্রতা থাকবে, বলছিলেন এই আবহাওয়াবিদ।

গরমের তীব্রতা অনুভব হবে কম

আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন, এ বছর গরম পড়লেও তা ২০২৪ সালের মতো তীব্র হবে না।

কারণ হিসেবে বলছেন, এ বছর বজ্রঝড় বেশি হবে। ২০২৪ সালে বজ্রঝড়ের সংখ্যা অনেক কম হওয়ায় গত ৭৬ বছরের রেকর্ড ভেঙে তীব্র গরম পড়েছিলো বাংলাদেশে।

সাধারণত এপ্রিল মাসে গড়ে নয় দিন বজ্রঝড় হয় এবং মে মাসে হয় ১৩ দিন।

কী কারণে এবার বজ্রঝড় বেশি হবে?

জানতে চাইলে আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, “এবার প্রশান্ত মহাসাগর পার হয়ে যে পূবালী বাতাস বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করবে, তার গতিবেগ কিছুটা হলেও বেশি থাকবে। এই কারণে সাগরের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা এবার ২৬ থেকে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মাঝে ওঠানামা করার সম্ভাবনা আছে। এই ধরনের তাপমাত্রায় বিশাল জলরাশি থেকে বাষ্পায়নের হার, মানে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।”

“আর জলীয় বাষ্প বেশি হলে জলীয় বাষ্প সমৃদ্ধ বাতাসের ঊর্ধ্বগমন হয়, সারি সারি মেঘমালা তৈরি হয় ও বজ্রবৃষ্টি হয়। পাশাপাশি, এল নিনোর (উষ্ণ সামুদ্রিক স্রোত) মতো কিছু বৈশ্বিক আবহাওয়াগত বৈশিষ্ট্যও এই বজ্রঝড়ের জন্য ভূমিকা রাখবে,” যোগ করেন মি. মল্লিক।

মূলত, কোনো স্থানের তাপমাত্রা যদি অনেক বেশি বেড়ে যায় এবং সেখানে যদি বজ্রঝড় হয়, তাহলে প্রাকৃতিকভাবেই পরিবেশ ঠাণ্ডা হয়ে যায় অনেকটা।

কিন্তু এমন কোনো নিয়মতান্ত্রিক বিষয় নেই, যা অনুসরণ করে সঠিকভাবে বলা যাবে যে ঠিক কতদিন পর পর তাপপ্রবাহ এবং বজ্রঝড় হবে, উল্লেখ করেন তিনি।

তার ভাষ্যে, “বজ্রঝড়, তাপপ্রবাহ – এগুলো আবর্তিত হতে থাকবে। কখনো কখনো রোদ-বৃষ্টি চরম আকার ধারণ করবে। তখন বৃষ্টিপাত, শিলাবৃষ্টির কারণে স্বস্তিদায়ক পরিবেশ হবে। “

এ বছর কি আবহাওয়াগত কোনো পরিবর্তন এসেছে?

এবার মার্চ মাসে ও এপ্রিলের শুরুতে বেশ কিছু দিন ধরে প্রায় সারা বাংলাদেশেই ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে। এটি হয়েছে বজ্রমেঘ থেকে বা গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা থেকে।

দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার সাথে বৃষ্টি-বজ্রবৃষ্টি ছিল। সবমিলিয়ে তাপমাত্রা হঠাৎ করে নেমে গেছে এবং মনে হয়েছে যেন ঠাণ্ডা পড়েছে।

“এই ধরনের বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা দুই থেকে ছয় ডিগ্রি নেমে যায়,” বলছিলেন মি. মল্লিক।

তার মতে, “এটা প্রতিবছরই হয়। আগে এইরকম কখনও ঘটে নাই-এমন ব্যাপার নেই।”

“মার্চ, এপ্রিল ও মে জুড়ে এভাবেই চলতে থাকে। এটি বাংলাদেশের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কখনও তাপমাত্রা একটু কম-বেশি হতে পারে। কিন্তু প্রকৃতির এই আবর্তন প্রতি বছরই ঘুরে-ফিরে আসে। তবে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে এবং স্থানীয় ও বৈশ্বিক আবহাওয়াগত বৈশিষ্ট্যের যে পরিবর্তনটা এত বছরে হয়েছে, সে কারণে আবহাওয়াগত একদম সঠিক সময়ে এটি না-ও হতে পারে।”

