খুঁজুন
সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ২১ বৈশাখ, ১৪৩৩

ঈদের দিন যা করবেন, যা করবেন না? জেনে নিন এক নজরে

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ৭:৩৪ পূর্বাহ্ণ
ঈদের দিন যা করবেন, যা করবেন না? জেনে নিন এক নজরে

ঈদ মুসলিম উম্মাহর জন্য আনন্দ, কৃতজ্ঞতা ও ইবাদতের এক অনন্য দিন। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর আসে ঈদুল ফিতর, যা মুমিনের জন্য পুরস্কারের বার্তা বয়ে আনে।

তাই এ দিনটি শুধু আনন্দ-উৎসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সুন্নত অনুসরণ, ইবাদত বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য জোরদারেরও এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। ইসলামে ঈদের দিনের জন্য কিছু করণীয় আমল রয়েছে, আবার কিছু কাজ থেকে বিরত থাকারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিচে ঈদের দিনের করণীয় কাজ এবং বর্জনীয় বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো—

করণীয়

১. গোসল ও পরিচ্ছন্নতা

ঈদের দিন সকাল সকাল গোসল করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা মুস্তাহাব। সাহাবিরা গোসল করে ঈদগাহে যেতেন। নাফে (রহ.) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) ঈদুল ফিতরে ঈদগাহে যাওয়ার আগে গোসল করে নিতেন। (মুয়াত্তায়ে মালেক : ৪৮৮)

অন্য বর্ণনায় এসেছে, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) ঈদের দিন উত্তমভাবে গোসল করতেন, সুগন্ধি থাকলে তা ব্যবহার করতেন, নিজের সর্বোত্তম পোশাক পরিধান করতেন। এরপর ঈদের নামাজে যেতেন। (শরহুস সুন্নাহ : খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩০২)

২. উত্তম পোশাক ও সাজসজ্জা

ঈদের দিন নিজের সাধ্যমতো উত্তম পোশাক পরিধান করা মুস্তাহাব। সাহাবিরা এমনটি করতেন। নাফে (রহ.) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) দুই ঈদে উত্তম পোশাক পরতেন। (সুনানুল কুবরা লিল বাইহাকি : ৬১৪৩)

তবে উত্তম পোশাক মানে নতুন পোশাক নয়; বরং নিজের সংগ্রহে থাকা সবচেয়ে ভালো পোশাক পরা চাই।

৩. সদকাতুল ফিতর আদায়

ঈদুল ফিতরের দিন অর্থাৎ ১ শাওয়াল ভোরে নিজের মৌলিক প্রয়োজন ও ব্যবহার্য জিনিসপত্রের বাইরে যেসব মুসলিম নর-নারী এমন পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, যার মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার দামের সমান বা তার বেশি; তাদের ওপর সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব।

সাদাকাতুল ফিতর ঈদের দিন ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে আদায় করা উত্তম। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) লোকজন ঈদের নামাজেরে উদ্দেশে বের হওয়ার পূর্বে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। (সহিহ বোখারি : ১৫০৯)

অবশ্য কোনো কোনো সাহাবি থেকে ঈদের কয়েকদিন পূর্বেও ফিতরা আদায়ের কথা প্রমাণিত আছে। যেমন নাফে‘ (রাহ.) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) ঈদের দু-একদিন পূর্বেই তা (ফিতরা) আদায় করে দিতেন। (সুনানে আবু দাউদ : ১৬০৬)

তবে, কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ে সাদাকাতুল ফিতর আদায় না করলে পরবর্তীতে তা আদায় করা আবশ্যক। তাই পরে হলেও তা আদায় করে দিতে হবে। (কিতাবুল আছল : ২/২০৭, ২১১; ফাতহুল কাদির : ২/২৩১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া : ৩/৪৫২; রদ্দুল মুহতার : ২/৩৬৮)

৪. ঈদগাহে যাওয়ার আগে খেজুর

ঈদের দিন রোজা রাখা নিষেধ। তাই এর প্রকাশ হিসেবে মুস্তাহাব হলো, ঈদগাহে যাওয়ার আগে খেজুর খাওয়া। খেজুরের ব্যবস্থা না থাকলে অন্য কোনো মিষ্টান্ন গ্রহণ করা। আনাস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) ঈদুল ফিতরে খেজুর না খেয়ে ঘর থেকে বেরুতেন না। তিনি বেজোড় সংখ্যক খেজুর খেতেন। (বোখারি : ৯৫৩)

উল্লেখ্য, এ আমল কেবল ঈদুল ফিতরের জন্য। কেননা, ঈদুল আজহার ক্ষেত্রে মুস্তাহাব হলো, না খেয়ে ঈদগাহে যাওয়া এবং কোরবানির গোশত দিয়ে সর্বপ্রথম আহার গ্রহণ করা। রাসুল (সা.) ঈদুল ফিতরে না খেয়ে বেরুতেন না, আর ঈদুল আজহার দিন ঈদগাহ হতে ফেরার আগে কিছু খেতেন না। ঈদগাহ থেকে ফিরে পশু জবাই করার পর নিজ কোরবানির পশুর গোশত থেকে খেতেন। (মুসনাদে আহমদ : ২২৯৮৪)

৫. বেশি বেশি তাকবির পাঠ

হজরত নাফে (রহ.) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতরের সকালে সশব্দে তাকবির বলতে বলতে ঈদগাহে যেতেন এবং ইমাম আসা পর্যন্ত তাকবির বলতে থাকতেন (সুনানে দারা কুতনি : ১৭১৬)। তাই আমাদেরও উচিত ঈদগাহে যাওয়ার সময় বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে তাকবির বলা।

৬. ঈদগাহে ভিন্ন পথে যাতায়াত

সম্ভব হলে ঈদগাহে যাওয়ার সময় এক পথে যাওয়া আর ফেরার সময় ভিন্ন পথে আসা। নবীজি (সা.) এমনটি করতেন। জাবের (রা.) বলেন, নবীজি (সা.) ঈদের দিন এক পথ দিয়ে ঈদগাহে যেতেন আর ভিন্ন পথ দিয়ে বাড়ি ফিরতেন। (বোখারি : ৯৮৬)

৭. পায়ে হেঁটে ঈদগাহে গমন

যথাসম্ভব পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া মুস্তাহাব। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) ঈদগাহে পায়ে হেঁটে যেতেন এবং পায়ে হেঁটে ফিরতেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ : ১২৯৫)

৮. ঈদের নামাজ আদায়

ঈদের দিন সকালে পুরুষদের জন্য ঈদের নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। বিশেষ পদ্ধতিতে অতিরিক্ত তাকবিরসহ জামাতে দু’রাকাত নামাজ আদায় করা এবং তারপর ঈদের খুতবা দেয়া ও শোনা চাই। ঈদের নামাজ খোলা ময়দানে আদায় করা উত্তম। কারণ, ঈদের জামাত রাসুল (সা.) সর্বদাই মাঠে গিয়ে আদায় করেছেন। বৃষ্টির কারণে একবার শুধু মসজিদে আদায় করেছেন। যা প্রমাণ করে, ঈদের জামাতের সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি হলো মাঠে আদায় করা। বাকি যদি কেউ মসজিদে আদায় করে, তাহলেও তার নামাজ হয়ে যাবে। তবে ইচ্ছাকৃত সুন্নতকে ছেড়ে দেয়া উচিত হবে না। তাই সামর্থ্য থাকাবস্থায় ঈদের জন্য মাঠ রাখাই শরিয়তের নির্দেশ। (ফতোয়ায়ে শামি, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪৯)

৯. একে অপরের জন্য দোয়া

ঈদের দিন সাহাবায়ে কেরাম দোয়াসুলভ বাক্যে সৌজন্য বিনিময় করতেন। তাবেয়ি জুবাইর ইবনে নুফাইর (রহ.) বলেন, রাসুল (সা.)-এর সাহাবিরা ঈদের দিন পরস্পর সাক্ষাতে বলতেন, তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম। অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমাদের এবং তোমাদের আমলগুলো কবুল কর (ফাতহুল বারি : খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪৪৬)। এ রকম সৌজন্য বিনিময়ের মাধ্যমে উত্তম আচরণ প্রকাশিত হয় এবং মুসলিম ভ্রাতৃত্ব সুদৃঢ় হয়।

