খুঁজুন
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

শীতকালে বাংলাদেশের ভ্রমণের জন্য ৫ সেরা জায়গা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
শীতকালে বাংলাদেশের ভ্রমণের জন্য ৫ সেরা জায়গা

আমাদের দেশের শীতকাল একদম জাদুর মতো। গরম বা আর্দ্র দিন শেষে ঠান্ডা, সতেজ বাতাস যেন সবাইকে আলিঙ্গন করে। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে সকালগুলো একদম সতেজ, সন্ধ্যাগুলো শান্ত এবং আউটডোর ভ্রমণ আনন্দময়।

ভ্রমণপিপাসুদের জন্য শীতকাল মানে হলো দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার এক আদর্শ সময়।

বাংলাদেশ তার ব্যস্ত শহর ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতির জন্য পরিচিত হলেও, শীতকাল দেশের নরম, শান্ত এবং সুন্দর দিকটি দেখায়। কল্পনা করুন, অপরিসীম বালুকাময় সৈকতে হেঁটে যাচ্ছেন, নীল জলরাশি ঘিরে থাকা ছোট দ্বীপে বসে সূর্যাস্ত দেখছেন, বা টিলা ও সবুজ চা বাগান ঘুরে বেড়াচ্ছেন। শীতকালে বাংলাদেশ তার সব সুন্দরত্ব প্রদর্শন করে, যা প্রত্যেক ভ্রমণপিপাসুর মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলে।

আপনি চাইলে সমুদ্রের কাছে বিশ্রাম নেবেন, শান্ত দ্বীপের সফর করবেন, পাহাড়ি এলাকা ঘুরবেন বা প্রকৃতির মাঝে কিছু অ্যাডভেঞ্চার উপভোগ করবেন—সবই সম্ভব। চলুন দেখা যাক শীতকালে ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশের ৫টি সেরা জায়গা।

কক্সবাজার – বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকতে হেঁটে চলা
কক্সবাজার বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক বালুকাময় সৈকতের জন্য বিখ্যাত। প্রায় ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সৈকত হেঁটে বেড়ানোর জন্য একেবারেই উপযুক্ত।

শীতকালে এখানে ভ্রমণ করা দারুণ, কারণ গরম এবং আর্দ্রতা কমে যায়। সকালে হেঁটে বেড়ানো, সন্ধ্যায় সূর্যাস্ত দেখা, আর সমুদ্রের হাওয়ায় বসে থাকা দারুণ আনন্দদায়ক। কক্সবাজারে শুধু সৈকত নয়, দেখার মতো আছে হিমচরি ন্যাশনাল পার্ক, লাবনী পয়েন্ট, এবং ইনানী সৈকত।

সফরের সাথে সঙ্গে স্থানীয় সামুদ্রিক খাবার খাওয়াও মিস করা যাবে না। পরিবার, বন্ধু বা একা ভ্রমণকারী—সবাই এখানে স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে পারে।

সেন্টমার্টিন – শান্ত দ্বীপে বিশ্রাম
যদি কক্সবাজার ব্যস্ত মনে হয়, সেন্টমার্টিন দ্বীপ হল শান্ত, স্বপ্নময় স্থান। ছোট্ট এই দ্বীপে নীল জলরাশি, বালুকাময় সৈকত এবং নারকেল গাছ দেখা যায়।

শীতকালে এখানে যাওয়া আরও আনন্দদায়ক হয়। সমুদ্র শান্ত থাকে, আবহাওয়া নরম হয়, আর বাইরে ঘোরার জন্য উপযুক্ত। এখানে জীবন একদম ধীরগতি। সাঁতার কাটতে পারেন, সৈকতে বসে পড়তে পারেন, বা শুধু সূর্যাস্ত উপভোগ করতে পারেন।

