খুঁজুন
বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩ আষাঢ়, ১৪৩৩

অফিস শেষে কাজ করতে বলা হলে কীভাবে না বলবেন? সহজ উপায় জানুন

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৭:১১ পূর্বাহ্ণ
অফিস শেষে কাজ করতে বলা হলে কীভাবে না বলবেন? সহজ উপায় জানুন

কর্মক্ষেত্রে বসের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকাটা অবশ্যই ইতিবাচক। কিন্তু ছোট অফিস বা প্রতিযোগিতামূলক কাজের পরিবেশে অনেক সময় অফিস সময়ের পরেও অতিরিক্ত কাজ করার অনুরোধ আসে। পদোন্নতি বা প্রিয়পাত্র হওয়ার দৌড়ে আমরা অনেকেই তখন ‘না’ বলতে দ্বিধা বোধ করি। কিন্তু নিজের ব্যক্তিগত জীবন এবং মানসিক স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে সঠিক উপায়ে সীমানা নির্ধারণ করা জরুরি।

কীভাবে পেশাদারিত্ব বজায় রেখে অতিরিক্ত সময়ের কাজকে বিনয়ের সাথে ফিরিয়ে দেবেন, তার কিছু কৌশল এখানে আলোচনা করা হলো:

১. ‘না’ বলা অপরাধ নয়

মনে রাখবেন, হুট করে অফিসের বাইরে কাজের অনুরোধ পেলে তা ফিরিয়ে দেওয়া মানে আপনি একজন অপেশাদার কর্মী নন। কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং মানসিক অবসাদ বা ‘বার্নআউট’ রোধ করতে সীমানা নির্ধারণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন। আপনি যদি আপনার নির্ধারিত কাজের সময়ের বাইরে দায়িত্ব পালন না করেন, তবে তা আপনার কর্মসংস্থানের অধিকারের মধ্যেই পড়ে।

২. অজুহাত নয়, সরাসরি বলুন

অফিসের বাইরে কাজের অনুরোধ নাকচ করার সময় দীর্ঘ বা অবান্তর অজুহাত দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তুচ্ছ কারণ দেখালে তা আপনার বক্তব্যকে দুর্বল করে দেয়। তার বদলে স্পষ্টভাবে বলুন যে আপনার আগে থেকে ঠিক করা কিছু ব্যক্তিগত ব্যস্ততা রয়েছে যা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

৩. আত্মবিশ্বাসী ও দৃঢ় থাকুন

উত্তর দেওয়ার সময় দ্বিধা করবেন না। আপনি যদি ইতস্তত করেন, তবে বস মনে করতে পারেন যে আপনাকে বুঝিয়ে রাজি করানো সম্ভব। তাই নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকুন এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে কথা বলুন। যদি বস বারবার অনুরোধ করতে থাকেন, তবুও নিজের আগের অবস্থানে অনড় থাকা জরুরি, অন্যথায় ভবিষ্যতে তিনি আপনাকে বারবার এই অনুরোধ করার সুযোগ পাবেন।

৪. বিকল্প সমাধান দিন

আপনি সরাসরি কাজ করতে না পারলেও সমস্যার সমাধান দিতে পারেন। যেমন: ‘আজ আমি অতিরিক্ত সময় দিতে পারছি না, তবে আগামীকাল সকালেই এই কাজটি সবার আগে শেষ করে দেব’ অথবা ‘এই প্রজেক্ট সম্পর্কে অন্য কোনো সহকর্মী ভালো জানেন কি না তা দেখতে পারেন’। এতে প্রমাণিত হয় যে আপনি অফিসের কাজের ব্যাপারে আন্তরিক, কিন্তু আপনার নিজস্ব সময়েরও গুরুত্ব আছে।

৫. দ্রুত উত্তর দিন

বস যখন আপনাকে ফোন বা মেসেজ করবেন, যত দ্রুত সম্ভব আপনার অপারগতা জানিয়ে দিন। আপনি সময় নিলে তিনি হয়তো অন্য কাউকে খুঁজে নেওয়ার সুযোগ হারাবেন। যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে তিনি যদি আপনাকে ফোন করেন তবে ফোন ধরুন, অথবা সম্ভব না হলে দ্রুত মেসেজ বা ইমেইল পাঠিয়ে দিন।

৬. নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হোন

যদি বাড়তি সময় কাজ করা আপনার নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়, তবে আপনার কর্মসংস্থান চুক্তি পুনরায় যাচাই করুন। আপনার চুক্তিতে বিশ্রামের সময় বা নোটিশ দেওয়ার বিষয়ে কী উল্লেখ আছে তা জেনে রাখা ভালো। নিয়মিতভাবে আপনার ব্যক্তিগত সময় নষ্ট করা হলে বিষয়টি নিয়ে বসের সাথে সরাসরি আলোচনা করা প্রয়োজন।

শেষ কথা

অফিসের প্রয়োজনে মাঝে মাঝে অতিরিক্ত কাজ করা দোষের কিছু নয়। তবে তা যেন আপনার ব্যক্তিগত জীবনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে। আত্মবিশ্বাসের সাথে একটি বিনয়ী ‘না’ আপনার কর্মজীবনকে আরও স্বাস্থ্যকর ও সুন্দর করে তুলতে পারে।

ক্যারিয়ার অ্যাডিক্ট অবলম্বনে

ফরিদপুরে ৩ দিন ধরে শিশু নিখোঁজ, ইমো বার্তায় তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ৩ দিন ধরে শিশু নিখোঁজ, ইমো বার্তায় তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে সামিউল মল্লিক (৯) নামের এক শিশু। বাড়ি থেকে বাইসাইকেল নিয়ে বের হওয়ার পর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এদিকে নিখোঁজের একদিন পর স্বজনদের ইমো নাম্বরে ম্যাসেজ দিয়ে ৩ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিখোঁজ সামিউল মল্লিক সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মিরাজুল মল্লিকের ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৫ জুন) সকাল ৭টার দিকে সামিউল একটি বাইসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে সে আর বাড়িতে ফেরেনি। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজনদের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান মেলেনি।

পরিবারের দাবি, মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ১০টার দিকে সামিউলের চাচাতো চাচা রবিন মল্লিকের ইমো নম্বরে একটি বার্তা আসে। সেখানে সামিউলকে ফেরত পেতে ৩ লাখ টাকা দাবি করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দেয়।

নিখোঁজ শিশুর স্বজনরা জানান, সামিউলের সন্ধান পেতে তারা সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতাও কামনা করেছেন তারা।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত সামিউলকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পাওয়ার আশায় দিন গুনছেন।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ্ বলেন, শিশু নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তাকে উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য বিক্রির দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য বিক্রির দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চর হাজীগঞ্জ বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন অনিয়ম ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য বিক্রির দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নের চর হাজীগঞ্জ বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুরাইয়া মমতাজ।

অভিযানকালে বাজারের বিভিন্ন মুদি ও খাদ্যপণ্যের দোকান পরিদর্শন করা হয়। এ সময় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫১ ধারায় ব্যবসায়ী মজিবুর রহমানকে ৫ হাজার টাকা এবং ব্যবসায়ী মিহির কুমার রায়কে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া দোকানগুলোতে থাকা মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযান চলাকালে চরভদ্রাসন থানা পুলিশের একটি দল আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজ বলেন, “জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য বিক্রির বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ব্যবসায়ীদের আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি ক্রেতাদেরও পণ্য কেনার আগে মেয়াদ যাচাই করার বিষয়ে সচেতন হতে হবে।”

ফরিদপুরের সেই ভাইরাল শিল্পী লাইলী বেগমকে ৩ লাখ টাকার অনুদান দিল সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৫:৫৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের সেই ভাইরাল শিল্পী লাইলী বেগমকে ৩ লাখ টাকার অনুদান দিল সরকার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লোকগান গেয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়া ফরিদপুরের শিল্পী লাইলী বেগমের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। তার শিল্পীসত্তার স্বীকৃতি হিসেবে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ৩ লাখ টাকার বিশেষ অনুদান প্রদান করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) সকালে রাজধানীর সচিবালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নিতাই রায় চৌধুরী লাইলী বেগমের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন। এ সময় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, “লাইলী বেগম কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই নিজের প্রতিভা ও সাধনার মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। দেশের মাটি ও মানুষের সংস্কৃতিকে ধারণ করে তিনি গান গেয়ে চলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার গান শুনে আমরা মুগ্ধ হয়েছি। এমন প্রতিভাবান শিল্পীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে উৎসাহিত করা প্রয়োজন বলেই আমরা এই সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, লাইলী বেগমকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মূলধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে ফরিদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রমে তাকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে তিনি আরও বড় পরিসরে তার প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাবেন।”

জানা গেছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি লোকগান ও বাউলগান পরিবেশনের ভিডিওর মাধ্যমে আলোচনায় আসেন লাইলী বেগম। তার সুমধুর কণ্ঠ, সহজ-সরল পরিবেশনা এবং গ্রামীণ জীবনের আবহ ফুটিয়ে তোলা গান হাজারো দর্শকের প্রশংসা কুড়ায়। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।

অনুদান গ্রহণের পর আবেগাপ্লুত লাইলী বেগম বলেন, “আমার মতো গ্রামের একজন শিল্পীকে সচিবালয়ে ডেকে এনে সম্মান জানানো হবে, এটা কখনও ভাবিনি। সরকারের এই সহযোগিতা আমাকে আরও ভালোভাবে গান গাইতে এবং সংস্কৃতির জন্য কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে। এজন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।”

স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিরা মনে করছেন, লাইলী বেগমের মতো মাটির কাছাকাছি থাকা শিল্পীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেশের লোকসংগীত ও গ্রামীণ সংস্কৃতির বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তার এই অর্জন নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।