খুঁজুন
, ,

তারাবি নামাজ: কত রাকাত, কীভাবে পড়বেন ও কী দোয়া করবেন?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৪৪ পূর্বাহ্ণ
তারাবি নামাজ: কত রাকাত, কীভাবে পড়বেন ও কী দোয়া করবেন?

ইবাদতের বসন্তকাল পবিত্র রমজান। এ মাসে রহমতের দরজা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। হাদিস শরিফে এসেছে, রমজান মাস শুরু হলেই রহমতের দরজা খুলে দেওয়া হয়। (মুসলিম : ১০৭৯/২)

অন্য এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে , রমজান মাসের শুভাগমন উপলক্ষে জান্নাতের দরজাসমুহ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। (বোখারি : ১৮৯৯, মুসলিম : ১০৭৯/১)

রমজানে প্রতিটি আমলের অনেক গুণ বেশি ছওয়াব পাওয়া যায়। নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘রমজানের ওমরা হজ সমতুল্য।’ (তিরমিজি : ৯৩৯ ও আবু দাউদ : ১৯৮৬)

অন্য এক বর্ণনায় (যা সনদের দিক থেকে দুর্বল) বিষয়টি এভাবে বর্ণিত হয়েছে, রমজান মাসে যে ব্যক্তি একটি নফল আদায় করল সে যেন অন্য মাসে একটি ফরজ আদায় করল। আর যে এ মাসে একটি ফরজ আদায় করল সে যেন অন্য মাসে সত্তরটি ফরজ আদায় করল। (শুআবুল ঈমান : ৩/৩০৫-৩০৬)

অর্থাৎ, এ মাসে নফল আদায় করলে অন্য মাসের ফরজের ন্যায় ছওয়াব হয়। আর এ মাসের এক ফরজে অন্য মাসের ৭০ ফরজের সমান ছওয়াব পাওয়া যায়।

রমজানে বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা ব্যাপকভাবে যেসব ইবাদত করে থাকেন, তার একটি হলো তারাবি নামাজ। এই নামাজের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে তারাবি পড়ার প্রতি উৎসাহিত করেছেন। এক হাদিসে তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও পরকালের আশায় রমজানের রাতে তারাবির সালাত আদায় করবে, তার অতীতের পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। (নাসায়ি : ২২০৫)

তারাবিকে ঘিরে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের মসজিদগুলোতে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। ফরিদপুর প্রতিদিনের পাঠকদের সুবিধার্থে তারাবি নামাজের নিয়ম, নিয়ত, দোয়া ও মোনাজাত তুলে ধরা হলো।

তারাবি নামাজ পড়ার নিয়ম

রমজানে প্রতিদিন এশার ফরজ নামাজ পড়ার পরে বিতিরের আগে তারাবি নামাজ পড়তে হয়। তারাবি নামাজ দুই রাকাত করে পড়া হয়। প্রত্যেক দুই রাকাতের পর সালাম ফেরানো হয়। এভাবে চার রাকাত পড়ার পরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া হয়। এসময় বিভিন্ন তাসবিহ পড়া উত্তম।

তারাবি নামাজের নিয়ত

ইসলামে নিয়ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কাজ বা ইবাদত আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হলে তা সঠিক নিয়তের সঙ্গে করতে হয়। নিয়ত ছাড়া কোনো ইবাদত পূর্ণাঙ্গ হয় না, কারণ ইবাদতের মূল শর্তই হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের ইচ্ছা। তাই তারাবি নামাজের জন্যও নিয়ত করা হয়। নিয়ত মনে মনে বাংলাতেও করা যায়।

আমাদের দেশের প্রচলিত তারাবির আরবি নিয়ত

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ للهِ تَعَالَى رَكْعَتَى صَلَوةِ التَّرَاوِيْحِ سُنَّةُ رَسُوْلِ اللهِ تَعَالَى مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اللهُ اَكْبَرْ

বাংলা উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তায়ালা, রাকাআতাই সালাতিত তারাবি সুন্নাতু রাসুলিল্লাহি তায়ালা, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি, আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আমি কেবলামুখী হয়ে দুই রাকাত তারাবি সুন্নত নামাজের নিয়ত করছি, আল্লাহু আকবার।

রাজধানীর জামিয়া ইকরার ফাজিল মুফতি ইয়াহইয়া শহিদ কালবেলাকে বলেন, তারাবি নামাজের নিয়ত আরবিতে করা আবশ্যক বা বাধ্যতামূলক নয়। বাংলাতেও এভাবে নিয়ত করা যাবে যে, ‘আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তারাবির দুই রাকাত নামাজ কেবলামুখী হয়ে (জামাত হলে- এ ইমামের পেছনে) পড়ছি- (اَللهُ اَكْبَر) আল্লাহু আকবার। উল্লেখ্য, নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা জরুরী নয়, তবে উত্তম।

