খুঁজুন
শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭ ফাল্গুন, ১৪৩২

স্বপ্নদোষে কি রোজা ভেঙে যায়? জানুন সঠিক ইসলামি বিধান

আবু সাঈদ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:১৩ এএম
স্বপ্নদোষে কি রোজা ভেঙে যায়? জানুন সঠিক ইসলামি বিধান

রমজানে রাতের ঘুমে ঘাটতি থাকে। সেজন্য দিনের বেলা কমবেশি ঘুমিয়ে নিতে হয়। এ সময় কারো স্বপ্নদোষও হতে পারে। স্বপ্নদোষে গোসল ফরজ হয়। রোজার কোনো সমস্যা হয় না।

একটি হাদিসে আছে, তিনটি বস্তু রোজা ভঙের কারণ নয়; বমি, শিঙ্গা লাগানো ও স্বপ্নদোষ। (মুসনাদে বাযযার, হাদিস ৫২৮৭; নসবুর রায়াহ ২/৪৪৭; মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৩/১৭০; জামে তিরমিজি, হাদিস ৭১৯; সুনানে কুবরা, বাইহাকি : ৪/২৬৪)

তবে কেউ কেউ মনে করেন, রমজানে দিনের বেলা স্বপ্নদোষ হলে রোজা ভেঙে যায়। তাদের এই ধারণা সঠিক নয়। সুতরাং রোজা অবস্থায় স্বপ্নদোষ হলে রোজা ভাঙ্গা যাবে না।

অবশ্য রমজানের সময় দিনের বেলা সহবাস করা নিষেধ। কেউ যদি দিনের বেলা সহবাস করে, তাহলে উভয়েরই রোজা ভেঙে যাবে। এক্ষেত্রে তাদের কাজা ও কাফফারা উভয়টি আদায় করতে হবে।

একটি দীর্ঘ হাদীসে আছে, এক ব্যক্তি রাসুল সা.-এর নিকট এসে বলল, আমি রোজা অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করেছি। রাসুল সা. তাকে কাফফারা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। (সহিহ বুখারি : ৬৭০৯; জামে তিরমিজি : ৭২৪; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৭৪৫৭; মুসনাদে আহমদ ২/২৪১)

মুহাম্মাদ ইবনে কা’ব রা. বলেন, রাসুল সা. ওই ব্যক্তিকে (যে স্ত্রীসহবাসে লিপ্ত হয়েছিল) কাফফারা আদায়ের সাথে কাজা আদায়েরও আদেশ করেছিলেন। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস : ৭৪৬১; আলবাহরুর রায়েক : ২/২৭৬)

উল্লেখ্য, সুবহে সাদিক হয়ে গেছে জানা সত্ত্বেও আজান শোনা যায়নি বা এখনো ভালোভাবে আলো ছড়ায়নি এ ধরনের ভিত্তিহীন অজুহাতে খানাপিনা করলে বা স্ত্রী সহবাসে লিপ্ত হলে কাজা-কাফফারা দুটিই জরুরি হবে। (সুরা বাকারা : ১৮৭; মাআরিফুল কুরআন ১/৪৫৪-৪৫৫)

“গ্রামের সেই দিনগুলি আজও মনে পড়ে”

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:১৮ এএম
“গ্রামের সেই দিনগুলি আজও মনে পড়ে”

শহরের এই কংক্রিটের দেয়ালঘেরা জীবনে বসে মাঝে মাঝে মনে হয়, আমি যেন নিজের ভেতরের একটা বড় অংশ হারিয়ে ফেলেছি। চারপাশে গাড়ির শব্দ, ব্যস্ত মানুষের ভিড়, সময়ের পেছনে দৌড়—সবকিছুই আছে, কিন্তু নেই সেই শান্তি, নেই সেই মায়া। আর ঠিক তখনই মনটা ফিরে যায় সেই ছোট্ট গ্রামটায়, যেখানে কেটেছিল আমার শৈশবের সোনালি দিনগুলো।

আমাদের গ্রামটা ছিল রাস্তার পাড় ঘেঁষে। বাড়ির সামনে বিশাল একটা মাঠ, তার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সরু কাঁচা রাস্তা। সেই রাস্তা ধরে হাঁটলেই চোখে পড়ত সবুজ ধানের ক্ষেত, যেখানে হাওয়ায় ঢেউ খেলত সোনালি শীষ। বিকেলের আলো পড়লে পুরো মাঠটা যেন সোনার মতো ঝলমল করত। আমি আর আমার বন্ধুরা তখন ছুটে যেতাম সেই মাঠে, খালি পায়ে দৌড়াতাম, কখনো লুকোচুরি খেলতাম, কখনো ঘুড়ি ওড়াতাম।

