খুঁজুন
বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ২৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

বয়স বাড়লেও স্মৃতিশক্তি ও বুদ্ধিমত্তা প্রখর রাখার ১১টি গোপন কৌশল, জেনে নিন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:৫১ পূর্বাহ্ণ
বয়স বাড়লেও স্মৃতিশক্তি ও বুদ্ধিমত্তা প্রখর রাখার ১১টি গোপন কৌশল, জেনে নিন

আমরা প্রায়ই শরীরচর্চা আর ফিটনেস নিয়ে ভাবি, কিন্তু ভুলে যাই- আমাদের মস্তিষ্কও ব্যায়াম চায়। শরীর যেমন চ্যালেঞ্জ পেলে ফিট থাকে, মস্তিষ্কও নতুন ও মজার অভিজ্ঞতা পেলে আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

ভালো খবর হলো, ব্রেন এক্সারসাইজ মানেই কঠিন কিছু নয়। খুবই সাধারণ কিছু কাজ, প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাস- এসবই মস্তিষ্ককে সুস্থ ও সচল রাখতে পারে।

চলুন দেখে নিই এমন ১১টি সহজ উপায়

১. একটি ‘সুস্থ’ নেশা বা আগ্রহ খুঁজে নিন

যে বিষয়ে আপনি খুব কৌতূহলী- সেটা নিয়ে একটু বেশি সময় দিন। সেটা হতে পারে নতুন একটা ভাষা শেখা, ইতিহাস পড়া, কিংবা স্ট্যাম্প বা কয়েন সংগ্রহ করা।

যখন আপনি এই আগ্রহটা অন্যদের সঙ্গে ভাগাভাগি করবেন, তখন সেটা আরও মজার হয়ে উঠবে এবং মস্তিষ্ক আরও উদ্দীপিত হবে।

২. এক পায়ে দাঁড়ান

দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দাঁত ব্রাশ করছেন? একটু ট্রাই করে দেখুন- এক পায়ে দাঁড়িয়ে ব্রাশ করা। হালকা মনে হলেও এই কাজটি আপনার মস্তিষ্ক ও শরীরকে একসঙ্গে কাজ করতে শেখায়। বয়স বাড়লে ব্যালান্স রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়, আর এই অভ্যাসটা সেই দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে।

৩. একসঙ্গে পাঁচটি ইন্দ্রিয় ব্যবহার করুন

রান্না করার সময় শুধু রান্না করবেন না- গন্ধ, রঙ, স্পর্শ, শব্দ — সব অনুভব করার চেষ্টা করুন। যত বেশি ইন্দ্রিয় একসঙ্গে কাজ করবে, তত বেশি মস্তিষ্ককে কাজ করতে হবে।

৪. রুটিন বদলান, অন্য রাস্তা নিন

প্রতিদিন একই পথে হাঁটেন বা গাড়ি চালান? একদিন অন্য রাস্তা নিন। এই ছোট্ট বদল আপনার মস্তিষ্ককে জাগিয়ে তোলে এবং নতুন কিছু খুঁজে দেখার সুযোগ দেয়।

হয়তো এমন কিছু চোখে পড়বে, যেটা আগে কখনো দেখেননি!

৫. উল্টো হাঁটুন (সতর্কভাবে!)

রিভার্স বা পেছন দিকে হাঁটা- এটি আপনার মস্তিষ্কের জন্য একেবারে নতুন এক্সারসাইজ। শুরু করুন বাড়ির ভেতর সমান জায়গায়। ধীরে ধীরে হাঁটুন, চারপাশ খেয়াল রাখুন।

এটি ব্যালান্স উন্নত করে এবং সম্ভবত স্মৃতিশক্তিও বাড়ায়।

৬. চুইংগাম খান

হ্যাঁ, শুনতে অদ্ভুত লাগলেও চুইংগাম চিবালে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বাড়তে পারে। এতে মনোযোগ বাড়ে এবং শেখার ক্ষমতা উন্নত হতে পারে। চেষ্টা করুন এমন গাম নিতে যার ফ্লেভার দীর্ঘ সময় থাকে।

৭. হালকা গুনগুন করুন

নরম গলায় গান গাওয়া বা গুনগুন করা মস্তিষ্ককে শান্ত রাখে। এটি এমন এক নার্ভ উদ্দীপিত করে যা মস্তিষ্ককে শরীরের সঙ্গে সংযুক্ত করে। কেউ কেউ বলেন এটা মন ভালো করে দেয়। যে কোনো জায়গায় করা যায়, খুব সহজ একটি অভ্যাস।

৮. মানচিত্র আঁকুন, মেমোরি থেকে

আপনার পাড়া বা শহরের একটা মানচিত্র কাগজে আঁকার চেষ্টা করুন- গুগল ম্যাপ না দেখে! রাস্তার নাম, দোকান, পার্ক- যতটা মনে পড়ে আঁকুন। পরে দেখে নিন আসল মানচিত্রের সঙ্গে মিললো কিনা।

এই খেলাটির মাধ্যমে আপনার মেমোরি ও ফোকাস বাড়বে।

৯. অন্য হাত ব্যবহার করুন

আপনি ডান হাতে লিখেন? একদিন বাম হাতে লিখে দেখুন। অথবা অন্য হাতে খাওয়া, দাঁত ব্রাশ করারও চেষ্টা করতে পারেন।

প্রথমে অস্বাভাবিক লাগবে, কিন্তু নতুন কিছু শেখার চেষ্টা মানেই মস্তিষ্কে ভালো চ্যালেঞ্জ। প্রতিদিন ২-৩ মিনিট করলেও উপকার মিলবে।

১০. চোখ বন্ধ করে গোসলের সময় এক্সারসাইজ করুন

শাওয়ারে ঢুকে একবার চোখ বন্ধ করে শ্যাম্পু বা সাবান ধরার চেষ্টা করুন। তখন আপনি বুঝতে পারবেন কতটা স্পর্শ ইন্দ্রিয়ের উপর নির্ভর করছেন।

এটা আপনার মস্তিষ্ককে ‘দৃষ্টি ব্যতীত’ অন্য অনুভূতি দিয়ে কাজ করতে শেখায়। তবে পুরো সময় চোখ বন্ধ না রাখাই ভালো, নিরাপত্তার কথা মাথায় রাখুন।

১১. পড়ার ধরন বদলান

সব সময় চুপচাপ পড়ে থাকেন? মাঝে মাঝে উচ্চস্বরে পড়ে দেখুন। বা হালকা গান ছেড়ে রেখে বই পড়ুন- এটা আপনার ব্রেনকে আলাদা করে কাজ করতে বাধ্য করে।

এই ছোট ছোট পরিবর্তন দুপাশের মস্তিষ্ক একসঙ্গে কাজে লাগায়- শেখার ক্ষমতা বাড়ায়।

এই অভ্যাসগুলো শুধু মস্তিষ্কের জন্য ভালো না, বরং আপনাকে আরও মনোযোগী, কৌতূহলী ও প্রাণবন্ত রাখে। ছোট ছোট এই ব্রেন এক্সারসাইজগুলো করতে খুব বেশি সময় বা কষ্ট লাগে না কিন্তু উপকার অনেক।

সূত্র : ব্রাইট সাইড

সালথায় যে কারণে থামছে না সংঘর্ষ? —কারণ ও প্রতিরোধের উপায়

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ণ
সালথায় যে কারণে থামছে না সংঘর্ষ? —কারণ ও প্রতিরোধের উপায়

ফরিদপুরের সালথা উপজেলা মারামারি ও সংঘর্ষ প্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানকার স্থানীয় অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত মোড়ল কিংবা মাতুব্বররা এখানে লিড দিয়ে থাকেন। তারা তাদের দলে লোকজন ভিড়িয়ে আধিপত্য বিস্তার আর ক্ষমতার বলয় বৃদ্ধি করে থাকেন।

এরপর চলে এলাকায় আধিপত্য, দরবার-সালিশ, মামলা-হামলাসহ নানা কাহিনী। এভাবেই বৃদ্ধি পেয়েছে এ উপজেলার কাইজা, সংঘর্ষ আর বাড়ি-ঘর ভাংচুরের ঘটনা। এভাবেই কারো যাচ্ছে প্রাণ, কেউ হচ্ছেন বাড়ি হারা, কেউবা বরণ করছেন পঙ্গুত্ব।

যাহোক, এবার আসি কেন সালথা উপজেলায় মারামারি ও সংঘর্ষ বন্ধ হয় না—

এই উপজেলার মানুষ ধর্মপরায়ণ। তাইতো মাদ্রাসার সংখ্যাও বেশি, যেমন— বাহিরদিয়া মাদ্রাসা, পুরুরা মাদ্রাসা উল্লেখযোগ্য। মসজিদের সংখ্যাও অসংখ্য।

তবুও কেন থামছে না সংঘর্ষ—

‌> আধিপত্য বিস্তারের লড়াই:

মাতুব্বর তার আধিপত্য বিস্তার করতে এবং একক বলয় তৈরি করতে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে সংঘর্ষ করে থাকেন। এরপর ঢাল, সরকি, রামদা, লাঠিসোঁটা আর ইটপাটকেল দিয়ে চলে সংঘর্ষ। এই সংঘর্ষে যদি নিজের পক্ষের কোনো লোকজন না যায় তবে তাকে হুমকি-ধমকি দিয়ে থাকেন মাতুব্বর ও তার অনুসারীরা। এরপরও কাইজা বা সংঘর্ষে না গেলে যিনি কাইজায় না যান তার বাড়িতে হামলা-ভাংচুর করা, এছাড়া তাদের মারধর করা হয়। এ কারণে একজন নিরীহ মানুষ কাইজা বা সংঘর্ষে না যেতে চাইলেও বাধ্য করা হয়।

> জোর করে দলভুক্ত করা:

বিপীরত বা বিরোধী পক্ষের মাতুব্বরের লোকজনকে মারধর ও বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও হুমকি-ধমকি দিয়ে নিজের পক্ষে নিয়ে নেন অপেক্ষাকৃত ক্ষমতাসীন মাতুব্বর কিংবা মোড়লরা। অতঃপর দলে ভিড়িয়ে তাদের দিয়েও কাইজা করান। না করলে হুমকি-ধামকি আর ভাংচুর চালায় তাদের বাড়িঘরেও।

> প্রতিবাদের পথ বন্ধ:

কেউ যদি মাতুব্বরের অপকর্ম নিয়ে কথা বলে কিংবা প্রতিবাদ করে তবে তাকে মারধর সহ মিথ্যা মামলায় জড়ান ওই মাতুব্বর ও তার অনুসারীরা। তাই ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করেনা।

> একপাক্ষিক সালিশ ব্যবস্থা:

এলাকায় কোনো ঘটনা ঘটলেই এই অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত মোড়ল সালিশ ডেকে যে রায় দেন সেটাই মানতে হয়! ভয়ে কেউ সঠিক কথা বলতে পারেন না।

> সালিশকে আয়ের উৎস বানানো:

এরপর এই মোড়ল বা মাতুব্বররা এলাকায় যে কোনো ঘটনা মিমাংসার নামে সালিশ বসিয়ে উভয় পক্ষের কাছে থেকে বা যে কোনো এক পক্ষের কাছে থেকে টাকা বা জরিমানা আদায় করেন। অতঃপর সেখানে ভাগ বসানোর অভিযোগ রয়েছে অহঃরহ। কেউ প্রতিবাদ করলে হয়রানির শিকার হন সে ব্যক্তি।

> অসৎ যোগসাজশের অভিযোগ:

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মুষ্টিমেয় কিছু অসৎ কর্মকর্তার সঙ্গে এই মাতুব্বররা যোগসাজশ করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে বিধায় অনেক নিরীহ মানুষ থানা কিংবা প্রশাসনে অভিযোগ করলে উল্টো নিজেই অপরাধী ও মামলা হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাইতো, ভয়ে কেউ কথা বলতে চায় না।

> শিক্ষিত সমাজের নীরবতা:

এ উপজেলার উচ্চ শিক্ষিত ও ভালো চাকরিজীবী, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিল্পপতি আর ব্যবসায়ীরা এলাকায় থাকেন না। হয়রানি ও সম্মানহানির ভয়ে এ এলাকার মোড়ল কিংবা মাতুব্বরের বিরুদ্ধে কিছু বলেন না। সামাজিক প্রতিরোধও গড়ে তুলতে দেখা যায় না। তারা মনে করেন মাতুব্বরদের কিছু বললে উল্টো তারা নাজেহাল হবেন, পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় থাকবে। তাই অযথা ঝামেলায় জড়াতে চায় না।

এ উপজেলায় সংঘর্ষ ও মারামারি এড়াতে বা প্রতিরোধের উপায়-

> . ‘গ্রাম্য শান্তি কমিটি’ গঠন:

এ উপজেলায় মোড়ল কিংবা মাতুব্বর প্রথা বিলুপ্তি করে এলাকার সুশীল সমাজের লোক— যেমন নিরপেক্ষ স্কুল-কলেজের শিক্ষক, ব্যবসায়ী, মসজিদের ইমাম, চাকরিজীবী ও উচ্চ শিক্ষিত ছেলে-মেয়ে কিংবা নিরপেক্ষ একজন মানুষকে প্রধান করে নিরপেক্ষভাবে গ্রামের যেকোনো বিরোধ কিংবা সমস্যা সমাধান কিংবা পরিচালনা করার জন্য ‘গ্রাম্য শান্তি কমিটি’ নামক একটি কমিটি করে দেওয়া যেতে পারে। তারা গ্রামের যেকোনো বিরোধ মিমাংসা করবেন। না পারলে আইনগত সহায়তা নিবেন বা সুপারিশ করবেন।

> মাদকবিরোধী কমিটি:

প্রতিটি এলাকার গ্রামে গ্রামে মাদক নির্মূল ও প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। যারা এলাকার মাদক নির্মূল বা বন্ধে প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে কাজ করবে।

> সংঘর্ষ প্রতিরোধ টিম:

এ ছাড়া প্রতিটি গ্রামে সুশীল সমাজের লোকজন দিয়ে কাইজ্যা কিংবা সংঘর্ষ প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। যারা সংঘর্ষ বন্ধে ভূমিকা পালন করবেন।

> নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগ:

স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থেকে স্থানীয় মোড়ল কিংবা মাতুব্বর অথবা যারা মারামারিতে উস্কানি দেয় তাকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো পক্ষপাতিত্ব করা যাবেনা।

> প্রশাসন ও জনগণের সমন্বয়:

থানা পুলিশ ও প্রশাসন স্থানীয় প্রতিটি গ্রামে গঠন করা শান্তি কমিটির কিংবা সুশীল সমাজের সঙ্গে সমন্বয় করে আইনশৃঙ্খলা ভালো রাখতে কাজ করতে পারেন।

> জরুরি হেল্পলাইন চালু:

সংঘর্ষ ও কাইজা বন্ধে দ্রুত রেসপন্স করার জন্য থানা কিংবা উপজেলা প্রশাসনে হেল্পলাইন নম্বর চালু করা যেতে পারে। যাতে যেকোনো সহিংসতা বন্ধে দ্রুত রেসপন্স করতে পারে প্রশাসন।

> দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার অভিযান:

প্রশাসনের দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার নিয়মিত অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রাখা। যাতে নতুন দেশীয় অস্ত্র তৈরি করতে না পারা ও মানুষের ভয় এবং আতঙ্ক তৈরি হয় কাইজের বিরুদ্ধে।

> সচেতনতামূলক কার্যক্রম:

প্রশাসনের সহযোগিতায় একটি উপজেলায় সংশ্লিষ্ট এমপি, ইউএনও কিংবা ওসিকে প্রধান করে সুশীল সমাজ, চাকরিজীবী, শিক্ষিত ছেলে-মেয়ে, সম্মানি ব্যক্তির দ্বারা কয়েকটি কমিটি গঠন করা যেতে পারে। যে কমিটির কাজ হবে একেকদিন এক একটি স্কুল-কলেজে গিয়ে এভাবে প্রতিটি স্কুল-কলেজে পৌঁছে কাইজা বা সংঘর্ষের কুফল ও খারাপ দিকগুলো বিস্তর আলোচনা করতে পারে শিক্ষার্থীদের মাঝে। যাতে নতুন প্রজন্ম এই কাইজা করতে নিরুৎসাহিত হয়।

> নিয়মিত গণসভার আয়োজন:

থানার ওসি ও ইউনওর অন্তত মাসে এলাকার লোকজন নিয়ে এক একটি ইউনিয়নে গিয়ে কাইজা বন্ধে সভা-সমাবেশ করতে পারেন।

এইভাবেই সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সালথা উপজেলায় সংঘর্ষ ও সহিংসতা কমিয়ে আনা সম্ভব।

লেখক:

হারুন-অর-রশীদ, বিবিএ (অনার্স), এমবিএ (ব্যবস্থাপনা)।

– ফরিদপুর প্রতিনিধি: বাংলানিউজ২৪ ও দৈনিক আজকালের খবর।

– সিনিয়র সহ-সভাপতি : সালথা প্রেসক্লাব

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু, ঈদের আগেই নিভে গেল স্বপ্ন

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:৫৩ পূর্বাহ্ণ
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু, ঈদের আগেই নিভে গেল স্বপ্ন

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার শাওন মির্জা নামে এক প্রবাসী যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তিনি ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং সাবেক পুলিশ সদস্য মরহুম জাহিদ মির্জার একমাত্র ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (০৩ মে) রাতে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে মোটরসাইকেল চালানোর সময় দুর্ঘটনার শিকার হন শাওন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তাকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

শাওন মির্জা তিন বোনের মধ্যে একমাত্র ভাই ছিলেন। জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন তিনি। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে তার দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশা অপূর্ণ রেখেই তিনি চিরবিদায় নিলেন।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের মাঝে চলছে শোকের মাতম।

এদিকে, নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবার ও স্থানীয়রা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার জহুরুল হক মিঠু।

ভাঙ্গায় দুই অটোরিকশা সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:২৫ পূর্বাহ্ণ
ভাঙ্গায় দুই অটোরিকশা সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় দুই অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত শাহ আলম ফকির (৩৫) অবশেষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

দুর্ঘটনার তিনদিন পর মঙ্গলবার (৫ মে) রাত ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

নিহত শাহ আলম ফকির ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের আজিমনগর গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত আব্দুর রব ফকিরের ছেলে। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ মে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে আজিমনগর বাজার এলাকায় দুইটি অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে অন্তত পাঁচজন যাত্রী আহত হন। আহতদের মধ্যে শাহ আলমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রথমে তাকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

তিনদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে আহাজারি, স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি পুলিশ অবগত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।