খুঁজুন
শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১৪ চৈত্র, ১৪৩২

ডাল রান্নার সময় উপরে যে ফেনা ওঠে সেটা কি নিরাপদ?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৯:০২ এএম
ডাল রান্নার সময় উপরে যে ফেনা ওঠে সেটা কি নিরাপদ?

ডাল বাংলাদেশি খাবারের এমন একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা প্রায় প্রতিদিনই আমাদের টেবিলে থাকে। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই খাবারটি যেমন সহজলভ্য, তেমনি স্বাস্থ্যকর বলেও পরিচিত।

তবে অনেকেই ডাল খেতে গিয়ে এক ধরনের অস্বস্তি অনুভব করেন—পেট ফাঁপা, গ্যাস বা হালকা অস্বস্তি। আবার রান্নার সময় ডালের উপরে যে সাদা ফেনার মতো স্তর জমে, সেটি নিয়েও রয়েছে নানা ভুল ধারণা। কেউ বলেন এটি ক্ষতিকর, কেউ আবার একেবারেই ফেলে দেন।

আসলে এই ফেনা কী? এটি কি সত্যিই শরীরের জন্য ক্ষতিকর, নাকি পুরো বিষয়টাই একটি ভুল ধারণা? এ বিষয়ে সাম্প্রতিক এক আলোচনায় ভারতের রায়পুরভিত্তিক অনকোলজিস্ট ডা. জয়েশ শর্মা কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছেন, যা ডাল নিয়ে প্রচলিত অনেক ভুল ধারণা দূর করতে সাহায্য করবে।

ডালের ফেনা আসলে কী?

ডাল রান্না করার সময় ফুটতে শুরু করলে উপরে হালকা সাদা, ফেনার মতো একটি স্তর দেখা যায়। এটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া।

মূলত ডালের ভেতরে থাকা প্রোটিন ও স্টার্চ গরম পানির সংস্পর্শে এসে ভেঙে যায়। ফলে প্রোটিনের গঠন পরিবর্তিত হয়ে বাতাস আটকে ফেনা তৈরি করে। একই সঙ্গে স্টার্চ আলগা হয়ে এই ফেনাকে আরও ঘন করে। অর্থাৎ, এই ফেনা কোনো বাহ্যিক বা ক্ষতিকর কিছু নয়, এটি ডালের স্বাভাবিক উপাদান থেকেই তৈরি।

এই ফেনা কি ক্ষতিকর?

অনেকেই মনে করেন, এই ফেনা ‘বিষাক্ত’, কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে এটি সঠিক নয়।

ডা. জয়েশ শর্মা জানান, এই ফেনায় প্রোটিন ও স্টার্চ ছাড়াও স্যাপোনিন নামে একটি উপাদান থাকে। এটি উদ্ভিদের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে। পাশাপাশি এটি শরীরের প্রদাহ কমাতে ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।

তবে, অতিরিক্ত ফেনা ডালে তিতা স্বাদ আনতে পারে। বেশি পরিমাণে খেলে অন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে আইবিএস (Irritable Bowel Syndrome)-এ আক্রান্তদের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।

ডাল খেলে পেট ফাঁপে কেন?

ডাল খাওয়ার পর অনেকের পেট ফাঁপা, গ্যাস বা ভারী লাগার মূল কারণ কিন্তু এই ফেনা নয়। চিকিৎসকের মতে, এর আসল কারণ হলো ফডম্যাপস (FODMAPs)।

ফডম্যাপস হলো এক ধরনের স্বল্প-শৃঙ্খলযুক্ত কার্বোহাইড্রেট, যা আমাদের ক্ষুদ্রান্ত্রে ভালোভাবে হজম হয় না। এর মধ্যে রয়েছে ফারমেন্টেবল, অলিগোস্যাকারাইড, ডাইস্যাকারাইড, মনোস্যাকারাইড এবং পলিওল।

এসব উপাদান ঠিকমতো শোষিত না হয়ে বৃহদান্ত্রে গিয়ে ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে ফারমেন্ট হয়। ফলে গ্যাস, পেট ফাঁপা, পেট ব্যথা ও অস্বস্তি তৈরি হয়।

ডাল কি তাহলে খারাপ?

