খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ১২ চৈত্র, ১৪৩২

কাকে ভোট দেবেন? ইসলামের চোখে ভোটার ও প্রার্থীর জবাবদিহি

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৪৬ এএম
কাকে ভোট দেবেন? ইসলামের চোখে ভোটার ও প্রার্থীর জবাবদিহি

ইসলামের দৃষ্টিতে ভোট একটি আমানত, তা সঠিক ব্যক্তিকে দেওয়া নৈতিক দায়িত্ব এবং ইসলামের নির্দেশ। ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বার্থে ভোটের আমানত জলাঞ্জলি দেওয়া অনৈতিক ও দ্বিনি শিক্ষার পরিপন্থী। ভোটারের দ্বিনি ও নৈতিক দায়বদ্ধতা না থাকলে দেশের অধঃপতন অনিবার্য। সমাজের বেশির ভাগ মানুষ ভোটকে নিছক পার্থিব বিষয় মনে করে, অথচ এটি গুরুত্বপূর্ণ আমানত এবং প্রয়োগে পূর্ণ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেয়।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন  আমানত তার হকদারকে প্রত্যর্পণ করতে। তোমরা যখন মানুষের মধ্যে বিচারকার্য পরিচালনা করবে তখন ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে বিচার করবে।’
(সুরা : নিসা, আয়াত : ৫৮)

ব্যক্তিস্বার্থে ভোট নয়

ভোটাধিকার প্রয়োগে যদি মানুষ ব্যক্তিস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়, তবে দেশ ও জাতির অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলে দিতে পারে। ভোটার যদি দেশ ও জাতির স্বার্থ বিবেচনা না করে ভোট দেয়, তবে সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে সন্ত্রাস, মাদক, দুর্নীতি, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব কখনো দূর হবে না।

মানুষের জীবনযাত্রার মানও কখনো উন্নত হবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যখন আমানত বিনষ্ট হয় তখন তোমরা কিয়ামতের অপেক্ষা কোরো।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৪৯৬)

ভোট বিক্রয়যোগ্য নয়

ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষরাই বেশি ভুল করে থাকে। অনেকেই এই সময়টাকে অর্থ উপার্জনের সুযোগ মনে করে।

তারা সামান্য অর্থের বিনিময়ে এমন ব্যক্তি ও দলে ভিড়ে যায়, তাদের পক্ষে স্লোগান দেয় এবং মিছিল করে যাদের সে নিজেও অন্তর থেকে পছন্দ করে না। এমনকি এই ব্যক্তির সব দোষত্রুটি জানার পরও তার পক্ষে ভোট চায় এবং ভোট দেয়। ফকিহ আলেমরা বলেন, অর্থের বিনিময়ে অযোগ্য ব্যক্তি ও পাপিষ্ঠকে ভোট দেওয়া এক প্রকারের ঘুষ। এটা সমাজ ও রাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! জেনেশুনে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সঙ্গে বিশ্বাস ভঙ্গ করবে না এবং তোমাদের পরস্পরের আমানত সম্পর্কেও বিশ্বাস ভঙ্গ করবে না।’ (সুরা : আনফাল, আয়াত : ২৭)

পক্ষ নেওয়ার আগে লক্ষ করুন

কোনো ব্যক্তির পক্ষে মিছিল করা, স্লোগান দেওয়া এবং তার পক্ষে ভোট চাওয়া এক প্রকারের সাক্ষ্য। কোনো প্রার্থীকে ভোট দেওয়াও সাক্ষ্যের অন্তর্ভুক্ত। আর মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া গুরুতর অপরাধ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা বর্জন করো মূর্তি পূজার অপবিত্রতা এবং দূরে থাকো মিথ্যা কথা থেকে।’ (সুরা : হজ, আয়াত : ৩০)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা সাবধান হও মিথ্যা কথার ব্যাপারে এবং তোমরা সাবধান হও মিথ্যা সাক্ষ্যের ব্যাপারে (অর্থাৎ তোমরা পরিহার কোরো)।’

(সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৯৭৬)