আমাদের বাড়িটা ছিল মাটির, ছনের ছাউনি দেওয়া। উঠোনে একটা বড় আমগাছ ছিল। গরমের দুপুরে সেই গাছের ছায়ায় বসে মা আম কেটে দিতেন। আমরা ভাইবোনেরা গোল হয়ে বসে খেতাম, আর হাসতাম। মা মাঝে মাঝে বকতেন, “ধীরে খা, গলায় আটকে যাবে!” কিন্তু আমরা কি আর শুনতাম? সেই টক-মিষ্টি আমের স্বাদ যেন আজও জিভে লেগে আছে।

বাবা ছিলেন খুব সহজ-সরল মানুষ। সকালে উঠে জমিতে কাজ করতে যেতেন। আমিও মাঝে মাঝে বাবার সঙ্গে যেতাম। কাঁদায় পা ডুবিয়ে হাঁটা, গরুর গাড়িতে চড়া—এসব ছিল আমার কাছে একরকম অ্যাডভেঞ্চার। বাবা কাজ করতে করতে গল্প করতেন, “দেখিস, বড় হয়ে তুই অনেক বড় মানুষ হবি।” তখন বুঝতাম না ‘বড় মানুষ’ মানে কী, শুধু বাবার চোখের স্বপ্নটা দেখতাম।

বর্ষাকাল এলে গ্রামটা যেন এক অন্য রূপ নিত। চারদিকে পানি, কচুরিপানায় ভরা খাল, আর মাঝে মাঝে বৃষ্টি। আমরা তখন নৌকা বানাতাম—কাগজের, কখনো কলাগাছের ডাঁটা দিয়ে। সেই নৌকা ভাসিয়ে দিতাম পানিতে, আর দৌড়ে দৌড়ে দেখতাম কার নৌকা কত দূর যায়। বৃষ্টিতে ভিজে কাঁপতে কাঁপতে বাড়ি ফিরলে মা রেগে যেতেন, কিন্তু পরে গরম ভাত আর ডাল দিয়ে খাওয়াতেন। সেই ভাতের স্বাদ যেন পৃথিবীর সব খাবারের চেয়েও বেশি ছিল।

শীতের সকালগুলো ছিল আরও মধুর। কুয়াশা ঢাকা মাঠ, দূরে গরুর ঘণ্টার শব্দ, আর মাটির চুলায় ধোঁয়া উঠছে। মা তখন পিঠা বানাতেন—চিতই, ভাপা, পাটিসাপটা। আমরা সবাই আগুনের পাশে বসে গরম পিঠা খেতাম। ঠান্ডা বাতাস আর গরম পিঠার সেই মিলন যেন এক অপূর্ব আনন্দ এনে দিত।

স্কুলের দিনগুলোও কম স্মরণীয় ছিল না। আমাদের স্কুলটা ছিল টিনের ছাউনি দেওয়া, চারদিকে গাছপালা। ক্লাসে বসে মাঝে মাঝে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকতাম—পাখির ডাক, বাতাসে দুলতে থাকা গাছের পাতা—সবকিছুই মন টানত। শিক্ষকরা ছিলেন কঠোর, কিন্তু ভালোবাসায় ভরা। তারা শুধু পড়াশোনা নয়, জীবনটাকেও শেখাতেন।

আমার সবচেয়ে প্রিয় সময় ছিল বিকেল। তখন সূর্যটা ধীরে ধীরে পশ্চিমে ঢলে পড়ত, আর আকাশ লালচে হয়ে উঠত। আমরা সবাই মাঠে জড়ো হতাম। কেউ ফুটবল খেলত, কেউ ক্রিকেট, কেউবা শুধু গল্প করত। সেই হাসি, সেই চিৎকার—সব মিলিয়ে একটা অদ্ভুত আনন্দ ছিল।

আর ছিল গ্রামের মানুষের আন্তরিকতা। কেউ অসুস্থ হলে সবাই ছুটে যেত, কারো বাড়িতে আনন্দ হলে পুরো গ্রাম মিলে উৎসব করত। ঈদের সময় সবাই নতুন কাপড় পরে একে অপরের বাড়ি যেতাম। সেমাই, পায়েস, নানা রকম খাবার—সবকিছু ভাগাভাগি করে খেতাম। তখন মনে হতো, আমরা সবাই একটা বড় পরিবারের অংশ।