১০. ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়

ঈদে পরস্পরকে শুভেচ্ছা জানানো শরিয়ত অনুমোদিত একটি বিষয়। বিভিন্ন বাক্য দ্বারা এ শুভেচ্ছা বিনিময় করা যায়। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) বলেছেন, সাহাবিরা ঈদের দিন সাক্ষাৎকালে একে অপরকে বলতেন, ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকা।’ অর্থাৎ আল্লাহতায়ালা আমাদের ও আপনার ভালো কাজগুলো কবুল করুন। ঈদ মোবারক ইনশাল্লাহও বলা যেতে পারে। ঈদুকুম সাঈদ বলেও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা যায়।

১১. এতিম ও অভাবীকে পানাহার

ঈদের দিন এতিমের খোঁজখবর নেয়া, তাদের খাবার খাওয়ানো এবং সম্ভব হলে তাদের নতুন কাপড়ের ব্যবস্থা করে দেয়া চাই। এটা ঈমানদারদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তারা খাদ্যের প্রতি আসক্তি থাকা সত্ত্বেও মিসকিন, এতিম ও বন্দিকে খাদ্য দান করে।’ (সুরা দাহর : ৮)

১২. খোঁজ নেওয়া

ঈদের দিন আত্মীয়-স্বজনের খোঁজখবর নেওয়া ও তাদের বাড়ি বেড়াতে যাওয়া চাই। পাশাপাশি প্রতিবেশীরও খোঁজখবর নিতে হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা ইবাদত করো আল্লাহর, তাঁর সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক করো না। আর সদ্ব্যবহার কর মাতাপিতার সঙ্গে, নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে, এতিম-মিসকিন, প্রতিবেশী, অনাত্মীয় প্রতিবেশী, পার্শ্ববর্তী পড়শী, মুসাফির এবং তোমাদের মালিকানাভুক্ত দাসদাসীদের সঙ্গে। নিশ্চয় আল্লাহ পছন্দ করেন না তাদের, যারা দাম্ভিক, অহংকারী।’ (সুরা নিসা : ৩৬)

১৩. মনোমালিন্য দূরীকরণ

পারস্পরিক মনোমালিন্য দূর করা ও সম্পর্ক সুদৃঢ় করার উত্তম সময় ঈদের দিন। রাসুল (সা.) বলেন, ‘কোনো মুসলমানের জন্য বৈধ নয় যে, তার ভাইকে তিন দিনের বেশি সময় সম্পর্ক ছিন্ন রাখবে। তাদের অবস্থা এমন যে, দেখা-সাক্ষাৎ হলে একজন অন্যজনকে এড়িয়ে চলে। এ দুজনের মাঝে ওই ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ, যে আগে সালাম দেয়’ (মুসলিম : ৬৬৯৭)। তাই ঈদের দিন সব মান-অভিমান ভুলে একে অন্যের সঙ্গে আনন্দ প্রকাশ করা উচিত।

১৪. আনন্দ প্রকাশ করা

ইসলাম এমন একটি জীবনব্যবস্থা, যেখানে সুষ্ঠু বিনোদনের সুযোগ রয়েছে। আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) ঈদের দিন আমার ঘরে এলেন, তখন আমার কাছে দুজন কিশোরী বুয়াস যুদ্ধের বীরদের স্মরণে গান গাচ্ছিল। তারা পেশাদার গায়িকা ছিল না। এরই মধ্যে আবু বকর (রা.) ঘরে প্রবেশ করে এ বলে আমাকে ধমকাতে লাগলেন যে, নবীজি (সা.)-এর ঘরে শয়তানের বাঁশি? রাসুল (সা.) তার কথা শুনে বললেন, ‘ওদের গাইতে দাও হে আবু বকর! প্রত্যেক জাতির ঈদ আছে, আর এটি আমাদের ঈদের দিন।’ (বোখারি : ৯৫২)

বর্জনীয়

১. রোজা রাখা

রমজানের পুরো মাস রোজা রাখার পর ঈদ মোমিন বান্দার জন্য আনন্দের দিন। তাই আল্লাহ তায়ালা ঈদের দিন রোজা রাখা হারাম করেছেন। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) দুদিন রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন। তা হলো, ঈদুল ফিতরের দিন এবং কোরবানির ঈদের দিন। (মুসলিম : ১১৩৮)