এখানকার স্থানীয় জীবনও উপভোগ করতে পারেন। মাছ ধরার কাজ করছেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা, ছোট দোকানগুলোতে হস্তশিল্পের সামগ্রী পাওয়া যায়, আর প্রতিটি সূর্যাস্ত মনে হবে অনন্য। যারা শহরের হট্টগোল থেকে দূরে শান্তি খুঁজছেন, তাদের জন্য সেন্ট মার্টিন একদম আদর্শ।

সিলেট ও শ্রীমঙ্গল – চা বাগান ও সবুজ টিলা
উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে সিলেট ও শ্রীমঙ্গল, তার চা বাগান, পাহাড় ও নদীর জন্য বিখ্যাত। শীতকালে ঘুরে বেড়ানো আরও আনন্দদায়ক হয়। সকালবেলার কুয়াশা চা বাগানকে স্বপ্নের মতো করে তোলে।

শ্রীমঙ্গল-এ, যা ‘দুই পাতা এবং একটি কুঁড়ি’ অঞ্চলের নামে পরিচিত, চা বাগান ঘুরতে পারেন, পাতা তোলা দেখার সুযোগ পাবেন এবং সরাসরি চা চেখে দেখতে পারবেন। লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্ক প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য অসাধারণ। এ ছাড়াও লালকল নদী ও জাফলং নদী ও পাহাড়ের দৃশ্য অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর।

শীতকালে স্থানীয় খাবারও উপভোগ করতে পারেন। সিলেটের বাজারে তাজা ফল, মিষ্টি এবং স্বাদযুক্ত খাবার পাওয়া যায়। যারা প্রকৃতি, ছবি বা শান্তি খুঁজছেন, তাদের জন্য সিলেট ও শ্রীমঙ্গল একদম নিখুঁত।

সুন্দরবন – ম্যানগ্রোভ বন অভিযান
সুন্দরবন বাংলাদেশের সবচেয়ে অনন্য প্রাকৃতিক সম্পদ। নদী, খাল এবং ঘন ম্যানগ্রোভ বন দিয়ে গঠিত। এটি বাঘসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল। শীতকালে সুন্দরবন ভ্রমণ সবচেয়ে উপযুক্ত, কারণ আবহাওয়া নরম এবং বোটে ভ্রমণ করা সহজ হয়।

সুন্দরবনে ভ্রমণ মানে এক নতুন ধরনের অ্যাডভেঞ্চার। ছোট নৌকায় নদী ভ্রমণ, পাশে দাঁড়ানো পাখি দেখা, আর জলজ বৃক্ষের মাঝে ছড়িয়ে থাকা প্রকৃতি দেখার অভিজ্ঞতা একেবারেই অন্যরকম।

যারা অ্যাডভেঞ্চার, বন্যপ্রাণী বা ফটোগ্রাফি ভালোবাসেন, তাদের জন্য সুন্দরবন শীতকালের অসাধারণ গন্তব্য।

রাঙামাটি ও সাজেক ভ্যালি – পাহাড়, হ্রদ ও উপত্যকা
যদি পাহাড়ি এলাকা ঘুরতে চান, রাঙামাটি এবং সাজেক ভ্যালি আদর্শ। পাহাড়, উপত্যকা ও হ্রদে ঘেরা এই অঞ্চল শীতকালে আরও সুন্দর হয়।

রাঙামাটিতে কাপ্তাই হ্রদে নৌকাভ্রমণ অত্যন্ত আনন্দদায়ক। হ্রদের শান্ত জল পাহাড় ও বনকে প্রতিফলিত করে, যা চমৎকার ছবি তোলার সুযোগ দেয়। সাজেক ভ্যালি-তে ধোঁয়াটে পাহাড়ি দৃশ্য, বাঁকা রাস্তা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর হস্তশিল্প উপভোগ করতে পারেন। শীতকালে সকালে হাওয়া ঠান্ডা ও সতেজ থাকে, যা হাইকিং বা দর্শনীয় স্থানে ঘোরার জন্য একদম উপযুক্ত।

শীতকালের ভ্রমণ
ভ্রমণের সেরা সময়: নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি

পরিবহন: ঢাকা থেকে বাস, ট্রেন বা উড়োজাহাজে যাতায়াত সহজ

প্যাকিং: হালকা জ্যাকেট, হাঁটার জন্য আরামদায়ক জুতো, সৈকতের জন্য সানস্ক্রিন

স্থানীয় সংস্কৃতি: উপজাতি এলাকা বা ধর্মীয় স্থান পরিদর্শনের সময় শিষ্টাচার মেনে চলা

শীতকালে বাংলাদেশে ভ্রমণ মানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ, স্থানীয় সংস্কৃতি জানা, আর স্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি করা। কক্সবাজারের দীর্ঘ সৈকত হোক বা শ্রীমঙ্গল-এর সবুজ চা বাগান, সেন্টমার্টিনের শান্ত দ্বীপ হোক বা সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী, রাঙামাটি ও সাজেকের পাহাড় হোক—বাংলাদেশের শীতকাল আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছে। তাই ব্যাগ বানান, ক্যামেরা নিন, এবং বাংলাদেশের শীতকালীন সৌন্দর্য আবিষ্কার করুন।

সদরপুরের পদ্মাবেষ্টিত ইউনিয়নে নির্মাণ হচ্ছে পরিষদ ভবন, আবসান হবে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৮:১২ পূর্বাহ্ণ
সদরপুরের পদ্মাবেষ্টিত ইউনিয়নে নির্মাণ হচ্ছে পরিষদ ভবন, আবসান হবে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মাবেষ্টিত প্রত্যন্ত চরাঞ্চল দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন অবশেষে পেতে যাচ্ছে নিজস্ব ইউনিয়ন পরিষদ ভবন। দীর্ঘদিন ধরে পরিষদ ভবন না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিতে ট্রলারে প্রায় দুই ঘণ্টা পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে উপজেলা সদরে যেতে হতো। প্রায় দুই হাজার পরিবারের এই ইউনিয়নে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উচ্ছ্বাস।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে ইউনিয়নের নুরুদ্দিন সরদার কান্দী বাজার সংলগ্ন এলাকায় সেমি-পাকা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাজহারুল ইসলাম।

এর আগে একই ইউনিয়নের উপজেলা প্রশাসন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দীন সরদার, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব ভবন না থাকায় প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণে তাদের নানা ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হতো। নতুন ভবন নির্মিত হলে ইউনিয়নবাসী নিজ এলাকাতেই সহজে নাগরিক সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এতে চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

এদিকে বহুদিনের প্রত্যাশিত ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশা, দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।

প্রিয়জন হারানোর শোকে কাতর ব্যক্তিকে যে ৭ কথা বলা উচিত নয়?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৮:০৪ পূর্বাহ্ণ
প্রিয়জন হারানোর শোকে কাতর ব্যক্তিকে যে ৭ কথা বলা উচিত নয়?

আপনার প্রিয়জন হারানোর শোকে কাতর কোনো বন্ধু বা আত্মীয়ের পাশে দাঁড়িয়ে আমরা প্রায়ই বুঝতে পারি না কী বলা উচিত। আমরা তাদের সান্ত্বনা দিতে চাই, কিন্তু অনেক সময় আমাদের বলা কথাগুলো হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শোক কোনো সহজ বিষয় নয় এবং একে অন্যের জন্য আরামদায়ক করার কোনো সংক্ষিপ্ত পথ নেই।

নিচে এমন ৭টি কথার তালিকা দেওয়া হলো যা প্রিয়জন হারানো ব্যক্তিকে বলা থেকে বিরত থাকা উচিত:

১. সবকিছুই কোনো না কোনো কারণে ঘটে: এই কথাটি শোকাতুর ব্যক্তির কষ্টকে ছোট করে ফেলে। কারণ, সব শোকের পেছনে কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা থাকে না এবং কোনো কারণই প্রিয়জনকে হারানোর অভাব পূরণ করতে পারে না।