কিন্তু সময় তো থেমে থাকে না। পড়াশোনার জন্য একসময় আমাকে শহরে চলে আসতে হলো। প্রথমদিকে খুব কষ্ট হতো। রাতে ঘুমোতে গেলে গ্রামের কথা মনে পড়ত, মায়ের মুখ, বাবার হাসি, বন্ধুদের সাথে কাটানো সময়—সবকিছু চোখের সামনে ভেসে উঠত। শহরের এই ব্যস্ততা, এই যান্ত্রিক জীবন আমার কাছে অপরিচিত লাগত।

ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে গেলাম, কিন্তু মনের ভেতরের সেই শূন্যতা আর ভরাট হলো না। মাঝে মাঝে ছুটিতে গ্রামে যাই। কিন্তু এখন আর আগের মতো লাগে না। অনেক কিছু বদলে গেছে। সেই মাঠে এখন আধা-পাকা বাড়ি উঠেছে, কাঁচা রাস্তা পাকা হয়েছে, অনেক পুরনো মানুষ আর নেই।

আমাদের সেই আমগাছটাও আর নেই—ঝড়ে ভেঙে গেছে। উঠোনটা এখন ছোট হয়ে গেছে, চারপাশে নতুন দেয়াল উঠেছে। বন্ধুরাও সবাই ছড়িয়ে গেছে—কেউ শহরে, কেউ বিদেশে।

তবুও যখন গ্রামের পথে হাঁটি, তখন মনে হয়—এখানেই তো আমার শিকড়। এই মাটির সঙ্গেই আমার সম্পর্ক। বাতাসে এখনো যেন শৈশবের গন্ধ পাই। দূরে কোথাও কারো হাঁকডাক, গরুর ঘণ্টার শব্দ, কিংবা সন্ধ্যার আজানের ধ্বনি—সবকিছু আমাকে আবার সেই ছোট্ট ছেলেটায় ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

একদিন বিকেলে নদীর পাড়ে গিয়ে বসেছিলাম। সূর্যটা ধীরে ধীরে ডুবছিল, ঠিক যেমনটা দেখতাম ছোটবেলায়। সেই দৃশ্যটা দেখে চোখে পানি চলে এসেছিল। মনে হচ্ছিল, সময়টা যদি আবার ফিরে পাওয়া যেত! যদি আবার সেই দিনগুলোতে ফিরে যেতে পারতাম!

কিন্তু জীবন তো সামনে এগিয়ে চলে। অতীত শুধু স্মৃতি হয়ে থাকে। তবুও সেই স্মৃতিগুলোই আমাদের বাঁচিয়ে রাখে, আমাদের শক্তি দেয়।

আজ যখন শহরের ব্যস্ততার মাঝে ক্লান্ত হয়ে পড়ি, তখন চোখ বন্ধ করলেই দেখতে পাই—সবুজ মাঠ, নদীর পাড়, মাটির ঘর, মায়ের ডাক, বাবার হাসি। মনে হয়, আমি আবার ফিরে গেছি সেই গ্রামে, সেই দিনগুলোর মাঝে।

হয়তো আর কোনোদিন সেই দিনগুলো ফিরে আসবে না। কিন্তু আমার হৃদয়ের গভীরে তারা চিরকাল বেঁচে থাকবে।
কারণ সত্যিই—গ্রামের সেই দিনগুলি আজও মনে পড়ে।

লেখক: সংবাদকর্মী, ফরিদপুর

“এই প্রকৃতির গায়ে আজও খুঁজি তাকে”

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৪৬ এএম
“এই প্রকৃতির গায়ে আজও খুঁজি তাকে”

সবুজের ভেতর দাঁড়িয়ে আছি নিঃশব্দ এক অপেক্ষায়,
হাওয়ার নরম ছোঁয়ায় ভেসে আসে পুরোনো দিনের গন্ধ।
সরিষা ফুলের হলুদে মিশে আছে তার হাসির আলো,
যেন প্রতিটি পাপড়ি জানে তার অদেখা গল্প।

এই পথ ধরে একদিন হেঁটেছিলাম দু’জন পাশাপাশি,
মাটির গন্ধে মিশে ছিল আমাদের স্বপ্নের শব্দ।
আজ সেই পথ ফাঁকা, শুধু আমি আর নীরবতা,
তবুও মনে হয়, সে বুঝি ঠিক পেছনেই দাঁড়িয়ে।

দূরের আকাশে মেঘ জমে, ঠিক তার চোখের মতো,
যেখানে লুকানো ছিল এক গভীর অচেনা ব্যথা।
বাতাসে চুল উড়ে যায়, ঠিক তার স্পর্শের মতো,
মনে হয় সে আবার ছুঁয়ে দিল আমাকে নিঃশব্দে।

