খুঁজুন
শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১২ বৈশাখ, ১৪৩৩

টক্সিক পরিবার: যে ট্রমা সারা জীবন বয়ে বেড়াতে হয়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:১৬ পূর্বাহ্ণ
টক্সিক পরিবার: যে ট্রমা সারা জীবন বয়ে বেড়াতে হয়

আপনি কেমনভাবে বড় হয়েছেন, তা জীবনের পরবর্তী ধাপেও প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞরা এখনও বিতর্ক করেন, প্রকৃতি না লালন-পালনের মধ্যে কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু স্পষ্টভাবে বলা যায়, পরিবার এবং বেড়ে ওঠার পরিবেশ আমাদের ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কঠিন পরিবেশে বড় হওয়া অনেক সময় এমন মানসিক ও আবেগগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করে, যা অন্যরা পুরোপুরি বুঝতে পারে না। নিজের অতীত ও তার প্রভাব বোঝার চেষ্টা করলে আপনি আরও শান্ত, আত্মবিশ্বাসী ও স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করতে পারবেন। একবার এ বিষয়টি বুঝে নিলে এবং গ্রহণ করলে, অতীতের ছায়া থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। কঠিন শৈশব কাটিয়ে ওঠা সময়সাপেক্ষ হতে পারে, কিন্তু থেরাপি এবং সচেতন প্রচেষ্টার মাধ্যমে নিজেকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।
এখানে কিছু ট্রমা উল্লেখ করা হলো, যা টক্সিক পরিবারে বড় হওয়ার কারণে দেখা দিতে পারে

নিজের পরিচয় বোঝা যায় না : যদি আপনার শৈশব অস্থির হয় বা সবসময় অন্যদের চাহিদা আগে পূরণ করতে হতো, তবে হয়তো আপনি জানেন না আসলে আপনি কে। এ ধরনের পরিবেশে মানুষ নিজের সঙ্গে পরিচিত হতে পারে না এবং নিজের মত করে বাঁচতে ভয় পায়।

সবাইকে দূরত্বে রাখেন : যদি পরিবারে আবেগিক সংযোগ কম থাকে, তাহলে বড় হয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলা কঠিন হতে পারে। অনুভূতি প্রকাশ করা অস্বস্তিকর মনে হতে পারে, তাই মানুষকে দূরে রাখা যায়, যাতে হয়তো হতাশা বা আঘাত কম হয়।

সবসময় সাবধান থাকা : টক্সিক পরিবেশে আবেগিক অস্থিরতা সাধারণ। রাগ বা মানসিক সমস্যা থাকা অভিভাবকের মধ্যে বড় হওয়া মানে আপনি ছোট ভুলেও ভয় পেতে পারেন। তাই অনেক সময় আপনি দ্বন্দ্ব এড়িয়ে চলেন এবং নিজের মত কথা বলতে ভয় পান।

সবকিছুর জন্য নিজেকে দোষারোপ করা : কিছু পরিবারে অভিভাবক ছোটখাটো ভুলেও সন্তানকে দোষারোপ করেন। এতে আপনি মনে করতে পারেন সব দায়িত্বই আপনার কাঁধে, এমনকি যখন সেটা যুক্তিসঙ্গত নয়।

ব্যর্থতা সহ্য করা কঠিন : যদি অভিভাবক কঠোর এবং সর্বদা নিখুঁত হওয়ার আশা রাখতেন, তাহলে ব্যর্থতা মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে যায়। বড় হয়ে এমন মানুষ হয়তো সবসময় নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা করেন এবং ভুল মেনে নিতে ভয় পান।

অন্যের সামনে নিজেকে প্রকাশ করতে ভয় পাওয়া : যদি বাড়িতে সবসময় ঝগড়া চলত, আপনি বড় হয়ে দ্বন্দ্ব এড়িয়ে চলতে পারেন। নিজের মতামত প্রকাশ করা বা অন্যের সঙ্গে বিতর্কে অংশ নেওয়া কঠিন হয়ে ওঠে।

পরিবারের সঙ্গে সময় কাটালে ক্লান্তি অনুভব করা : বড় হয়ে টক্সিক পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো মানসিক বা আবেগিক ক্লান্তি তৈরি করতে পারে। মূলত পরিবার হওয়া উচিত সমর্থন ও সান্ত্বনার জায়গা, কিন্তু টক্সিক পরিবেশে এটি প্রায়ই বোঝা বা চাপের মতো মনে হয়।

টক্সিক পরিবারের মধ্যে বড় হয়ে ওঠা জীবনের নানা ধাপকে প্রভাবিত করে। নিজের অতীতকে বোঝা ও গ্রহণ করা, থেরাপি বা সচেতন প্রচেষ্টার মাধ্যমে মানসিক সুস্থতা অর্জন সম্ভব। এমন পরিস্থিতিতে নিজেকে ভালোবাসা, সীমা নির্ধারণ করা এবং প্রয়োজন হলে সাহায্য নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। স্মরণ রাখুন, অতীত আপনাকে সংজ্ঞায়িত করে না – আপনি এখনও নিজের জীবনের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেন।

সূত্র : Relationship Rules

ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:০৪ পূর্বাহ্ণ
ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

পবিত্র ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ জানিয়েছে শারজাহ স্পেস অ্যান্ড অ্যাস্ট্রনোমি হাব (এসএসএএইচ)। শারজাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত এ সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ঈদুল আজহা ২৭ মে অনুষ্ঠিত হতে পারে। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবে সম্ভাব্য এ তারিখ জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৮ মে জিলহজ মাসের প্রথম দিন হতে পারে। সেক্ষেত্রে আরাফার দিন তথা ৯ জিলহজ হবে ২৬ মে। কেন্দ্রটির হিসাব অনুযায়ী, ১৭ মে রাত ১২ টা ১৭ মিনিটে চাঁদের সংযোগ ঘটবে। ফলে এ দিন ১৪৪৭ হিজরির জিলকদ মাসের ২৯ তারিখ হবে। ওইদিন সূর্যাস্তের সময় চাঁদের বয়স হবে প্রায় ১৮ ঘণ্টা ৩৯ মিনিট। এছাড়া সূর্যাস্তের পর প্রায় ৫৭ মিনিট দিগন্তের ওপরে দৃশ্যমান থাকবে। কেন্দ্রটির মতে, অনুকূল আবহাওয়ায় খালি চোখে চাঁদ দেখার জন্য এই সময়সীমা যথেষ্ট।

এসএসএএইচের পরিচালক প্রফেসর হামিদ এম. কে. আল নাঈমি জানান, কেন্দ্রটি তাদের এই বৈজ্ঞানিক তথ্য ইতোমধ্যেই আমিরাতের ফতোয়া কাউন্সিলের কাছে জমা দিয়েছে। চাঁদ দেখার প্রক্রিয়া সহজ করতে এবং বৈজ্ঞানিক তথ্য ও ইসলামী শরিয়ার সমন্বয়ে ধর্মীয় সিদ্ধান্ত নিতে এমনটি করা হয়েছে।

এসএসএএইচ জানিয়েছে, এই তথ্য কেবল বৈজ্ঞানিক ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়েছে। হিজরি মাসের শুরু এবং ধর্মীয় উৎসবের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার একমাত্র ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট সরকারি ও ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের হাতে রয়েছে।

সূত্র : গালফ নিউজ

এই ১০ পাপের শাস্তি দুনিয়াতে না পেয়ে কারও মৃত্যু হবে না

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৫৪ পূর্বাহ্ণ
এই ১০ পাপের শাস্তি দুনিয়াতে না পেয়ে কারও মৃত্যু হবে না

মানুষের জীবনে এমন কিছু পাপ ও অন্যায় রয়েছে, যেগুলোর শাস্তি কেবল পরকালের জন্য স্থগিত থাকে না; বরং দুনিয়াতেই তার প্রতিফলন দেখা যায়। কখনো তা আসে পারিবারিক অশান্তি হিসেবে, কখনো সামাজিক অপমান, আবার কখনো জীবনের বরকত ও শান্তি হারানোর মধ্য দিয়ে।