২. বিজাতীয় আচরণ প্রদর্শন

ঈদকে কেন্দ্র করে বিজাতীয় আচরণ মুসলিম সমাজে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। পোশাক-পরিচ্ছদে, চাল-চলনে, শুভেচ্ছা বিনিময়ে অমুসলিমদের অনুকরণে লিপ্ত হয়ে পড়েছে মুসলমানদের অনেকেই। আবদুল্লাহ বিন আমর (রা.) সূত্রে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি অন্য জাতির সঙ্গে সাদৃশ্য রাখবে, সে তাদের দলভুক্ত বলে গণ্য হবে।’ (আবু দাউদ : ৪০৩৩)

৩. খোলামেলা পোশাক পরা

ঈদের দিন নারীরা ব্যাপকভাবে বেপর্দা অবস্থায় রাস্তাঘাটে খোলামেলা ঘোরাফেরা করে। এ থেকে বিরত থাকতে হবে। নিজের অধীন মেয়েদেরও বিরত রাখতে হবে। এ বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা নিজ ঘরে অবস্থান করবে এবং প্রাচীন মুর্খতার যুগের মতো নিজেদের প্রদর্শন করে বেড়াবে না।’ (সুরা আহজাব : ৩৩)

৪. অপচয়-অপব্যয়

ঈদের কেনাকাটা থেকে শুরু করে এ উপলক্ষে সবকিছুতেই অপচয়-অপব্যয় করা হয়। অথচ আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা কোনোভাবেই অপব্যয় করো না, নিশ্চয় অপব্যয়কারী শয়তানের ভাই।’ (সুরা বনি ইসরাইল : ২৬-২৭)

আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, ‘তোমরা পানাহার কর, কিন্তু অপচয় করো না।’ (সুরা আরাফ : ৩১)

৫. মদ ও আতশবাজি

ঈদের আনন্দে মদ খাওয়া, জুয়া খেলা, আতশবাজি করা শরিয়তবিরোধী কাজ। শুধু ঈদ নয়, অন্য কোনো দিনও এসব করা যাবে না। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মোমিনরা! নিশ্চয় মদণ্ডজুয়া, প্রতিমা-বেদি ও ভাগ্যনির্ধারক তিরগুলো তো নাপাক শয়তানের কর্ম। সুতরাং তোমরা তা পরিহার কর; যাতে সফলকাম হও।’ (সুরা মায়িদা : ৯০)

সূত্র : কালবেলা

ফরিদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে আরেক শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে আরেক শিশুর মৃত্যু

ফরিদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া আরেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া শিশুটির নাম ওজিহা। তার বয়স সাত মাস। সে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার দিগনগর এলাকার বাসিন্দা সবুজ মাতুব্বরের মেয়ে।

শিশুটিকে হামের উপসর্গ নিয়ে শনিবার (০২ মে) রাত সাড়ে আটটার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (০৩ মে) ভোররাত পাঁচটার দিকে তার মৃত্যু।

ফরিদপুর সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ১ জানুয়ারি থেকে ৩ মে পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোট নয়জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরে দুইজন করে ছয়জন এবং রাজবাড়ী, যশোর ও মাগুরার একজন করে মোট তিনজন রয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান জানান, ৭ মাস বয়সী শিশু ওজিহা ভর্তির সময়ই তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। তার নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার মহাখালীর রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) পাঠানো হলেও ফলাফল আসার আগেই শিশুটি মারা যায়।

গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে আজ রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নতুন করে ২৬ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে নতুন ২৬ রোগীসহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮০ জন এবং ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ১২ জন শিশুসহ মোট ৩০ শিশুর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গত ১ জানুয়ারি থেকে আজ রোববার পর্যন্ত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫৫২ জন শিশু ও ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ২০২ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে।

মুক্ত গণমাধ্যম দিবসেই ফরিদপুর মেডিকেলে সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহের কাজে বাধা!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ণ
মুক্ত গণমাধ্যম দিবসেই ফরিদপুর মেডিকেলে সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহের কাজে বাধা!

মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের দিনই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ফমেক)-এ সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছেন দুই সাংবাদিক। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ ও ছবি তোলা যাবে না—এমন দাবি তুলে তাদের কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। তবে এ সংক্রান্ত কোনো লিখিত নির্দেশনা বা নোটিশ দেখাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মহল, সচেতন নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা ছড়িয়ে পড়েছে।

রোববার (৩ মে) দুপুর ২টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের ক্যাজুয়ালটি ও নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা হলেন—দৈনিক আজকের পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি হাসান মাতুব্বর (শ্রাবণ) এবং একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের ক্যামেরাপারসন।

সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফরিদপুর সদর উপজেলার একটি ঘটনার ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তারা হাসপাতালে যান। আহত ব্যক্তির ভিডিও ও ছবি ধারণ করতে গেলে এক আনসার সদস্য তাদের বাধা দেন এবং দায়িত্বরত এক চিকিৎসককে ডেকে আনেন। পরে নিজেকে রেজিস্ট্রার পরিচয় দিয়ে ডা. তোফাজ্জেল হোসেন জানান, হাসপাতাল এলাকায় কোনো ভিডিও ধারণ করতে হলে কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নিতে হবে।

সাংবাদিকরা জানান, তারা কর্তৃপক্ষের অনুমতির বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের পরিচালক ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানানো হয়। পরে উপপরিচালক ডা. মানব কৃষ্ণ কুন্ডুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও অনুমতি দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং পরিচালক ছাড়া এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান।

একজন সাংবাদিক বলেন, “আমরা রোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। এমনকি আমাদের বলা হয়—কর্তৃপক্ষ না থাকলে এসে কাজ করতে। এতে আমাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে গুরুতর বাধার সৃষ্টি হয়।”

এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ডা. হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে, সরকারি হাসপাতালে সাংবাদিকদের কাজের ক্ষেত্রে কোনো বাধ্যতামূলক অনুমতির নিয়ম আছে কি না জানতে চাইলে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহামুদুল হাসান বলেন, “আমার জানা মতে সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে এমন কোনো নির্দেশনা নেই। তবে গবেষণা বা তথ্য সংগ্রহের জন্য আলাদা অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে।”

ঘটনার পরপরই সাংবাদিক সমাজে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ও জিটিভির জেলা প্রতিনিধি শেখ মনির হোসেন বলেন, “এভাবে অনুমতির নামে বাধা সৃষ্টি করলে সংবাদ সংগ্রহ ব্যাহত হবে। হাসপাতাল কোনো গোপনীয় প্রতিষ্ঠান নয়—এটি জনসেবামূলক একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা, যেখানে প্রতিনিয়ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে।”

ফরিদপুর নাগরিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কান্তি বালা বলেন, “সাংবাদিকতা একটি স্বাধীন পেশা। যেখানে অন্যায়, অনিয়ম বা দুর্নীতি—সেখানেই আলোকপাত করা সাংবাদিকদের দায়িত্ব। হাসপাতালে সাংবাদিকদের কাজ করতে না দেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।”

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ফরিদপুরের সভাপতি অধ্যাপিকা শিপ্রা রায়ও এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ব্যাহত হবে। এমন বাধা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।”

ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী অবিলম্বে এ ধরনের অনানুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেন, “এটি মুক্ত সাংবাদিকতার পথে স্পষ্ট বাধা। কোনো প্রকার ‘অঘোষিত আইন’ করে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা যাবে না।”

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে সংবিধান অনুযায়ী মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা স্বীকৃত। জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে তথ্য সংগ্রহ ও প্রচার সাংবাদিকদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে রোগীর গোপনীয়তা ও মানবিক দিক বিবেচনায় সতর্কতা অবলম্বনের কথাও বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন।

এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিভ্রান্তি ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়।

১৬ বছর পর ফিরল চ্যানেল ওয়ান, প্রস্তুতিতে আরও তিন চ্যানেল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ৭:৩৬ অপরাহ্ণ
১৬ বছর পর ফিরল চ্যানেল ওয়ান, প্রস্তুতিতে আরও তিন চ্যানেল

১৬ বছর পর পুনঃসম্প্রচারে এসেছে চ্যানেল ওয়ান। আবারও ফেরার প্রস্তুতি চলছে বন্ধ হওয়া বাকি তিন চ্যানেল- সিএসবি নিউজ, দিগন্ত টিভি ও ইসলামিক টিভির। এর মধ্যে প্রস্তুতিতে সবচেয়ে এগিয়ে ইসলামিক টিভি। তবে, তিনটি প্রতিষ্ঠানেরই শিগগির ফেরার আশা।

