খুঁজুন
, ,

কোন কোন সময় ঘুমালে রোগ বা স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বাড়ে?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৪২ পূর্বাহ্ণ
কোন কোন সময় ঘুমালে রোগ বা স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বাড়ে?

স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ঘুমের সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অসময়ের ঘুম বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। শরীর প্রকৃতির সময় মেনে চলে। নিয়মিত সেই সময়ের বিপরীতে চলার কারণে ধীরে ধীরে শরীরের ভেতরে সমস্যা তৈরি হবেই। 

বিষয়টি সম্পর্কে কথা বলেছেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল নিউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এম এস জহিরুল হক চৌধুরী।

কোন সময়ে ঘুমালে রোগ বা স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বাড়ে

অধ্যাপক ডা. এম এস জহিরুল হক চৌধুরী বলেন, ঘুমানোর সবচেয়ে নিরাপদ সময় হচ্ছে রাত ১০টা থেকে ১১টা এবং ভোর ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে ঘুম থেকে ওঠা। ঘুমের সময় শুধু ‘কত ঘণ্টা’ নয়, ‘কখন ঘুমাচ্ছেন’—এটাও স্বাস্থ্যের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের জৈবিক ঘড়ি (সারকাডিয়ান রিদম) যদি বার বার ভেঙে যায়, তাহলে নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ে। যেমন:

১. রাত ১২টার পর নিয়মিত ঘুমানো সবচেয়ে বড় ঝুঁকির সময়। নিয়মিত রাত ১২টার পর ঘুমাতে যাওয়ার কারণে মেলাটোনিন হরমোন ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। ঘুমের গভীরতা কমে যায়, শরীরের ‘রিপেয়ার সিস্টেম’ ব্যাহত হয়। এর ফলে ওজন বৃদ্ধি পায়, ডায়াবেটিস, মানসিক চাপ বা ডিপ্রেশন ও হরমোনের সমস্যা দেখা দেয়।

২. ভোরের দিকে (রাত ২টা-৪টা) ঘুমানো শরীরের স্বাভাবিক ঘুমের সময়ের সম্পূর্ণ বিপরীত। এই সময়ে ঘুমালে সকালে উঠতে দেরি হয়, সারাদিন ক্লান্তি লাগে ও কাজের দক্ষতা কমে যায়। দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের ঝুঁকির বাড়ে ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

৩. দিনে বেশি সময় বিশেষ করে সকাল ৯টার পর ঘুমানোর কারণে শরীরের ঘড়ি এলোমেলো হয়ে যায়, রাতে ঘুম কমে যায়। এর ফলে ইনসমনিয়া, মেটাবলিক সমস্যা (ওজন, সুগার) দেখা দিতে পারে।

৪. সন্ধ্যার পরে দীর্ঘ সময় ঘুমানো স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অনেকেই বিকেলে কিংবা সন্ধ্যায় ১-২ ঘণ্টা ঘুমান। এতে করে রাতে ঘুম আসতে দেরি হয়, ঘুমের চক্র নষ্ট হয়। যার ফলে ক্রনিক ঘুমের সমস্যা তৈরি হয়।

৫. প্রতিদিন ভিন্ন সময়ে ঘুমানো, যেমন: একদিন রাত ১০টায়, আরেকদিন রাত ২টায় এভাবে অনিয়মের কারণে শরীরের সারকাডিয়ান রিদম ভেঙে যায়, ঘুমের গুণগত মান কমে যায়। হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, হতাশা, উদ্বেগ, স্থায়ী অনিদ্রার ঝুঁকি বাড়ে।

৬. নাইট শিফটে নিয়মিত কাজ করেন যারা তারা রাতে কাজ করে, দিনে ঘুমায়। তাদের শরীর স্বাভাবিক নিয়মে চলতে পারে না, সূর্যালোকের অভাব দেখা দেয়। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, হজমের সমস্যা, মানসিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে।

৭. খুব কম বা খুব বেশি ঘুম (সময় যাই হউক), যেমন: ৫ ঘণ্টার কম বা ৯ থেকে ১০ ঘণ্টার বেশি ঘুম স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে। কম ঘুম হওয়ার কারণে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে। অন্যদিকে বেশি ঘুম অলসতা, হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

অসময়ে ঘুমের প্রভাব কাদের ওপর বেশি পড়ে, কেন

ঘুমের প্রভাব সবার ওপর পড়ে। কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট মানুষ বা বয়সের ক্ষেত্রে এর প্রভাব বেশি তীব্রভাবে দেখা যায়। কারণ তাদের শরীর, মস্তিষ্ক বা হরমোনগত অবস্থা অন্যদের তুলনায় বেশি সংবেদনশীল।

শিশু ও কিশোরদের মধ্যে ঘুমের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। কারণ তাদের মস্তিষ্ক ও শরীর দ্রুত বিকাশমান এবং গ্রোথ হরমোন ঘুমের সময় বেশি নিঃসৃত হয়। এই বয়সে ঘুম কম হলে উচ্চতা ও শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, স্মৃতিশক্তি ও শেখার ক্ষমতা কমে, আচরণে খিটখিটে ভাব আসে।

পড়াশোনার চাপ, রাত জাগার অভ্যাসের কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসময়ে ঘুম ও অনিদ্রার প্রভাব বেশি। যার কারণে মনোযোগ কমে যায়, পরীক্ষায় খারাপ ফল, শেখার ক্ষমতা হ্রাস পায়।

মানসিক চাপগ্রস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ঘুমের নেতিবাচক প্রভাব বেশি পড়ে। মস্তিষ্ক সবসময় সক্রিয় থাকার কারণে তাদের ঘুমের সময়সূচি ব্যাহত হয়।

কর্মজীবী বিশেষ করে যারা রাতের শিফটে কাজ করেন তাদের ঘুমের রুটিন ঠিক থাকে না, যা শরীরের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ তৈরি করে।

হরমোনাল পরিবর্তনের কারণে অন্তঃসত্ত্বা নারীর ঘুমের সময়সূচি বদলে যায়। এ ছাড়া বয়স্ক ব্যক্তি, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, ওষুধের প্রভাব, যাদের স্ক্রিন টাইম বেশি তাদের মধ্যে অসময়ে ঘুম বা অনিদ্রার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।

অধ্যাপক ডা. এম এস জহিরুল হক চৌধুরী বলেন, ঘুমের প্রভাব কারো ক্ষেত্রে হালকা, কারো ক্ষেত্রে গুরুতর হতে পারে। কিন্তু যাদের ওপর বেশি প্রভাব পড়ে, তাদের জন্য সঠিক ঘুম নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

ঘুমের সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য নিয়মিত রুটিন মেনে ঘুমানোর অভ্যাস, মানসিক নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ব্যায়াম, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, স্ক্রিন টাইম কমাতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ২ থেকে ৩ সপ্তাহ ধরে নিয়মিত ঘুম না হলে, দিনে অতিরিক্ত ক্লান্তি থাকলে, ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হওয়া বা বারবার জাগা—এমন উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সূত্র : ডেইলি স্টার

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ফরিদপুরে ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৩:০৭ অপরাহ্ণ
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ফরিদপুরে ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই সনদ দ্রুত কার্যকরের দাবিতে ফরিদপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য জোট। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মভিত্তিক দলের নেতারা অংশ নেন। তারা দাবি করেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

শনিবার (৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জনতা ব্যাংক মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় সমাবেশ।

সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের ফরিদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক মাওলানা মো. বদরুদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং দলীয় মুখপাত্র মুফতি আবু নাসির আইয়ুবী ও অধ্যাপক আব্দুল ওহাবের যৌথ সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য প্রফেসর আবদুত তাওয়াব।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ফরিদপুর জেলা সভাপতি মাওলানা আমজাদ হোসাইন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ফরিদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক ডা. বায়েজিদ আহমাদ শাহেদ, খেলাফত আন্দোলন ফরিদপুর জেলা সভাপতি মাওলানা মিজানুর রহমান, এলডিপি সভাপতি মো. কামরুল ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্য জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

বক্তারা বলেন, গণভোটের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের মতামত এবং জুলাই সনদের প্রস্তাবনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা সময়ের দাবি। জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান জানিয়ে সরকারকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।

নেতারা আরও বলেন, দাবি বাস্তবায়নে গড়িমসি করা হলে সারাদেশে আরও বৃহত্তর ও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। গণতান্ত্রিক উপায়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও তারা ঘোষণা দেন।

সমাবেশে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা ১১ দলীয় ঐক্য জোটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচি চলাকালে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় ছিল এবং বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন দাবিসংবলিত স্লোগান দেন।

ভাঙ্গায় গুলিতে যুবক নিহত: স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে মামলা, কমিটি বিলুপ্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ১:২৯ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গায় গুলিতে যুবক নিহত: স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে মামলা, কমিটি বিলুপ্ত

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুলিতে সুমন শেখ নামে এক যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিবকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ মামলার একদিন পরই ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল।

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান হত্যা মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে ভাঙ্গা পৌরসভার হাসামদিয়া ও কাপুড়িয়া সদরদী মহল্লার বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হন কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মিলন শেখের ছেলে সুমন শেখ (২৩)। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা মিলন শেখ গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মামলার এক নম্বর আসামি করা হয়েছে ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ও পূর্ব হাসামদিয়া মহল্লার বাসিন্দা সজীব মাতুব্বরকে (২৮)।

পুলিশ জানায়, মামলার পর থেকে অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মামলার প্রধান আসামি সজীব মাতুব্বর এখনও পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, ঘটনার পর শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে নিহত সুমন শেখের বাড়িতে যান ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) আসনের সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল। তিনি নিহতের কবর জিয়ারত করেন এবং পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান।

সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সংসদ সদস্য বলেন, “মামলা তার নিজস্ব গতিতেই চলবে। এই মামলায় কেউ কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। যারা অভিযুক্ত হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে আজই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দলীয় সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।”

সংসদ সদস্যের ওই বক্তব্যের প্রায় তিন ঘণ্টার মধ্যেই জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হোসেন ও সদস্যসচিব শাহরিয়ার শিথিল স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “অনিবার্য কারণবশত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল, ভাঙ্গা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটি ৩ জুলাই থেকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো।”

কমিটি বিলুপ্তির বিষয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব শাহরিয়ার শিথিল বলেন, ভাঙ্গা উপজেলা কমিটির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। সর্বশেষ কমিটির এক শীর্ষ নেতা হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি হওয়ায় এবং মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সুপারিশে উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক প্রভাব যেন তদন্তে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব সজীব মাতুব্বরের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তিনি পলাতক থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

ডিম ছাড়ার মৌসুমেও সালথায় চায়না দুয়ারির দাপট, হুমকিতে দেশীয় মাছের বংশবিস্তার

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ
ডিম ছাড়ার মৌসুমেও সালথায় চায়না দুয়ারির দাপট, হুমকিতে দেশীয় মাছের বংশবিস্তার

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বিভিন্ন খাল-বিল, নদী-নালা ও জলাশয়ে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি (চায়না জাল) দিয়ে অবাধে মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে। আষাঢ় মাসজুড়ে যখন দেশীয় প্রজাতির অধিকাংশ মাছ ডিম ছাড়ে ও বংশবিস্তার করে, ঠিক সেই সময় নির্বিচারে মাছ ধরায় জলজ জীববৈচিত্র্য ও দেশীয় মাছের উৎপাদন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

শুক্রবার (৩ জুলাই) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, ছোট-বড় খাল, বিল, নালা ও নদীর বিভিন্ন স্থানে চায়না দুয়ারি বসিয়ে দিন-রাত মাছ ধরা হচ্ছে। এসব ফাঁদে শুধু বড় মাছই নয়, রেণু, পোনা এবং ডিমওয়ালা মাছও আটকা পড়ছে। ফলে প্রাকৃতিকভাবে মাছের বংশবিস্তার ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে এভাবে নিষিদ্ধ ফাঁদ ব্যবহার হলেও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর অভিযান না থাকায় অসাধু জেলেরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এতে একদিকে যেমন দেশীয় মাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে মৎস্যসম্পদের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের বাসিন্দা মজিবুর মাতুব্বর বলেন, “আগে বর্ষাকালে খাল-বিলে প্রচুর দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। এখন চায়না দুয়ারির কারণে ছোট-বড় সব মাছ ধরা পড়ে যাচ্ছে। মাছ ডিম দেওয়ার আগেই ধরে ফেলায় আগের মতো মাছ আর পাওয়া যায় না। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান চালানো প্রয়োজন।”

একই উপজেলার বাসিন্দা ইলিয়াস হোসেন বলেন, “চায়না দুয়ারি একবার বসালে পানির ভেতরের প্রায় সব ধরনের মাছ আটকা পড়ে। এতে ছোট মাছও রক্ষা পায় না। কয়েকজনের লাভের জন্য পুরো এলাকার মৎস্যসম্পদ ধ্বংস হচ্ছে। বিষয়টি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চায়না দুয়ারি বা সূক্ষ্ম ফাঁসের অবৈধ জাল ব্যবহারের ফলে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন বাধাগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এসব জাল ব্যবহার দেশীয় প্রজাতির মাছের জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়। এ কারণে সরকার বিভিন্ন সময় এ ধরনের অবৈধ উপকরণ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

এ বিষয়ে সালথা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) তরুণ বসু ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, “চায়না দুয়ারি ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং যেখানে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে সেখানে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। অবৈধভাবে মাছ শিকারকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর। নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি দিয়ে মাছ শিকারের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করা হবে। কেউ আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে স্থানীয়দেরও সচেতন হয়ে প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাই।”