সমসাময়িক সমাজ বাস্তবতায় দেখা যায়, প্রযুক্তির বিস্তার ও ভোগবাদী জীবনের চাপে অনেকেই অজান্তে কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে এসব গুরুতর পাপে জড়িয়ে পড়ছেন। কিন্তু এর ভয়াবহতা অনুধাবন করতে না পারায় তারা দুনিয়াতেই নানা ধরনের সংকট, অস্থিরতা ও বিপদের সম্মুখীন হচ্ছেন। এ বাস্তবতাকে সামনে এনে জনপ্রিয় ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ ইউটিউবে এক আলোচনায় কোরআন-হাদিসের আলোকে এমন ১০টি পাপের কথা তুলে ধরেছেন, যেগুলোর শাস্তি দুনিয়াতে ভোগ করানো ছাড়া আল্লাহ কাউকে মৃত্যু দেবেন না।

নিচে ফরিদপুর প্রতিদিনের পাঠকদের জন্য সেই ১০টি ভয়াবহ পাপ তুলে ধরা হলো—

১. মা-বাবার অবাধ্যতা

মা-বাবার সাথে বেয়াদবি, তাদের অশ্রদ্ধা করা বা তাদের অধিকার খর্ব করা এমন এক অপরাধ, যার শাস্তি আল্লাহ দুনিয়াতেই দিয়ে থাকেন। হাদিস অনুযায়ী, মা-বাবার নাফরমান সন্তানের প্রায়শ্চিত্ত দুনিয়াতে ভোগ করা ছাড়া মৃত্যু হয় না। এই পাপ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো মা-বাবার কাছে সরাসরি ক্ষমা চাওয়া এবং তাদের সন্তুষ্ট করা।

২. জুলুম বা অবিচার

কারো ওপর গায়ের জোর খাটানো বা মাস্তানি করা এমন এক জঘন্য পাপ, যার শাস্তি আল্লাহ দুনিয়াতে নগদ দেন। পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো জালেমই জুলুম করে পার পায়নি। এমনকি পশুপাখিও যদি একে অন্যের ওপর জুলুম করে, তবে কেয়ামতের দিন আল্লাহ তার বিচার করবেন। মাজলুম ব্যক্তি যদি অন্য ধর্মেরও হয়, তবুও আল্লাহ তার ডাকে সাড়া দেন এবং জালেমকে পাকড়াও করেন।

৩. আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা

রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়দের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা একটি ভয়াবহ অপরাধ। অনেক সময় মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ‘কাগুজে বন্ধু’দের নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও নিজের আপন ফুফু, চাচা বা ভাই-বোনের খবর রাখে না। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করে, আল্লাহ তার সাথে নিজের সম্পর্ক ছিন্ন করেন এবং সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।

৪. কথায় কথায় মিথ্যা বলা

মিথ্যা সব পাপের মূল। যারা কথায় কথায় মিথ্যা বলে, তাদের ওপর আল্লাহর লানত বা অভিশাপ বর্ষিত হয়। মিথ্যাবাদীদের জীবনে আল্লাহ কখনোই বরকত দান করেন না এবং দুনিয়াতেই তাদের লাঞ্ছিত হতে হয়।

৫. আমানতের খেয়ানত

কারো গচ্ছিত সম্পদ নষ্ট করা, গোপন কথা ফাঁস করা কিংবা অন্যের লেখা চুরি করা (প্লেজিয়ারিজম) আমানতের খেয়ানতের অন্তর্ভুক্ত। যারা মানুষের বিশ্বাস ভঙ্গ করে, আল্লাহ তাদের দুনিয়াতে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি করেন।

৬. মানুষকে অপমান ও অপদস্ত করা

আজকাল বন্ধু-বান্ধব মিলে কাউকে নিয়ে ট্রল করা বা ‘রেগিং’ করাকে বিনোদনের অংশ মনে করা হয়। কিন্তু মনে রাখতে হবে, যে ব্যক্তি অন্যকে অপমান করে, সে নিজেও কোনো না কোনো পরিস্থিতিতে মানুষের কাছে অপমানিত হবেই—এটি আল্লাহর নিয়ম।