এর আগে, ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনায় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের নির্দেশে মধ্যরাতে অ্যাকশনে যায় প্রশাসন। মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের হিসাবে এতে নিহত হন অন্তত ৬১ জন। আর ২০২৫ সালের ৪ মে ৯৩ জনের তালিকা দেয় হেফাজতে ইসলাম।

ওই রাতে একসঙ্গে দিগন্ত ও ইসলামিক টেলিভিশনের সম্প্রচার বন্ধ করে দেয় শেখ হাসিনার সরকার। এতে বেকার হয়ে পড়েন হাজারও কর্মী, যাদের অনেকেই আর কোথাও চাকরি পাননি।

ইসলামিক টিভির হেড অব অপারেশন শাহজানুল ইসলাম পলাশ বলেন, ‘আমার চৌকশ ক্যামেরা ম্যান আমাকে ফোন দিয়ে বলেছে, স্যার কোথাও চাকরি তো হলো না, তাই কারওয়ান বাজার থেকে কলা কিনে ফুটপাতে বিক্রি করছি।’

তারও আগে ২০০৭ সালের ৬ সেপ্টেম্বর দেশের প্রথম সংবাদ ভিত্তিক টিভি সিএসবি নিউজ বন্ধ করে দেয় সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ২০১০ সালের ২৭ এপ্রিল চ্যানেল ওয়ানের সম্প্রচার বন্ধ করে আওয়ামী লীগ সরকার।

তবে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর বন্ধ চ্যানেল চারটির স্থগিতাদেশ তুলে নেয় ড. ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। যেই তারিখে বন্ধ হয়েছিল চ্যানেল ওয়ান, সেই ২৭ এপ্রিলেই ফেরত আসে তারা।

চ্যানেল ওয়ান নিউজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিয়াসউদ্দিন আল মামুন বলেন, ‘ছাইভস্ম থেকে আবার তৈরি করতে হয়েছে। চেষ্টা করেছি, কষ্ট হয়েছে। সবকিছু মিলে সবচেয়ে বড় অবদান হলো আমাদের টিমের। শুধু সংবাদমাধ্যম নয়, যেকোনো প্রতিষ্ঠানের ওপরে কখনই এমন খড়গ চালানো উচিত নয়। কারণ প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই প্রচুর মানুষ জড়িয়ে থাকে।’

সিএসবি নিউজের কর্ণধার ফাইয়াজ কাদের চৌধুরী জানান, তারাও সম্প্রচার বন্ধের দিনই ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অর্থাৎ, ৬ সেপ্টেম্বরকে টার্গেট করে এগুচ্ছেন তারা।

ইসলামিক টিভির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুনঃসম্প্রচারের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছেন তারা। ইতোমধ্যে ৩০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

ইসলামিক টিভির হেড অব অপারেশন শাহজানুল ইসলাম পলাশ বলেন, ‘গত রমজানে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারিতে প্রথম রমজানে আমরা সফট লঞ্জে অন এয়ারে চলে এসেছি। আমাদের ডিস্ট্রিবিউশনটা খুব একটা স্ট্রংভাবে করা হয়নি। তারপরেও অলমোস্ট বাংলাদেশের ৪০-৪৫% জায়গায় এখন ইসলামি টিভি দেখা যায়। আমরা এখন খুব বেশি মনোযোগ দিচ্ছি আমাদের কনটেন্টে।’

আগামী ৬ মাসের মধ্যে দিগন্ত টিভি পুনঃসম্প্রচার আসছে, এই লক্ষ্যে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের চেয়ারম্যান।

দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের চেয়ারম্যান শিব্বির আহমেদ বলেন, ‘আমি বলবো না যে এটা বন্ধ আছে, খুলবে না। আবার বলতে পারিনা যে কালকে খুলবে। তবে ইন প্রসেস। সবাই চায় এটা ওপেন হোক।’

যদিও এই শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, দিগন্তের নীতিনির্ধারকদের মাঝে এখনও বেশকিছু জটিলতা রয়ে গেছে।

সূত্র : স্টার নিউজ