প্রাজ্ঞ আলেমরা বলেন, কাউকে ভোট দেওয়া এবং কারো পক্ষে প্রচারণা চালানো সুপারিশের মতো। আর সুপারিশ করার আগে ব্যক্তি তার যোগ্য কি না সেটাও বিবেচনা করা জরুরি। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘কেউ কোনো ভালো কাজের সুপারিশ করলে তাতে তার অংশ থাকবে এবং কেউ কোনো মন্দ কাজের সুপারিশ করলে তাতে তার অংশ থাকবে। আল্লাহ সর্ববিষয়ে নজর রাখেন।’

(সুরা : নিসা, আয়াত : ৮৫)

তাসফিরবিদরা বলেন, উত্তম সুপারিশ হলো যা যোগ্য ব্যক্তির জন্য করা হয় এবং মন্দ সুপারিশ হলো যা অযোগ্য ব্যক্তির জন্য করা হয়। এ জন্য আলেমরা বলেন, প্রার্থী নির্বাচনে জয় লাভ করবে কি না সে বিবেচনা না করে প্রার্থী যোগ্য কি না সেটা বিবেচনা করা উচিত। কেননা যোগ্য প্রর্থীকে ভোট দেওয়ার পর সে যদি পরাজিতও হয়, তবু উত্তম সুপারিশ করার সওয়াব পাওয়া যাবে। অন্যদিকে যারা অযোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দেবে, সে অযোগ্য ব্যক্তিকে উকিল নিযুক্ত করার কারণে গুনাহগার হবে। অযোগ্য প্রার্থী কোনো অন্যায় করলে অন্যায় কাজে সহযোগিতা করার জন্য ভোটারকেও দায় বহন করতে হবে।

প্রার্থীর দ্বিনদারিও বিবেচ্য বিষয়

প্রার্থী নির্বাচনে একজন মুসলমান প্রার্থীর বাহ্যিক যোগ্য ও দক্ষতার পাশাপাশি তার দেশপ্রেম, কল্যাণকামিতা, নীতি-নৈতিকতা ও দ্বিনদারির দিকগুলোও বিবেচনা করবে। যারা প্রকাশ্যে ইসলাম, ইসলামী শিক্ষা, দ্বিন, শরিয়ত, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলে প্রতি ধৃষ্টতা দেখায় তাদের ভোট দেওয়া উচিত নয়। দুই প্রার্থীর ভেতরে যে দ্বিনদারির ক্ষেত্রে অগ্রগামী মুসলমান তাকেই প্রাধান্য দেবে। যারা দেশদ্রোহী, যারা দেশবিরোধী তৎপরতায় লিপ্ত, যারা অন্যায় ও জুলুমের সঙ্গে জড়িত তাদেরও ভোট দেওয়া যাবে না। কোনো প্রার্থীই যদি যোগ্যতা, দ্বিনদারি ও দেশপ্রেমের মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ না হয়, তবে ভোট দান থেকে বিরত থাকা যাবে, এমনকি না ভোটও দেওয়া যাবে।

প্রার্থী কারা হবে, কারা হবে না

যারা নির্বাচনে প্রার্থী হয় তারা মূলত পুরো জাতির সামনে দুটি বিষয়ের দাবি করে। এক. সে এই দায়িত্ব পালনের যোগ্য এবং এই দায়িত্ব পালনে আগ্রহী, দুই. সে এই দায়িত্ব যথাযথভাবে আমানতদারিতার সঙ্গে পালন করবে। এই দাবির ক্ষেত্রে সে যদি সত্যবাদী হয় তবে তো ভালো, কিন্তু বাস্তবতার আলোকে দাবি মিথ্যাও হতে পারে। তাই উত্তম হলো সমাজের একদল দ্বিনদার ও আল্লাহভীরু মানুষ সম্মিলিত পরামর্শের মাধ্যমে একজন যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করা এবং তাকে নির্বাচন করতে অনুরোধ করা। কেননা আল্লাহ না করুন সে যদি নিজেই প্রার্থী হয় এবং নিজেকে যোগ্য ঘোষণা করে আর পরে সে ব্যর্থ হয়, দুর্নীতি করে, তবে সে আল্লাহর দরবারে খিয়ানতকারী হিসেবেই বিবেচিত হবে। মানুষের অধিকার নষ্ট করার কারণে তাকে জাহান্নামে যেতে হতে পারে। মনে রাখতে হবে, প্রার্থিতা কোনো সাধারণ বিষয় নয়, এটা হলো অসংখ্য ও অগণিত মানুষের দায়িত্ব নিজের ঘাড়ে চাপিয়ে নেওয়া। যার ভেতর এই দায়িত্ব পালনের সৎ সাহস নেই, তার উচিত নয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া। আবদুর রহমান ইবনে সামুরা (রা.) বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে বলেন, হে আবদুর রহমান, তুমি কখনো নেতৃত্ব চেয়ে নিয়ো না। কেননা তুমি যদি চেয়ে নিয়ে তা লাভ করো, তাহলে তোমাকে ওই দায়িত্বের হাতে ছেড়ে দেওয়া হবে (তুমি দায়িত্ব পালনে হিমশিম খাবে, কিন্তু কোনো সহযোগিতা পাবে না)। আর না চাইতেই যদি তা পাও তাহলে তুমি সে জন্য সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭১৪৭)

প্রার্থীদের আরেকটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন। তা হলো তিনি একজন জনপ্রতিনিধি। আর প্রতিনিধির আরবি হলো উকিল। জনগণ ভোট প্রদানের মাধ্যমে প্রার্থীকে নিজের এবং এলাকার উকিল বা প্রতিনিধি নিযুক্ত করেন। আর প্রতিনিধির দায়িত্ব হলো তার মক্কেল বা নিযুক্তকারীর প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করা, তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করা এবং মক্কেলের স্বার্থ রক্ষা করা। এ ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাচারী হওয়ার কোনো অবকাশ নেই।

ভোট দেওয়া দ্বিনি দায়িত্ব

ওপরের আলোচনা থেকে প্রমাণিত হলো ভোট সাক্ষ্য, ভোট আমানত, ভোট সুপারিশ এবং ভোট উকিল নিযুক্ত করার মাধ্যম। শরিয়তের দৃষ্টিতে মিথ্যা সাক্ষ্য দিলে, আমানত নষ্ট করলে, মন্দ সুপারিশ করলে এবং অযোগ্য উকিল নিযুক্ত করলে যেমন গুনাহ হয়, তেমনি সত্য সাক্ষ্য দেওয়া, আমানত আদায় করলে, উত্তম সুপারিশ করলে এবং যোগ্য ব্যক্তিকে উকিল নিযুক্ত করলে অনেক সওয়াব পাওয়া যায়। আল্লাহ মুক্তিপ্রাপ্ত মানুষের পরিচয় তুলে ধরে বলেন, ‘তবে যারা সত্য উপলব্ধি করে তার সাক্ষ্য দেয়, তারা ছাড়া।’ (সুরা : জুখরুফ, আয়াত : ৮৬)

অনেক দ্বিনদার ব্যক্তি ভোট দেওয়াকে অপ্রয়োজনীয় মনে করেন, কিন্তু গবেষক আলেমরা বলেন, ভোট দেওয়া একটি নৈতিক ও দ্বিনি দায়িত্ব। কেননা কোনো দ্বিনদার ব্যক্তি যদি ভোট দান থেকে বিরত থাকেন, তবে একজন যোগ্য প্রার্থীই ভোটপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হন এবং দুর্নীতিবাজদের পাল্লা ভারী হয়। এ বিষয়ে মহান আল্লাহর নির্দেশনা হলো, ‘তোমরা সাক্ষ্য গোপন কোরো না, যে কেউ তা গোপন করে অবশ্যই তার অন্তর পাপী। তোমরা যা করো আল্লাহ তা সবিশেষ অবহিত।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২৮৩)

আল্লাহ সবাইকে দ্বিনের সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন।

বেয়ালমারীর ৫শ বছরের পুরনো কাটাগড় মেলা শুরু হয়েছে আজ

বোয়ালমারী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম
বেয়ালমারীর ৫শ বছরের পুরনো কাটাগড় মেলা শুরু হয়েছে আজ

এক বছর বন্ধ থাকার পর আবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ৫শ বছরের ঐতিহ্যবাহী কাটাগড় দেওয়ান শাগির শাহর মেলা।

বুধবার (২৫ মার্চ) থেকে আগামী সোমবার পর্যন্ত পাঁচ দিনব্যাপী এ মেলা ঘিরে ফরিদপুরের বোয়ালমারীর ২০টি গ্রামে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

মেলা উপলক্ষে উপজেলার কাটাগড়, সহস্রাইল, ভুলবাড়িয়া, কলিমাঝি, মাইটকুমরা, গঙ্গানন্দপুর, ছত্রকান্দা, সুর্যোগ, বন্ডপাশা, বয়রা, বামনগাতীসহ আশপাশের গ্রামের অধিকাংশ বাড়িতে আত্মীয়স্বজনের সমাগম থাকে। প্রতিবছর দেওয়ান শাগির শাহর মেলা শুরুর প্রতীক্ষায় থাকেন এ অঞ্চলের মানুষ।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কাটাগড় মেলার বিশেষ ট্রেড মার্ক তালপাতার হাতপাখা। এ ছাড়া বাচ্চাদের খেলার সামগ্রী থেকে সাংসারিক নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস মেলায় বিক্রি হয়। এ উপলক্ষে বিভিন্ন জেলা থেকে আসে নানা রকম ফার্নিচার। মেলায় বড় আকারের মাছ নিয়ে উপস্থিত হন দূরদূরান্তের মাছ ব্যবসায়ীরা।

প্রতিবছর ২৫ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত এ মেলা অনুষ্ঠিত হলেও ২৬ মার্চ হয় বড় মেলা। মেলা উপলক্ষে শাগির শাহর আস্তানার চারপাশে বসে বাউল সাধকদের আধ্যাত্মিক গানের আসর। এতে মরমি গানের সুরে মোহিত হয় দর্শক-শ্রোতা।
এ বছর মেলা উপলক্ষে আগেই খোলা ডাকের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে মেলার মাঠ। গত রোববার সন্ধ্যায় দেওয়ান শাগির শাহর মাজার প্রাঙ্গণে এ ডাক অনুষ্ঠিত হয়। সব মিলে প্রায় সাড়ে ২৯ লাখ টাকায় মেলা মাঠের বিভিন্ন অংশ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছে।

বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান বলেন, কাটাগড়ের মেলা এই এলাকার ঐতিহ্যবাহী মেলা; মানুষের আনন্দ-উৎসবের একটা উপলক্ষ। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মেলার মাঠ ডাকের বিষয়টি তাঁর জানা নেই। এ বিষয়ে খোঁজ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

‘এখন আমি মেয়েকে নিয়ে কিভাবে বাঁচবো’?

মো. নুর ইসলাম, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ৭:৫০ পিএম
‘এখন আমি মেয়েকে নিয়ে কিভাবে বাঁচবো’?

রক্তাক্ত নিথর দেহটা থানা চত্বরে অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে সাদা কাপড়ে ঢাকা! চারপাশে মানুষের ভিড়, ফিসফাস আর নিস্তব্ধতা। সেই নিস্তব্ধতাকে ভেঙে বুকফাটা আর্তনাদ, ‘ওগো তুমি আমাকে এভাবে ফেলে গেলে কেন? এখন আমি মেয়েকে নিয়ে কিভাবে বাঁচবো?’

স্বামীর লাশের পাশে এভাবেই আহাজারি করছিলেন নিহত হুমায়ন কবীর (৫৭) ওরফে মিন্টু মোল্লার স্ত্রী ফরিদা বেগম। ফরিদপুরের বোয়ালমারীর চতুল গ্রামের নিহতের বাড়িটি ও থানা চত্বর পরিণত হয়েছে শোকের মাতমে।

বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে পৈতৃক জমির গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে বড় ভাইয়ের সটগানের গুলিতে নিহত হন মিন্টু মোল্লা। এ ঘটনার কয়েক ঘন্টা পরে স্থানীয় থানায় আনা হয় তার মরদেহ। আর সেই মরদেহ ঘিরেই শুরু হয় স্ত্রী ও সন্তানের হৃদয়বিদারক কান্না।

স্ত্রী ফরিদা বেগম বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছিলেন। কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরতেই আবার ছুটে গিয়ে স্বামীর নিথর দেহ আঁকড়ে ধরে কাঁদতে থাকেন। ‘আমার সব শেষ হয়ে গেল। এই মানুষটাই ছিল আমার সহায় সম্বল’।

আরেক পাশের দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তির কোলে কাঁদছিল তাদের একমাত্র মেয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী ফাবিহা কবীর। ‘বাবার নিথর মুখের দিকে তাকিয়ে তার ছোট্ট মুখে “বাবা, তুমি উঠো …. তুমি কেন কথা বলছো না?’

