খুঁজুন
রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

মাংস খেতে গিয়ে গলায় হাড় বিঁধলে কী করবেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ৭:১৩ পূর্বাহ্ণ
মাংস খেতে গিয়ে গলায় হাড় বিঁধলে কী করবেন?

ঈদুল আজহার আনন্দ মানেই পরিবারের সবাই মিলে বাহারি সব মাংসের পদের স্বাদ নেওয়া। কিন্তু এই উৎসবের আমেজে অনেক সময় অসাবধানতাবশত ঘটে যেতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা। বিশেষ করে তাড়াহুড়া করে মাংস খাওয়ার সময় ছোট বা ধারালো হাড় গলায় আটকে যাওয়া একটি পরিচিত সমস্যা, যা নিয়ে প্রায়ই রোগীদের হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভিড় করতে দেখা যায়।

খাবারের স্বাদে বুঁদ হয়ে ভালোভাবে না চিবিয়ে গিলে ফেলা কিংবা কথা বলতে বলতে খাওয়ার অভ্যাস এই বিপদ ডেকে আনে। এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে ভুল কিছু করে বসলে বিপদ আরও বাড়তে পারে। তাই উৎসবের আনন্দ অটুট রাখতে গলায় হাড় বিঁধলে কী করণীয় আর কখন দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে, সে বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।

খাবার গিলে ফেলার সময় আমাদের মুখ, জিব এবং খাদ্যনালির পেশিগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করে খাবারকে পাকস্থলীতে পৌঁছে দেয়। কিন্তু মাংসের হাড় যদি খুব ছোট বা ধারালো হয় এবং তা ঠিকমতো চিবানো না হয়, তবে পেশির এই প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে এবং হাড়টি গলার কোনো অংশে আটকে যায়। সাধারণত তাড়াহুড়া করে খেলে, খেতে খেতে কথা বললে, বয়স্ক বা শিশুদের ক্ষেত্রে এবং দাঁতের সমস্যা থাকলে এই ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যায়। এছাড়া খুব শুকনা বা শক্ত মাংস খেলেও এমন সমস্যা হতে পারে।

গলায় হাড় বিঁধলে প্রাথমিক পদক্ষেপ

হঠাৎ গলায় হাড় বিঁধলে ঘাবড়ে না গিয়ে নিচের পদক্ষেপগুলো নেওয়া যেতে পারে:

হালকা কাশি দিন: গলায় কিছু আটকেছে মনে হলে প্রথমেই হালকা করে কাশি দেওয়ার চেষ্টা করুন। অনেক সময় কাশির ধাক্কায় ছোট হাড় সরে আসে। তবে খুব জোরে বা মারাত্মভাবে কাশির চেষ্টা করবেন না।

ধীরে ধীরে পানি পান: কয়েক ঢোক পানি খুব ধীরে ধীরে পান করুন, এতে হাড়টি নিচে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে গিলতে খুব বেশি কষ্ট হলে জোর করে পানি খাওয়া ঠিক হবে না।

নরম খাবার খাওয়া: সামান্য পরিমাণ নরম ভাত, কলা বা পানিতে ভেজানো রুটি খেয়ে দেখা যেতে পারে। তবে এটি করার সময় অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে, কারণ ধারালো হাড় হলে তা উল্টো আরও গভীরে গেঁথে যেতে পারে।

অপেক্ষা করুন: অনেক সময় হাড়ের আঁচড় লেগে গলার ভেতরে ক্ষত তৈরি হয়, যার ফলে মনে হয় কিছু আটকে আছে। যদি অস্বস্তি খুব বেশি না হয়, তবে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলে এই অনুভূতি চলে যেতে পারে।

যা করা একদমই উচিত নয়

আতঙ্কিত হয়ে অনেকেই ভুল পদ্ধতি অবলম্বন করেন, যা পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। যেমন:

আঙুল ঢুকিয়ে হাড় বের করার চেষ্টা করা।

শুকনা ভাতের বড় দলা বা শক্ত খাবার জোর করে গেলা।

শিশুদের ক্ষেত্রে নিজে নিজে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ ঘরোয়া সমাধান চেষ্টা করা।

শ্বাসকষ্ট শুরু হলে কালক্ষেপণ করা।

কখন দ্রুত হাসপাতালে যাবেন?

কিছু লক্ষণ দেখা দিলে ঘরোয়া উপায়ের জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যেতে হবে:

শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া বা দম বন্ধ হয়ে আসার অনুভূতি।

কথা বলতে না পারা এবং অতিরিক্ত কাশি হওয়া।

লালা গিলতে প্রচণ্ড ব্যথা বা একেবারেই গিলতে না পারা।

বুকে ব্যথা হওয়া বা মুখ নীলচে হয়ে যাওয়া।

যদি এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে হাড় আটকে থাকার অস্বস্তি বজায় থাকে।

হাসপাতালে চিকিৎসকেরা সাধারণত এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে এই আটকে থাকা হাড় বের করে থাকেন। দেরি করলে খাদ্যনালিতে সংক্রমণ বা গভীর ক্ষত তৈরির ঝুঁকি থাকে।

জরুরি অবস্থা ও হাইমলিখ ম্যানুভার

যদি হাড় বা খাবারের বড় টুকরো শ্বাসনালিতে আটকে গিয়ে ব্যক্তি কথা বলতে বা শ্বাস নিতে না পারেন, তবে এটি একটি চরম জরুরি অবস্থা। এমন সময় আক্রান্ত ব্যক্তিকে সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে পিঠে ৫ বার চাপড় দিতে হবে। এছাড়া জানাশোনা থাকলে ‘হাইমলিখ ম্যানুভার’ (পেটের ওপর বিশেষ পদ্ধতিতে চাপ প্রয়োগ) করা যেতে পারে, যা আটকে থাকা বস্তু বের করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স বা জরুরি চিকিৎসার সহায়তা নিতে হবে।

সতর্কতাই সর্বোত্তম প্রতিরোধ

উৎসবের দিনগুলোতে একটু সতর্ক থাকলেই এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। মাংস খাওয়ার সময় ছোট হাড় আছে কি না তা ভালো করে দেখে নেওয়া এবং প্রতিটি লোকমা ভালোভাবে চিবিয়ে ধীরে ধীরে খাওয়া উচিত। বিশেষ করে পরিবারের শিশু ও বয়স্ক সদস্যদের খাওয়ার সময় বাড়তি নজরদারি রাখা প্রয়োজন। মনে রাখবেন, একটু সচেতনতাই পারে আপনার উৎসবের আনন্দকে নিরাপদ রাখতে।

তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন, ভিনমেক ও মেডিকেল টুডে

মধুখালীতে ঘরের চালের বৃষ্টির পানি পড়াকে কেন্দ্র করে যুবককে কুপিয়ে জখম

মো. ইনামুল খন্দকার, মধুখালী:
প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ৯:৫৩ অপরাহ্ণ
মধুখালীতে ঘরের চালের বৃষ্টির পানি পড়াকে কেন্দ্র করে যুবককে কুপিয়ে জখম

ফরিদপুরের মধুখালীতে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে লাল চান মন্ডল (৩৮) নামে এক যুবককে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। গুরুতর অবস্থায় তাকে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়েছে। 

শনিবার (৩০ মে) সকাল সাড়ে ৮ টায় উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের চরকোমরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় লাল চান মন্ডলের ভাবি রুলিয়া বেগম বাদী হয়ে শনিবার বিকালে মধুখালী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে  কাশেম মন্ডল, জামিরুল মন্ডল, মনিরুল মন্ডল,আজিজুল মন্ডল, মরিয়ম বিবি, ঘরের চালের বৃষ্টির পানির ফোটা তাদের জমিতে পড়াকে কেন্দ্র করে লাল চান মন্ডলকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা করে।

মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় বলেন, ‘এ বিষয়ে থানায় একটি অভিযোগ পেয়েছি পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফরিদপুরে জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)-এর ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে ফরিদপুরে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৩০ মে) বিকেলে ফরিদপুর জেলা ও মহানগর বিএনপির যৌথ উদ্যোগে শহরের কাঠপট্টি দলীয় কার্যালয়ে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোদাররেস আলী ঈছা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ.কে.এম কিবরিয়া স্বপন, মহানগর বিএনপির ‌ আহ্বায়ক এ এফ এম কাইয়ুম জঙ্গি, ‌সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফা মিরাজ, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এমটি আখতার টুটুল, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আজম খানসহ জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

আলোচনা সভায় বক্তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, দেশের উন্নয়ন ও জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের বাংলাদেশ গঠনে দেশের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে জনগণের শ্রমকে সম্পদে পরিণত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

এ সময় বক্তারা বিএনপির ‌চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানের শেষে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

ভাঙ্গায় ফের দু’দল গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ৩০

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ৬:০৮ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গায় ফের দু’দল গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ৩০

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ফেসবুকে ভিডিও করে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অপপ্রচারকে কেন্দ্র করে একদিন পর আবারও দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার (৩০ মে) সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়নের বাবনাতলা বাসস্ট্যান্ডে মহাসড়কের ওপর ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষ চলাকালে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে সকল ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকে। উভয় পাশে যানবাহন আটকা পড়ে। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে গতকাল শুক্রবার (২৯ মে) সন্ধ্যায় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে সোহাগ চেয়ারম্যানের লোকজন বেশি আহত হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহ আগে আকরাম শেখ নামের এক যুবক চুমুরদী ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে ঈদের চাল কম দিচ্ছেন চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সোহাগ মোল্লা এমন ভিডিও করে ফেসবুকে প্রচার করে। ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ হওয়ার পর ভাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থল চুমুরদী ইউনিয়ন পরিষদে সত্যতা যাচাই করতে যান। তিনি চেয়ারম্যান ও আনোয়ার উদ্দিন মেম্বারকে ফোন করে চালের বিষয় তথ্য জানতে চান। আকরাম শেখ পুরোপুরি তথ্য না জেনে মিথ্যা একটা ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ায় চুমুরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহাগ মোল্লা ক্ষুব্ধ হন।

এ ব্যাপারে চুমুরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহাগ মোল্লা বলেন, আমাদের বাবলাতলা গ্রামের টিকটকার আকরাম শেখ তথ্য না জেনে আমার বিরুদ্ধে একটা ভিডিও ফেসবুকে অপ-প্রচার করে আমার সম্মান ক্ষুন্ন করেছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় আকরাম শেখকে আমার ভাই চন্দন এ বিষয় জিজ্ঞেসা করলে সে উত্তেজিত হয়ে তার ওপর হামলা চালায়। তখন দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে এই সংঘর্ষ শুরু হয়।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল শুক্রবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনার জের ধরে আজ শনিবার সকালে আবারও দুই দল গ্রামবাসী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে সক্ষম হয়েছে। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং মোড়ে মোড়ে পুলিশ মোতায়ন রয়েছে। এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত থানায় কেউ কোন অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।