৭. লোকদেখানো ইবাদত

মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্য বা ফেসবুকে লাইক-কমেন্ট পাওয়ার আশায় কোনো ভালো কাজ করা লৌকিকতা। যারা মানুষকে দেখানোর জন্য দান-সদকা বা ইবাদত করে, তাদের আমলের কোনো সওয়াব তো থাকেই না, উল্টো দুনিয়াতে তাদের জন্য লাঞ্ছনা অপেক্ষা করে।

৮. নেয়ামতের অকৃতজ্ঞতা

আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত ভোগ করে যদি কেউ তার শোকর আদায় না করে কিংবা যে মানুষটি তার উপকার করেছে তার প্রতি কৃতজ্ঞ না হয়, তবে আল্লাহ সেই নেয়ামত ছিনিয়ে নেন। অকৃতজ্ঞ ব্যক্তির জীবনে অভাব-অনটন ও ভয় গ্রাস করে।

৯. ব্যবসায় প্রতারণা ও ওজনে কম দেওয়া

মাপে কম দেওয়া বা ভালো মালের নিচে পচা মাল লুকিয়ে রাখা ইসলামের দৃষ্টিতে বড় অপরাধ। কোনো বিক্রেতা যদি কাস্টমারের সাথে প্রতারণা করে, তবে সে রাসুলের (সা.) উম্মত হিসেবে দাবি করার যোগ্যতা হারায়। এই ধরনের অসাধু ব্যবসায়ীরা পার্থিব সম্পদে বরকত পায় না এবং অশান্তিতে ভোগে।

১০. আল্লাহর প্রতি অবিশ্বাস ও অবাধ্যতা

যেকোনো ধরনের পাপ বা আল্লাহর বিধানের অবাধ্যতার একটি বড় শাস্তি হলো মানসিক অশান্তি ও ডিপ্রেশন। দেখা যায়, সব ধরনের ভোগ-বিলাসের উপকরণ থাকা সত্ত্বেও পাপিষ্ঠ ব্যক্তির মনে শান্তি থাকে না, যা অনেক সময় তাদের আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেয়।

এই ‘সিক্রেট’ অনুসরণে স্ত্রীর সঙ্গে কোনো ঝগড়া হবে না

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৪০ পূর্বাহ্ণ
এই ‘সিক্রেট’ অনুসরণে স্ত্রীর সঙ্গে কোনো ঝগড়া হবে না

দাম্পত্যজীবন মানেই কি কেবল ঠুনকো ঝগড়া আর মনোমালিন্য? নাকি এর গভীরে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো শান্তির মন্ত্র? বর্তমান সময়ে পারিবারিক অশান্তি ও কলহ যখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন সুখী দাম্পত্যজীবনের একটি অভিনব ও কার্যকরী ‘সিক্রেট’ বা গোপন সূত্রের কথা আলোচনা করেছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ।

সম্প্রতি তার ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে আলোচনাটি প্রকাশ হয়েছে। ফরিদপুর প্রতিদিনের পাঠকদের জন্য নিচে তা তুলে ধরা হলো।

শান্তির মূল মন্ত্র স্ত্রীর অনুগত থাকা

শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, দাম্পত্য জীবনের সুখের একটি বড় গোপন রহস্য হলো, যে ঘরে স্বামী তার স্ত্রীর কথা মতো চলে, সেখানে সাধারণত অশান্তি হয় না। তিনি বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, সব জায়গায় নিজের পাণ্ডিত্য বা যুক্তি প্রদর্শন চলে না। বাইরের জগতে আপনি যতই প্রভাবশালী বা বিজ্ঞ হোন না কেন, ঘরের ভেতর এসে কিছুটা ‘বোকা’ সাজাই হলো শান্তির মূল কৌশল। যদি কোনো স্বামী সব সময় নিজের জেদ বা যুক্তি দিয়ে স্ত্রীকে হারানো চেষ্টা করেন, তবে সেখানে অশান্তি অনিবার্য।