এদিকে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনে দিন ও রাতের তাপমাত্রা বাড়তে পারে।

এছাড়া, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলাগুলো উপর দিয়ে বয়ে চলা মৃদু থেকে মাঝারী ধরনের তাপপ্রবাহ প্রশমিত হতে পারে।

আগামী কয়েকদিন ময়মনসিংহ, সিলেট, রংপুর বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

নামাজে রাকাত সংখ্যা ভুলে গেলে করণীয়

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩৯ পূর্বাহ্ণ
নামাজে রাকাত সংখ্যা ভুলে গেলে করণীয়

আল্লাহতায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন শুধু তাঁর ইবাদতের জন্য। আর ইবাদতের শ্রেষ্ঠতম রূপ হলো নামাজ। নামাজ শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং সামাজিক ও আধ্যাত্মিক জীবনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন, ‘নামাজ হলো দ্বীনের স্তম্ভ।’ অর্থাৎ, নামাজ ছাড়া ধর্মের ভিত্তি গড়ে ওঠে না।

রাসুল (সা.)-এর ভাষায়, ‘আমার চোখের স্নিগ্ধতা বা প্রশান্তি রয়েছে নামাজে।’ এ থেকেই বোঝা যায়, নামাজ শুধু শরীয়তের বিধান নয়, বরং তা একজন মুমিনের আত্মিক প্রশান্তির উৎস।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে’ (সুরা আনকাবুত : ৪৫)। অর্থাৎ, প্রকৃত নামাজি সব ধরনের অশ্লীলতা ও অনৈতিকতা থেকে নিজেকে দূরে রাখেন।

তাই নিজেকে প্রকৃত নামাজি হিসেবে গড়ে তুলতে নামাজে একাগ্রতা অবলম্বন করতে হবে। এমনভাবে নামাজ পড়তে হবে, যেন আল্লাহ আমাকে দেখছেন। হাদিসে এসেছে, ‘আল্লাহর ইবাদত করো এমনভাবে, যেন তাঁকে তুমি দেখতে পাচ্ছ। আর যদি দেখতে না পাও, তবে তিনি যেন তোমাকে দেখছেন।’ (বোখারি : ৫০, মুসলিম : ৮)

কিন্তু অনেক নামাজি প্রায় একটা সমস্যায় ভুগে থাকেন। সেটা হলো, মাঝেমধ্যেই নামাজের রাকাত সংখ্যা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন। আদায়কৃত নামাজ তিন রাকাত হলো না চার রাকাত হলো, বিষয়টি মনে করতে পারেন না। আবার অনেকের নামাজের ভেতরেই সন্দেহ তৈরি হয়। ফলে কেউ সন্দেহ নিয়ে নামাজ শেষ করেন। আবার কেউ নতুন করে নামাজ আদায় করে থাকেন। এই অবস্থায় কীভাবে নামাজ আদায় করতে হবে, ফরিদপুর প্রতিদিনের পাঠকদের জন্য তা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—

ফুক্বাহায়ে কেরাম বলছেন, কেউ যদি এমন সমস্যার মুখোমুখি হন, তবে তিনি চিন্তা করে দেখবেন যে, তিনি আসলে কত রাকাত পড়েছেন। তখন প্রবল ধারণা যেটির পক্ষে সায় দেবে, তার ওপর ভিত্তি করে বাকি নামাজ পূর্ণ করবেন। আর যদি নামাজের রাকাতসংখ্যার ব্যাপারে প্রবল ধারণা না হয়, তাহলে কম সংখ্যাটা ধরবেন এবং এ হিসেবে বাকি নামাজ পূর্ণ করে সিজদা সাহু দেবেন

