খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ১৯ চৈত্র, ১৪৩২

মাটিতে খেলাধুলা করলে কি শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ে?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৫৭ পূর্বাহ্ণ
মাটিতে খেলাধুলা করলে কি শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ে?

শহরে বাস করা পরিবারগুলো মাটির ছোঁয়া তেমন পায় না। মা-বাবারা শিশুদের নিয়ে ভাবনায় থাকেন। অনেকে মনে করেন, শিশু মাটিতে না খেললে শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে উঠবে না।

শৈশবে আমরা অনেকেই শুনেছি, বড়রা বলতেন, ‘যাও বাইরে গিয়ে মাটিতে খেলো। মাটিতে খেললে শরীর ভালো থাকে, রোগ কম হয়।’ আসলেই কি মাটিতে খেললে ইমিউন সিস্টেম ভালো হয়? এটা কি কেবল মানুষের মধ্যে প্রচলিত ধারণা, নাকি এর পেছনে বিজ্ঞান আছে?

বৈজ্ঞানিক ভিত্তি

আধুনিক গবেষণা বলছে, এই কথার পেছনে সত্যিই কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে। যদিও বিষয়টা যতটা সহজে বলা হয়, ততটা সহজ নয়। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, জীবনের শুরুতে মাটিসহ প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হওয়া শিশুদের মধ্যে অ্যালার্জি ও অটোইমিউন রোগের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে। অটোইমিউন রোগ হলো এমন অবস্থা, যেখানে শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা ভুল করে নিজের টিস্যুকেই শত্রু মনে করে আক্রমণ করে। মানে, খুব ছোট বয়সে নানা ধরনের ক্ষতিকর নয় এমন ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে পরিচয় হলে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা অপ্রয়োজনে সক্রিয় হয় না।

শিশুর ইমিউন সিস্টেম জন্মের পর ধীরে ধীরে শেখে যে কাকে শত্রু হিসেবে আক্রমণ করতে হবে আর কাকে করা যাবে না। শরীরের ভেতরের কোষ আর বাইরের নিরীহ ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে পার্থক্য করে এই প্রক্রিয়া। ইমিউন সিস্টেমে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের মতো রোগজীবাণুকে চিনে আক্রমণ করা যেমন জরুরি, তেমনি নিরীহ ব্যাকটেরিয়ার প্রতি অযথা প্রতিক্রিয়া না দেখানোও গুরুত্বপূর্ণ।

এই শেখার প্রক্রিয়ায় বড় ভূমিকা রাখে আমাদের অন্ত্রের ভেতরে থাকা অগণিত ব্যাকটেরিয়া, যাদের একসঙ্গে বলা হয় গাট মাইক্রোবায়োম। ইমিউন সিস্টেমের নিয়ন্ত্রক অংশকে সক্রিয় করার অনেক সংকেত আসে অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াগুলো থেকে। এরা শুধু রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে না, আমাদের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু ভিটামিন তৈরি করে এবং খাবার হজমেও সাহায্য করে।

শিশুর জীবনের প্রথম বছরটি এই মাইক্রোবায়োম গঠনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। স্বাভাবিক প্রসবের সময় শিশুরা মায়ের শরীর থেকে ব্যাকটেরিয়া পায়। বুকের দুধ থেকেও নানা উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে আসে। এরপর বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা চারপাশের পরিবেশে নানা ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে পরিচিত হয়। মাটি, গাছ, পশুপাখি, এমনকি পোষা প্রাণীর মাধ্যমেও এই পরিচিতি ঘটে।

তত্ত্ব কী বলে

২০০৩ সালে প্রস্তাবিত একটি তত্ত্ব হলো, ‘পুরোনো বন্ধু তত্ত্ব’। এই তত্ত্ব অনুযায়ী শৈশবে যত বেশি বিচিত্র ও নিরীহ ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে আসা যায়, মাইক্রোবায়োম তত সমৃদ্ধ হয়, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তত ভালোভাবে বন্ধু আর শত্রুর পার্থক্য করতে শেখে। এখানে ‘পুরোনো বন্ধু’ বলতে বোঝানো হচ্ছে সেই সব কমেনসাল ব্যাকটেরিয়াকে, যারা আমাদের শরীরের ভেতর বা ওপরে বাস করে, কিন্তু ক্ষতি করে না।