এই সবুজ মাঠ জানে আমার সব গোপন কথা,
জানে আমি কতটা খুঁজি তাকে প্রতিটি বিকেলে।
ফুলের গন্ধে ভেসে আসে তার নামের উচ্চারণ,
যেন প্রকৃতি নিজেই তাকে ডাকছে ফিরে আসতে।

আমি হাত বাড়াই, ধরতে চাই সেই হারানো মুহূর্ত,
কিন্তু সময় বড় নিষ্ঠুর, থেমে থাকে না কখনো।
স্মৃতিরা শুধু পিছু নেয়, ছায়ার মতো অবিরাম,
আর আমি হারিয়ে যাই তার অনুপস্থিতির ভিড়ে।

এই নীল আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে আজও ভাবি,
সে কি কোথাও আমাকেই খুঁজে ফিরছে একা?
নাকি ভুলে গেছে সব, রেখে গেছে শুধু স্মৃতি,
যা আমার হৃদয়ে জেগে থাকে প্রতিটি ক্ষণে।

পাখিরা ডাকে, যেন তার কণ্ঠের প্রতিধ্বনি,
দূরের নদী বয়ে যায়, তারই মতো নিরবধি।
আমি শুনি, আমি বুঝি, তবুও পাই না তাকে,
শুধু অনুভব করি, সে আছে কোথাও।

এই প্রকৃতির গায়ে আজও খুঁজি তাকে,
প্রতিটি রঙে, প্রতিটি ছোঁয়ায়, প্রতিটি গন্ধে।
হয়তো সে নেই, তবুও আছে আমার চারপাশে,
মিশে আছে এই সবুজে, এই আকাশে, এই বাতাসে।

আমি দাঁড়িয়ে থাকি, অপেক্ষা করি নীরবে,
হয়তো কোনোদিন ফিরে আসবে সে আবার।
ততদিন এই প্রকৃতিই হবে আমার সঙ্গী,
আর তার স্মৃতিই হবে আমার একমাত্র আশ্রয়।

ফরিদপুর-৪: প্রথম রোজায় একই দস্তরখানে এতিমদের সঙ্গে ইফতার, প্রশংসায় ভাসছেন এমপি বাবুল

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৬ এএম
ফরিদপুর-৪: প্রথম রোজায় একই দস্তরখানে এতিমদের সঙ্গে ইফতার, প্রশংসায় ভাসছেন এমপি বাবুল

পবিত্র মাহে রমজানের প্রথম দিনটি ভিন্নধর্মী এক মানবিক উদ্যোগের মধ্য দিয়ে উদযাপন করেছেন ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর ও চরভদ্রাসন) আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল। এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একসঙ্গে ইফতার করে তিনি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ভাঙ্গা উপজেলার মডেল মসজিদ প্রাঙ্গণে মাদানীনগর মাদ্রাসার কোমলমতি এতিম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একই দস্তরখানে বসে রোজা ভাঙেন তিনি। এ সময় শিশুদের সঙ্গে খোঁজখবর নেওয়া, কথা বলা এবং তাদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন জনপ্রতিনিধি শহিদুল ইসলাম বাবুল।

ইফতার অনুষ্ঠানে কোনো ধরনের রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা বা দলীয় নেতাকর্মীর উপস্থিতি ছিল না। পুরো আয়োজনটি ছিল সাদামাটা ও আন্তরিকতায় ভরপুর। এতিম শিশুদের সঙ্গে রমজানের প্রথম ইফতার ভাগ করে নেওয়ার এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয়রা জানান, একজন সংসদ সদস্য হিসেবে এতিম শিশুদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের সঙ্গে সময় কাটানো নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এতে সমাজের বিত্তবান ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদেরও মানবিক কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

ইফতারের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, “রমজান আমাদের সংযম, সহমর্মিতা ও মানবতার শিক্ষা দেয়। সমাজের অসহায় ও এতিম শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে পারলে সেটাই হবে প্রকৃত ইবাদত।” তিনি ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মাদানীনগর মাদ্রাসার শিক্ষকরা জানান, একজন জনপ্রতিনিধি সরাসরি এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ইফতার করায় তারা অত্যন্ত আনন্দিত। এতে শিশুদের মাঝে উৎসাহ ও ভালো লাগা তৈরি হয়েছে।

ইফতার শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার মাঝে ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও মানবিকতার এক অনন্য বার্তা ছড়িয়ে পড়ে।

এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।