বিড়ালের মতো শান্ত স্বভাব

সংসার জীবনে শান্তি বজায় রাখতে হলে পুরুষদের ধৈর্য ধারণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, সারা জগত আপনি শাসন করলেও ঘরের ভেতর এসে যথাসম্ভব শান্ত ও নমনীয় থাকতে হবে, অনেকটা ‘বিড়ালের মতো মেও মেও’ করে চলার মতো। এমনকি নববিবাহিতদের প্রতি তার নসিহত হলো, স্ত্রীর কথা শোনার মানসিকতা তৈরি করা এবং অযথা তর্কে না জড়ানো। যদি স্ত্রী কোনো কারণে ঝাড়ি দেয় বা রাগ করে, তবে সেখানে পালটা যুক্তি না দেখিয়ে ধৈর্য ধরে থাকাটাই একজন আদর্শ পুরুষের গুণ।

মা ও স্ত্রীর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা

একজন পুরুষকে একই সাথে মা এবং স্ত্রীর অধিকারের ভারসাম্য রক্ষা করতে হয়। অনেক সময় মাকে বোঝাতে গিয়ে স্ত্রীর কাছে ঝাড়ি খেতে হয়, আবার স্ত্রীকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে মায়ের বকুনি শুনতে হয়। এই দুই পক্ষ থেকে আসা চাপ সামলে নেওয়াই একজন সফল পুরুষের পরিচয়। শায়খ বলেন, স্ত্রীর কাছে যেমন নমনীয় থাকতে হবে, মায়ের কাছে তার চেয়েও বেশি নমনীয় থাকা আবশ্যক।

কৌশলী শাসন ও যুদ্ধবিরতি

তার মানে এই নয় যে, স্ত্রী কোনো অন্যায় করলে তা মুখ বুজে সহ্য করতে হবে। তবে শাসন করার পদ্ধতি হতে হবে অত্যন্ত কৌশলী এবং গোপন। ঝগড়ার চরম মুহূর্তে তর্কে না জড়িয়ে যদি কেউ নিজেকে কিছুটা ‘বেকুব’ সাজিয়ে শান্ত রাখতে পারে, তবে দিনশেষে সেই জয়ী হয়। কারণ যুদ্ধ যখন থেমে যায় বা ‘যুদ্ধবিরতি’ চলে, তখন শান্তভাবে নিজের যুক্তিটি উপস্থাপন করলে তা স্ত্রীর কাছে সহজে গ্রহণযোগ্য হয়।

আদর্শ মা-বাবা হওয়ার গুরুত্ব শান্তিময় দাম্পত্য জীবনের পাশাপাশি আদর্শ সন্তান গড়ে তোলাও একটি সুখী পরিবারের অংশ। ইসলামের দৃষ্টিতে সন্তানের অধিকার শুরু হয় তার জন্মের আগে থেকেই। একজন দ্বীনদার জীবনসঙ্গিনী নির্বাচন করা সন্তানের প্রথম হক। এরপর অর্থবহ নাম রাখা, সুন্দর লালন-পালন এবং সন্তানদের মধ্যে ইনসাফ বা সমতা বজায় রাখা মা-বাবার অন্যতম দায়িত্ব। সন্তানদের কেবল পোশাক বা খাবার দেওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং তাদের মধ্যে ঈমান ও নৈতিকতা গড়ে তোলাও জরুরি।

উপসংহার

দাম্পত্য জীবনে সুখী হওয়ার জন্য খুব বড় কোনো তাত্ত্বিক জ্ঞানের প্রয়োজন নেই; বরং প্রয়োজন কিছুটা সহনশীলতা এবং ছাড় দেওয়ার মানসিকতা। ঝগড়ার সময় একটু ধৈর্য ধরা এবং স্ত্রীর আবেগ ও কথাকে গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমেই ঘরে জান্নাতি শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব।