খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

হঠাৎ খিঁচুনি হলে কী করবেন? জেনে নিন জরুরি করণীয়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৮:২৫ পূর্বাহ্ণ
হঠাৎ খিঁচুনি হলে কী করবেন? জেনে নিন জরুরি করণীয়

হঠাৎ কোনো মানুষ খিঁচুনিতে আক্রান্ত হলে পরিস্থিতি মুহূর্তেই আতঙ্কজনক হয়ে উঠতে পারে। অনেকেই তখন কী করবেন বুঝে উঠতে পারেন না। অথচ এমন জরুরি মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত ও প্রাথমিক পদক্ষেপ একজন মানুষের জীবন রক্ষা করতে পারে। চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত আশপাশের মানুষের সচেতনতা ও উপস্থিত বুদ্ধিই হতে পারে সবচেয়ে বড় ভরসা।

শুধু হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক নয়, খিঁচুনিও এমন একটি অবস্থা যা হঠাৎ করেই দেখা দিতে পারে। তাই এর লক্ষণগুলো জানা এবং সঠিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো অত্যন্ত জরুরি।

খিঁচুনির লক্ষণ কী কী?

বিশ্বখ্যাত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান Johns Hopkins Medicine-এর তথ্য অনুযায়ী, খিঁচুনির সময় যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে—

১. হাত-পা হঠাৎ ঝাঁকুনি দেওয়া

২. শরীর শক্ত হয়ে যাওয়া

৩. একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা

৪. দ্রুত চোখের পলক ফেলা

৫. হঠাৎ পড়ে যাওয়া

৬. শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া

৭. মল বা মূত্র নিয়ন্ত্রণ হারানো

৮. এমনকি অজ্ঞান হয়ে যাওয়া

এই লক্ষণগুলো দ্রুত চিনতে পারলে সঠিক সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়।

কী করবেন : জরুরি প্রাথমিক পদক্ষেপ

ভারতের মারেঙ্গো এশিয়া হাসপাতালের নিউরোলজিস্ট ডা. প্রভীন গুপ্তা, যিনি দুই দশকের বেশি সময় ধরে স্নায়ুরোগ নিয়ে কাজ করছেন। তিনি খিঁচুনির সময় করণীয় বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন।

তার ভাষায়, ‘খিঁচুনি হঠাৎ করেই হতে পারে। দৃশ্যটি ভয়ঙ্কর লাগলেও আপনি যদি শান্ত থাকেন এবং কী করতে হবে জানেন, তাহলে পরিস্থিতি সামলানো অনেক সহজ হয়ে যায়।’

নিচে তার পরামর্শ অনুযায়ী করণীয়গুলো তুলে ধরা হলো—

১. আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিরাপদ রাখুন

প্রথমেই নিশ্চিত করুন, ব্যক্তি নিরাপদ জায়গায় আছেন। এ ক্ষেত্রে আশপাশে থাকা আসবাবপত্র, ধারালো বস্তু বা ঝুঁকিপূর্ণ জিনিস সরিয়ে ফেলুন। এতে খিঁচুনির সময় অনিয়ন্ত্রিত নড়াচড়ায় আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি কমে।

২. সঠিকভাবে শুইয়ে দিন

সম্ভব হলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে পাশ ফিরে শুইয়ে দিন। মাথার নিচে নরম কিছু (কাপড়/বালিশ) দিন। এতে শ্বাসনালি খোলা থাকে এবং শ্বাসকষ্ট বা দম আটকে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।

৩. শরীর চেপে ধরবেন না

অনেকেই ভাবেন, শরীর চেপে ধরলে খিঁচুনি থামানো যাবে, এটি ভুল। জোর করে নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে উভয়েরই আঘাত লাগতে পারে। খিঁচুনি স্বাভাবিকভাবেই শেষ হতে দিন।

৪. প্রয়োজনে জরুরি ওষুধ ব্যবহার

যদি আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য আগে থেকে নির্ধারিত জরুরি ওষুধ (যেমন: মিডাজোলাম ন্যাজাল স্প্রে) থাকে, নির্দেশনা অনুযায়ী তা ব্যবহার করা যেতে পারে।