একেবারেই না। ডাল অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার। সমস্যা হয় মূলত ঠিকমতো না ভিজিয়ে রান্না করলে, কম সেদ্ধ হলে এবং অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে।

ডাল সহজপাচ্য করার উপায়

ডা. জয়েশ শর্মার মতে, ফেনা ফেলে দেওয়ার চেয়ে ডাল প্রস্তুত করার পদ্ধতিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

১. ডাল ভিজিয়ে রাখা

২০-৪০ মিনিট ডাল ভিজিয়ে রাখুন

ভেজানো পানি ফেলে দিন

এতে FODMAPs-এর একটি অংশ বের হয়ে যায়

স্টার্চ ও ধুলাবালি দূর হয়

ডাল কম ফেনা তৈরি করে এবং হালকা লাগে

২. ভালোভাবে ধোয়া

রান্নার আগে ডাল কয়েকবার ভালোভাবে ধুয়ে নিন, এতে অপ্রয়োজনীয় উপাদান কমে যায়।

৩. প্রেসার কুকারে রান্না

উচ্চ তাপে রান্না হলে FODMAPs ও স্যাপোনিন ভেঙে যায়

ডাল দ্রুত ও ভালোভাবে সেদ্ধ হয়

পুষ্টিগুণও বেশি সংরক্ষিত থাকে

খাওয়ার পর হালকা লাগে

শেষ কথা

ডাল রান্নার সময় যে ফেনা ওঠে, তা মোটেও ক্ষতিকর নয়; বরং এটি ডালের স্বাভাবিক উপাদানেরই ফল। তবে অতিরিক্ত ফেনা রেখে দিলে স্বাদে তিতা ভাব আসতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে হজমে সমস্যা হতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ডাল ঠিকমতো ভিজিয়ে, ধুয়ে এবং ভালোভাবে রান্না করা। এই সহজ নিয়মগুলো মেনে চললে ডাল খাওয়ার পর অস্বস্তি অনেকটাই কমে যাবে। অর্থাৎ, সমস্যা ডালে নয়; সমস্যা আমাদের রান্নার পদ্ধতিতে।

সূত্র : এনডিটিভি

ফরিদপুরে অস্বচ্ছল জাকেরদের মাঝে চন্দ্রপুরী জাকের কল্যাণ ফাউন্ডেশনের পুঁজি সহায়তা বিতরণ

মাহবুব হোসেন পিয়াল, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ২:২২ পিএম
ফরিদপুরে অস্বচ্ছল জাকেরদের মাঝে চন্দ্রপুরী জাকের কল্যাণ ফাউন্ডেশনের পুঁজি সহায়তা বিতরণ

অস্বচ্ছলদের স্বাবলম্বী করতে জাকেরদের মাঝে কর্মসংস্থান সহায়তা হিসেবে পুঁজি ও মূলধন বিতরণ করেছে হযরত শাহ্ চন্দ্রপুরী জাকের কল্যাণ ফাউন্ডেশন।

শনিবার (২৮ মার্চ) বাদ ফজর ফরিদপুরের সদরপুরে ঐতিহ্যবাহী চন্দ্রপাড়া দরবার শরীফে এ সহায়তা দেয়া হয়।

চন্দ্রপাড়া দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা পীর জামানার মোজাদ্দেদ হযরত শাহ্ সূফী সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ চন্দ্রপুরী (রহ.) পীর কেবলাজানের বেছালত দিবস উপলক্ষ্যে এই অনুদান বিতরণ করা হয়।

অনুদান প্রদান করেন চন্দ্রপাড়া দরবার শরীফের গদীনশীন পীর ও জাকের কল্যাণ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শাহ্ সূফী সৈয়দ কামরুজ্জামান।

অস্বচ্ছলদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে স্বাবলম্বী করতে এককালীন আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী উপকরণ প্রদান করে ফাউন্ডেশনটি।

