খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬, ৫ চৈত্র, ১৪৩২

টাকা ধার চাইলে সম্পর্ক না ভেঙেই ‘না’ বলার কৌশল

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ৭:২০ এএম
টাকা ধার চাইলে সম্পর্ক না ভেঙেই ‘না’ বলার কৌশল

মাসের শেষ দিকে এসে হাতের সঞ্চয় ফুরিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। তখন কেউ কেউ নির্দ্বিধায় বন্ধু-বান্ধব বা পরিবারের কাছ থেকে টাকা ধার নেন।

আবার অনেকেই ধার নিতে নিতে অভ্যাসে পরিণত করেন, কারও কাছে বিষয়টি লজ্জারও। উল্টো দিকে, পরিচিত কেউ বারবার টাকা চাইলে নিজের সামর্থ্যের কথা না ভেবেই অনেকেই ‘না’ বলতে না পেরে ধার দিয়ে বসেন। কিন্তু এই ছোট্ট ‘না’ বলতে না পারার অভ্যাসই কখনও কখনও বড় আর্থিক ও সম্পর্কের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আর্থিক সেবা সংস্থা Bankrate-এর ২০২৪ সালের ‘আর্থিক ট্যাবু’ জরিপে দেখা গেছে, প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষ এমন ভেবে টাকা ধার দিয়েছেন যে, পরে তা ফেরত পাবেন। কিন্তু বাস্তবে সেই টাকা আর ফিরে আসেনি। এর ফলে সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

অনেকেই আগে থেকেই ধরে নেন, ধার দিলে টাকা আর ফেরত পাওয়া যাবে না। তাই নিজের আর্থিক অবস্থার কথা ভেবে এ বিষয়ে সচেতন হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। না হলে নিজেই আর্থিক সংকটে পড়তে পারেন, এমনকি প্রয়োজনের সময় নিজের জন্য টাকা না-ও থাকতে পারে। এ সমস্যা থেকে বের হওয়ার সহজ উপায়, নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে জানানো।

তাহলে সম্পর্ক ঠিক রেখে ‘না’ বলবেন কীভাবে?

এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন আর্থিক থেরাপি বিশেষজ্ঞ এজা ইভান্স। তার মতে, প্রথমেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, কেউ টাকা চাইলে আপনি আদৌ ধার দিতে পারবেন কি না। যদি না পারেন, তাহলে সরাসরি জানাতে হবে যে আপনি সাহায্য করার অবস্থায় নেই। অন্যকে সাহায্য করতে গিয়ে নিজের আর্থিক অবস্থাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা উচিত নয়।

তবে এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলা সব সময় সহজ নয়। কারণ, ঘনিষ্ঠ মানুষরা আপনার জীবনযাপন সম্পর্কে অনেক কিছুই জানেন, কোথায় খরচ করছেন, কী কিনছেন ইত্যাদি। সেসব দেখে তারা আপনার আর্থিক অবস্থা নিয়ে ধারণা করে নিতে পারেন।

তাই নিজেকে মনে করিয়ে দিন, আপনার খরচের হিসাব আপনার চেয়ে ভালো কেউ জানে না। শুধু ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা আছে বলেই যে তা ধার দেওয়া সম্ভব, এমন নয়।

কেউ টাকা চাইলে সরাসরি ‘না’ বলা কঠিন হলে ছোট থেকে শুরু করতে পারেন। যেমন, কেউ যদি ৫ হাজার টাকা চান, কিন্তু তা দিলে আপনার বাজেটে চাপ পড়ে, তাহলে ৫০০ বা ১০০০ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিতে পারেন। অর্থাৎ নিজের সামর্থ্যের মধ্যে থেকে সহায়তা করুন। প্রয়োজনে নিজের বর্তমান আর্থিক অবস্থাও খোলাখুলি জানাতে পারেন, এতে উভয়ের জন্যই বিষয়টি সহজ হয়।

এভাবে আপনি হয়তো পুরো চাহিদা পূরণ করতে পারবেন না, কিন্তু নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়াতে পারবেন।

অন্যদিকে, কাউকে ‘না’ বলার পর অপরাধবোধ হওয়াটা খুব স্বাভাবিক। মনে হতে পারে, সে কী ভাবল, সম্পর্ক খারাপ হলো কি না। তবে নিজের বাস্তবতা মনে রাখুন। কারণ, ভবিষ্যতে আর্থিক সংকটে পড়লে সেই চাপ আপনাকেই নিতে হবে।

ধরা যাক, আপনি ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করতে চান, বেতনের একটি অংশ নিয়মিত জমাতে চান। এমন লক্ষ্য থাকলে সেটি লিখে রাখুন। এতে কাউকে ‘না’ বলার পর অপরাধবোধ কিছুটা কমবে। নিজেকে বারবার মনে করিয়ে দিন, আপনি কী অর্জন করতে চান এবং কেন।