তারাবি নামাজের দোয়া

তারাবি নামাজে প্রতি চার রাকাত পর বিশ্রাম নেওয়া হয়। এ সময় একটি দোয়া পড়ার প্রচলন রয়েছে আমাদের দেশে। প্রায় সব মসজিদের মুসল্লিরা এই দোয়াটি পড়ে থাকেন।

দোয়াটি হলো

سُبْحانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ سُبْحانَ ذِي الْعِزَّةِ وَالْعَظْمَةِ وَالْهَيْبَةِ وَالْقُدْرَةِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْجَبَرُوْتِ سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْحَيِّ الَّذِيْ لَا يَنَامُ وَلَا يَمُوْتُ اَبَدًا اَبَدَ سُبُّوْحٌ قُدُّوْسٌ رَبُّنا وَرَبُّ المْلائِكَةِ وَالرُّوْحِ

বাংলা উচ্চারণ : সুবহানা জিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি, সুবহানা জিল ইয্যাতি ওয়াল আজমাতি ওয়াল হায়বাতি ওয়াল কুদরাতি ওয়াল কিব্রিয়ায়ি ওয়াল জাবারুতি। সুবহানাল মালিকিল হাইয়্যিল্লাজি লা ইয়ানামু ওয়া লা ইয়ামুত আবাদান আবাদ; সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাব্বুনা ওয়া রাব্বুল মালায়িকাতি ওয়ার রূহ।

মুফতি ইয়াহইয়া শহিদ বলেন, মনে রাখতে হবে, তারাবি নামাজ বিশুদ্ধ হওয়া বা না হওয়ার সঙ্গে এই দোয়ার কোনও সম্পর্ক নেই। এই দোয়া না পড়লে তারাবি নামাজ হবে না, কোনওভাবেই এমন মনে করা যাবে না। মূলত এ দোয়ার সঙ্গে তারাবি নামাজ হওয়া কিংবা না হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই।

তিনি বলেন, এ সময় কোরআন-হাদিসে বর্ণিত যেকোনো দোয়াই পড়া যাবে। ফক্বিহ আলেমদের মতে, তারাবি নামাজে চার রাকাত পর বিশ্রামের সময়টিতে কোরআন-হাদিসে বর্ণিত দোয়া, তওবা,-ইসতেগফারগুলো পড়াই উত্তম।

তারাবি নামাজ শেষে মোনাজাত

প্রতিদিন তারাবি নামাজ শেষে দেশের মসজিদগুলোতে একটি দোয়া পড়ে মোনাজাতের প্রচলন রয়েছে। প্রাচীনকাল থেকেই দেশব্যাপী মসজিদগুলোতে প্রচলিত এই দোয়াটি হলো-

اَللَهُمَّ اِنَّا نَسْئَالُكَ الْجَنَّةَ وَ نَعُوْذُبِكَ مِنَ النَّارِ يَا خَالِقَ الْجَنَّةَ وَالنَّارِ- بِرَحْمَتِكَ يَاعَزِيْزُ يَا غَفَّارُ يَا كَرِيْمُ يَا سَتَّارُ يَا رَحِيْمُ يَاجَبَّارُ يَاخَالِقُ يَابَارُّ اَللَّهُمَّ اَجِرْنَا مِنَ النَّارِ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ- بِرَحْمَتِكَ يَا اَرْحَمَ الرَّحِمِيْنَ

বাংলা উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকাল জান্নাতা ওয়া নাউজুবিকা মিনাননার। ইয়া খালিক্বাল জান্নাতি ওয়ান নার, বিরাহমাতিকা ইয়া আজিজু ইয়া গাফফার, ইয়া কারিমু ইয়া সাত্তার, ইয়া রাহিমু ইয়া জাব্বার, ইয়া খালিকু ইয়া বার্রু। আল্লাহুম্মা আজিরনা মিনান নার, ইয়া মুজিরু, ইয়া মুজিরু, ইয়া মুজির- বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমিন।

উল্লেখ্য, আমাদের সমাজে অনেকে মনে করেন তারাবি নামাজ সঠিক নিয়মে আদায়ের জন্য নামাজ শেষে এই দোয়াটি পড়া আবশ্যক। এমন ধারণা বা বিশ্বাস মোটেও ঠিক নয়। তাই দোয়াটি পড়ার ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, তারাবি নামাজ হওয়া বা না হওয়ার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। যেমন তারাবি নামাজের প্রতি চার রাকাত পর পর পড়া দোয়াটির সঙ্গে তারাবি বিশুদ্ধ হওয়ার কোনও সম্পর্ক নেই।

ফরিদপুরে হাসপাতালে চুরি: সিসিটিভিতে শনাক্ত বিএনপি নেতার ছেলে, ৬ মাসের জেল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হাসপাতালে চুরি: সিসিটিভিতে শনাক্ত বিএনপি নেতার ছেলে, ৬ মাসের জেল