আরেকটি তত্ত্ব হলো ‘হাইজিন হাইপোথিসিস’। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, অতিরিক্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কারণে শিশুরা ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে আসে না এবং পরে অ্যালার্জিতে বেশি ভোগে। তবে গ্রাহাম রুক ও তাঁর সহকর্মীরা জোর দিয়ে বলেছেন, এটি শুধু কম বা বেশি ব্যাকটেরিয়ার বিষয় নয়, বরং কোন ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে আসা হচ্ছে, সেটাই আসল কথা। নিরীহ ও প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া উপকারী হতে পারে, কিন্তু সংক্রামক রোগের ব্যাকটেরিয়া উপকারী নয়।

বাস্তবে কী ঘটে, গবেষণায় যা পাওয়া গেল

গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রামে বা খামারে বড় হওয়া শিশুদের মধ্যে অ্যালার্জির হার তুলনামূলক কম। পোষা প্রাণী আছে, এমন পরিবারে বড় হওয়া শিশুদের মধ্যেও একই প্রবণতা দেখা যায়। আবার জীবনের শুরুতে অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার, যা অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে, কিংবা সিজারিয়ান ডেলিভারি হওয়া শিশু, যারা মায়ের জন্মনালির ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শ পায় না, এসবের সঙ্গেও অ্যালার্জির ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

ফিনল্যান্ডে করা একটি পরীক্ষায় শহুরে শিশুদের নিয়ে বিজ্ঞানীরা ভিন্ন ধরনের একটি উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাঁরা বনাঞ্চলের মাটি ও ঘাস এনে শিশুদের খেলার জায়গায় ব্যবহার করেন। মাত্র এক মাসের মধ্যেই দেখা যায়, যারা এই মাটিতে খেলেছে, তাদের ত্বকে নিরীহ ব্যাকটেরিয়ার বৈচিত্র্য বেড়েছে এবং রক্তে ইমিউন সিস্টেমকে নিয়ন্ত্রণকারী কোষ ও সংকেত দেওয়ার উপাদানও বেশি পাওয়া গেছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে মাটির ব্যাকটেরিয়া রোগ প্রতিরোধক্ষমতাকে পরিণত হতে সাহায্য করতে পারে।

২০২৪ সালে সুইডেনে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় দেখা যায়, যারা দুগ্ধখামারে বড় হয়েছে বা যাদের পোষা প্রাণী ছিল, তাদের মধ্যে অ্যালার্জির হার কম। একই সঙ্গে এদের অন্ত্রেও উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বেশি ছিল। গবেষকেরা মনে করেন, এই দুটি বিষয় পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত।

সতর্কতা হিসেবে যা জানা উচিত

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন যে মাইক্রোবায়োমই সব নয়। জেনেটিকস–সহ আরও অনেক বিষয় অ্যালার্জি বা ইমিউন সমস্যার ঝুঁকিকে প্রভাবিত করে। জনস হপকিনস মেডিসিনের শিশুবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. রবার্ট উডের মতে, সামগ্রিকভাবে শিশুদের বাইরে খেলাধুলায় উৎসাহিত করা ভালো, কিন্তু এটাকে কোনো ‘নিশ্চিত প্রতিরোধের উপায়’ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। যেমন কুকুর পুষলে অ্যালার্জির ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে। এই তথ্যের মানে এই নয় যে সবাইকে অ্যালার্জি ঠেকাতে কুকুর পালতে হবে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সব মাটি নিরাপদ নয়। দূষিত এলাকার মাটিতে সিসা বা অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকতে পারে, এমনকি পরজীবীও থাকতে পারে। এমন মাটির সংস্পর্শ শিশুদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই শিশুদের মাটি খাওয়া বা শ্বাসের সঙ্গে ধুলা টেনে নেওয়া থেকে বিরত রাখতে হবে।

তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে প্রকৃতির সংস্পর্শের ভারসাম্য রাখতে হবে। মাঝেমধ্যে মাটিতে হাত লাগানো, বাইরে দৌড়ঝাঁপ করা ইত্যাদি হয়তো শিশুর ইমিউন সিস্টেম ভালো রাখতে খানিকটা সাহায্য করবে। তবে এটিই একমাত্র উপায় নয়।

সূত্র: লাইভ সায়েন্স

দায়িত্ব নিয়েই মাঠে সালথার ইউএনও দবির উদ্দিন, সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রথম মতবিনিময়

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
দায়িত্ব নিয়েই মাঠে সালথার ইউএনও দবির উদ্দিন, সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রথম মতবিনিময়

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দবির উদ্দিনের সঙ্গে কর্মরত সাংবাদিকদের এক সৌহার্দ্যপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সভা স্থানীয় প্রশাসন ও গণমাধ্যমের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই আয়োজন করা হয়।

বুধবার (০১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় উপজেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন। সভার শুরুতে সালথা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে নবাগত ইউএনওকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়, যা অনুষ্ঠানে একটি আন্তরিক পরিবেশ তৈরি করে।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন সালথা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম নাহিদ।

এতে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি মো. সেলিম মোল্যা, সিনিয়র সাংবাদিক আবু নাছের হুসাইন, মজিবুর রহমান ও মনির মোল্যা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি মিঞা লিয়াকত হুসাইন, সহ-সভাপতি আজিজুর রহমান আজিজ, যুগ্ম সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক মোশাররফ মাসুদ, দপ্তর সম্পাদক লাভলু মিয়া, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আকাশ সাহা, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক পারভেজ মিয়া, সাহিত্য ও পাঠাগার সম্পাদক নিজাম তালুকদার, কার্যনির্বাহী সদস্য জাকির হোসেন, সদস্য সাইফুল ইসলাম মারুফ এবং সাংবাদিক মামুন মিয়াসহ অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীরা।

সভায় ইউএনও মো. দবির উদ্দিন বলেন, উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সাংবাদিকদের কাছে বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

তিনি আরও বলেন, জনগণের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরতে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম। প্রশাসন ও গণমাধ্যম একসঙ্গে কাজ করলে একটি উন্নয়নমুখী ও স্বচ্ছ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ ২০২৬ সালে মো. দবির উদ্দিন সালথা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে নানা উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন।

সালথায় কৃষকদের মাঝে পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
সালথায় কৃষকদের মাঝে পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের মাঝে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (০১ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে উপজেলার মোট ১৬০ জন কৃষকের মাঝে প্রত্যেককে একটি করে এয়ার ফ্লো মেশিন প্রদান করা হয়।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সুদর্শন শিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দবির উদ্দিন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল করিম, উপজেলা প্রকৌশলী আবু জাফর, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা খায়ের উদ্দিন আহমেদ, সালথা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম নাহিদসহ অন্যান্য স্থানীয় কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার সুদর্শন শিকদার বলেন, সালথা একটি কৃষি সমৃদ্ধ এলাকা, যেখানে প্রতি বছর ব্যাপক পরিমাণে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। সংরক্ষণের অভাবে কৃষকরা অনেক সময় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন। এয়ার ফ্লো মেশিন ব্যবহারের মাধ্যমে দীর্ঘদিন পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে, ফলে কৃষকরা উপযুক্ত সময়ে ভালো দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারবেন।

তিনি আরও জানান, কৃষকদের সুবিধার্থে এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

ভাঙ্গায় প্রেমিকাকে ডেকে নিয়ে ফসলি মাঠে রাতভর গণধর্ষণ

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৩২ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গায় প্রেমিকাকে ডেকে নিয়ে ফসলি মাঠে রাতভর গণধর্ষণ

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় প্রেমিকাকে কৌশলে ডেকে নিয়ে ফসলি জমিতে রাতভর গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে চার বন্ধুর বিরুদ্ধে। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় ইতোমধ্যে নাহিদ ইসলাম নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, আর বাকি অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয় ভাঙ্গা থানা পুলিশ। কলের ভিত্তিতে দ্রুত দুইটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের খামিনারবাগ এলাকার একটি ফসলি মাঠ থেকে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে।

এর আগে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দিবাগত রাতে প্রেমিক নাহিদের ডাকে সাড়া দিয়ে ওই নারী নির্জন স্থানে গেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সেখানে উপস্থিত ছিল নাহিদের আরও তিন বন্ধু—সাদ্দাম, নাজমুল ও নুর আলম। পরে তারা সবাই মিলে তাকে জোরপূর্বক আটকে রেখে পালাক্রমে রাতভর ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

শুধু তাই নয়, নির্যাতনের পর অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর সঙ্গে থাকা এক জোড়া সোনার দুল ও নগদ প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় বলেও জানান তিনি।

ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে প্রথমে ভাঙ্গা থানায় নিয়ে আসা হয়। সেখানে তার অভিযোগের ভিত্তিতে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও প্রমাণ সংগ্রহের জন্য তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, “৯৯৯ কল পাওয়ার পরপরই আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেই এবং ঘটনাস্থল থেকে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করি। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নাহিদ ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান চলমান রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।”