খুঁজুন
সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন, ১৪৩২

আরাম না অস্বস্তি—কেন শিশুরা ঘুমে লেপ ফেলে দেয়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:৪৪ এএম
আরাম না অস্বস্তি—কেন শিশুরা ঘুমে লেপ ফেলে দেয়

শীতে লেপ-কম্বল মুড়ি দিয়ে আরামসে ঘুমাতে কে না ভালোবাসে। তবে অনেক সময়ই দেখা যায়, তীব্র শীতেও বাড়ির ছোট্ট সদস্যটি তার গায়ের লেপ বা কম্বল ফেলে দিচ্ছে। আপনি হয়তো বিষয়টা চোখে পড়ামাত্রই তা আবার টেনে দেন তার গায়ে। ভাবেন, তার বুঝি ঠান্ডা লাগছে। হয়তো সেই দুশ্চিন্তায় আপনি নিজেও বিশ্রাম নিয়ে শান্তি পান না। আদতে শিশুরা কেন এমন আচরণ করে? মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশুবিশেষজ্ঞ এবং সহকারী অধ্যাপক ডা. তাসনুভা খান–এর সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছেন রাফিয়া আলম

তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ

বাড়ন্ত শিশুর বিপাক হার অনেক বেশি থাকে। তাই একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির চেয়ে একটি শিশুর দেহে অনেক বেশি তাপ উৎপন্ন হয়। তাই তার গরম লাগে তুলনামূলক বেশি।

অর্থাৎ যেকোনো তাপমাত্রায় একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির যতটা গরম লাগে, একটি শিশুর গরম লাগে তার চেয়ে বেশি। যে শিশু দিনরাত ছোটাছুটি করছে, তার অল্পতে গরম লাগাও স্বাভাবিক। শীতে লেপ-কম্বল গায়ে দেওয়ার অল্প সময় পর কোনো কোনো শিশু ঘেমেও যায়।

আরও একটি বিষয় এর সঙ্গে যুক্ত। প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির শরীর পরিবেশের তাপমাত্রার পরিবর্তনকে সহজে সামলাতে পারে। শিশুর শরীর আবার সেটা পারে না। তাই যখনই তার একটু বেশি গরম লাগে, তখন সে লেপ, কম্বল বা গরম কাপড় গা থেকে ফেলে দেয়।

ঘুমের ধরন

ঘুমন্ত অবস্থায় একটা লম্বা সময় শিশুদের চোখ জোড়াও নড়াচড়া করে বেশ। ঘুমের এই ধাপকে বলা হয় র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট স্লিপ। এ সময় শরীরের পেশিরও নড়াচড়া হয় বেশ।

এ ছাড়া শিশুরা ঘুমের সময় একটু বেশি নড়াচড়া করে। স্বাভাবিকভাবেই ওদের শরীর এই নড়াচড়াটা স্বাধীনভাবে করতে চায়। ভারী লেপ বা কম্বল গায়ের ওপর থাকলে এই নড়াচড়া বাধাগ্রস্ত হয়। তাই ভারী জিনিসটা সরিয়ে দিতে পারে সে ঘুমের ঘোরেই।

কারণ যখন কম্বলেই

শিশুর তুলনায় তার লেপ বা কম্বল অতিরিক্ত ভারী হতে পারে। কিছু কম্বলের তন্তু শিশুর সংবেদনশীল ত্বকের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। এসব কারণেও শিশু তা সরিয়ে দিতে পারে।

সমাধান

শিশুকে ফুলহাতা জামা এবং ফুলপ্যান্ট বা পায়জামা পরিয়ে রাখুন রাতে। তাপমাত্রা বুঝে ফ্লানেল বা সুতি কাপড়ের পোশাক বেছে নিন। ঘুমের সময় এসব পোশাকে প্রয়োজনীয় উষ্ণতা পাবে শিশু।

খুব বেশি ঠান্ডা থাকলে ঘুমের সময়ও মাথা ঢেকে এবং মোজা পরিয়ে রাখতে পারেন। তবে শিশু এসবে অস্বস্তিবোধ করলে জোর করবেন না।

শিশুর জন্য আরামদায়ক হালকা লেপ, কম্বল বা কম্ফোর্টারের ব্যবস্থা করুন। প্রয়োজনে এসবের পরিবর্তে একটি বা দুটি হালকা কাঁথাও তার গায়ে দিয়ে দিতে পারেন।

কৃত্রিম তন্তু শিশুর শরীরে সরাসরি স্পর্শ না করলেই ভালো। প্রয়োজনে কম্বলে সুতি কভার ব্যবহার করুন।

মশারির ওপর ভারী কাপড় বিছিয়ে দেওয়া যায়, যাতে লেপ-কম্বল ফেলে দিলেও প্রবল ঠান্ডা বাতাস সরাসরি শিশুর গায়ে কম লাগে। তবে খেয়াল রাখুন, শিশুর মাথা যেদিকে থাকে, সেদিকে ওই ভারী কাপড় রাখা যাবে না।

রাতে দু–একবার শিশুকে স্পর্শ করে দেখতে পারেন। তার দেহের উষ্ণতা অনুভব করুন, ঘেমে যাচ্ছে কি না, খেয়াল করুন। সে অনুযায়ী তার স্বস্তির ব্যবস্থা করুন।

‘দৃষ্টির চশমা’

গোলাম কিবরিয়া
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:১২ পিএম
‘দৃষ্টির চশমা’

নিশুতি রাত, থমথমে ভাব, পুকুর ঘাটের পাড়ে,
দুইটি মানুষ বসলো এসে খুব সাবধানে আড়ে।
এক পাড়ে এক পাকা চোর, অন্য পাড়ে মুমিন,
দুজনারই ব্যস্ততা আজ বেড়েছে অন্তহীন।

​চোর বেচারা হাত ধুয়ে নেয়, পোটলাটি তার পাশে,
ওপার পানে তাকিয়ে সে মুচকি মনে হাসে।
ভাবছে, “আহা! ওই বেটা তো মস্ত বড় চোর,
নিশ্চয় সেও সিঁধ কেটেছে ওস্তাদ বড় জোর!”

​মনেহয় সে কোনো বাড়ির সিন্দুক করেছে ফাঁকা,
আমার চেয়েও বেশি হয়তো মাল রয়েছে রাখা!
বড্ড সেয়ানা চোর তো ওটা, বসলো জলের ধারে,
কাজ সেরে আজ ফুরফুরে সে, শান্তি খোঁজে পাড়ে।

​ওপার পাড়ে ধার্মিক জন করছে ওযু ধীর,
ভাবছে, “আহা! ওই পাড়ে কে? বড্ড খোদাভীর!
আমার চেয়েও মস্ত বড় বুজুর্গ এক পীর,
ইবাদতে মত্ত হতে তাই তো হলেন স্থির।”

​তাহাজ্জুদের এই বেলাতে আমার সাথে জাগে,
খোদার প্রেমে মশগুল সে, মরণ কিসের আগে?
আহা! কপাল আমার ভালো, এমন সাথী পেলাম,
দূর থেকেই সেই বুজুর্গে জানাই হাজার সালাম!

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান,
বরগুনা সরকারি কলেজ

ফরিদপুরে ঈদের প্রধান জামাত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮ টায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪২ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের প্রধান জামাত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮ টায়

পবিত্র ঈদুল ফিতর ২০২৬ উদযাপনকে সামনে রেখে ফরিদপুর জেলায় সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণের লক্ষ্যে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বাকাহীদ হোসেন, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সুস্মিতা সাহা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রামানন্দ পালসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা।

সভায় আসন্ন ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফরিদপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় জেলার প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বিকল্প হিসেবে জেলার বিভিন্ন মসজিদে ঈদের জামাত আয়োজনের ব্যবস্থা রাখা হবে।

এছাড়া ঈদ উপলক্ষে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা না করার বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঈদকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলে জানানো হয়। বিশেষ করে ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয় যে, ঈদ যাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি বাস টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা সভায় বলেন, ঈদ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। তাই এই উৎসবকে ঘিরে মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।

সভায় আরও জানানো হয়, ঈদের সময় হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগসহ জরুরি সেবাগুলো চালু রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।

ফরিদপুরে ভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ গেল চার বছরের শিশু মায়েসার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৫:১৬ পিএম
ফরিদপুরে ভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ গেল চার বছরের শিশু মায়েসার

ফরিদপুর শহরের শ্যামসুন্দরপুর এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মায়েসা (৪) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফরিদপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শ্যামসুন্দরপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত মায়েসা ওই এলাকার বাসিন্দা মাহফুজের মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে বাড়ির সামনে অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলা করছিল মায়েসা। একপর্যায়ে খেলার ছলে দৌড়ে বাড়ির সামনে পাকা সড়কে উঠে পড়ে সে। ঠিক তখনই দ্রুতগতিতে আসা একটি অজ্ঞাতনামা ইঞ্জিনচালিত ভ্যান তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে শিশুটি সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়।

ঘটনার পরপরই আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আহত শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শিশুটির আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে শোকের মাতম নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতাল ও এলাকাজুড়ে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রতিবেশীরা জানান, মায়েসা ছিল খুবই চঞ্চল ও সবার আদরের। তার এমন অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এদিকে খবর পেয়ে ফরিদপুর কোতয়ালী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে। পরে হাসপাতাল থেকে শিশুটির মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক ভ্যানটি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।

ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘাতক যানবাহনটিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।