প্রখ্যাত ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, নামাজে কত রাকাত পড়েছেন আপনার সন্দেহ হচ্ছে— তিন রাকাত নাকি চার রাকাত। এ ক্ষেত্রে প্রথম কথা হলো, যদি আপনার প্রবল ধারণা হয়, আমার কমেরটাই বেশি মনে হচ্ছে, অর্থাৎ তিন আর চারের মধ্যে সন্দেহকালে তিন রাকাতই বেশি মনে পড়ছে, তবে এ অবস্থায় আরেক রাকাত পড়ে সিজদা সাহু করে নেবেন। আর যদি দুটোই সমান সমান মনে হয়, অর্থাৎ তিনের পক্ষে মন টানে আবার চারের পক্ষেও মন টানে, তাহলে কমটা ধরে আরও এক রাকাত পড়ে সিজদা সাহু দিয়ে নামাজ শেষ করবেন। নামাজ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

হাদিস শরিফে হজরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কারো যদি নামাজের মধ্যে সন্দেহ হয়, ফলে সে জানে না যে এক রাকাত পড়ল না কি দুই রাকাত, তাহলে সে যেন এক রাকাত ধরে নিয়ে নামাজ পড়ে। আর যদি দুই রাকাত পড়ল না তিন রাকাত, তা না জানে তাহলে যেন দুই রাকাত ধরে নামাজ পড়ে এবং (এসব ক্ষেত্রে) সালাম ফেরানোর পূর্বে দুটি সিজদা আদায় করে (অর্থাৎ সিজদা সাহু করে)।’ (তিরমিজি : ৩৯৮)

বজ্রপাত থেকে বাঁচার দোয়া ও তাসবিহ

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৯ পূর্বাহ্ণ
বজ্রপাত থেকে বাঁচার দোয়া ও তাসবিহ

বর্ষাকালে প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় বজ্র-নিনাদের কারণে মানুষ আতঙ্কিত হয়। এটি কখনো কখনো কারো প্রাণ কেড়ে নেয়। কাউকে আবার অসুস্থ ও আহত করে। এসব আল্লাহর নিরঙ্কুশ অস্তিত্বের প্রমাণ বহন করে।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘বজ্রনাদ তাঁরই ভয়ে তাঁর প্রশংসা বর্ণনা করে আর ফেরেশতারাও (তাঁর তাসবিহ পাঠ করেন)। তিনি গর্জনকারী বজ্র প্রেরণ করেন। তা দিয়ে যাকে ইচ্ছে আঘাত করেন, আর তারা আল্লাহ সম্পর্কে বিতণ্ডা করে। অথচ তিনি মহাশক্তিশালী।’ (সুরা রাদ : ১৩)

বজ্রপাত থেকে বাঁচার দোয়া

বজ্রপাত থেকে বাঁচার জন্য মহানবী (সা.) একটি বিশেষ দোয়া শিখিয়েছেন। এ দোয়া পাঠ করা হলে ইনশাল্লাহ বজ্রপাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন বজ্রের আওয়াজ শুনতেন তখন এ দোয়া পড়তেন—

اللَّهُمَّ لاَ تَقْتُلْنَا بِغَضَبِكَ وَلاَ تُهْلِكْنَا بِعَذَابِكَ وَعَافِنَا قَبْلَ ذَلِكَ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা লা-তাক্বতুলনা বিগাজাবিকা, ওয়া লা-তুহলিকনা বিআ’জাবিকা, ওয়া আ’ফিনা-ক্বাবলা জা-লিকা।

অর্থ : হে আল্লাহ, আপনি আমাকে আপনার গজব দিয়ে হত্যা করে দেবেন না এবং আপনার আজাব দিয়ে ধ্বংস করে দেবেন না। এসবের আগেই আপনি আমাকে পরিত্রাণ দিন। (তিরমিজি: ৩৪৫০)

তাসবিহ

মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বায় বজ্রপাত থেকে বাঁচতে ছোট্ট একটি তাসবিহ পড়ার কথা বলা হয়েছে। ইবনে আবি জাকারিয়া বর্ণনা করেছেন, ‘যে ব্যক্তি বজ্রের আওয়াজ শুনে এ দোয়া পড়বে, ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’, সে বজ্রে আঘাতপ্রাপ্ত হবে না। (হাদিস নম্বর ২৯২১৩)

সূত্র : কালবেলা