প্রয়োজনে মানসিক চাপ কমাতে পছন্দের কাজেও সময় দিতে পারেন। এতে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ে এবং সিদ্ধান্তে স্থির থাকা সহজ হয়।

সবশেষে, নিজের আর্থিক সীমা নির্ধারণ করা এবং তা মেনে চলা শুরুতে কঠিন মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল পাওয়া যায়। এতে আপনি যেমন নিজের আর্থিক লক্ষ্য পূরণ করতে পারবেন, তেমনি সম্পর্কও অপ্রয়োজনীয় চাপ থেকে রক্ষা পাবে।

সূত্র : সিএনবিসি

চাঁদ দেখা যায়নি, সৌদি আরবে ঈদ শুক্রবার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
চাঁদ দেখা যায়নি, সৌদি আরবে ঈদ শুক্রবার

সৌদি আরবে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে দেশটিতে ১৪৪৭ হিজরি সনের রমজান মাস ৩০ দিনে শেষ হচ্ছে। আর আগামী শুক্রবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন সৌদিবাসী।

বুধবার (১৮ মার্চ) রাতে সৌদির চাঁদ দেখার খবর প্রকাশ করেছে খালিজ টাইমস।

খবরে বলা হয়েছে, সৌদি আরব ঘোষণা করেছে যে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। অর্থাৎ দেশটিতে ২০ মার্চ শুক্রবার হবে ঈদুল ফিতর।

আরবি বর্ষপঞ্জিকা অনুযায়ী, রমজান নবম মাস ও শাওয়াল দশম মাস। শাওয়াল মাসের প্রথম দিন ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়।

সূত্র : খালিজ টাইমস

ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে, বাংলাদেশে কবে?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ৭:২৯ পিএম
ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে, বাংলাদেশে কবে?

পবিত্র ঈদুল ফিতর দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে।  ইতোমধ্যে রাজধানী ছেড়ে গ্রামে ফিরছে মানুষ। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকেই শুরু হয়েছে সরকারি ছুটি। দেশজুড়ে উৎসবের আমেজ চললেও সবার মনে এখন একটাই প্রশ্ন– ঈদ কবে?

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পবিত্র ঈদুল ফিতর আগামী ২০ মার্চ (শুক্রবার) উদ্‌যাপিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

এমিরেটস অ্যাস্ট্রোনমি সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান জানিয়েছেন, এবার আরব দেশগুলোতে রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

আগামী বুধবার (১৮ মার্চ) আরব বিশ্বের আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। ফলে শুক্রবার সেখানে ঈদের দিন হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট আগামী বুধবার সন্ধ্যায় দেশটির নাগরিকদের চাঁদ দেখার আহ্বান জানিয়েছে। যদি বুধবার চাঁদ দেখা যায় তবে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সেখানে ঈদ হবে, অন্যথায় শুক্রবার।

বাংলাদেশে ঈদ কবে?

ভৌগোলিক নিয়মানুযায়ী, বাংলাদেশে সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের একদিন পর ঈদ উদ্‌যাপিত হয়। সেই হিসেবে বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে আগামী ২১ মার্চ (শনিবার)।

প্রবাসী থেকে ঘরমুখো মানুষ—সবার নিরাপত্তায় সরকার কাজ করছে: শামা ওবায়েদ

ফরিদপুর ও সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ৬:৫২ পিএম
প্রবাসী থেকে ঘরমুখো মানুষ—সবার নিরাপত্তায় সরকার কাজ করছে: শামা ওবায়েদ

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে, সে লক্ষ্যে সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেল ৩টার দিকে ফরিদপুরের সালথা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে দুস্থ ও অসহায়দের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

তিনি বলেন, “ঈদযাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক তদারকি জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা নিজ নিজ এলাকায় বাসস্ট্যান্ড, টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করছেন। আমাদের লক্ষ্য—সাধারণ মানুষ যেন কোনো ভোগান্তি ছাড়াই নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন এবং পরিবারের সঙ্গে আনন্দঘন পরিবেশে ঈদ উদযাপন করতে পারেন।”

দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি মহাসড়কে যানজট নিরসন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে একটি জটিল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নিবিড়ভাবে কাজ করছে। যারা দেশে ফিরতে ইচ্ছুক কিন্তু এখনো ফিরতে পারেননি, তাদের দ্রুত দেশে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক ঘটনায় নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রমও চলছে। “নিহতদের মধ্যে ইতোমধ্যে একজনের মরদেহ দেশে আনা হয়েছে, বাকিদের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে,”—যোগ করেন তিনি।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিষয়ে তিনি বলেন, “বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্বাভাবিক কোনো বৃদ্ধি হয়নি এবং জ্বালানি তেলের দামও স্থিতিশীল রয়েছে। সরকার এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেই বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, সহ-সভাপতি শাহিন মাতুব্বর, সাবেক চেয়ারম্যান ওয়াহিদুজ্জামান, ভাইস চেয়ারম্যান আসাদ মাতুব্বরসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ।