খুঁজুন
সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

যে আমলগুলো রিজিকে বরকতের দরজা খুলে দেয়

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:১০ অপরাহ্ণ
যে আমলগুলো রিজিকে বরকতের দরজা খুলে দেয়

পার্থিব জীবন ক্ষণস্থায়ী হলেও তাতে স্বস্তি ও স্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। কেননা জীবন ও জীবিকার পেরেশানি মানুষকে অনেক সময় ইবাদতে মনোযোগী হতে দেয় না, এমনকি মানুষকে আল্লাহবিমুখ করে। এ জন্য কোরআন ও হাদিসে মানুষকে জীবিকা বৃদ্ধির দোয়া ও আমল শেখানো হয়েছে।

জীবিকায় উন্নতি লাভের আমল

কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত জীবিকা বৃদ্ধির ১০টি আমল বর্ণনা করা হলো।

 

১. আল্লাহভীতি : জীবিকা বৃদ্ধি ও আয়-উপার্জনে বরকত লাভের একটি মাধ্যম হলো তাকওয়া তথা আল্লাহভীতি। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে আল্লাহ তার পথ করে দেবেন। আর তাকে তার ধারণাতীত উৎস থেকে দান করবেন জীবিকা। যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর নির্ভর করে তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।
’ (সুরা : তালাক, আয়াত : ২-৩)
অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘যদি সেসব জনপদের অধিবাসীরা ঈমান আনত ও তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে আমি তাদের জন্য আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর কল্যাণ উন্মুক্ত করতাম।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৯৬)

২. তাওবা করা : মানুষ স্বভাবগতভাবে দুর্বল। তাই জীবনচলার পথে সে ভুলত্রুটি করতে থাকে। ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় তার পাপ হয়ে যায়।

আর পাপ জীবন-জীবিকাকে সংকীর্ণ করে এবং মানুষকে আল্লাহর বরকত থেকে বঞ্চিত করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই বান্দা তার কৃত পাপের জন্য জীবিকা থেকে বঞ্চিত হয়।’ (মুসতাদরাকে হাকিম, হাদিস : ৬১৬৭)

আর যখন বান্দা তাওবা করে তখন জীবনের সংকট আল্লাহ দূর করে দেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, অতঃপর তাঁর দিকে ফিরে আসো। তিনি তোমাদের জন্য প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন।

তিনি তোমাদের আরো শক্তি দিয়ে তোমাদের শক্তি বৃদ্ধি করবেন। আর তোমরা অপরাধী হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না।’ (সুরা : হুদ, আয়াত : ৫২)

আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) লেখেন, ‘তাওবার মাধ্যমে আগের গুনাহ মাফ হয়। যে বান্দা তাওবার গুণে গুণান্বিত হবে আল্লাহ জীবিকাকে সহজ করেন, তার বিষয়গুলো সহজ করেন এবং তার স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষা করেন।’ (তাফসিরে ইবনে কাসির)

৩. আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা : আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করলে আল্লাহ জীবিকায় বরকত দান করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে তাঁর জীবিকা বৃদ্ধি হোক অথবা তাঁর মৃত্যুর পরে সুনাম থাকুক, তবে সে যেন আত্মীয়ের সঙ্গে সদাচরণ করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২০৬৭)

হাদিসবিশারদরা বলেন, আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষার মধ্যে আছে তাদের প্রতি দয়া করা, তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা, অন্তরে ভালোবাসা পোষণ করা, তাদের খোঁজখবর রাখা, প্রয়োজনে সাহায্য করা, দুর্দিনে পাশে থাকা, সুখ-দুঃখের ভাগিদার হওয়া এবং অনুপস্থিতিতে দোয়া করা ইত্যাদি।

৪. আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করা : প্রশস্ত জীবিকা লাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য অর্থ ব্যয় করা। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘বলো, আমার প্রতিপালক তো তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা জীবিকা বর্ধিত করেন এবং যার প্রতি ইচ্ছা সীমিত করেন। তোমরা যা কিছু ব্যয় করবে তিনি তার প্রতিদান দেবেন। তিনিই শ্রেষ্ঠ রিজিকদাতা।’ (সুরা : সাবা, আয়াত : ৩৯)

হাদিসে কুদসিতে এসেছে, ‘হে আদম সন্তান! তুমি ব্যয় করো, আমি তোমার জন্য ব্যয় করব (তোমাকে দান করব)।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৩৫২)

৫. দুর্বলের প্রতি দয়া করা : দুর্বল ও অসহায় মানুষকে সাহায্য করলে আল্লাহ জীবিকায় বরকত দান করেন। আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘আমার জন্য দুর্বলদের অন্বেষণ করো। কেননা তোমরা রিজিক পাচ্ছ এবং সাহায্য পাচ্ছ তোমাদের দুর্বলদের অসিলায়।’ ে(সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ৩১৭৯)

৬. মনোযোগসহ ইবাদত করা : মুমিন যখন মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে আল্লাহর ইবাদত করে, তখন আল্লাহ তাকে জীবিকার পেরেশানি থেকে মুক্ত করে দেন। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ বলেন, ‘হে আদম সন্তান! তুমি আমার ইবাদতের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করো, আমি তোমার অন্তরকে ঐশ্বর্যে পূর্ণ করে দেব এবং তোমার অভাব দূর করে দেব। তুমি তা না করলে আমি তোমার দুই হাত কর্মব্যস্ততায় পরিপূর্ণ করে দেব এবং তোমার অভাব-অনটন রহিত করব না।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২৪৬৬)

৭. আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় : আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করলে তাঁর নিয়ামত ও অনুগ্রহ বৃদ্ধি পায়। উমর ইবনুল আবদুল আজিজ (রহ.) বলতেন, ‘আল্লাহর কৃতজ্ঞতার মাধ্যমে তাঁর নিয়ামতগুলো আটকে রাখো। কৃতজ্ঞতা নিয়ামত বহাল থাকা ও বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ।’ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘স্মরণ করো, তোমাদের প্রতিপালক ঘোষণা করেন, তোমরা কৃতজ্ঞ হলে তোমাদের অবশ্যই অধিক দেব আর অকৃতজ্ঞ হলে অবশ্যই আমার শাস্তি হবে কঠোর।’ (সুরা : ইবরাহিম, আয়াত : ৭)

৮. বিয়ে করা : বিয়ে মানুষের জীবনের অস্থিরতা দূর করে এবং জীবিকায় প্রশস্তি আনে। আল্লাহ তাআলা বিয়ে করলে জীবিকা বৃদ্ধির অঙ্গীকার করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে যারা আয়্যিম (সঙ্গীহীন পুরুষ বা নারী) তাদের বিয়ে সম্পাদন করো এবং তোমাদের দাস-দাসীদের মধ্যে যারা সৎ তাদেরও। তারা অভাবগ্রস্ত হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৩২)

. হজ ও ওমরাহ করা : হজ ও ওমরাহ জীবিকা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা ধারাবাহিকতার সঙ্গে হজ ও ওমরাহ পরস্পর পালন করবে (হজের পর ওমরাহ বা ওমরাহর পর হজ)। কেননা হজ-ওমরাহ অভাব-অনটন ও পাপকে দূর করে দেয়, যেভাবে হাপর লোহার মরিচা দূর করে থাকে।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ২৬৩০)

১০. জীবিকার অনুসন্ধান : জীবিকার জন্য শুধু আল্লাহর ওপর ভরসা করা এবং দোয়া করাই যথেষ্ট নয়, বরং এ জন্য যথাযথভাবে পরিশ্রম করতে হবে। সম্ভাব্য উপায়গুলোতে চেষ্টা-তদবির করা। কোরআন ও হাদিসে অসংখ্যবার বান্দাকে জীবিকার অনুসন্ধান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘নামাজ শেষ হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে, আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করবে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করবে, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সুরা : জুমা, আয়াত : ১০)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘নিজ হাতে উপার্জিত খাদ্যের চেয়ে উত্তম খাদ্য কখনো কেউ খায় না। আল্লাহর নবী দাউদ (আ.) নিজ হাতে উপার্জন করে খেতেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২০৭২)

আল্লাহ তাআলা সবাইকে উত্তম জীবিকা দান করুন। আমিন।

সৌজন্যে: কালের কণ্ঠ

 

মধ্যবিত্তদের জন্য আবাসন ঋণে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংকের যে সুখবর?

অর্থনীতি ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৮:১২ পূর্বাহ্ণ
মধ্যবিত্তদের জন্য আবাসন ঋণে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংকের যে সুখবর?

মধ্যবিত্তদের জন্য বড় সুখবর দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নিজের একটি ফ্ল্যাট কেনার সুযোগ দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। আবাসন খাতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন সহজ করতে বন্ডভিত্তিক অর্থায়ন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

একই সঙ্গে সিঙ্গেল ডিজিট সুদে (১০ শতাংশের নিচে) দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ চালু এবং বিশেষ হাউজিং তহবিল গঠনের দাবি জানিয়েছেন আবাসন খাতের উদ্যোক্তারা।

রোববার (৭ জুন) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-এর একটি প্রতিনিধি দল।

রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজালের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আবাসন খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, বিদ্যমান সংকট, বিনিয়োগের পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে রিহ্যাব নেতারা বলেন, প্রথমবারের মতো ফ্ল্যাট ক্রেতাদের জন্য স্বল্পসুদে ও সহজ শর্তে গৃহঋণের ব্যবস্থা করা গেলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের আবাসনের স্বপ্ন পূরণ হবে। একইসঙ্গে দেশের অন্যতম বড় কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী এই খাত নতুন গতি পাবে।

রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল বলেন, স্বল্পসুদের দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ চালু করা গেলে আবাসন খাত যেমন উপকৃত হবে, তেমনি সাধারণ মানুষের জন্য নিজস্ব বাসস্থান অর্জনও সহজ হবে।

অন্যদিকে রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রাজধানী ঢাকার ওপর চাপ কমাতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলা জরুরি। এ জন্য স্বল্পসুদের হাউজিং ঋণের সুযোগ সারা দেশে সম্প্রসারণ করতে হবে।

জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং শিল্পায়নে আবাসন খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, হাউজিং খাতের ঋণ ব্যাংকিং খাতের অন্যতম নিরাপদ ঋণ হওয়ায় অন্যান্য অনেক খাতের তুলনায় এর সুদের হার তুলনামূলক কম থাকে। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে আবাসন ঋণের সুদের হার অন্যান্য ঋণের চেয়ে প্রায় ২ শতাংশ পর্যন্ত কম রয়েছে বলেও তিনি জানান।

গভর্নর জানান, দীর্ঘমেয়াদি আবাসন ঋণের অর্থায়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক বন্ডভিত্তিক অর্থায়ন ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আবাসন খাতে দীর্ঘমেয়াদি তহবিলের জোগান বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের জন্য গৃহঋণ গ্রহণ আরও সহজ হবে।

বৈঠকে রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট-১ মোহাম্মদ আক্তার বিশ্বাস, ভাইস প্রেসিডেন্ট-২ আবু খালিদ মো. বরকত উল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট-৩ এ.এফ.এম. ওবায়দুল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফিন্যান্স) ড. মো. হারুন অর রশিদ এবং পরিচালক তাসনোভা মাহবুব সালাম উপস্থিত ছিলেন।

 

হোয়াটসঅ্যাপের ব্যাকআপ ও রিস্টোর সমস্যার সমাধানে কী করবেন?

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৮:০৫ পূর্বাহ্ণ
হোয়াটসঅ্যাপের ব্যাকআপ ও রিস্টোর সমস্যার সমাধানে কী করবেন?

ব্যক্তিগত ও পেশাগত যোগাযোগে বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপ অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম। প্রতিদিন এ প্ল্যাটফর্মে বিপুল পরিমাণ বার্তা, ছবি, ভিডিও ও গুরুত্বপূর্ণ নথি আদান-প্রদান করা হয়। তবে ফোন হারিয়ে যাওয়া, চুরি হওয়া বা নতুন ডিভাইসে পরিবর্তনের সময় এসব তথ্য হারানোর আশঙ্কা থাকে। এ কারণে অনেক ব্যবহারকারী নিয়মিত চ্যাট ব্যাকআপ করে তথ্য নিরাপদে সংরক্ষণ করেন।

তবে কখনও কখনও প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে হোয়াটসঅ্যাপের ব্যাকআপ বা রিস্টোর প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কয়েকটি সহজ পদক্ষেপ অনুসরণ করে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

প্রথমেই ফোনটি রিস্টার্ট করে দেখতে পারেন, কারণ অনেক সাময়িক ত্রুটি এভাবে দূর হয়ে যায়। পাশাপাশি ইন্টারনেট সংযোগ ঠিক আছে কি না তা নিশ্চিত করতে হবে। দুর্বল ওয়াই-ফাইয়ের পরিবর্তে অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য নেটওয়ার্ক বা মোবাইল ডেটা ব্যবহার করা যেতে পারে।

এছাড়া ফোনে পর্যাপ্ত স্টোরেজ ও পর্যাপ্ত চার্জ থাকা জরুরি। প্রয়োজনে অপ্রয়োজনীয় ফাইল মুছে জায়গা খালি করতে হবে এবং ফোন চার্জে রাখতে হবে। সমস্যা অব্যাহত থাকলে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাপটি ‘ফোর্স স্টপ’ করে পুনরায় চালু করা যেতে পারে। ডুয়াল সিম ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপে ব্যবহৃত নম্বরের সিমটি সক্রিয় আছে কি না সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন।

অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য গুগল প্লে সার্ভিসেস আপডেট রাখা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ হোয়াটসঅ্যাপের ব্যাকআপ ব্যবস্থা গুগল ড্রাইভের সঙ্গে সংযুক্ত। পুরোনো সংস্করণের কারণে ব্যাকআপে সমস্যা দেখা দিলে সেটিংস থেকে গুগল প্লে সার্ভিসেস সর্বশেষ সংস্করণে হালনাগাদ করতে হবে। প্রয়োজন হলে হোয়াটসঅ্যাপ আনইনস্টল করে পুনরায় ইনস্টল করার পরামর্শও দেওয়া হয়।

ব্যাকআপের সময় কোনো ত্রুটি বার্তা দেখা দিলে অ্যাপের প্রয়োজনীয় পারমিশনগুলো সক্রিয় আছে কি না তা পরীক্ষা করতে হবে। বিশেষ করে স্টোরেজ বা ছবি ও ভিডিও ব্যবহারের অনুমতি চালু থাকা জরুরি। পাশাপাশি গুগল অ্যাকাউন্ট সিঙ্ক করে নেওয়া যেতে পারে। তাতেও কাজ না হলে গুগল অ্যাকাউন্টটি ফোন থেকে সরিয়ে আবার যুক্ত করে হোয়াটসঅ্যাপে পুনরায় সেটআপ করতে হবে।

সবশেষে, কোনো কারণে ব্যাকআপ ফাইল ক্ষতিগ্রস্ত বা ‘করাপ্টেড’ হয়ে গেলে সেটি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নাও হতে পারে। সাধারণত ব্যাকআপ চলাকালে ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হওয়া, অ্যাপ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া বা ক্ষতিকর ফাইলের কারণে এমন সমস্যা দেখা দেয়। তাই ব্যাকআপ নেওয়ার সময় সবসময় স্থিতিশীল ও দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

সূত্র : যুগান্তর

 

আম কাটার আগে কেন পানিতে ভিজিয়ে রাখা জরুরি?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৭:৩৭ পূর্বাহ্ণ
আম কাটার আগে কেন পানিতে ভিজিয়ে রাখা জরুরি?

বাজারে হিমসাগরসহ বিভিন্ন প্রজাতির আম পাওয়া যাচ্ছে। আমের এই মৌসুমে সবার বাসায়ই আম থাকে। অনেকে তিন বেলায় প্রিয় ফলটি খেতে ভালোবাসেন। পাকা আম কাটার আগে অনেকেই পানিতে ভিজিয়ে রাখেন না। এটি ভুল। আম কাটার আগে কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখার উপকারিতার কথা বলা হয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘এই সময়’-এর এক প্রতিবেদনে। 

পাকা আম কাটার আগে পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন কেন?

আম পরিষ্কারের জন্য পানিতে ভিজিয়ে রাখা জরুরি। শুধু ধুয়ে নিলে খোসায় থাকা জীবাণু পরিষ্কার হয় না। গাছের ফলন বৃদ্ধির জন্য এবং পোকামাকড় তাড়ানোর জন্য রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়। সেগুলো আমের খোসাতে থেকে যায়। আম পানিতে  ভিজিয়ে রাখলে সেই সব কীটনাশক, রাসায়নিক বেরিয়ে যায়।

কীটনাশক সাফ হলেও আমে থাকা অ্যান্টি-নিউট্রিয়েন্টও বিপজ্জনক হতে পারে। আমের খোসায় ফাইটিক অ্যাসিড নামের অ্যান্টি-নিউট্রিয়েন্ট রয়েছে। এই ধরনের উপাদান আমের পুষ্টি শোষণে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই আম খেয়েও এর কোনও পুষ্টিগুণ পাবেন না। আম পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ফাইটিক অ্যাসিডের পরিমাণ কমে যায়। এতে আমের ভিটামিন এবং খনিজ শরীর সহজে শোষণ করতে পারে।

ফাইটিক অ্যাসিডের পাশাপাশি আমের খোসায় এমন অনেক উপাদান থাকে যেগুলি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাছাড়া আম খেলে শরীরের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পায় এবং পেটের গণ্ডগোল দেখা দেয়। আম খাওয়ার আগে কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখলে এই সমস্যা এড়ানো যায়।

আমের বোঁটা থেকে আঠালো কষ বের হয়। সেগুলো শুধু পানি দিয়ে ধুলে পরিষ্কার হয় না। আবার ওই কষ ত্বকের সংস্পর্শে এলে, ঠোঁটে লাগলে চুলকানি, র‍্যাশ হয়ে থাকে। আবার কষ খেয়ে ফেললে গলা চুলকায়। আম পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ওই কষ সম্পূর্ণরূপে পরিষ্কার হয়ে যায়।

কতক্ষণ আম পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন?

খাওয়ার আগে ১-২ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখা উচিত। হাতে কম সময় থাকলে অন্তত ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা পানিতে নয়, ঘরের তাপমাত্রায় থাকা পানিতে ভেজানো উচিত।

সূত্র: এই সময়