খুঁজুন
রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

মুড়ি না চিড়া—কোন খাবারটি বেশি স্বাস্থ্যকর?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫২ পূর্বাহ্ণ
মুড়ি না চিড়া—কোন খাবারটি বেশি স্বাস্থ্যকর?

সকালের হালকা নাশতা বা গল্প-আড্ডার সময় চিড়া ও মুড়ি দুটোই বেশ জনপ্রিয়। কেউ চিড়া বেশি পছন্দ করেন, কেউ মুড়ি। দুটিই চাল থেকে তৈরি হলেও প্রস্তুতি ও পুষ্টিগুণে পার্থক্য রয়েছে।

চিড়া ও মুড়ির প্রস্তুতি:

মুড়ি তৈরি হয় চালকে উচ্চ তাপে ফুলিয়ে, এতে পানি খুব কম থাকে। চিড়া তৈরি হয় ভিজিয়ে, চাপ দিয়ে ও শুকিয়ে; এতে প্রাকৃতিক কার্বোহাইড্রেট বেশি থাকে। দু’টিই মূলত কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ, তবে চিড়ায় ফাইবার ও খনিজ বেশি থাকতে পারে।

মুড়ি:

ওজন কমানোর জন্য মুড়ি বেশ জনপ্রিয়। এতে ক্যালোরি কম, হজম সহজ এবং ফ্যাটও কম। তবে হজমের পর তা দ্রুত ক্ষুধা বাড়ায়, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা হতে পারে।

চিড়া:

চিড়া তুলনামূলকভাবে ভারী ও দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। দই, বাদাম বা ফল মিশালে এটি পুষ্টিকর নাশতা হিসেবে আদর্শ। এতে প্রোটিন ও ফাইবার থাকলে রক্তে শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি কম হয়।

হজমের দিক:

মুড়ি হালকা ও সহজে হজম হয়। অ্যাসিডিটি থাকলে খালি পেটে মুড়ি অসুবিধা সৃষ্টি করতে পারে। চিড়া ভিজিয়ে খেলে তা পেটের জন্য আরামদায়ক হয়।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য:

চিড়া-মুড়ি উচ্চ গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত হতে পারে। তাই পরিমিত খাওয়া জরুরি। প্রোটিন বা ফাইবার সঙ্গে মিশালে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ।

শিশু ও বয়স্কদের জন্য:

উভয়ই শিশুর ও বয়স্কদের জন্য উপকারী। মুড়ির সঙ্গে সেদ্ধ ছোলা, শসা বা সামান্য সরিষার তেল মেশানো হলে পুষ্টিকর হয়। চিড়া দুধ বা দইয়ের সঙ্গে খেলে শক্তির উৎস হিসেবে কার্যকর।

 

ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে প্রকাশ্যে সরকারি ইট চুরি, ট্রাকসহ আটক ২

আবরাব নাদিম ইতু, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে প্রকাশ্যে সরকারি ইট চুরি, ট্রাকসহ আটক ২

ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে সরকারি ইট চুরির চেষ্টাকালে ট্রাকসহ দুইজনকে হাতেনাতে আটক করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ।

রবিবার (১৭ মে) বিকেল ৫টার দিকে প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় হাসপাতাল এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, হাসপাতালের ভেতরে উন্নয়ন কাজের জন্য স্তূপ করে রাখা সরকারি ইট একটি ট্রাকে করে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায় একটি চক্র। এ সময় কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই শ্রমিকদের দিয়ে দ্রুত ইট ট্রাকে তোলা হচ্ছিল। বিষয়টি হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারীর নজরে এলে তারা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। পরে হাসপাতাল প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাকটি আটকে দেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রাকটি দীর্ঘ সময় ধরে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অবস্থান করছিল। প্রথমে অনেকে বিষয়টিকে সরকারি কাজ মনে করলেও পরে অনুমতি ছাড়া ইট নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলে স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে হাসপাতাল এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়।

ঘটনার পরপরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোতোয়ালী থানা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ইট বোঝাই ট্রাকটি জব্দ করে এবং ঘটনাস্থল থেকে রফিক মোল্লা ও আজিজুল শিকদার নামে দুইজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক
(এসআই) নূর হোসেন বলেন, “হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ফোন পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। সেখানে গিয়ে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। ইট ভর্তি ট্রাকটি জব্দ করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আটক দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহ্‌মুদুল হাসান বলেন, “কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি ছাড়াই সরকারি ইট সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ব্যবস্থা নেই এবং ট্রাকসহ তাদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করি। সরকারি সম্পদ আত্মসাতের চেষ্টা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ফরিদপুরে বিদেশি মদ-অস্ত্র উদ্ধার, নারীসহ গ্রেপ্তার ২

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৬:১৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বিদেশি মদ-অস্ত্র উদ্ধার, নারীসহ গ্রেপ্তার ২

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিদেশি মদ, এয়ারগান, বিপুল পরিমাণ গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক নারীসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একইসঙ্গে পলাতক রয়েছেন আরও তিনজন অভিযুক্ত।

রবিবার (১৭ মে) সকালে ভাঙ্গা থানায় পাঁচজনকে আসামি করে অস্ত্র ও মাদক আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এর আগে শনিবার (১৬ মে) বিকেলে উপজেলার কাওলিবেড়া ইউনিয়নের চরমুগডোবা গ্রামে মাইনুল ইসলাম খান রিপনের বাড়িতে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় বাড়ির ভেতর থেকে ১১ বোতল বিদেশি মদ, একটি বিদেশি এয়ারগান, এয়ারগানের ৯০০ পিস গুলি, ২৬টি শটগানের কার্তুজ, ৫টি রামদা, ২টি চাপাতি, একটি চাইনিজ কুড়াল, নগদ ২ লাখ ৫ হাজার টাকা, ৬টি মোবাইল ফোন ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে গ্রেপ্তার হন ভাঙ্গা উপজেলার বালিয়াহাটি গ্রামের মৃত সাদেক আলী খানের ছেলে রবিন খান (৪৩) এবং চরমুগডোবা গ্রামের মাইনুল ইসলাম রিপনের স্ত্রী রাশিদা আক্তার (৪০)।

তবে ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান মাইনুল ইসলাম খান রিপন (৫০), বেল্লাল (৪৫) ও নুর মোহাম্মদ (৪০)। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার বাদী জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই দীপন কুমার মন্ডল জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়িতে অবৈধ অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য মজুদের অভিযোগ ছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হলে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র, বিদেশি মদ ও সন্দেহজনক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া আলামতগুলো জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়েছে এবং গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

ফরিদপুরে বিয়ের প্রলোভনে ডেকে এনে মা-মেয়েকে হত্যা, গ্রেপ্তার প্রেমিক

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৪:৩০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বিয়ের প্রলোভনে ডেকে এনে মা-মেয়েকে হত্যা, গ্রেপ্তার প্রেমিক

ফরিদপুরের সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের কালিতলা এলাকায় মা ও শিশু কন্যাকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ এলাকা থেকে মো. উজ্জ্বল খান (৩৮) নামে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রবিবার (১৭ মে) দুপুর ১টার দিকে ফরিদপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে কোতয়ালী থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল্লাহ বিশ্বাস।

পুলিশ জানায়, নিহত জাহানারা বেগম (৩০) রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বাসিন্দা। তার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে সামিয়াসহ মরদেহ গত ১৪ মে কালিতলা এলাকার একটি পুকুরপাড় সংলগ্ন স্থান থেকে মাটি চাপা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের স্বজন মো. লালন মোল্লা কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তভার পান এসআই (নিঃ) মো. আবুল বাশার মোল্লা।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকার আমিনবাজার এলাকার একটি ইটভাটায় কাজ করার সময় জাহানারার সঙ্গে উজ্জ্বল খানের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে উজ্জ্বল খান জাহানারাকে ফরিদপুরে নিয়ে আসেন।

গত ৪ মার্চ রাতে কালিতলা এলাকার একটি নির্জন ছাপড়া ঘরে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে উজ্জ্বল খান প্রথমে জাহানারাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে ঘটনাস্থলে থাকা শিশু সামিয়াকেও গলা টিপে হত্যা করা হয়।

হত্যার পর অভিযুক্ত নিজ বাড়ি থেকে কোদাল এনে ছাপড়া ঘরের পাশে পৃথক দুটি গর্ত খুঁড়ে মা-মেয়ের মরদেহ মাটি চাপা দেয় বলে জানায় পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের ব্যবহৃত বোরকা, ওড়না, নেকাব, শিশু সামিয়ার পোশাক, একটি মালা, আসামির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র ও কোদাল উদ্ধার করা হয়েছে।

মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ফরিদপুরের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।