খুঁজুন
, ,

অল্প পুঁজিতে এখনই শুরু করতে পারেন এমন সেরা ১০টি হালাল ব্যবসা

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:১৯ অপরাহ্ণ
অল্প পুঁজিতে এখনই শুরু করতে পারেন এমন সেরা ১০টি হালাল ব্যবসা

বর্তমান সময়ে ব্যবসা শুরু করা যে কতটা চ্যালেঞ্জিং, তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। কোটি কোটি টাকা খরচ করেও অনেক ব্যবসা টিকে থাকতে পারছে না। এমন বাস্তবতায় অল্প বা প্রায় বিনা পুঁজিতে হালাল ব্যবসা শুরু করা সম্ভব— এ কথাটি অনেকের কাছেই হয়তো অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে।

তবে বাস্তবতা হলো, সঠিক পরিকল্পনা, অদম্য চেষ্টা, ধৈর্য ও সততার সমন্বয় ঘটাতে পারলে হালাল উপায়ে ব্যবসা করে সফল হওয়া এখনো সম্ভব। এখানে যেসব হালাল ব্যবসার কথা বলা হচ্ছে, সেগুলোর বেশিভাগ ক্ষেত্রেই বড় অঙ্কের মূলধনের প্রয়োজন নেই। বরং প্রয়োজন আন্তরিকতা, সময় দেওয়ার মানসিকতা এবং ধারাবাহিক পরিশ্রম।

চলুন, জেনে নেওয়া যাক এমন ১০টি হালাল ব্যবসার ধারণা, যেগুলো আপনি চাইলে এখনই শুরু করতে পারেন।

১. অনলাইন হালাল ফুড স্টোর (ড্রপশিপিং)

নিজের এলাকায় থাকা কোনো হালাল খাবারের দোকানের সঙ্গে চুক্তি করে তাদের পণ্য অনলাইনে বিক্রি করতে পারেন। নিজের ওয়েবসাইট বা ফেসবুক পেজে পণ্য তুলে অর্ডার নেবেন, টাকা পাওয়ার পর সরবরাহকারীর কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ করে কাস্টমারের কাছে পাঠিয়ে দেবেন।

এ পদ্ধতিকে বলা হয় ড্রপশিপিং। এতে আপনাকে আগে পণ্য কিনে রাখার প্রয়োজন নেই। বিশেষ করে মুসলিম সংখ্যালঘু দেশগুলোতে এই মডেল বেশ জনপ্রিয়।

২. গ্লোবাল ইসলামিক ইকোনমি নিয়ে ব্লগিং

আপনার লেখালেখির দক্ষতা থাকলে এবং হালাল অর্থনীতি নিয়ে আগ্রহ থাকলে ব্লগিং হতে পারে দারুণ একটি হালাল ব্যবসা। হালাল ফুড, ইসলামিক ফাইন্যান্স, মডেস্ট ফ্যাশন, হালাল ট্যুরিজম, হালাল কসমেটিকস— এ ধরনের বিষয়ে নিয়মিত মানসম্মত লেখা প্রকাশ করলে অল্প সময়েই পাঠক তৈরি করা সম্ভব।

‘দ্য হালাল টাইমস’ এ ধরনের ব্লগিংয়ের একটি বাস্তব উদাহরণ।

৩. অনলাইন বা অফলাইনে কোরআন শিক্ষা

যদি আপনি সঠিকভাবে কোরআন তিলাওয়াত ও শিক্ষা দিতে পারেন, তবে শিশু ও বড়দের জন্য অনলাইন বা অফলাইন কোরআন শিক্ষার ব্যবস্থা করতে পারেন।

বিশেষ করে মুসলিম সংখ্যালঘু দেশগুলোতে এর চাহিদা অনেক বেশি। সঠিক ব্যবস্থাপনায় এটি সময়ের সঙ্গে বড় পরিসরের ব্যবসায় রূপ নিতে পারে।

৪. অনলাইনে হিজাব ও মডেস্ট পোশাক বিক্রি

হিজাব ও পর্দাশীল পোশাকের চাহিদা বিশ্বজুড়ে বাড়ছে। স্বল্প পুঁজিতে চীন বা অন্য দেশ থেকে হিজাব সংগ্রহ করে ফেসবুক বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিক্রি শুরু করা যায়। বিশেষ করে নারীদের জন্য এটি ভালো একটি পার্টটাইম হালাল ব্যবসা হতে পারে।