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ১৫টি সিলিং ফ্যানসহ লোহার পাইপ ও অ্যাঙ্গেল চুরির ঘটনায় মো. মান্না শেখ (২৭) নামে এক যুবককে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

​দণ্ডিত মান্না শেখ বোয়ালমারী পৌর বিএনপির সহ-কোষাধ্যক্ষ ও প্রস্তাবিত উপজেলা কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রিজাউল হক শেখের ছেলে।

​পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার ভোর চারটার দিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় অবস্থিত একটি অব্যবহৃত ক্যানটিনের তালা ভেঙে এসব মালামাল চুরি হয়। হাসপাতালটিতে কোনো নৈশপ্রহরী না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে চুরির বিষয়টি ধরা পড়েনি। পরদিন শনিবার সকালে ঘটনাটি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।

​পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত মান্না শেখকে শনাক্ত করে বোয়ালমারী থানা পুলিশ। ঘটনা জানাজানি হলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে এবং তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করে।

​এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বোয়ালমারী থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। রোববার বিকেলে আসামিকে ফরিদপুরের ৩ নম্বর আমলি আদালতে তোলা হলে আদালত তাঁকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

​বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চোর শনাক্তের পর মালামাল উদ্ধার ও আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাঁকে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

​এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর আগেও একাধিকবার চুরির ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতাল এলাকায় অবস্থানকারী কিছু বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সচালক এসব চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলে তাঁদের ধারণা। তবে এ বিষয়ে পুলিশের সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গোপন তথ্য ফাঁস করা কি গুনাহ?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২১ অপরাহ্ণ
গোপন তথ্য ফাঁস করা কি গুনাহ?

মানুষের সম্মান, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় অনুসন্ধান করা, গোপন দোষ প্রকাশ করা কিংবা একান্তে বলা কথা অনুমতি ছাড়া ছড়িয়ে দেওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে নিন্দনীয় কাজ।

এতে শুধু ব্যক্তির সম্মানহানি হয় না, বরং পারিবারিক সম্পর্ক, সামাজিক বন্ধন ও পারস্পরিক বিশ্বাসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পবিত্র কোরআন ও হাদিসে মানুষের গোপনীয়তা রক্ষা, অন্যের দোষ অনুসন্ধান থেকে বিরত থাকা এবং গোপন কথা আমানত হিসেবে সংরক্ষণের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এ যুগে ব্যক্তিগত বার্তা, ছবি ও কথোপকথনের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা নতুন করে এ শিক্ষার গুরুত্ব সামনে এনেছে।

গোপনীয়তা অনুসন্ধানে কোরআনের নিষেধাজ্ঞা

পবিত্র কোরআনের সূরা আল-হুজুরাতের ১২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের অন্যের গোপন বিষয় অনুসন্ধান করতে নিষেধ করেছেন।

একই আয়াতে ভিত্তিহীন ধারণা ও পরনিন্দা থেকেও দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা একে অপরের গোপনীয় বিষয় অনুসন্ধান করো না এবং একে অপরের গিবত করো না।

’ (সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ১২)

এ নির্দেশনা থেকে স্পষ্ট হয়, অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় জানার কৌতূহল মেটাতে তার গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। কারও ভুলত্রুটি খুঁজে বেড়ানো কিংবা তার ব্যক্তিগত দুর্বলতা নিয়ে আলোচনা করাও ইসলামের নৈতিক শিক্ষার পরিপন্থী।

এ ছাড়া সূরা আন-নূরের ১৯ নম্বর আয়াতে মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়া পছন্দ করে, এমন ব্যক্তিদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির কথা বলা হয়েছে। আয়াতটির শিক্ষা হলো, সমাজে অনৈতিকতা ও অশ্লীলতা ছড়িয়ে দেওয়ার মানসিকতা থেকে বিরত থাকা জরুরি।

অন্যের গোপন দোষ খুঁজলে কঠিন সতর্কবার্তা

অন্যের গোপন বিষয় অনুসন্ধান ও প্রচারের পরিণতি সম্পর্কে হাদিসেও কঠোর সতর্কবার্তা এসেছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা মুসলমানদের গিবত করো না এবং তাদের গোপন দোষ অনুসন্ধান করো না। যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের গোপন দোষ অনুসন্ধান করে, আল্লাহ তার দোষ প্রকাশ করে দেন। আর আল্লাহ যার দোষ প্রকাশ করেন, তাকে তার ঘরের মধ্যেও অপদস্থ করেন।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮৮০)

