খুঁজুন
শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

আরাম না অস্বস্তি—কেন শিশুরা ঘুমে লেপ ফেলে দেয়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:৪৪ পূর্বাহ্ণ
আরাম না অস্বস্তি—কেন শিশুরা ঘুমে লেপ ফেলে দেয়

শীতে লেপ-কম্বল মুড়ি দিয়ে আরামসে ঘুমাতে কে না ভালোবাসে। তবে অনেক সময়ই দেখা যায়, তীব্র শীতেও বাড়ির ছোট্ট সদস্যটি তার গায়ের লেপ বা কম্বল ফেলে দিচ্ছে। আপনি হয়তো বিষয়টা চোখে পড়ামাত্রই তা আবার টেনে দেন তার গায়ে। ভাবেন, তার বুঝি ঠান্ডা লাগছে। হয়তো সেই দুশ্চিন্তায় আপনি নিজেও বিশ্রাম নিয়ে শান্তি পান না। আদতে শিশুরা কেন এমন আচরণ করে? মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশুবিশেষজ্ঞ এবং সহকারী অধ্যাপক ডা. তাসনুভা খান–এর সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছেন রাফিয়া আলম

তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ

বাড়ন্ত শিশুর বিপাক হার অনেক বেশি থাকে। তাই একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির চেয়ে একটি শিশুর দেহে অনেক বেশি তাপ উৎপন্ন হয়। তাই তার গরম লাগে তুলনামূলক বেশি।

অর্থাৎ যেকোনো তাপমাত্রায় একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির যতটা গরম লাগে, একটি শিশুর গরম লাগে তার চেয়ে বেশি। যে শিশু দিনরাত ছোটাছুটি করছে, তার অল্পতে গরম লাগাও স্বাভাবিক। শীতে লেপ-কম্বল গায়ে দেওয়ার অল্প সময় পর কোনো কোনো শিশু ঘেমেও যায়।

আরও একটি বিষয় এর সঙ্গে যুক্ত। প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির শরীর পরিবেশের তাপমাত্রার পরিবর্তনকে সহজে সামলাতে পারে। শিশুর শরীর আবার সেটা পারে না। তাই যখনই তার একটু বেশি গরম লাগে, তখন সে লেপ, কম্বল বা গরম কাপড় গা থেকে ফেলে দেয়।

ঘুমের ধরন

ঘুমন্ত অবস্থায় একটা লম্বা সময় শিশুদের চোখ জোড়াও নড়াচড়া করে বেশ। ঘুমের এই ধাপকে বলা হয় র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট স্লিপ। এ সময় শরীরের পেশিরও নড়াচড়া হয় বেশ।

এ ছাড়া শিশুরা ঘুমের সময় একটু বেশি নড়াচড়া করে। স্বাভাবিকভাবেই ওদের শরীর এই নড়াচড়াটা স্বাধীনভাবে করতে চায়। ভারী লেপ বা কম্বল গায়ের ওপর থাকলে এই নড়াচড়া বাধাগ্রস্ত হয়। তাই ভারী জিনিসটা সরিয়ে দিতে পারে সে ঘুমের ঘোরেই।

কারণ যখন কম্বলেই

শিশুর তুলনায় তার লেপ বা কম্বল অতিরিক্ত ভারী হতে পারে। কিছু কম্বলের তন্তু শিশুর সংবেদনশীল ত্বকের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। এসব কারণেও শিশু তা সরিয়ে দিতে পারে।

সমাধান

শিশুকে ফুলহাতা জামা এবং ফুলপ্যান্ট বা পায়জামা পরিয়ে রাখুন রাতে। তাপমাত্রা বুঝে ফ্লানেল বা সুতি কাপড়ের পোশাক বেছে নিন। ঘুমের সময় এসব পোশাকে প্রয়োজনীয় উষ্ণতা পাবে শিশু।

খুব বেশি ঠান্ডা থাকলে ঘুমের সময়ও মাথা ঢেকে এবং মোজা পরিয়ে রাখতে পারেন। তবে শিশু এসবে অস্বস্তিবোধ করলে জোর করবেন না।

শিশুর জন্য আরামদায়ক হালকা লেপ, কম্বল বা কম্ফোর্টারের ব্যবস্থা করুন। প্রয়োজনে এসবের পরিবর্তে একটি বা দুটি হালকা কাঁথাও তার গায়ে দিয়ে দিতে পারেন।

কৃত্রিম তন্তু শিশুর শরীরে সরাসরি স্পর্শ না করলেই ভালো। প্রয়োজনে কম্বলে সুতি কভার ব্যবহার করুন।

মশারির ওপর ভারী কাপড় বিছিয়ে দেওয়া যায়, যাতে লেপ-কম্বল ফেলে দিলেও প্রবল ঠান্ডা বাতাস সরাসরি শিশুর গায়ে কম লাগে। তবে খেয়াল রাখুন, শিশুর মাথা যেদিকে থাকে, সেদিকে ওই ভারী কাপড় রাখা যাবে না।

রাতে দু–একবার শিশুকে স্পর্শ করে দেখতে পারেন। তার দেহের উষ্ণতা অনুভব করুন, ঘেমে যাচ্ছে কি না, খেয়াল করুন। সে অনুযায়ী তার স্বস্তির ব্যবস্থা করুন।

খেজুরের গুড়ের হারানো ঐতিহ্য ফেরাতে ফরিদপুরে ২০ হাজার খেজুর বীজ বপন

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৭:৫৯ অপরাহ্ণ
খেজুরের গুড়ের হারানো ঐতিহ্য ফেরাতে ফরিদপুরে ২০ হাজার খেজুর বীজ বপন

ফরিদপুরের নগরকান্দায় হারিয়ে যেতে বসা খেজুরের রস ও গুড়ের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে পুরাপাড়া ইউনিয়ন অনার্স ক্লাব। সংগঠনটির উদ্যোগে প্রায় ২০ হাজার খেজুর বীজ বপন করা হয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ সৃষ্টি করেছে।

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে নগরকান্দা উপজেলার পুরাপাড়া ইউনিয়নের ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের কুমার নদের পাশের সড়কে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। পরে প্রায় ২০ জন স্বেচ্ছাসেবী ভ্যানযোগে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের সড়ক এবং মুকসুদপুর-ভাঙ্গা অংশের এশিয়ান হাইওয়ের (বিশ্বরোড) প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় খেজুর বীজ ছড়িয়ে দেন।

আয়োজকরা জানান, একসময় ফরিদপুর অঞ্চল খেজুরের রস ও গুড়ের জন্য দেশজুড়ে পরিচিত ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে খেজুরগাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় সেই ঐতিহ্যও প্রায় বিলুপ্তির পথে। নতুন প্রজন্মের কাছে সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সিজিএ, বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মামুনুর রশিদ বলেন, “ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস ও গুড়ের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এ উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করেছে। পরিবেশ ও ঐতিহ্য রক্ষায় এমন উদ্যোগ দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।”

পুরাপাড়া ইউনিয়ন অনার্স ক্লাবের সভাপতি ও সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের গণিত বিভাগের অধ্যাপক ওসমান মোল্যা বলেন, “ফরিদপুরের খেজুরের গুড় একসময় এ অঞ্চলের গর্ব ছিল। আজ সেই ঐতিহ্য প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। খেজুর বীজ বপনের মাধ্যমে আমরা আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও ঐতিহ্যসমৃদ্ধ ফরিদপুর গড়ে তুলতে চাই।”

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও সরকারি তোলারাম কলেজের প্রভাষক মো. গিয়াস উদ্দীন জানান, এর আগে গত পাঁচ বছরে সংগঠনটির উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার তালবীজ রোপণ করা হয়েছে। পরিবেশবান্ধব এসব উদ্যোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রশংসিত হয়েছে।

অনার্স ক্লাব গণগ্রন্থাগারের সভাপতি ও পুরাপাড়া কে.জি. স্কুলের প্রধান শিক্ষক এস. এম. ইউসুফ বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

কর্মসূচিতে মুকসুদপুর উপজেলার পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা ও ৪৫তম বিসিএস (কৃষি) ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারিকুর রহমান অঙ্কন, সহকারী শিক্ষক তানভীর তালুকদার, শিক্ষার্থী হাসিবুল হাসান, মাজহারুল ইসলাম শাকিব, ব্যবসায়ী রাকিব হোসেন, কাজী শাকিল, রাজিবুল ইসলাম, নাসিরুজ্জামান সেজানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত পুরাপাড়া ইউনিয়ন অনার্স ক্লাব শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়নমূলক নানা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ সমাজের বিত্তবান ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতা কামনা করেছেন, যাতে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা যায়।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় গরু তাড়ানোর ‘অপরাধে’ শিশুকে গরুর রশিতে বেঁধে নির্যাতন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর ও আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় গরু তাড়ানোর ‘অপরাধে’ শিশুকে গরুর রশিতে বেঁধে নির্যাতন

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় এক মাদরাসা শিক্ষার্থীকে গরুর রশি দিয়ে গরুর সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত কাওছার মৃধাকে আটক করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টাসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

ভুক্তভোগী তামিম ইসলাম (১০) বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাসিন্দা। তিনি আলফাডাঙ্গা পৌরসভার নওয়াপাড়া গ্রামের চেরাগ আলীর বাড়িতে লজিং থেকে স্থানীয় মারকাজুল কুরআন মাদরাসার নাজেরা বিভাগে পড়াশোনা করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে মাদরাসার সীমানার ভেতরে কাওছার মৃধার একটি গরু ঢুকে গাছপালা খেতে শুরু করে। এ সময় তামিম গরুটিকে তাড়িয়ে দিলে গরুর মালিক কাওছার মৃধা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে তিনি তামিমকে গরুর রশি দিয়ে গরুর সঙ্গে বেঁধে ছেড়ে দেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গরুটি দৌড় দিতে শুরু করলে তামিমও টেনে নিয়ে যেতে থাকে। এ সময় রশি তার গলায় পেঁচিয়ে যায় এবং শ্বাসরোধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। শিশুটির চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। রশির চাপে তার গলায় আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। শুক্রবার সকালে নওয়াপাড়া ও কুচিয়াগ্রাম এলাকার মুরব্বিরা বিষয়টি নিয়ে সালিশ বৈঠকে বসেন। তবে কোনো সমাধান না হওয়ায় স্থানীয় যুবসমাজ অভিযুক্তের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রস্তুতি নেয়।

এরই মধ্যে শুক্রবার দুপুরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত কাওছার মৃধাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোমিনুল ইসলাম সোহাগ বলেন, “একজন কোমলমতি শিশুর ওপর এ ধরনের অমানবিক নির্যাতন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।”

লজিং মালিক চেরাগ আলী বলেন, “তামিম আমার সন্তানের মতো ছিল। তার সঙ্গে এমন নির্মম আচরণে আমি মর্মাহত। আমি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আসাদুজ্জামান বলেন, “তামিম আমাদের মাদরাসার শিক্ষার্থী। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।”

অভিযুক্তের ছোট ভাই বিশু মৃধা বলেন, “ঘটনার বিস্তারিত আমি জানি না। পুলিশ আমার ভাইকে আটক করেছে। তদন্তে যদি তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী বিচার হওয়া উচিত।”

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান জানান, শিশু নির্যাতনের অভিযোগে কাওছার মৃধা নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত মামলা হয়নি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। মামলা দায়ের হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে আর্জেন্টিনা ভক্তদের জন্য সুখবর, জার্সি পরলেই রোগীর চিকিৎসা ফি ৫০% ছাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৫:২৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে আর্জেন্টিনা ভক্তদের জন্য সুখবর, জার্সি পরলেই রোগীর চিকিৎসা ফি ৫০% ছাড়

বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনায় যখন মেতে উঠেছে গোটা বিশ্ব, তখন সেই উন্মাদনাকে ভিন্নমাত্রা দিয়েছেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার এক চিকিৎসক। প্রিয় দল আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন—আর্জেন্টিনার জার্সি পরে চিকিৎসা নিতে এলে রোগীদের দিতে হবে মাত্র অর্ধেক ভিজিট।

এমন অভিনব উদ্যোগের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ স্থানীয় এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন আলফাডাঙ্গা উপজেলার চিকিৎসক ডা. সুমন রায়।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে উপজেলা সদর বাজারের হাসপাতাল রোডে অবস্থিত হেলথ এইড মেডিকেল সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, আর্জেন্টিনার জার্সি পরে আসা রোগীদের জন্য বিশেষ ছাড় কার্যকর করা হয়েছে। সাধারণত তার চেম্বারে চিকিৎসা পরামর্শের ফি ৫০০ টাকা হলেও আর্জেন্টিনার জার্সি পরে আসা রোগীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে মাত্র ২৫০ টাকা।

চেম্বার সূত্রে জানা যায়, উদ্যোগটি শুরুর প্রথম দিনেই বেশ কয়েকজন রোগী এই সুবিধা নিয়ে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন। ফলে বিষয়টি দ্রুতই এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

আর্জেন্টিনার জার্সি পরে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগী বলেন, “আমি বরাবরই আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক। চিকিৎসকের এমন ব্যতিক্রমী অফারের কথা শুনে জার্সি পরেই চেম্বারে এসেছি। সত্যিই তিনি আমার কাছ থেকে নির্ধারিত ফির অর্ধেক নিয়েছেন। বিষয়টি আমার কাছে বেশ আনন্দের লেগেছে।”

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডা. সুমন রায় গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। পাশাপাশি তিনি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির (আইএইচটি) ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একজন অভিজ্ঞ ও জনপ্রিয় চিকিৎসক হিসেবে এলাকাজুড়ে তার সুনাম রয়েছে।

ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ সম্পর্কে ডা. সুমন রায় বলেন, “আমি ছোটবেলা থেকেই আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক। বিশ্বকাপ বা আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট এলেই উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। সেই আনন্দকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে একটু ভিন্নভাবে ভাগাভাগি করার চিন্তা থেকেই এই উদ্যোগ নিয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “এটি সম্পূর্ণভাবে খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসা থেকে করা একটি উদ্যোগ। আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য এটি আমার পক্ষ থেকে ছোট্ট একটি শুভেচ্ছা উপহার। তবে এর ফলে চিকিৎসাসেবার মান বা দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটবে না। বরং খেলাধুলাকে ঘিরে মানুষের মধ্যে যে আনন্দ ও সম্প্রীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়, সেটিকেই আরও উৎসাহিত করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

স্থানীয়দের মতে, বিশ্বকাপ ঘিরে নানা ধরনের আয়োজন দেখা গেলেও চিকিৎসা ফিতে এমন বিশেষ ছাড়ের ঘটনা বেশ ব্যতিক্রমী। ফলে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

ফুটবলপ্রেম, মানবিকতা ও ভিন্নধর্মী উদযাপনের এই উদ্যোগ ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসা কুড়াতে শুরু করেছে।