খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

জিমে না গিয়েই ফিট ও শক্তিশালী থাকার উপায়, জেনে নিন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:০১ এএম
জিমে না গিয়েই ফিট ও শক্তিশালী থাকার উপায়, জেনে নিন

অনেকের বাসায় ডাম্বেল বা জিমের যন্ত্রপাতি নেই। কিন্তু তাই বলে শক্তি বাড়ানো অসম্ভব নয়। আসলে আপনার শরীরই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর ব্যায়ামের মাধ্যম। এখনো অনেকেই মনে করেন শক্তি বাড়াতে হলে ভারী ওজন তুলতেই হবে। আবার কেউ কেউ একই ধরনের বডি ওয়েট ব্যায়াম দীর্ঘদিন করে ফল না পেয়ে হতাশ হন।

বাস্তবে পেশি ওজন নয়, চ্যালেঞ্জের প্রতিক্রিয়ায় শক্তিশালী হয়। নিজের শরীরের ওজন ব্যবহার করে কীভাবে সেই চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে হয়, তা বুঝতে পারলেই যে কোনো জায়গায় কার্যকরভাবে শক্তি বাড়ানো সম্ভব।

ওজন ছাড়াই শক্তি বাড়ানোর বিজ্ঞান

শক্তি বাড়ানোর মূল নীতি হলো পেশিকে তার অভ্যস্ত সীমার বাইরে কাজ করানো। এতে পেশি ধীরে ধীরে নিজেকে মানিয়ে নেয় এবং আরও শক্তিশালী হয়। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় প্রগ্রেসিভ ওভারলোড। এটি শুধু ওজন তোলার ক্ষেত্রেই নয়, বডি ওয়েট ব্যায়ামেও সমানভাবে প্রযোজ্য।

বডি ওয়েট ব্যায়ামে এই চ্যালেঞ্জ তৈরি করা যায় ভিন্ন ভিন্ন ভঙ্গি ব্যবহার করে, শরীরের কোণ পরিবর্তন করে, ব্যায়াম ধীরে করে বা কিছুক্ষণ ধরে রেখে। এখানে দুটি বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ। একটি হলো কতক্ষণ পেশি সক্রিয় থাকে, আরেকটি হলো পেশির ক্লান্তি।

ব্যায়াম ধীরে করলে, নিচে বা ওপরে কিছুক্ষণ থামলে কিংবা একই ভঙ্গিতে ধরে রাখলে পেশির ওপর চাপ বাড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই বাড়তি সময় ধরে চাপ পেশি শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। একইভাবে নিরাপদভাবে ক্লান্তি পর্যন্ত পৌঁছানোও পেশি ও স্নায়ুতন্ত্রকে শক্তি বাড়ানোর সংকেত দেয়।

শ্বাস-প্রশ্বাসের ভূমিকা

সঠিক শ্বাসপ্রশ্বাস শক্তি বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্কোয়াট থেকে ওঠা বা পুশআপ দেওয়ার সময় যখন জোর প্রয়োগ করা হয়, তখন শ্বাস ছাড়লে শরীর বেশি স্থিতিশীল থাকে। এতে পেট ও কোমরের পেশি সক্রিয় থাকে এবং ব্যায়াম আরও কার্যকর হয়।

কীভাবে ধাপে ধাপে বডি ওয়েট ব্যায়াম বাড়াবেন

একই ব্যায়াম দীর্ঘদিন একইভাবে করলে অগ্রগতি থেমে যায়। তাই ধীরে ধীরে ব্যায়ামের কঠিন মাত্রা বাড়ানো জরুরি। নিচে শরীরের প্রধান অংশগুলোর জন্য সহজ থেকে তুলনামূলক কঠিন ব্যায়ামের ধাপ দেওয়া হলো। যেটি করতে কষ্ট হয় কিন্তু নিয়ন্ত্রণ রাখা যায়, সেটি বেছে নিন। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন প্রতিটি ব্যায়াম আট থেকে বারো বার করুন। যেগুলো ধরে রাখতে হয়, সেগুলো বিশ থেকে ত্রিশ সেকেন্ড রাখার চেষ্টা করুন।

শরীরের নিচের অংশের ব্যায়াম

ওয়াল সিট – দেয়ালের সঙ্গে পিঠ লাগিয়ে দাঁড়িয়ে হাঁটু ভাঁজ করে বসার মতো অবস্থায় থাকুন। গভীর শ্বাস নিতে নিতে অবস্থান ধরে রাখুন।

বডি ওয়েট স্কোয়াট – পা সামান্য ফাঁক করে দাঁড়িয়ে ধীরে নিচে বসুন এবং শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে উঠে দাঁড়ান।

স্প্লিট স্কোয়াট – এক পা পেছনে রেখে দুই হাঁটু ভাঁজ করুন। সামনে থাকা পায়ের গোড়ালিতে ভর দিয়ে আবার উঠে আসুন।