খিঁচুনির সময় কতক্ষণ? কখন হাসপাতালে যাবেন

ডা. প্রভীন গুপ্তা জানান, বেশিভাগ খিঁচুনি ২-৩ মিনিটের মধ্যেই থেমে যায়। তাই সময় লক্ষ্য রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তবে নিচের ক্ষেত্রে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে—

১. খিঁচুনি ৩ মিনিটের বেশি স্থায়ী হলে

২. অল্প সময়ের ব্যবধানে আবার খিঁচুনি শুরু হলে

যেসব ভুল কখনো করবেন না

১. খিঁচুনির সময় কিছু কাজ পরিস্থিতি আরও খারাপ করে দিতে পারে।

২. মুখে আঙুল, চামচ বা কাপড় ঢোকানোর চেষ্টা করবেন না। এতে দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

শেষ কথা

খিঁচুনির মতো পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক পদক্ষেপ দ্রুত নিতে পারলে বড় ধরনের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। চিকিৎসা সহায়তা আসা পর্যন্ত আপনার সচেতনতা ও সহানুভূতিই হতে পারে একজন মানুষের নিরাপত্তার মূল চাবিকাঠি।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

ফরিদপুরে ভাইরাল হওয়া সেই লাইলীর পাশে দাঁড়াল জেলা প্রশাসন, দিলেন আর্থিক সহায়তা 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৪:০০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ভাইরাল হওয়া সেই লাইলীর পাশে দাঁড়াল জেলা প্রশাসন, দিলেন আর্থিক সহায়তা 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া লোকসংগীত শিল্পী লাইলী আক্তারের পাশে দাঁড়িয়েছে ফরিদপুর জেলা প্রশাসন। মানবিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের ব্যবহার অনুপযোগী বসতবাড়ি পুনর্নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাজহারুল ইসলাম। 

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসকের বাংলোবাড়িতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে লাইলী আক্তারের হাতে আর্থিক সহায়তার টাকা তুলে দেন জেলা প্রশাসক।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মিন্টু বিশ্বাস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক) সোহরাব হোসাইন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সুস্মিতা সাহাসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।

জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম বলেন, “লাইলী আক্তার আমাদের জেলার গর্ব। তার কণ্ঠে গ্রামীণ সংস্কৃতির যে আবেগ ও ঐতিহ্য ফুটে উঠেছে, তা ইতোমধ্যে মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছে। একজন শিল্পীর জীবনমান উন্নয়নে সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, লাইলী আক্তারের বসতবাড়িটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও বসবাসের অনুপযোগী। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার বাড়ি পুনর্নির্মাণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

এসময় জেলা প্রশাসক জানান, লাইলীর বিষয়টি সরকারের সংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দুষ্টিগোচর হয়েছে। ঈদের পরে যে কোন সময়ে তার জন্য সরকারিভাবে সহযোগিতা করা হবে।

সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত লাইলী আক্তার জেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমি কখনও ভাবিনি আমার গান এত মানুষের ভালোবাসা পাবে। জেলা প্রশাসন আমার পাশে দাঁড়ানোয় আমি অনেক খুশি।”

এদিকে স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিরা জেলা প্রশাসনের এ মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, এমন উদ্যোগ শিল্পীদের অনুপ্রেরণা জোগাবে এবং গ্রামীণ সংস্কৃতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ফরিদপুরে তীব্র ঝড় থেকে বাঁচতে তাবুর নিচে আশ্রয়, শেষ রক্ষা হলো না শ্রমিক নেতার

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৩:২৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে তীব্র ঝড় থেকে বাঁচতে তাবুর নিচে আশ্রয়, শেষ রক্ষা হলো না শ্রমিক নেতার

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় তীব্র ঝড় থেকে বাঁচতে একটি তাবুর নিচে আশ্রয় নিতে গিয়ে গাছচাপায় জিয়াউর রহমান বাঘা (৫০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি শরিয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার পূর্ব মহিষা গ্রামের আমির হোসেন বাঘার ছেলে।

বুধবার (২৭ মে) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলা সদর ইউনিয়নের বাইশরশি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জিয়াউর রহমান বাঘা জাকের পার্টির সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলে জানা গেছে।

নিহতের সঙ্গে থাকা হাজী মো. মনির হোসেন জানান, সকালে তারা দুজন একসঙ্গে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ ঝড় ও বৃষ্টির তীব্রতা বেড়ে গেলে সড়কের পাশে একটি অস্থায়ী তাবুর নিচে আশ্রয় নেন। একপর্যায়ে প্রবল বাতাসে পাশের একটি কৃষ্ণচূড়া গাছ ভেঙে তাবুর ওপর পড়ে। এতে জিয়াউর রহমান গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় পথচারীদের সহায়তায় দ্রুত তাকে বিশ্ব জাকের মঞ্জিল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন শাহ্ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ফরিদপুরের ১০ গ্রামে উদযাপিত হচ্ছে ঈদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১০:২০ পূর্বাহ্ণ
সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ফরিদপুরের ১০ গ্রামে উদযাপিত হচ্ছে ঈদ

সারা দেশে বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপিত হলেও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে বুধবার (২৭ মে) ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করেছেন ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ১০ গ্রামের আংশিক ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতির ধারাবাহিকতায় জেলার বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ও রুপাপাত ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষ একদিন আগে রোজা ও দুই ঈদ পালন করে আসছেন। এ উপলক্ষে বুধবার সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে পর্যায়ক্রমে সহস্রাইল দায়রা শরীফ, রাখালতলি ও মাইটকুমরা মসজিদে চারটি জামায়াতে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাটাগড়, সহস্রাইল, দরিসহস্রাইল, মাইটকুমরা, রাখালতলি, গঙ্গানন্দপুরসহ অন্তত ১০ গ্রামের কিছু মানুষ চট্টগ্রামের মির্জাখিল শরীফের অনুসারী হিসেবে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করেন। প্রতিবছরের মতো এবারও এসব এলাকায় ঈদের প্রস্তুতি সম্পন্ন শেষে ঈদ উদযাপন করছেন।

সহস্রাইল দায়রা শরীফে নামাজ শেষে মুসল্লিদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেন মসজিদ কমিটি। সেখানে জামায়াতে ইমামতি করেন ধলেরচর দরবার শরীফের পীর সাহেব মুফতি মোহাম্মদ রাকিবুল হাসান।

আলফাডাঙ্গা সরকারি ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও বোয়ালমারীর কাঁটাগড় গ্রামের বাসিন্দা মো. মাহিদুল হক বলেন, “চট্টগ্রামের মির্জাখিল শরীফ ও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে বোয়ালমারীর শেখর ও রুপাপাত ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একদিন আগে রোজা ও দুই ঈদ পালন করে আসছেন। এবারও চারটি জামায়াতে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।”

তিনি আরো বলেন, বোয়ালমারীর পাশাপাশি আলফাডাঙ্গা উপজেলার ধলেরচর গ্রামের কিছু মানুষও এ জামায়াতে অংশ নেন।

আলফাডাঙ্গা উপজেলার ধলেরচর গ্রামের বাসিন্দা আবু বক্কার জানান, আগে ধলেরচর মাদ্রাসা ঈদগাহ মাঠে আলাদা জামায়াত হতো। কিন্তু ইমাম অধ্যক্ষ আব্দুর রহমানের মৃত্যুর পর সেখানে আর জামায়াত হচ্ছে না। এখন ধলেরচরের কয়েকজন মুসল্লি সহস্রাইল দায়রা শরীফে গিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন।

স্থানীয়রা জানান, এ অঞ্চলে সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপনের প্রথা বহু বছরের পুরোনো। সংখ্যায় কম হলেও নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসরণ করেই তারা প্রতি বছর আলাদা দিনে ঈদ পালন করে থাকেন।