২. আমি ঠিক জানি আপনার কেমন লাগছে: শোক একটি অত্যন্ত ব্যক্তিগত অনুভূতি এবং প্রত্যেকের অভিজ্ঞতা আলাদা। এমনকি আপনি নিজে কাউকে হারিয়ে থাকলেও, অন্যের শোকের সাথে নিজের তুলনা করা উচিত নয়।

৩. অন্তত আপনি প্রস্তুতির সময় পেয়েছিলেন: দীর্ঘ অসুস্থতার পর কেউ মারা গেলে অনেকেই এটি বলেন। কিন্তু প্রিয়জন চলে যাবে এটা আগে থেকে জানলেও তার চলে যাওয়ার কষ্ট বা ব্যথা একটুও কমে না।

৪. অন্তত আপনার অন্য সন্তান বা পরিবারের সদস্যরা তো আছে: এই কথার মাধ্যমে বোঝানো হয় যে একজনের অভাব অন্যজন দিয়ে পূরণ করা সম্ভব। এটি মৃত ব্যক্তির গুরুত্বকে খাটো করে দেখায়।

৫. শক্ত হোন: এই কথাটি শোকাতুর ব্যক্তির ওপর আবেগ চেপে রাখার জন্য এক ধরনের মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। শোকের সময় ভেঙে পড়াটাই স্বাভাবিক এবং অনেক সময় এটাই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

৬. এখন সব ভুলে সামনে এগিয়ে যেতে হবে: শোক কাটানোর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। কাউকে ভুলে যাওয়া বা সরিয়ে দেওয়ার নাম শোক কাটিয়ে ওঠা নয়, বরং শোককে জীবনের অংশ হিসেবে মেনে নিতে শিখতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়।

৭. শুধু ভালো স্মৃতিগুলোর কথা ভাবুন: শোকের শুরুতে ভালো স্মৃতিগুলোও অনেক সময় কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায় কারণ সেই মানুষটির অনুপস্থিতি আরও প্রকটভাবে অনুভূত হয়। শোকাতুর ব্যক্তি কীভাবে শোক পালন করবেন তা নির্ধারণ করে দেওয়া উচিত নয়।

সঠিকভাবে পাশে দাঁড়ানোর উপায়

সান্ত্বনা দেওয়ার বদলে আপনার উপস্থিতিই সবচেয়ে বড় সমর্থন হতে পারে। আপনি বলতে পারেন, ‘আমি জানি না কী বলা উচিত, তবে আমি তোমার পাশে আছি’। এছাড়া শুধু কথা না বলে ঘরের কাজে সাহায্য করা বা নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার মাধ্যমেও দীর্ঘমেয়াদী সমর্থন দেওয়া সম্ভব। মনে রাখবেন, লক্ষ্য শোক দূর করা নয়, বরং তাকে অনুভব করানো যে এই কঠিন যাত্রায় তিনি একা নন।

তথ্যসূত্র: ভেরিওয়েল মাইন্ড

খবরের কাগজে গরম খাবার খান, এতে শরীরে কী কী ঘটে জানুন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৭:৫৮ পূর্বাহ্ণ
খবরের কাগজে গরম খাবার খান, এতে শরীরে কী কী ঘটে জানুন

