খুঁজুন
সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

অল্প পুঁজিতে এখনই শুরু করতে পারেন এমন সেরা ১০টি হালাল ব্যবসা

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:১৯ অপরাহ্ণ
অল্প পুঁজিতে এখনই শুরু করতে পারেন এমন সেরা ১০টি হালাল ব্যবসা

বর্তমান সময়ে ব্যবসা শুরু করা যে কতটা চ্যালেঞ্জিং, তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। কোটি কোটি টাকা খরচ করেও অনেক ব্যবসা টিকে থাকতে পারছে না। এমন বাস্তবতায় অল্প বা প্রায় বিনা পুঁজিতে হালাল ব্যবসা শুরু করা সম্ভব— এ কথাটি অনেকের কাছেই হয়তো অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে।

তবে বাস্তবতা হলো, সঠিক পরিকল্পনা, অদম্য চেষ্টা, ধৈর্য ও সততার সমন্বয় ঘটাতে পারলে হালাল উপায়ে ব্যবসা করে সফল হওয়া এখনো সম্ভব। এখানে যেসব হালাল ব্যবসার কথা বলা হচ্ছে, সেগুলোর বেশিভাগ ক্ষেত্রেই বড় অঙ্কের মূলধনের প্রয়োজন নেই। বরং প্রয়োজন আন্তরিকতা, সময় দেওয়ার মানসিকতা এবং ধারাবাহিক পরিশ্রম।

চলুন, জেনে নেওয়া যাক এমন ১০টি হালাল ব্যবসার ধারণা, যেগুলো আপনি চাইলে এখনই শুরু করতে পারেন।

১. অনলাইন হালাল ফুড স্টোর (ড্রপশিপিং)

নিজের এলাকায় থাকা কোনো হালাল খাবারের দোকানের সঙ্গে চুক্তি করে তাদের পণ্য অনলাইনে বিক্রি করতে পারেন। নিজের ওয়েবসাইট বা ফেসবুক পেজে পণ্য তুলে অর্ডার নেবেন, টাকা পাওয়ার পর সরবরাহকারীর কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ করে কাস্টমারের কাছে পাঠিয়ে দেবেন।

এ পদ্ধতিকে বলা হয় ড্রপশিপিং। এতে আপনাকে আগে পণ্য কিনে রাখার প্রয়োজন নেই। বিশেষ করে মুসলিম সংখ্যালঘু দেশগুলোতে এই মডেল বেশ জনপ্রিয়।

২. গ্লোবাল ইসলামিক ইকোনমি নিয়ে ব্লগিং

আপনার লেখালেখির দক্ষতা থাকলে এবং হালাল অর্থনীতি নিয়ে আগ্রহ থাকলে ব্লগিং হতে পারে দারুণ একটি হালাল ব্যবসা। হালাল ফুড, ইসলামিক ফাইন্যান্স, মডেস্ট ফ্যাশন, হালাল ট্যুরিজম, হালাল কসমেটিকস— এ ধরনের বিষয়ে নিয়মিত মানসম্মত লেখা প্রকাশ করলে অল্প সময়েই পাঠক তৈরি করা সম্ভব।

‘দ্য হালাল টাইমস’ এ ধরনের ব্লগিংয়ের একটি বাস্তব উদাহরণ।

৩. অনলাইন বা অফলাইনে কোরআন শিক্ষা

যদি আপনি সঠিকভাবে কোরআন তিলাওয়াত ও শিক্ষা দিতে পারেন, তবে শিশু ও বড়দের জন্য অনলাইন বা অফলাইন কোরআন শিক্ষার ব্যবস্থা করতে পারেন।

বিশেষ করে মুসলিম সংখ্যালঘু দেশগুলোতে এর চাহিদা অনেক বেশি। সঠিক ব্যবস্থাপনায় এটি সময়ের সঙ্গে বড় পরিসরের ব্যবসায় রূপ নিতে পারে।

৪. অনলাইনে হিজাব ও মডেস্ট পোশাক বিক্রি

হিজাব ও পর্দাশীল পোশাকের চাহিদা বিশ্বজুড়ে বাড়ছে। স্বল্প পুঁজিতে চীন বা অন্য দেশ থেকে হিজাব সংগ্রহ করে ফেসবুক বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিক্রি শুরু করা যায়। বিশেষ করে নারীদের জন্য এটি ভালো একটি পার্টটাইম হালাল ব্যবসা হতে পারে।

৫. হজ ও ওমরাহ ট্রাভেল এজেন্সি

হজ ও ওমরাহ সেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যবসা একটি প্রতিষ্ঠিত ও আস্থাভিত্তিক হালাল ব্যবসা। শুরুতে কিছু অভিজ্ঞতা ও পার্টনারশিপ প্রয়োজন হলেও, একবার সঠিকভাবে দাঁড়িয়ে গেলে এটি লাভজনক একটি খাত।

৬. মডেস্ট ফ্যাশন ডিজাইনার হওয়া

বিশ্বব্যাপী মডেস্ট ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির বাজার প্রায় ২৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ডিজাইন সম্পর্কে ধারণা থাকলে এবং নতুন কিছু উপস্থাপন করতে পারলে এই খাতে কাজের সুযোগ বিশাল।

৭. হালাল বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট

যদি আপনার বাড়িতে অতিরিক্ত কক্ষ থাকে এবং এলাকা পর্যটনসমৃদ্ধ হয়, তাহলে হালাল বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট চালু করতে পারেন। মুসলিম পর্যটকদের জন্য এটি বেশ আকর্ষণীয় একটি সেবা।

৮. হালাল বিজনেস ডিরেক্টরি তৈরি

ডিজিটাল মার্কেটিং ও ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট সম্পর্কে ধারণা থাকলে একটি অনলাইন হালাল বিজনেস ডিরেক্টরি তৈরি করতে পারেন। এতে বিভিন্ন হালাল ব্যবসা তালিকাভুক্ত করে বিজ্ঞাপন ও প্রমোশনের মাধ্যমে আয় করা সম্ভব।

৯. নারীদের জন্য হালাল মেকআপ সার্ভিস

নারীদের জন্য এটি একটি ভালো উদ্যোগ। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে নিজের মেকআপ সার্ভিস প্রচার করে স্থানীয়ভাবে কাজ শুরু করা যায়।

১০. হিজামা (কাপিং থেরাপি) সেবা

হিজামা রাসুল (সা.)-এর সুন্নত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর চাহিদা অনেক বেড়েছে। প্রশিক্ষণ নিয়ে পেশাদারভাবে হিজামা সেবা চালু করলে অল্প সময়েই সুনাম ও গ্রাহক পাওয়া সম্ভব।

শেষ কথা

যে ব্যবসাই শুরু করুন না কেন- সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো নিয়ত, সততা, পরিশ্রম ও ধৈর্য। হালাল ব্যবসা শুধু আয় নয়; এটি বরকত ও আত্মিক প্রশান্তির পথও খুলে দেয়। ভবিষ্যতে আরও নতুন হালাল ব্যবসার ধারণা নিয়ে আলোচনা করা হবে, ইনশাআল্লাহ।

সূত্র : দ্য হালাল টাইমস

মধ্যবিত্তদের জন্য আবাসন ঋণে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংকের যে সুখবর?

অর্থনীতি ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৮:১২ পূর্বাহ্ণ
মধ্যবিত্তদের জন্য আবাসন ঋণে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংকের যে সুখবর?

মধ্যবিত্তদের জন্য বড় সুখবর দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নিজের একটি ফ্ল্যাট কেনার সুযোগ দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। আবাসন খাতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন সহজ করতে বন্ডভিত্তিক অর্থায়ন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

একই সঙ্গে সিঙ্গেল ডিজিট সুদে (১০ শতাংশের নিচে) দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ চালু এবং বিশেষ হাউজিং তহবিল গঠনের দাবি জানিয়েছেন আবাসন খাতের উদ্যোক্তারা।

রোববার (৭ জুন) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-এর একটি প্রতিনিধি দল।

রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজালের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আবাসন খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, বিদ্যমান সংকট, বিনিয়োগের পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে রিহ্যাব নেতারা বলেন, প্রথমবারের মতো ফ্ল্যাট ক্রেতাদের জন্য স্বল্পসুদে ও সহজ শর্তে গৃহঋণের ব্যবস্থা করা গেলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের আবাসনের স্বপ্ন পূরণ হবে। একইসঙ্গে দেশের অন্যতম বড় কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী এই খাত নতুন গতি পাবে।

রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল বলেন, স্বল্পসুদের দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ চালু করা গেলে আবাসন খাত যেমন উপকৃত হবে, তেমনি সাধারণ মানুষের জন্য নিজস্ব বাসস্থান অর্জনও সহজ হবে।

অন্যদিকে রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রাজধানী ঢাকার ওপর চাপ কমাতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলা জরুরি। এ জন্য স্বল্পসুদের হাউজিং ঋণের সুযোগ সারা দেশে সম্প্রসারণ করতে হবে।

জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং শিল্পায়নে আবাসন খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, হাউজিং খাতের ঋণ ব্যাংকিং খাতের অন্যতম নিরাপদ ঋণ হওয়ায় অন্যান্য অনেক খাতের তুলনায় এর সুদের হার তুলনামূলক কম থাকে। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে আবাসন ঋণের সুদের হার অন্যান্য ঋণের চেয়ে প্রায় ২ শতাংশ পর্যন্ত কম রয়েছে বলেও তিনি জানান।

গভর্নর জানান, দীর্ঘমেয়াদি আবাসন ঋণের অর্থায়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক বন্ডভিত্তিক অর্থায়ন ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আবাসন খাতে দীর্ঘমেয়াদি তহবিলের জোগান বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের জন্য গৃহঋণ গ্রহণ আরও সহজ হবে।

বৈঠকে রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট-১ মোহাম্মদ আক্তার বিশ্বাস, ভাইস প্রেসিডেন্ট-২ আবু খালিদ মো. বরকত উল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট-৩ এ.এফ.এম. ওবায়দুল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফিন্যান্স) ড. মো. হারুন অর রশিদ এবং পরিচালক তাসনোভা মাহবুব সালাম উপস্থিত ছিলেন।

 

হোয়াটসঅ্যাপের ব্যাকআপ ও রিস্টোর সমস্যার সমাধানে কী করবেন?

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৮:০৫ পূর্বাহ্ণ
হোয়াটসঅ্যাপের ব্যাকআপ ও রিস্টোর সমস্যার সমাধানে কী করবেন?

ব্যক্তিগত ও পেশাগত যোগাযোগে বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপ অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম। প্রতিদিন এ প্ল্যাটফর্মে বিপুল পরিমাণ বার্তা, ছবি, ভিডিও ও গুরুত্বপূর্ণ নথি আদান-প্রদান করা হয়। তবে ফোন হারিয়ে যাওয়া, চুরি হওয়া বা নতুন ডিভাইসে পরিবর্তনের সময় এসব তথ্য হারানোর আশঙ্কা থাকে। এ কারণে অনেক ব্যবহারকারী নিয়মিত চ্যাট ব্যাকআপ করে তথ্য নিরাপদে সংরক্ষণ করেন।

তবে কখনও কখনও প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে হোয়াটসঅ্যাপের ব্যাকআপ বা রিস্টোর প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কয়েকটি সহজ পদক্ষেপ অনুসরণ করে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

প্রথমেই ফোনটি রিস্টার্ট করে দেখতে পারেন, কারণ অনেক সাময়িক ত্রুটি এভাবে দূর হয়ে যায়। পাশাপাশি ইন্টারনেট সংযোগ ঠিক আছে কি না তা নিশ্চিত করতে হবে। দুর্বল ওয়াই-ফাইয়ের পরিবর্তে অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য নেটওয়ার্ক বা মোবাইল ডেটা ব্যবহার করা যেতে পারে।

এছাড়া ফোনে পর্যাপ্ত স্টোরেজ ও পর্যাপ্ত চার্জ থাকা জরুরি। প্রয়োজনে অপ্রয়োজনীয় ফাইল মুছে জায়গা খালি করতে হবে এবং ফোন চার্জে রাখতে হবে। সমস্যা অব্যাহত থাকলে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাপটি ‘ফোর্স স্টপ’ করে পুনরায় চালু করা যেতে পারে। ডুয়াল সিম ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপে ব্যবহৃত নম্বরের সিমটি সক্রিয় আছে কি না সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন।

অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য গুগল প্লে সার্ভিসেস আপডেট রাখা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ হোয়াটসঅ্যাপের ব্যাকআপ ব্যবস্থা গুগল ড্রাইভের সঙ্গে সংযুক্ত। পুরোনো সংস্করণের কারণে ব্যাকআপে সমস্যা দেখা দিলে সেটিংস থেকে গুগল প্লে সার্ভিসেস সর্বশেষ সংস্করণে হালনাগাদ করতে হবে। প্রয়োজন হলে হোয়াটসঅ্যাপ আনইনস্টল করে পুনরায় ইনস্টল করার পরামর্শও দেওয়া হয়।

ব্যাকআপের সময় কোনো ত্রুটি বার্তা দেখা দিলে অ্যাপের প্রয়োজনীয় পারমিশনগুলো সক্রিয় আছে কি না তা পরীক্ষা করতে হবে। বিশেষ করে স্টোরেজ বা ছবি ও ভিডিও ব্যবহারের অনুমতি চালু থাকা জরুরি। পাশাপাশি গুগল অ্যাকাউন্ট সিঙ্ক করে নেওয়া যেতে পারে। তাতেও কাজ না হলে গুগল অ্যাকাউন্টটি ফোন থেকে সরিয়ে আবার যুক্ত করে হোয়াটসঅ্যাপে পুনরায় সেটআপ করতে হবে।

সবশেষে, কোনো কারণে ব্যাকআপ ফাইল ক্ষতিগ্রস্ত বা ‘করাপ্টেড’ হয়ে গেলে সেটি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নাও হতে পারে। সাধারণত ব্যাকআপ চলাকালে ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হওয়া, অ্যাপ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া বা ক্ষতিকর ফাইলের কারণে এমন সমস্যা দেখা দেয়। তাই ব্যাকআপ নেওয়ার সময় সবসময় স্থিতিশীল ও দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

সূত্র : যুগান্তর

 

আম কাটার আগে কেন পানিতে ভিজিয়ে রাখা জরুরি?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৭:৩৭ পূর্বাহ্ণ
আম কাটার আগে কেন পানিতে ভিজিয়ে রাখা জরুরি?

বাজারে হিমসাগরসহ বিভিন্ন প্রজাতির আম পাওয়া যাচ্ছে। আমের এই মৌসুমে সবার বাসায়ই আম থাকে। অনেকে তিন বেলায় প্রিয় ফলটি খেতে ভালোবাসেন। পাকা আম কাটার আগে অনেকেই পানিতে ভিজিয়ে রাখেন না। এটি ভুল। আম কাটার আগে কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখার উপকারিতার কথা বলা হয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘এই সময়’-এর এক প্রতিবেদনে। 

পাকা আম কাটার আগে পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন কেন?

আম পরিষ্কারের জন্য পানিতে ভিজিয়ে রাখা জরুরি। শুধু ধুয়ে নিলে খোসায় থাকা জীবাণু পরিষ্কার হয় না। গাছের ফলন বৃদ্ধির জন্য এবং পোকামাকড় তাড়ানোর জন্য রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়। সেগুলো আমের খোসাতে থেকে যায়। আম পানিতে  ভিজিয়ে রাখলে সেই সব কীটনাশক, রাসায়নিক বেরিয়ে যায়।

কীটনাশক সাফ হলেও আমে থাকা অ্যান্টি-নিউট্রিয়েন্টও বিপজ্জনক হতে পারে। আমের খোসায় ফাইটিক অ্যাসিড নামের অ্যান্টি-নিউট্রিয়েন্ট রয়েছে। এই ধরনের উপাদান আমের পুষ্টি শোষণে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই আম খেয়েও এর কোনও পুষ্টিগুণ পাবেন না। আম পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ফাইটিক অ্যাসিডের পরিমাণ কমে যায়। এতে আমের ভিটামিন এবং খনিজ শরীর সহজে শোষণ করতে পারে।

ফাইটিক অ্যাসিডের পাশাপাশি আমের খোসায় এমন অনেক উপাদান থাকে যেগুলি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাছাড়া আম খেলে শরীরের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পায় এবং পেটের গণ্ডগোল দেখা দেয়। আম খাওয়ার আগে কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখলে এই সমস্যা এড়ানো যায়।

আমের বোঁটা থেকে আঠালো কষ বের হয়। সেগুলো শুধু পানি দিয়ে ধুলে পরিষ্কার হয় না। আবার ওই কষ ত্বকের সংস্পর্শে এলে, ঠোঁটে লাগলে চুলকানি, র‍্যাশ হয়ে থাকে। আবার কষ খেয়ে ফেললে গলা চুলকায়। আম পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ওই কষ সম্পূর্ণরূপে পরিষ্কার হয়ে যায়।

কতক্ষণ আম পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন?

খাওয়ার আগে ১-২ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখা উচিত। হাতে কম সময় থাকলে অন্তত ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা পানিতে নয়, ঘরের তাপমাত্রায় থাকা পানিতে ভেজানো উচিত।

সূত্র: এই সময়