এদিকে, বেছালত দিবস উপলক্ষ্যে শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল থেকেই দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য মুরিদ, আশেক-জাকের ও ভক্তরা দরবার শরীফে সমবেত হন। এদিন বাদ জুম ’আ থেকে পবিত্র কোরআন তেলওয়াত, মিলাদ-কিয়াম, জিকির-আজকার ও শরীয়ত-তরিকত সম্পর্কিত ওয়াজ মাহফিল হয়।

শনিবার বাদ ফজর পবিত্র রওজা মোবারক জিয়ারত ও আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে সমগ্র সৃষ্টির সুখ-শান্তি ও মহান আল্লাহর নৈকট্য কামনা করা হয়।

 

নগরকান্দায় যুবদল নেতার ওপর হামলার অভিযোগ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১:৪৩ পিএম
নগরকান্দায় যুবদল নেতার ওপর হামলার অভিযোগ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে লস্করদিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি বাবলু মোল্যা (৬০)-এর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার বিনোকদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত অবস্থায় বাবলু মোল্যাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাবলু মোল্যা বিনোকদিয়া গ্রামের জাফর মোল্যার ছেলে।

এ ঘটনায় রাত প্রায় ১১টার দিকে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে নগরকান্দা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে একই গ্রামের নজরুল মোল্লা এবং তার ছেলে রুমন মোল্লা ও তুহিন মোল্লার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাবলু মোল্যার সঙ্গে নজরুল মোল্লার দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। ঘটনার রাতে এ বিরোধের জেরে উভয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নজরুল মোল্লার ছেলে রুমন মোল্লা ও তুহিন মোল্লা বাবলু মোল্যার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

এ বিষয়ে নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসূল সামদানী আজাদ বলেন, “ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রানা প্লাজা থেকে বেঁচে ফেরা সেই নাসিমা পদ্মায় বাসডুবিতে মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১:৩০ পিএম
রানা প্লাজা থেকে বেঁচে ফেরা সেই নাসিমা পদ্মায় বাসডুবিতে মৃত্যু

২০১৩ সালের সাভারের রানা প্লাজা ধসে তিনদিন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থেকেও অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছিলেন নাসিমা বেগম (৪০)। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা সেই নাসিমা দীর্ঘ ১০ বছর জীবনের সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত হার মানলেন রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনায়।

গত বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে জীবিকার তাগিদে ঢাকা ফেরার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে নাসিমাসহ একই পরিবারের চারজন প্রাণ হারান। শুক্রবার (২৭ মার্চ) জুমার নামাজের পর দিনাজপুরের পার্বতীপুরে নিজ গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নাসিমা বেগম তার ভাগনি, ভাগনি জামাই ও তাদের কোলের শিশুকে নিয়ে ঢাকা যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে রওনা হয়েছিলেন। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে তাদের বহনকারী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। প্রায় ছয় ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযান শেষে রাত সাড়ে ১১টার দিকে নদী থেকে নাসিমাসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পুলিশ।

নাসিমা বেগমের জীবনের পুরো অধ্যায়টিই ছিল শোক আর সংগ্রামের। ২০১৩ সালে যখন রানা প্লাজা ধসে পড়ে, তখন তিনি ওই ভবনের একটি গার্মেন্টসে কর্মরত ছিলেন। যমের দুয়ার থেকে ফিরে আসার পর দীর্ঘদিন গ্রামে কাটান তিনি। কিন্তু স্বামীর অকাল মৃত্যুর পর অভাবের তাড়নায় আবারও গার্মেন্টসের কাজে যোগ দিতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। আর সেই যাত্রাই ছিল তার জীবনের শেষ যাত্রা।

পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ. ওয়াদুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে পুলিশের পক্ষ থেকে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। এদিকে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদ্দাম হোসেন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে জরুরি সহায়তা হিসেবে নগদ ২৫ হাজার টাকা প্রদান করেছেন।