শহর কিংবা গ্রামের ব্যস্ত মোড়ে গরম গরম সিঙাড়া, চপ, ঝালমুড়ি বা পরোটা খবরের কাগজে মুড়ে খাওয়ার দৃশ্য আমাদের অত্যন্ত পরিচিত। বিক্রেতা এবং ক্রেতা উভয় পক্ষই একে সস্তা ও সুবিধাজনক মনে করেন। কিন্তু এই আপাত নিরীহ অভ্যাসের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি। খবরের কাগজে ব্যবহৃত কালির বিষাক্ত উপাদানগুলো কীভাবে নীরবে আপনার শরীরে প্রবেশ করছে, তা আমাদের অনেকেরই ধারণার বাইরে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, খাবারটি যদি অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর পরিবেশে এবং পরিষ্কারভাবে রান্না করা হয়, তবুও খবরের কাগজের সংস্পর্শে আসার মাত্রই তা বিষাক্ত হয়ে উঠতে পারে। এই বিপদজনক প্রবণতা রুখতে ভারতের ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড অথরিটি (FSSAI) এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণায়ল এখন সোচ্চার হয়েছে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তারা কঠোর সতর্কতা জারি করে জানিয়েছে যে, খবরের কাগজে খাবার পরিবেশন কেবল অস্বাস্থ্যকর নয়, বরং এটি শরীরের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির কারণ হতে পারে।

খবরের কাগজে মুড়ে খাবার খাওয়ার ফলে শরীরে ঠিক কী কী ঘটে, তা নিচে আলোচনা করা হলো:

১. খাবারের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে বিষাক্ত কালি

খবরের কাগজে মুদ্রণের জন্য যে কালি ব্যবহার করা হয়, তাতে একাধিক বায়ো-অ্যাকটিভ (bioactive) উপাদান থাকে। যখন গরম বা তৈলাক্ত খাবার এই কাগজের সংস্পর্শে আসে, তখন কাগজের কালি খুব সহজেই খাবারের সঙ্গে মিশে যায়। এমনকি খাবারটি যদি অত্যন্ত স্বাস্থ্যকরভাবে রান্না করা হয়, তবুও খবরের কাগজে রাখার ফলে তা শরীরের জন্য বিষাক্ত হয়ে ওঠে।

২. রাসায়নিক ও রঞ্জক পদার্থের প্রভাব

মুদ্রণের কালিতে ক্ষতিকারক রং, পিগমেন্ট (pigments), বাইন্ডার এবং প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হয়। এই রাসায়নিক উপাদানগুলো খাবারের মাধ্যমে সরাসরি শরীরে প্রবেশ করে। এছাড়া রিসাইকেল করা কাগজ বা কার্ডবোর্ড বক্সের ক্ষেত্রে ‘থ্যালেট’ (phthalate)-এর মতো রাসায়নিক থাকার সম্ভাবনা থাকে, যা তীব্র বিষক্রিয়া এবং হজমের সমস্যা তৈরি করতে পারে।

৩. জীবাণুর সংক্রমণ ব্যবহৃত

খবরের কাগজ বিভিন্ন হাত ঘুরে আসে এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রাখা হতে পারে। ফলে এতে বিভিন্ন ধরনের রোগজীবাণু বা প্যাথোজেনিক মাইক্রো-অর্গানিজম থাকতে পারে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

৪. ক্যানসারের ঝুঁকি ও দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি

বিশেষজ্ঞদের মতে, খবরের কাগজে রাখা খাবার দীর্ঘকাল খাওয়ার ফলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, কিশোর, বয়স্ক এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে এটি ক্যানসার-সংক্রান্ত জটিলতা তৈরির ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও সতর্কতা

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক এবং FSSAI সাধারণ মানুষকে খবরের কাগজে মোড়ানো বা ঢাকা দেওয়া খাবার বর্জন করার আহ্বান জানিয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা বিক্রেতাদের এই অভ্যাস থেকে বিরত থাকার এবং জনসাধারণকে এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। নিরাপদ খাদ্যাভ্যাসের স্বার্থে খাবার পরিবেশনের জন্য নির্দিষ্ট ফুড-গ্রেড কাগজ বা কলাপাতার মতো প্রাকৃতিক বিকল্প ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

আপনার সামান্য সচেতনতাই আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে। তাই রাস্তার খাবার খাওয়ার সময় কাগজের বদলে স্বাস্থ্যসম্মত মাধ্যম বেছে নিন।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি