খুঁজুন
বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩ আষাঢ়, ১৪৩৩

শুরু হচ্ছে জাতীয় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা, অংশ নিতে পারবেন যারা?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ৭:০২ পূর্বাহ্ণ
শুরু হচ্ছে জাতীয় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা, অংশ নিতে পারবেন যারা?

দেশব্যাপী জাতীয় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে যাচ্ছে ইসলামিক ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ (ইফা)। কোমলমতি শিশু-কিশোরদের পবিত্র কোরআন মুখস্থকরণে উৎসাহিত করা এবং ইসলামি সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চায় অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।

মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) ইফার জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতিযোগিতাটি ধাপে ধাপে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় অতিক্রম করে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্বে গড়াবে। উপজেলা পর্যায়ে বিজয়ীরা জেলা পর্যায়ে, জেলা পর্যায়ে বিজয়ীরা বিভাগীয় পর্যায়ে এবং বিভাগীয় পর্যায়ে বিজয়ীরা জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।

অংশ নিতে পারবেন যারা

ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, তিনটি গ্রুপে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। ‘ক’ গ্রুপে তাজবিদসহ পূর্ণ ৩০ পারা হিফজ (অনূর্ধ্ব ১৮ বছর), ‘খ’ গ্রুপে তাজবিদসহ ২০ পারা হিফজ (অনূর্ধ্ব ১৫ বছর) এবং ‘গ’ গ্রুপে তাজবিদসহ ১০ পারা হিফজ (অনূর্ধ্ব ১২ বছর) অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

পুরস্কারে যা থাকছে

জাতীয় পর্যায়ে প্রতিটি গ্রুপে প্রথম পুরস্কার ২ লাখ টাকা, দ্বিতীয় পুরস্কার ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং তৃতীয় পুরস্কার ১ লাখ টাকা প্রদান করা হবে। এছাড়া বিজয়ীদের ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেওয়া হবে।

আবেদন যেভাবে

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে আগ্রহীদের ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, জন্মনিবন্ধন সনদ বা জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিসহ সাদা কাগজে লিখিত আবেদন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট জেলা বা উপজেলা কার্যালয়ে জমা দিয়ে নাম নিবন্ধন করতে হবে।

নাম নিবন্ধনের শেষ তারিখ ৩১ মার্চ। আগামী ০১ এপ্রিল থেকে উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শুরু হবে। একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিটি গ্রুপে সর্বোচ্চ পাঁচজন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করতে পারবে।

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য বিক্রির দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য বিক্রির দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চর হাজীগঞ্জ বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন অনিয়ম ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য বিক্রির দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নের চর হাজীগঞ্জ বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুরাইয়া মমতাজ।

অভিযানকালে বাজারের বিভিন্ন মুদি ও খাদ্যপণ্যের দোকান পরিদর্শন করা হয়। এ সময় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫১ ধারায় ব্যবসায়ী মজিবুর রহমানকে ৫ হাজার টাকা এবং ব্যবসায়ী মিহির কুমার রায়কে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া দোকানগুলোতে থাকা মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযান চলাকালে চরভদ্রাসন থানা পুলিশের একটি দল আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজ বলেন, “জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য বিক্রির বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ব্যবসায়ীদের আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি ক্রেতাদেরও পণ্য কেনার আগে মেয়াদ যাচাই করার বিষয়ে সচেতন হতে হবে।”

ফরিদপুরের সেই ভাইরাল শিল্পী লাইলী বেগমকে ৩ লাখ টাকার অনুদান দিল সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৫:৫৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের সেই ভাইরাল শিল্পী লাইলী বেগমকে ৩ লাখ টাকার অনুদান দিল সরকার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লোকগান গেয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়া ফরিদপুরের শিল্পী লাইলী বেগমের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। তার শিল্পীসত্তার স্বীকৃতি হিসেবে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ৩ লাখ টাকার বিশেষ অনুদান প্রদান করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) সকালে রাজধানীর সচিবালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নিতাই রায় চৌধুরী লাইলী বেগমের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন। এ সময় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, “লাইলী বেগম কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই নিজের প্রতিভা ও সাধনার মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। দেশের মাটি ও মানুষের সংস্কৃতিকে ধারণ করে তিনি গান গেয়ে চলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার গান শুনে আমরা মুগ্ধ হয়েছি। এমন প্রতিভাবান শিল্পীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে উৎসাহিত করা প্রয়োজন বলেই আমরা এই সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, লাইলী বেগমকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মূলধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে ফরিদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রমে তাকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে তিনি আরও বড় পরিসরে তার প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাবেন।”

জানা গেছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি লোকগান ও বাউলগান পরিবেশনের ভিডিওর মাধ্যমে আলোচনায় আসেন লাইলী বেগম। তার সুমধুর কণ্ঠ, সহজ-সরল পরিবেশনা এবং গ্রামীণ জীবনের আবহ ফুটিয়ে তোলা গান হাজারো দর্শকের প্রশংসা কুড়ায়। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।

অনুদান গ্রহণের পর আবেগাপ্লুত লাইলী বেগম বলেন, “আমার মতো গ্রামের একজন শিল্পীকে সচিবালয়ে ডেকে এনে সম্মান জানানো হবে, এটা কখনও ভাবিনি। সরকারের এই সহযোগিতা আমাকে আরও ভালোভাবে গান গাইতে এবং সংস্কৃতির জন্য কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে। এজন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।”

স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিরা মনে করছেন, লাইলী বেগমের মতো মাটির কাছাকাছি থাকা শিল্পীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেশের লোকসংগীত ও গ্রামীণ সংস্কৃতির বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তার এই অর্জন নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

ফরিদপুর পৌরসভায় ৪০ বছরের পুরোনো পাইপলাইনে পানি সংকট, দুর্ভোগে মানুষ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুর পৌরসভায় ৪০ বছরের পুরোনো পাইপলাইনে পানি সংকট, দুর্ভোগে মানুষ

ফরিদপুর পৌরসভার পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও পুরোনো পাইপলাইনের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শহরবাসী। শহরের বিভিন্ন মহল্লায় নিয়মিত পানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। কোথাও পানি খুব কম আসছে, আবার কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা একেবারেই পানি পাওয়া যাচ্ছে না। এর সঙ্গে সম্প্রতি বিদ্যুতের তার চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় পানি সরবরাহ পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠেছে।

জানা গেছে, ১৯৮০-এর দশকে ফরিদপুর পৌরসভার উদ্যোগে শহরজুড়ে পানি সরবরাহের জন্য লোহার পাইপলাইন স্থাপন করা হয়। প্রায় চার দশক পেরিয়ে গেলেও সেই পাইপলাইন এখনো পরিবর্তন করা হয়নি। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে পাইপের ভেতরে জং ও আয়রনের স্তর জমে পাইপগুলো সংকীর্ণ হয়ে গেছে। ফলে পানি প্রবাহ কমে গিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

শহরের গুহলক্ষীপুর এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, “প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় পানির জন্য অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় ট্যাংকে পর্যাপ্ত পানি ওঠে না। বাধ্য হয়ে মোটর চালিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা করতে হচ্ছে।”

ঝিলটুলী এলাকার গৃহিণী সেলিনা বেগম বলেন, “কয়েকদিন ধরে পানি খুব কম আসছে। রান্না, কাপড় ধোয়া ও অন্যান্য গৃহস্থালি কাজে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে বেশি দুর্ভোগে আছি।”

টেপাখোলা এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, “পানি না থাকলে দোকান ও বাসার দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। পৌরসভার উচিত দ্রুত সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা।”

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে শহরের বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক তার ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম চুরির ঘটনা বেড়েছে। এর ফলে পানি উত্তোলন কেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হলে গভীর নলকূপ ও পাম্প চালানো সম্ভব না হওয়ায় পানি সরবরাহও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া পানি সরবাহের জন্য ১৯৮০ দশকের পাইপ এখন জং ধরে ও আয়রণ পড়ে পানিপথ সংকীর্ণ হয়ে গেছে, এতে অনেক এলাকায় পানি দিতে সমস্যা হচ্ছে ও কম পানি যাচ্ছে। তবে, বরাদ্দ না থাকায় পাইপগুলো পরিবর্তন করা সম্ভব হচ্ছেনা।

ফরিদপুুর সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য হাসানউজ্জামান বলেন, ‘নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হলে দ্রুত পুরোনো পাইপলাইন পরিবর্তন, পানি উত্তোলন কেন্দ্রের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে বৈদ্যুতিক তার চুরি রোধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপও জরুরি।’

তিনি বলেন, ‘অনেক নাগরিক আছেন নিয়মিত পানির বিল দিচ্ছেন কিন্তু একেবারেই তারা পানি পাচ্ছেন না এমন অভিযোগও রয়েছে। পানির সরবরাহের ব্যাপারে জানতে চাইলেও পৌরসভার পক্ষ থেকে তাদের সদুত্তর দিচ্ছেনা। এটা দুঃখজনক। আমরা বলবো, অতিদ্রুত এ সমস্যার সমাধানে পৌরসভাকে উদ্যোগী হতে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পানি সরবরাহ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন হয়নি। অনেক এলাকায় নতুন সংযোগ দেওয়া হলেও পুরোনো অবকাঠামোর ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। ফলে গ্রীষ্মকাল কিংবা বিদ্যুৎ সমস্যার সময় সংকট আরও প্রকট হয়ে ওঠে।’

ফরিদপুর নাগরিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কান্তি বালা বলেন, ‘ফরিদপুরবাসী দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার সরবরাহ করা পানীয় জলের সমস্যার মধ্যে রয়েছে। পানির লাইনগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা না করায় ময়লা আবর্জনা পানির সাথে প্রভাবিত হচ্ছে। এ সমস্যার সমাধানের জন্য দ্রুত পৌরসভাকে উদ্যোগ নিতে হবে। নাগরিক সুবিধার নিশ্চিত করতে এবং একটি এ গ্রেডের পৌরসভার আধুনিক সুবিধা ক্ষেত্রে এর কোন বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন, ‘পরিতাপের বিষয় পৌর কর্তৃপক্ষের মধ্যে এ ব্যাপারে এক ধরনের উদাসীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আমরা আশা করি পৌরসভা এ ব্যাপারে উদ্যোগী হয়ে নিরবিচ্ছিন্ন ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করবে এবং পৌরবাসীকে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা থেকে মুক্তি দেবে।’

এব্যাপারে ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. ইলিয়াছুর রহমানের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় ও সরকারি সফরে চীনে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

তবে ফরিদপুর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী বলেন, “১৯৮০-এর দশকে স্থাপিত লোহার পাইপগুলো দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে জং ধরে ভেতরে সংকীর্ণ হয়ে গেছে। এতে অনেক এলাকায় পানি সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে। পুরোনো পাইপ পরিবর্তন করা জরুরি হলেও বড় বাজেটের অভাবে এখনো তা সম্ভব হয়নি। তবে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে ধাপে ধাপে নতুন পাইপলাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “সম্প্রতি শহরে বৈদ্যুতিক তার ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম চুরির ঘটনা বেড়েছে। এর প্রভাব পানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও পড়ছে। এছাড়া কোনো এলাকায় পাইপলাইনের মেরামত কাজ চললে সাময়িকভাবে পানি সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়। তারপরও আমাদের কর্মীরা আন্তরিকভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে যাচ্ছে।”

শহরে বৈদ্যুতিক তার ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম চুরির ঘটনা বেড়ে গেছে বলে পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্যের ব্যাপারে ফরিদপুরের কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘চুরি রোধে রাতে ও দিনে আমাদের পুলিশের মোবাইল টিম ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে। এছাড়া চুরি বন্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।’

দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে ফরিদপুর শহরের পানি সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।