৫. হজ ও ওমরাহ ট্রাভেল এজেন্সি

হজ ও ওমরাহ সেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যবসা একটি প্রতিষ্ঠিত ও আস্থাভিত্তিক হালাল ব্যবসা। শুরুতে কিছু অভিজ্ঞতা ও পার্টনারশিপ প্রয়োজন হলেও, একবার সঠিকভাবে দাঁড়িয়ে গেলে এটি লাভজনক একটি খাত।

৬. মডেস্ট ফ্যাশন ডিজাইনার হওয়া

বিশ্বব্যাপী মডেস্ট ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির বাজার প্রায় ২৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ডিজাইন সম্পর্কে ধারণা থাকলে এবং নতুন কিছু উপস্থাপন করতে পারলে এই খাতে কাজের সুযোগ বিশাল।

৭. হালাল বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট

যদি আপনার বাড়িতে অতিরিক্ত কক্ষ থাকে এবং এলাকা পর্যটনসমৃদ্ধ হয়, তাহলে হালাল বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট চালু করতে পারেন। মুসলিম পর্যটকদের জন্য এটি বেশ আকর্ষণীয় একটি সেবা।

৮. হালাল বিজনেস ডিরেক্টরি তৈরি

ডিজিটাল মার্কেটিং ও ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট সম্পর্কে ধারণা থাকলে একটি অনলাইন হালাল বিজনেস ডিরেক্টরি তৈরি করতে পারেন। এতে বিভিন্ন হালাল ব্যবসা তালিকাভুক্ত করে বিজ্ঞাপন ও প্রমোশনের মাধ্যমে আয় করা সম্ভব।

৯. নারীদের জন্য হালাল মেকআপ সার্ভিস

নারীদের জন্য এটি একটি ভালো উদ্যোগ। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে নিজের মেকআপ সার্ভিস প্রচার করে স্থানীয়ভাবে কাজ শুরু করা যায়।

১০. হিজামা (কাপিং থেরাপি) সেবা

হিজামা রাসুল (সা.)-এর সুন্নত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর চাহিদা অনেক বেড়েছে। প্রশিক্ষণ নিয়ে পেশাদারভাবে হিজামা সেবা চালু করলে অল্প সময়েই সুনাম ও গ্রাহক পাওয়া সম্ভব।

শেষ কথা

যে ব্যবসাই শুরু করুন না কেন- সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো নিয়ত, সততা, পরিশ্রম ও ধৈর্য। হালাল ব্যবসা শুধু আয় নয়; এটি বরকত ও আত্মিক প্রশান্তির পথও খুলে দেয়। ভবিষ্যতে আরও নতুন হালাল ব্যবসার ধারণা নিয়ে আলোচনা করা হবে, ইনশাআল্লাহ।

সূত্র : দ্য হালাল টাইমস

ফরিদপুরে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন

ফরিদপুরের সালথায় ৯ বছর বয়সী ৩য় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে শওকত মিয়া (৩৮) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আবুল বাসার আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর কড়া পুলিশ পাহারায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

​দণ্ডপ্রাপ্ত শওকত মিয়া ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বড় বাংরাইল গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে।

মামলার বিবরণ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২২ মে বিকেলে সালথা উপজেলার বড় বাংরাইল গ্রামের ৩য় শ্রেণিতে পড়ুয়া ৯ বছরের ওই শিশুটি বাড়ির পাশে নিজেদের শাক-সবজির (ডাটা) ক্ষেত দেখতে গিয়েছিল। এসময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা প্রতিবেশী শওকত মিয়া শিশুটিকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে পাশের একটি নির্জন পাটক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করে।

​শিশুটির রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থা দেখে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ‘ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার’ (ওসিএসি)-এ ভর্তি করায়। ঘটনার পরদিনই নির্যাতিতা শিশুটির বাবা বাদী হয়ে সালথা থানায় শওকত মিয়াকে একমাত্র আসামি করে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

​ঘটনা তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ৫ অক্টোবর সালথা থানা পুলিশ আসামি শওকত মিয়াকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় সাক্ষী গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে দীর্ঘ ৬ বছর পর আদালত আজ এ রায় প্রদান করেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট অর্চনা দাস বলেন, “একটি অবুঝ শিশুকে নির্যাতন করে যে নৃশংসতা চালানো হয়েছিল, আজকের এই রায়ের মাধ্যমে তার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলো। এই শাস্তি সমাজে অপরাধীদের মনে ভীতি সঞ্চার করবে এবং শিশু সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা এ রায়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট।”

ফরিদপুরের নদী-খালজুড়ে ‘চায়না দুয়ারি’, নিশ্চিহ্নের পথে দেশীয় মাছ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫৯ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরের নদী-খালজুড়ে ‘চায়না দুয়ারি’, নিশ্চিহ্নের পথে দেশীয় মাছ

ফরিদপুরের বিভিন্ন নদী-নালা, খাল-বিল ও জলাশয়ে নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারি’র অবাধ ব্যবহার দিন দিন উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে। জেলার সদর, সালথা, নগরকান্দা, বোয়ালমারী, সদরপুর, চরভদ্রাসন, ভাঙ্গা ও আলফাডাঙ্গাসহ প্রায় সব উপজেলায় বর্ষা মৌসুমে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাছ ধরার এই নিষিদ্ধ ফাঁদের বিস্তার ঘটেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকাশ্যে এসব চায়না দুয়ারি বসিয়ে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ নির্বিচারে শিকার করা হলেও মৎস্য বিভাগের দৃশ্যমান অভিযান খুব একটা চোখে পড়ে না। ফলে দেশীয় মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন খাল, বিল ও নদীর শাখা-প্রশাখায় বাঁশ, জাল ও প্লাস্টিকের জাল দিয়ে তৈরি চায়না দুয়ারি বসানো হয়েছে। পানির প্রবাহের মুখে এসব ফাঁদ স্থাপন করায় ছোট পোনা থেকে শুরু করে ডিমওয়ালা মা মাছ পর্যন্ত আটকা পড়ছে। এতে প্রাকৃতিকভাবে মাছের বংশবিস্তার ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

ফরিদপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা হৃদয় মোল্যা বলেন, “এ বছর মৎস্য বিভাগকে চায়না দুয়ারির বিরুদ্ধে কোনো অভিযান চালাতে দেখিনি। নদী-খালে অসংখ্য চায়না দুয়ারি বসানো হয়েছে। এগুলো না সরালে কয়েক বছরের মধ্যে দেশীয় মাছ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে।”

সালথা উপজেলার রহিম শেখ বলেন, “আগে বর্ষা মৌসুমে খাল-বিলে জাল ফেললেই নানা প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। এখন চায়না দুয়ারির কারণে মাছের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। প্রশাসনের আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন।”

নগরকান্দা উপজেলার আব্দুল জলিলের ভাষ্য, “অনেক সময় প্রকাশ্যেই চায়না দুয়ারি বসানো হয়। স্থানীয় লোকজন জানালেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। নিয়মিত অভিযান হলে এভাবে কেউ নিষিদ্ধ ফাঁদ ব্যবহার করতে সাহস পেত না।”

বোয়ালমারী উপজেলার হায়দার মাতুব্বর বলেন, “চায়না দুয়ারি শুধু বড় মাছ নয়, ছোট পোনা পর্যন্ত ধরে ফেলে। এতে ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন ভয়াবহভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

ভাঙ্গা উপজেলার কায়সার খাঁন বলেন, “সরকার প্রতি বছর মাছের উৎপাদন বাড়াতে নানা উদ্যোগ নেয়। কিন্তু চায়না দুয়ারির মতো নিষিদ্ধ ফাঁদ বন্ধ করা না গেলে সেই উদ্যোগের সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাবে না।”

আলফাডাঙ্গা উপজেলার কেরামত আলী বলেন, “মৎস্য সম্পদ রক্ষা করতে হলে শুধু অভিযান চালালেই হবে না, যারা বারবার এই ফাঁদ ব্যবহার করছে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।”

চরভদ্রাসন উপজেলার প্রকৃতি ও সংস্কৃতিকর্মী আবদুস সবুর কাজল বলেন, “চায়না দুয়ারি এখন ফরিদপুরের নদী-নালা ও খাল-বিলের জন্য নীরব দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। এই অবৈধ ফাঁদে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ, এমনকি রেণুপোনা ও ডিমওয়ালা মা মাছও ধরা পড়ছে। ফলে দেশীয় মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে নয়, নিয়মিত মনিটরিং, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে এ অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় আগামী প্রজন্ম দেশীয় মাছের অনেক প্রজাতি শুধু বইয়ের পাতাতেই দেখতে পাবে।”

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চায়না দুয়ারি এমন একটি স্থায়ী ফাঁদ, যা পানির প্রবাহের মুখে বসানো হয়। এতে বড় মাছের পাশাপাশি রেণুপোনা, কিশোর মাছ এবং ডিমওয়ালা মা মাছও আটকা পড়ে। ফলে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন চক্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই এই ধরনের ফাঁদ ব্যবহার নিষিদ্ধ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মৎস্য সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ জাল ও ফাঁদ ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানা, জেল অথবা উভয় ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে। তারপরও সহজে বেশি মাছ ধরার আশায় অনেকেই এই অবৈধ পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।

ফরিদপুর নাগরিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কান্তি বালা ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “শুধু অভিযান চালিয়ে চায়না দুয়ারি নির্মূল করা সম্ভব নয়। প্রথমেই এসব চায়না দুয়ারি কোথায় তৈরি ও সরবরাহ হচ্ছে, সেই উৎস চিহ্নিত করে উৎপাদন ও বিপণন বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে কিছু দুয়ারি জব্দ বা ধ্বংস করলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। গত পাঁচ বছরে ফরিদপুরে চায়না দুয়ারির ব্যবহার ভয়াবহভাবে বেড়েছে। দেশীয় মৎস্যসম্পদ রক্ষায় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগকে আরও কঠোর ও নিয়মিত পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ এবং সাধারণ মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।”*

ফরিদপুরের সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য সাংবাদিক হাসানউজ্জামান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, মৎস্যজীবী সংগঠন, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি নিষিদ্ধ ফাঁদের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতাও গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশীয় মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় চায়না দুয়ারির বিরুদ্ধে নিয়মিত ও দৃশ্যমান অভিযান নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে ফরিদপুরের নদী-নালা ও খাল-বিলে আবারও দেশীয় মাছের প্রাচুর্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। তাইতো, জীববৈচিত্র্য ও মৎস্য সম্পদকে রক্ষায় সরকারকে আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাসরিন জাহান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “আমরা চায়না দুয়ারির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ফাঁদ অপসারণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ অভিযান আরও জোরদার করা হবে। কেউ নিষিদ্ধ ফাঁদ ব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সদরপুরে মাদক সেবনের দায়ে দুই যুবকের কারাদণ্ড

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫১ পূর্বাহ্ণ
সদরপুরে মাদক সেবনের দায়ে দুই যুবকের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের সদরপুরে মাদক সেবন করে এলাকাবাসীর সঙ্গে অশোভন আচরণ করায় আমিনুল কাজী (৩১) ও আজিজুল শেখ (২৮) নামে দুই তরুণকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার (২২ জুলাই) রাত ৮ টার দিকে উপজেলার ঢেউখালি ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া এলাকার রাজার চর ওয়াজ হাওলাদার কান্দি এলাকায় সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত আনজুম পিয়া এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আমিনুল কাজী উপজেলার ঢেউখালি ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া গ্রামের মো. আশরাফ কাজী ছেলে ও আজিজুল শেখ একই গ্রামের খলিল শেখের ছেলে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, আমিনুল কাজী (৩১) ও আজিজুল শেখ (২৮) প্রায়ই মাদক সেবন করে পরিবারসহ এলাকার আশপাশের লোকজনের সঙ্গে উচ্ছৃঙ্খল ও অপ্রীতিকর আচরণ করেন। এরই প্রেক্ষিতে বুধবারও তারা মাদক ক্রয় করার সময় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাদের দুজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এসময় তল্লাশীকালে দুজনের কাছ থেকে ৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়।

স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ অনুযায়ী তাদের প্রত্যেককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। জব্দকৃত ৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতকে সহযোগিতা করেন সদরপুর থানার একদল পুলিশ সদস্য ।

সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত আনজুম পিয়া বলেন, সমাজে মাদকের বিস্তার রোধে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।