এ হাদিসে অন্যের গোপন দোষ খুঁজে বেড়ানো এবং তা প্রকাশ করার পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। একজন মুমিনের দায়িত্ব হলো অন্যের দুর্বলতা নিয়ে ব্যস্ত না থেকে নিজের চরিত্র ও আমল সংশোধনের দিকে মনোযোগ দেওয়া।

একান্ত কথাও আমানত

ইসলামে আমানতদারিতার পরিধি শুধু অর্থসম্পদ বা মূল্যবান বস্তুতে সীমাবদ্ধ নয়। পরিস্থিতি ও কথার ধরন অনুযায়ী ব্যক্তিগত আলাপ এবং গোপন তথ্যও আমানতের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি কথা বলার পর চারদিকে তাকালে, তা আমানত।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮৬৮)

অর্থাৎ, কেউ কোনো কথা গোপন রাখার প্রত্যাশায় বললে তা অনুমতি ছাড়া অন্যের কাছে প্রকাশ করা আমানতের খেয়ানত হতে পারে। বিশেষ করে ব্যক্তিগত সমস্যা, পারিবারিক বিষয় কিংবা আস্থার সম্পর্কের মধ্যে জানা তথ্য প্রকাশের আগে এর সম্ভাব্য পরিণতি বিবেচনা করা জরুরি।

অন্যের দোষ গোপন রাখার প্রতিদান

ইসলাম শুধু অন্যের গোপনীয়তা নষ্ট করতে নিষেধ করেনি; বরং মানুষের দোষত্রুটি গোপন রাখার জন্যও সুসংবাদ দিয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতে তার দোষ গোপন রাখবেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬৯৯)

এ শিক্ষা মানুষকে অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে উৎসাহিত করে। কেউ ভুল করলে তাকে অপমানিত করার পরিবর্তে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া এবং তার সম্মান রক্ষার চেষ্টা করা উত্তম আচরণ।

তবে কারও অপরাধের কারণে অন্যের জীবন, নিরাপত্তা বা অধিকার হুমকির মুখে পড়লে বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো ভিন্ন বিষয়। অপরাধ আড়াল করা এবং অকারণে ব্যক্তিগত দোষ ছড়িয়ে বেড়ানো এক নয়।

ডিজিটাল যুগে গোপনীয়তা রক্ষার দায়িত্ব

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত বার্তা, ফোনালাপ, ছবি ও স্ক্রিনশট অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করার ঘটনা দেখা যায়। কখনো ব্যক্তিগত বিরোধ, প্রতিশোধ কিংবা কাউকে সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে এসব তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মানহানি, পারিবারিক অশান্তি ও মানসিক কষ্ট তৈরি হতে পারে। একবার কোনো তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে তা প্রত্যাহার করাও কঠিন হয়ে পড়ে। তাই কোনো ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের আগে তার সত্যতা, প্রয়োজনীয়তা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মতি এবং সম্ভাব্য ক্ষতি বিবেচনা করা উচিত।

ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, অন্যের সম্মান রক্ষা করা, গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং জিহ্বা ও আচরণ সংযত রাখা একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ গুণ। নিজের ভুল সংশোধন এবং অন্যকে অপমানের হাত থেকে রক্ষা করার মানসিকতা ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি সমাজেও শান্তি ও পারস্পরিক বিশ্বাস প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে।

মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সালথা গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে যুবদলের বিশাল আনন্দ মিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩১ অপরাহ্ণ
মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সালথা গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে যুবদলের বিশাল আনন্দ মিছিল

ফরিদপুরের সালথায় মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন উপজেলা যুবদলের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির নেতাকর্মীরা। দীর্ঘ ১৭ বছর পর নতুন কমিটি পাওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।

​রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে সালথা উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে আনন্দ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সালথা বাজারে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

​সমাবেশে বক্তারা বলেন, সাধারণ জনগণের পাশে থেকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠনে মাঠে থাকবে যুবদল। তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক ও গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নেতারা।

​সম্প্রতি ৩৫ সদস্যবিশিষ্ট সালথা উপজেলা যুবদলের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে মো. হাসান আশরাফকে আহ্বায়ক, কামরুল ইসলামকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং মো. এনায়েত হোসেনকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর কমিটি গঠিত হওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার হবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

​সালথা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. হাসান আশরাফের সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব মো. এনায়েত হোসেনের পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক মিরান হোসেন, মাহফুজুর রহমান খান, সাফিকুল ইসলাম ও হাবিবুর রহমান হাবিবসহ দলের জেলা ও স্থানীয় নেতারা।

​এ সময় নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসহ বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। আনন্দ মিছিলের আগে নতুন কমিটির নেতাদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন আহ্বায়ক মো. হাসান আশরাফ।

​কর্মসূচি শেষে নবগঠিত কমিটির নেতারা বিএনপির সাবেক মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমানের কবর জিয়ারত ও মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন।