খুঁজুন
শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

হজমের সমস্যা কমাতে কোন ডাল কতক্ষণ ভিজিয়ে রাখা জরুরি?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৪১ পূর্বাহ্ণ
হজমের সমস্যা কমাতে কোন ডাল কতক্ষণ ভিজিয়ে রাখা জরুরি?

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় মাছ, মাংস, সবজি যা-ই থাকুক না কেন ডাল না হলে চলে না। ভাত-রুটি সব কিছুর সঙ্গে ডাল খাওয়া যায়। আগের দিনে রান্না করার আগে কমবেশি সব বাড়িতেই ডাল ভিজিয়ে রাখার চল ছিল।

তবে আজকাল অনেকেই দ্রুত রান্না সারতে ডাল ভিজিয়ে রাখার সময় পান না। সরাসরি রান্না করে ফেলেন। এতে হজমের সমস্যা বাড়ে। ফোলেট, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান ভরপুর ডাল রান্নার আগে ‌অবশ্যই নির্দিষ্ট সময় ধরে ভিজিয়ে রাখা জরুরি।

ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোন ডাল কতক্ষণ ভিজিয়ে রাখলে বেশি উপকারিতা পাওয়া যাবে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবুজ মুগডাল ভিজিয়ে রাখতে হবে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা, হলুদ মুগ ডাল অন্তত ৩০ মিনিট, ছোলার ডাল ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা, অড়হড় ডাল ২ থেকে ৩ ঘণ্টা,রাজমা ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা, মুসুর ডাল ১ থেকে ২ ঘণ্টা, কালো ছোলা ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা, মটর ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা, কাবলি ছোলা ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ছোলার ডাল, মটর ডাল বেশ ভারী খাবার। হজম করা সহজ নয়। রান্নার আগে এই সব ডাল ভিজিয়ে রাখলে অ্যান্টি-নিউট্রিয়েন্টের মাত্রা কমে। এ ছাড়াও, ডালের উপরের অংশে ফাইটিক অ্যাসিড থাকায় পেটে গেলে বদহজম হতে পারে। ডাল কিছু ক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখলে সেই অ্যাসিড ধুয়ে যায়। পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ডালে থাকা পলিফেনল এবং ট্যানিনও অনেকটা চলে যায়। এর ফলে ডালে উপস্থিত বাকি সব উপাদান, যেমন ম্যাঙ্গানিজ, জিঙ্ক, ক্যালশিয়াম, আয়রন— সব ভাল ভাবে শরীরে প্রবেশ করে ।

সূত্র: আনন্দবাজার

ফরিদপুরে বিকল ট্রাক সারতে গিয়ে বাসের চাপায় ঝরে গেল বাবা-ছেলের প্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে বিকল ট্রাক সারতে গিয়ে বাসের চাপায় ঝরে গেল বাবা-ছেলের প্রাণ

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মালবাহী ট্রাকের চাকা মেরামতের সময় অজ্ঞাত একটি বাসের চাপায় নিহত হয়েছেন ট্রাকচালক ও তার বাবা। নিহত দুইজন সম্পর্কে পিতা-পুত্র বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (১৬ মে) ভোর রাত ৪টার দিকে ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের বগাইল টোলপ্লাজার সামনে বগাইল ও বামনকান্দা এলাকার মাঝামাঝি স্থানে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— যশোর সদর উপজেলার রুপদিয়া এলাকার বাসিন্দা ইউসুফ আলী (৫০) ও তার ছেলে ইয়াকুব আলী (২৬)। ইয়াকুব মালবাহী ট্রাকটির চালক ছিলেন এবং তার বাবা ইউসুফ আলী হেলপার হিসেবে সঙ্গে কাজ করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ভাঙ্গাগামী একটি মালবাহী ট্রাক ভোররাতে বগাইল টোলপ্লাজা এলাকায় পৌঁছালে ট্রাকটির পিছনের একটি চাকা বিকল হয়ে যায়। পরে সড়কের পাশে ট্রাকটি থামিয়ে চালক ইয়াকুব ও তার বাবা ইউসুফ আলী মিলে চাকা মেরামতের কাজ শুরু করেন। এসময় দ্রুতগতির একটি অজ্ঞাত বাস পেছন দিক থেকে এসে তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাবা-ছেলের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পর বাসটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ট্রাকটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি শিবচর হাইওয়ে থানা পুলিশ তদন্ত করছে।

এ বিষয়ে শিবচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। নিহতদের মধ্যে ছেলে ট্রাকের ড্রাইভার এবং বাবা হেলপার ছিলেন। দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটিকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

এই ৬ গুণ থাকলে বুঝবেন আপনি জান্নাতি

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৭:৪৮ পূর্বাহ্ণ
এই ৬ গুণ থাকলে বুঝবেন আপনি জান্নাতি

পৃথিবীর এই ক্ষণস্থায়ী জীবন শেষে মুমিনের একমাত্র কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য হলো মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং জান্নাত লাভ করা। জান্নাত এমন এক চিরসুখের নীড়, যার বিশালতা আসমান ও জমিনের সমান এবং যা কেবল মুত্তাকিদের জন্যই প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে।

মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনের সুরা আল ইমরানের ১৩৩ থেকে ১৩৬ নম্বর আয়াতে মুত্তাকিদের বিশেষ কিছু গুণের কথা বর্ণনা করেছেন, যা অর্জন করতে পারলে কেয়ামতের সেই ভয়াবহ দিনে আল্লাহর পক্ষ থেকে মাগফেরাত বা ক্ষমা এবং পরম শান্তির জান্নাত নিশ্চিত করা সম্ভব।

আলেমদের মতে, কোরআন-হাদিসে মুত্তাকিদের অসংখ্য গুণ থাকলেও এই আয়াতে বর্ণিত ছয়টি বৈশিষ্ট্য একজন ঈমানদারকে জান্নাতের পথে অনেক দূর এগিয়ে দেয়। নিচে সেই গুরুত্বপূর্ণ ৬টি গুণ বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. সচ্ছল ও অসচ্ছল সর্বাবস্থায় দান করা

জান্নাতি মানুষের প্রথম গুণ হলো তারা কেবল সচ্ছল থাকলেই দান করেন না, বরং অভাব বা টানাটানির সময়েও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যয় করে। তাদের দানের মূল উদ্দেশ্য থাকে কেবল আল্লাহকে খুশি করা, মানুষের বাহবা পাওয়া নয়। বিশেষ করে গোপনে দান করা মুত্তাকিদের একটি বড় বৈশিষ্ট্য, যেখানে এক হাত দান করলে অন্য হাতও তা টের পায় না। আল্লাহর কাছে দানের পরিমাণের চেয়ে দাতার নিষ্ঠা বা এখলাস বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

২. ক্রোধ সংবরণ করা

রাগ বা ক্রোধ মানুষের হিতাহিত জ্ঞান কেড়ে নেয় এবং সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করে। জান্নাতি মানুষের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো প্রচণ্ড রাগের মুহূর্তেও নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা। যারা আল্লাহর ভয়ে নিজের রাগকে হজম করে ফেলে, তারা আল্লাহর অত্যন্ত প্রিয় বান্দা। নবী কারীম (সা.)-এর মতে, প্রকৃত বীর সেই নয় যে অন্যকে কুস্তিতে হারিয়ে দেয়, বরং সেই ব্যক্তিই প্রকৃত বীর যে রাগের সময় নিজেকে সংবরণ করতে পারে।

৩. মানুষকে ক্ষমা করা

অন্যের ভুল বা অন্যায়কে ক্ষমা করার জন্য একটি বড় কলিজার প্রয়োজন হয়। ছোট মনের মানুষ কখনো ক্ষমা করতে পারে না। জান্নাতি ব্যক্তিরা বিশ্বাস করেন যে, কিয়ামতের দিন যদি তারা আল্লাহর কাছে ক্ষমা পেতে চান, তবে দুনিয়াতে আল্লাহর বান্দাদের ক্ষমা করা শিখতে হবে। মানুষকে ক্ষমা করলে নিজের মন হালকা ও নির্ভার হয় এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ পুরস্কার নিশ্চিত হয়।

৪. এহসান বা পরোপকার করা

মুত্তাকিরা সর্বদা মানুষের উপকার করার মানসিকতা লালন করেন। মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার পর সবচেয়ে বড় আমল হলো মানুষের উপকার করা এবং সবচেয়ে বড় অপরাধ হলো মানুষের পিছে লাগা বা কারও ক্ষতি করা। ঈমানদার ব্যক্তি কখনো অন্যের ছিদ্রান্বেষণ করে না, বরং সর্বদা মানুষের কল্যাণকামী হয়ে এহসান বা অনুগ্রহ করে থাকে।

৫. গোনাহের পর দ্রুত তওবা করা

মানুষ হিসেবে ভুল বা গুনাহ হয়ে যাওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু মুত্তাকি ব্যক্তির বিশেষত্ব হলো, কোনো অন্যায় বা অশ্লীল কাজ করে ফেললে সাথে সাথে তার আল্লাহর কথা মনে পড়ে যায় এবং তিনি বিলম্ব না করে কায়মনোবাক্যে তওবা করেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে, আল্লাহ ছাড়া আর কেউ গুনাহ মাফ করার নেই।

৬. গোনাহের পুনরাবৃত্তি না করা

একবার ভুল করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার পর মুত্তাকি ব্যক্তি সেই অপরাধের পথে আর পা বাড়ান না। তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরে নিজেকে সংশোধন করেন এবং সেই পাপে লিপ্ত না হওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন।

যাদের মধ্যে এই ছয়টি গুণের সমন্বয় থাকবে, কেয়ামতের ময়দানে আল্লাহ তায়ালা তাদের জন্য মাগফেরাত এবং এমন জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন, যার তলদেশ দিয়ে নহর প্রবাহিত হবে এবং সেখানে তারা চিরকাল বসবাস করবেন। আসুন, আমরা নিজেদের জীবনকে এই গুণগুলোর আলোকে সাজানোর চেষ্টা করি।

ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর বয়ান অবলম্বনে

কোন বয়সের পর নারীদের হাড় দুর্বল হতে শুরু করে?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৭:৪০ পূর্বাহ্ণ
কোন বয়সের পর নারীদের হাড় দুর্বল হতে শুরু করে?

ত্বকের যত্ন, ওজন নিয়ন্ত্রণ কিংবা হরমোনজনিত পরিবর্তন; নারীদের স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনায় এসব বিষয় প্রায়ই গুরুত্ব পায়। কিন্তু নীরবে শরীরের ভেতরে চলতে থাকা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন অনেক সময়ই আড়ালে থেকে যায়। সেটি হলো হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি নির্দিষ্ট বয়সের পর নারীদের হাড় ধীরে ধীরে দুর্বল হতে শুরু করে। শুরুতে তেমন কোনো লক্ষণ না থাকায় অধিকাংশ নারী বিষয়টি বুঝতেই পারেন না। অথচ সময়মতো সচেতন না হলে ভবিষ্যতে এটি বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।

৩৫-এর পর শরীরে শুরু হয় নীরব পরিবর্তন

বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের হাড়ের সর্বোচ্চ শক্তি বা ‘পিক বোন মাস’ সাধারণত ২০-এর শেষ ভাগ কিংবা ৩০-এর শুরুর দিকে পৌঁছায়। এরপর শরীরে হাড় ভাঙা ও নতুন হাড় তৈরির ভারসাম্য বদলে যেতে শুরু করে।

নয়াদিল্লির মণিপাল হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জন ডা. ললিত নেমিচাঁদ বাফনা বলেন, অনেক নারীই ৩০-এর দশকে হাড়ের স্বাস্থ্য নিয়ে খুব একটা ভাবেন না। অথচ এ সময় থেকেই শরীরে বড় পরিবর্তন শুরু হয়। ৩৫ বছরের পর শরীরে হাড় ক্ষয়ের গতি নতুন হাড় তৈরির চেয়ে দ্রুত হয়ে যায়। ফলে ধীরে ধীরে হাড়ের ঘনত্ব কমতে থাকে।

তার মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই পরিবর্তনের শুরুতে সাধারণত কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না। না থাকে ক্লান্তি, না থাকে দৃশ্যমান দুর্বলতা। দীর্ঘদিন নীরবে হাড় ক্ষয় হতে থাকে, পরে গিয়ে সেটি ভাঙন বা দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা হিসেবে ধরা পড়ে।

শুরুতে হাড় ক্ষয় টের পাওয়া যায় না

হাড় দুর্বল হওয়ার সবচেয়ে জটিল দিক হলো, প্রথম দিকে এটি শরীরে তেমন কোনো অনুভূতি তৈরি করে না। ফলে অনেকেই ধরে নেন সবকিছু স্বাভাবিক আছে।

প্রথম দিকের কিছু লক্ষণ হতে পারে—

উচ্চতা সামান্য কমে যাওয়া

মাঝেমধ্যে পিঠে ব্যথা

সামান্য পড়ে গেলেও হাড় ভেঙে যাওয়া

তবে এসব লক্ষণ দেখা দেওয়ার সময় পর্যন্ত হাড়ের ঘনত্ব অনেকটাই কমে যেতে পারে।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ভারতে বিশেষ করে ৪০ বছরের বেশি বয়সী নারীদের মধ্যে অস্টিওপোরোসিস অনেক ক্ষেত্রেই ধরা পড়ে তখনই, যখন হাড় ভেঙে যায়।

অস্টিওপোরোসিস আসলে কী?

অনেকে অস্টিওপোরোসিসকে শুধু ‘হাড় দুর্বল হওয়া’ বলে ভাবেন। কিন্তু এটি আসলে হাড়ের গঠনগত পরিবর্তন।

স্বাভাবিক হাড়কে যদি ঘন স্পঞ্জের সঙ্গে তুলনা করা হয়, তাহলে অস্টিওপোরোসিসে সেই স্পঞ্জের ভেতরে বড় বড় ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়। ফলে হাড় হালকা, ভঙ্গুর ও চাপ সহ্য করতে অক্ষম হয়ে পড়ে।

নারীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বাড়ে কেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বয়স নয়; জীবনযাপন, হরমোন এবং শারীরিক পরিবর্তনের কারণেও নারীদের হাড় দ্রুত দুর্বল হতে পারে।

হরমোনের পরিবর্তন

ইস্ট্রোজেন হরমোন হাড়কে সুরক্ষা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মেনোপজের আগেই এই হরমোনের মাত্রা ওঠানামা শুরু হয়। সেই পরিবর্তন ধীরে ধীরে হাড়ের শক্তিতে প্রভাব ফেলে।

ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি

ব্যস্ত নগরজীবনে অনেক নারীর শরীরে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি পৌঁছায় না। এনআইএইচ-এর একাধিক গবেষণায় ভারতীয় নারীদের মধ্যে ব্যাপক ভিটামিন ডি ঘাটতির তথ্য উঠে এসেছে।

কম শারীরিক পরিশ্রম

হাড় শক্ত রাখতে শরীরচর্চা জরুরি। হাঁটা, ব্যায়াম বা ওজন বহনের মতো কাজ শরীরকে হাড় মজবুত রাখতে সংকেত দেয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় বসে কাজ করার অভ্যাস সেই প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে।

গর্ভধারণ ও বুকের দুধ খাওয়ানো

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালে শরীর থেকে প্রচুর ক্যালসিয়াম ব্যবহার হয়। সঠিকভাবে পুষ্টি পূরণ না হলে হাড়ের রিজার্ভ কমে যেতে পারে, যা কখনো কখনো দীর্ঘ সময় পর্যন্ত প্রভাব ফেলতে পারে।

যে পরীক্ষাটি অনেক নারী দেরিতে করেন

হাড়ের ঘনত্ব পরীক্ষা করার জন্য ডেক্সা স্ক্যান করা হয়। এটি সহজ, ব্যথাহীন এবং খুব কম সময়ের একটি পরীক্ষা।

তবু অধিকাংশ নারী এই পরীক্ষা করানোর কথা ভাবেন অনেক দেরিতে। অনেকের ধারণা, হাড়ের পরীক্ষা শুধু বয়স্কদের জন্য প্রয়োজন। এই ভুল ধারণার কারণেই প্রাথমিক পর্যায়ে সমস্যা ধরা পড়ে না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সময়মতো স্ক্রিনিং ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে হাড় ভাঙার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

হাড় ক্ষয় ধীর করতে কী করবেন?

৩৫-এর পর শরীর আগের মতো দ্রুত হাড় তৈরি করতে না পারলেও সঠিক যত্নে ক্ষয় ধীর করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা যেসব অভ্যাসে গুরুত্ব দিচ্ছেন—

নিয়মিত হাঁটা, যোগব্যায়াম বা ওজন বহনের ব্যায়াম

খাবারের মাধ্যমে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম গ্রহণ

প্রতিদিন কিছু সময় রোদে থাকা, যাতে প্রাকৃতিকভাবে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়

স্ট্রেন্থ ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে হাড় ও পেশি শক্ত রাখা

গুরুতর ক্ষেত্রে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। কখনো কখনো হাড় ভাঙার কারণে ভার্টিব্রোপ্লাস্টি বা জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্টের মতো চিকিৎসাও লাগতে পারে।

যে বিষয়টি নিয়ে খুব কম কথা হয়

৩৫-এর পর হাড় ক্ষয় নাটকীয়ভাবে শুরু হয় না। এটি ধীরে ধীরে, নীরবে শরীরে জায়গা করে নেয়। আর ঠিক এ কারণেই বিষয়টি অনেক সময় গুরুত্ব পায় না।

ত্বকের যত্ন নিয়ে আলোচনা হয়, ওজন নিয়ে উদ্বেগ থাকে; কিন্তু হাড়ের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা তুলনামূলক অনেক কম।

অথচ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তখন সুস্থ হয়ে উঠতেও সময় বেশি লাগে, জটিলতাও বাড়ে।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া