চ্যালেঞ্জ বাড়াতে চাইলে নিচে নামার সময় আরও ধীরে করুন বা নিচে কিছুক্ষণ থামুন।

শরীরের ওপরের অংশের ব্যায়াম

ইনক্লাইন পুশ আপ – টেবিল বা উঁচু কোনো স্থানে হাত রেখে শরীর সোজা করে পুশ আপ করুন।

পুশ আপ – মেঝেতে শরীর সোজা রেখে নিয়ন্ত্রিতভাবে পুশ আপ দিন।

ডিক্লাইন পুশ আপ – পা একটু উঁচু জায়গায় রেখে পুশ আপ করুন। এতে চাপ আরও বাড়বে।

কোর বা পেটের ব্যায়াম

ডেড বাগ – চিৎ হয়ে শুয়ে এক হাত ও বিপরীত পা ধীরে নামান, পিঠ যেন না বাঁকে।

লেগ লোয়ার – দুই পা একসঙ্গে ধীরে নামান, পেট শক্ত রেখে।

হলো বডি হোল্ড – চিৎ হয়ে শুয়ে হাত ও পা মেঝের ওপর থেকে তুলে ধরে রাখুন, পেট শক্ত রাখুন।

জিমে না গিয়েও শক্তিশালী হওয়া পুরোপুরি সম্ভব। সঠিক কৌশল, ধাপে ধাপে অগ্রগতি, সচেতন শ্বাস-প্রশ্বাস এবং নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে নিজের শরীরের ওজনই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর ব্যায়ামের মাধ্যম। একটু ধৈর্য আর সচেতনতা রাখলে ঘরেই গড়ে তোলা যায় শক্তিশালী ও সুস্থ শরীর।

সূত্র : সিএনএন

ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৭:১১ এএম
ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

পবিত্র ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দ, ভালোবাসা আর পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধনকে নতুন করে দৃঢ় করার এক মহিমান্বিত উপলক্ষ। এদিন ছোটদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং আপনজনদের সঙ্গে হৃদ্যতার সম্পর্ক আরও গভীর করতে আমাদের সমাজে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়ার একটি সুন্দর প্রচলন রয়েছে।

তবে এই প্রথার ধর্মীয় অবস্থান কী, এটি কি ইবাদত, নাকি কেবল সামাজিক রীতি? শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি বোঝা জরুরি, যেন আমরা আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি ইসলামের সঠিক নির্দেশনাও মেনে চলতে পারি।

রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী বলেন, ইসলামের মূলনীতি হলো, যে কোনো কাজ ততক্ষণ বৈধ, যতক্ষণ না তা শরিয়তের কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে ঈদের দিনে কাউকে খুশি করার উদ্দেশে অর্থ বা উপহার দেওয়া নিঃসন্দেহে বৈধ। বরং হাদিসে উপহার আদান-প্রদানের মাধ্যমে ভালোবাসা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তাই ছোটদের আনন্দ দেওয়া, আত্মীয়তার সম্পর্ক দৃঢ় করা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ানোর নিয়তে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া একটি সুন্দর ও প্রশংসনীয় আমল হতে পারে।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখতে হবে, ঈদ সালামি কোনো ইবাদত নয় এবং এটি ইসলামের নির্ধারিত কোনো বিধানও নয়। এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রথা মাত্র। সুতরাং একে বাধ্যতামূলক মনে করা বা না দিলে দোষারোপ করা ঠিক নয়।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ইউটিউব চ্যানেলে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ইসলামে সালামের পরিভাষা রয়েছে। কোরআনে আছে, ‘তোমাদেরকে কেউ যদি কোনো অভিবাদন জানায় বা সালাম পেশ করে, তাহলে সে যে ভাষায় তোমাকে সালাম দিয়েছে, সে ভাষায় তুমি জবাব দাও। অথবা এর চেয়ে উত্তম শব্দ ব্যবহার করে সালাম দাও।’ হজরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদেরকে সালাম দিতে নির্দেশ করেছেন। মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে পরস্পরের শান্তি কামনা করা হলো সালাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের সালামি পেতে বাচ্চারা বড়দের সালাম দিলে তারা সালামের উত্তর দেবেন। সালামের জবাব দিয়ে তাদের কিছু হাদিয়া দেবেন, এটা আমাদের দেশের সংস্কৃতি। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কোরআন-হাদিসের সঙ্গে এর কোনো সংঘর্ষ নেই। পা ছুঁয়ে সালাম করলে সালামি দিতে হবে, এটা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সে সালাম দিলে জবাব দিয়ে তাকে সালামি দিয়ে দেওয়া উচিত। পা ছুঁয়ে সালাম করতে তাকে বাধ্য করা উচিত নয়।’

সূত্র : কালবেলা

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।