কিছুক্ষণ পর কান্নাজড়িত কণ্ঠে সে বলে, “আমার বাবাকে কেড়ে নিলো। আমি এখন এতিম হয়ে গেলাম। আমার পড়াশোনা কীভাবে চলবে? আমি বাবার খুনির বিচার চাই।”

পরিবারের আত্মীয় স্বজনরা জানান, মিন্টুই ছিলেন এই ছোট্ট পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। তার রোজগারেই চলতো সংসার, মেয়ের পড়াশোনা সবকিছু। এক মুহূর্তে সেই ভরসার জায়গাটাই ভেঙে পড়েছে। খুনির মামলার যন্ত্রণায় মিন্টুর কিছুই সহায় স্বম্বল নাই।

গ্রামের প্রতিবেশীরা বলেন, সামান্য গাছ নিয়ে এমন ভয়ংকর ঘটনা ঘটবে, তা কেউ ভাবতে পারেনি। এখন এই পরিবারটার দিকে তাকালে চোখে পানি চলে আসে রীতিমত।

লাশের অ্যাম্বুলেন্সের পাশে পড়ে আছে মেয়ের স্কুলব্যাগ, খাতাপত্র-যেখানে হয়তো লেখা ছিল ভবিষ্যতের স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ঢেকে গেল।

এ ঘটনার পর বিকেলে নিহতের স্ত্রী ফরিদা বেগম বাদী হয়ে গোলাম কবির, তার দ্বিতীয় স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগমসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে বোয়ালমারী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় আসামি স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেইন বলেন, আটকৃত স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে আদালতে পাঠানো হবে।

ফরিদপুরে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবককে গরম পানি ঢেলে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩০ পিএম
ফরিদপুরে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবককে গরম পানি ঢেলে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবকের শরীরে গরম পানি ঢেলে গুরুতরভাবে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। মর্মান্তিক এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে।

ভুক্তভোগী সোহেল মোল্লা (২৫) উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের ফলিয়া গ্রামের দরিদ্র দিনমজুর শাহজাহান মোল্লার ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যার একটু আগে সহস্রাইল বাজারের একটি চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।

চায়ের দোকানদার বাবলু জানান, ওই সময় দোকানে বসে চা পান করছিলেন আক্তার খালাসি নামে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা ও তার কয়েকজন সঙ্গী। এসময় মানসিক ভারসাম্যহীন সোহেল হঠাৎ পেছন দিক থেকে এসে আক্তার খালাসিকে জড়িয়ে ধরে এবং হাত টানাটানি শুরু করে। এতে পরিস্থিতি উত্তেজিত হয়ে ওঠে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোহেলকে ছাড়াতে গিয়ে আক্তার খালাসি প্রথমে তাকে ধাক্কা দেন। একপর্যায়ে হাতে থাকা গরম চায়ের কেটলি দিয়ে আঘাত করলে কেটলির ফুটন্ত পানি সোহেলের শরীরে পড়ে যায়। এতে তার বুক থেকে শুরু করে পা পর্যন্ত অংশ মারাত্মকভাবে ঝলসে যায়।

ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

সোহেলের বাবা শাহজাহান মোল্লা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ডাক্তার ঢাকায় নিতে বলছে, কিন্তু আমার সেই সামর্থ্য নেই। কীভাবে ছেলের চিকিৎসা চালাবো বুঝতে পারছি না।” তিনি জানান, তার ছেলে একজন ভাতাপ্রাপ্ত বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যও।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আক্তার খালাসির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত জানান, আহত অবস্থায় সোহেলকে হাসপাতালে আনার পর বিষয়টি তারা জানতে পারেন। তিনি বলেন, “চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। ঘটনাস্থল বোয়ালমারী থানার আওতাধীন হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারকে সেখানে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।”

তবে দরিদ্র পরিবারটি বর্তমানে চিকিৎসা নিয়েই ব্যস্ত থাকায় এখনো থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করতে পারেনি।

এদিকে, এমন নির্মম ঘটনার প্রতিবাদে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অসহায় পরিবারটির চিকিৎসা সহায়তায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।