খুঁজুন
বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ২৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

৩০ পেরোলেই কেন বদলানো দরকার খাদ্যাভ্যাস? জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:২২ পূর্বাহ্ণ
৩০ পেরোলেই কেন বদলানো দরকার খাদ্যাভ্যাস? জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা

৩০ বছর বয়স মানেই জীবন শেষ নয়, বরং নিজের শরীর ও স্বাস্থ্যের দিকে আরও সচেতন হওয়ার সঠিক সময়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের ভেতরে নানা পরিবর্তন ঘটে। জিনগত বিষয় বা পরিবেশ আমাদের হাতে না থাকলেও খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপন, ঘুম ও মানসিক চাপ আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি।

এসব অভ্যাসই ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ক্যানসারের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমাতে বড় ভূমিকা রাখে।

৩০-এর পর শরীর আর বাড়ে না, কিন্তু সঠিক পুষ্টি পেলে তা সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকে অনেক বছর। ইটিং ওয়েল-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময় ভালো অভ্যাস গড়ে তুললে ৫০ বা ৬০ বছর বয়সেও নিজেকে ফিট ও প্রাণবন্ত রাখা সম্ভব।

নিচে ৩০ বছরে পা দিলে খাদ্যাভ্যাসে যে ১০টি পরিবর্তন আনা প্রয়োজন, তা সহজ ভাষায় তুলে ধরা হলো।

বেশি করে আঁশযুক্ত খাবার খান

আঁশ বা ফাইবার হজম ভালো রাখে এবং হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও অন্ত্রের ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। প্রতিদিন পর্যাপ্ত আঁশ খেলে শরীরের কোষ সুস্থ থাকে এবং বয়সের ছাপ ধীরে আসে।

ফল, শাকসবজি, ডাল, শিম, লাল চাল, আটার রুটি, ওটস এসব খাবারে প্রচুর আঁশ থাকে। প্রতিদিন তিন বেলা খাবারে এসব রাখার চেষ্টা করুন।

ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড যুক্ত করুন

ওমেগা থ্রি মস্তিষ্ক, হৃদযন্ত্র ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী। এটি প্রদাহ কমায় এবং বয়সজনিত সমস্যার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

সামুদ্রিক মাছ, আখরোট, চিয়া বীজ, তিসি বীজ এসব খাবারে ওমেগা থ্রি পাওয়া যায়। সপ্তাহে অন্তত এক থেকে দুই দিন মাছ রাখার চেষ্টা করুন।

ফ্যাট ডায়েট বাদ দিন

দ্রুত ওজন কমানোর ডায়েট বেশিরভাগ সময়ই ক্ষতিকর। এতে ওজন সাময়িক কমলেও পরে আবার বেড়ে যায়, যা হৃদযন্ত্র ও বিপাকক্রিয়ার জন্য ভালো নয়।

এর বদলে এমন একটি খাদ্যাভ্যাস বেছে নিন যা সারা বছর মেনে চলা যায় এবং শরীরকে পুষ্টি দেয়।

অ্যালকোহল বা মদ্যপান কমান

অতিরিক্ত অ্যালকোহল শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এতে লিভার, হৃদযন্ত্র ও রক্তচাপের সমস্যা বাড়ে এবং ঘুমের মানও খারাপ হয়।

যারা পান করেন, তাদের পরিমাণ কমানোই ভালো সিদ্ধান্ত।

প্রক্রিয়াজাত মাংস এড়িয়ে চলুন

সসেজ, বেকন, হটডগ, সালামির মতো প্রক্রিয়াজাত মাংস অন্ত্রের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বর্তমানে তরুণ বয়সেই এ ধরনের ক্যানসারের হার বাড়ছে।

এর বদলে ডাল, মাছ, ডিম ও শাকসবজি থেকে প্রোটিন নিন।

ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খান

৩০-এর পর হাড়ের ঘনত্ব ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। তাই ক্যালসিয়াম খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

দুধ, দই, পনির, শাক, বাদাম, তিল, সয়াবিন এসব খাবারে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এগুলো রাখুন।

সকালের নাশতা বাদ দেবেন না

সকালের নাশতা না করলে সারাদিন দুর্বল লাগতে পারে এবং অতিরিক্ত মিষ্টি বা অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি ঝোঁক বাড়ে।

নাশতায় প্রোটিন, আঁশ ও ভালো চর্বি থাকলে সারাদিন শক্তি পাওয়া যায়। যেমন ডিম, রুটি, ফল, দই।

শাকসবজিকে খাবারের মূল অংশ করুন

খাবারের বেশিরভাগ জায়গাজুড়ে রাখুন শাকসবজি। এগুলোতে ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা শরীরকে রোগ থেকে রক্ষা করে।

সপ্তাহে কয়েক দিন মাংসের বদলে ডাল বা সবজি দিয়ে রান্না করা খাবার খান।

হরমোনের সঙ্গে মিল রেখে খান

৩০-এর পর কিছু হরমোনের মাত্রা কমতে শুরু করে, যা মানসিক চাপ ও ক্লান্তি বাড়াতে পারে। ওমেগা থ্রি, ভিটামিন বি৬ ও ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার হরমোনের ভারসাম্য রাখতে সাহায্য করে।

বাদাম, বীজ, শাক, ডাল এসব খাবার এ ক্ষেত্রে উপকারী।

ব্যায়াম ও প্রোটিনের দিকে নজর দিন

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেশি কমতে থাকে, ফলে বিপাকক্রিয়া ধীর হয়। তাই নিয়মিত হালকা ওজন বা শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম করা জরুরি।

পাশাপাশি পর্যাপ্ত প্রোটিন যেমন ডিম, মাছ, ডাল, দুধ খেলে পেশি সুস্থ থাকে।

বয়স বাড়া থামানো যায় না, তবে সুস্থভাবে বয়স বাড়ানো সম্ভব। ৩০ বছরে পা দেওয়ার পর খাদ্যাভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন এনে ভবিষ্যতের বড় রোগ থেকে নিজেকে রক্ষা করা যায়। বেশি শাকসবজি ও ফল খাওয়া, আঁশ ও প্রোটিনের দিকে নজর দেওয়া, অস্বাস্থ্যকর খাবার ও অভ্যাস কমানো এবং নিয়মিত ব্যায়াম করলে দীর্ঘদিন সুস্থ থাকা সম্ভব।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এখনই শুরু করা। বয়স যাই হোক, ভালো অভ্যাস গড়ে তুলতে কখনোই দেরি হয়ে যায় না।

সূত্র : ইটিং ওয়েল

সালথায় যে কারণে থামছে না সংঘর্ষ? —কারণ ও প্রতিরোধের উপায়

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ণ
সালথায় যে কারণে থামছে না সংঘর্ষ? —কারণ ও প্রতিরোধের উপায়

ফরিদপুরের সালথা উপজেলা মারামারি ও সংঘর্ষ প্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানকার স্থানীয় অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত মোড়ল কিংবা মাতুব্বররা এখানে লিড দিয়ে থাকেন। তারা তাদের দলে লোকজন ভিড়িয়ে আধিপত্য বিস্তার আর ক্ষমতার বলয় বৃদ্ধি করে থাকেন।

এরপর চলে এলাকায় আধিপত্য, দরবার-সালিশ, মামলা-হামলাসহ নানা কাহিনী। এভাবেই বৃদ্ধি পেয়েছে এ উপজেলার কাইজা, সংঘর্ষ আর বাড়ি-ঘর ভাংচুরের ঘটনা। এভাবেই কারো যাচ্ছে প্রাণ, কেউ হচ্ছেন বাড়ি হারা, কেউবা বরণ করছেন পঙ্গুত্ব।

যাহোক, এবার আসি কেন সালথা উপজেলায় মারামারি ও সংঘর্ষ বন্ধ হয় না—

এই উপজেলার মানুষ ধর্মপরায়ণ। তাইতো মাদ্রাসার সংখ্যাও বেশি, যেমন— বাহিরদিয়া মাদ্রাসা, পুরুরা মাদ্রাসা উল্লেখযোগ্য। মসজিদের সংখ্যাও অসংখ্য।

তবুও কেন থামছে না সংঘর্ষ—

‌> আধিপত্য বিস্তারের লড়াই:

মাতুব্বর তার আধিপত্য বিস্তার করতে এবং একক বলয় তৈরি করতে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে সংঘর্ষ করে থাকেন। এরপর ঢাল, সরকি, রামদা, লাঠিসোঁটা আর ইটপাটকেল দিয়ে চলে সংঘর্ষ। এই সংঘর্ষে যদি নিজের পক্ষের কোনো লোকজন না যায় তবে তাকে হুমকি-ধমকি দিয়ে থাকেন মাতুব্বর ও তার অনুসারীরা। এরপরও কাইজা বা সংঘর্ষে না গেলে যিনি কাইজায় না যান তার বাড়িতে হামলা-ভাংচুর করা, এছাড়া তাদের মারধর করা হয়। এ কারণে একজন নিরীহ মানুষ কাইজা বা সংঘর্ষে না যেতে চাইলেও বাধ্য করা হয়।

> জোর করে দলভুক্ত করা:

বিপীরত বা বিরোধী পক্ষের মাতুব্বরের লোকজনকে মারধর ও বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও হুমকি-ধমকি দিয়ে নিজের পক্ষে নিয়ে নেন অপেক্ষাকৃত ক্ষমতাসীন মাতুব্বর কিংবা মোড়লরা। অতঃপর দলে ভিড়িয়ে তাদের দিয়েও কাইজা করান। না করলে হুমকি-ধামকি আর ভাংচুর চালায় তাদের বাড়িঘরেও।

> প্রতিবাদের পথ বন্ধ:

কেউ যদি মাতুব্বরের অপকর্ম নিয়ে কথা বলে কিংবা প্রতিবাদ করে তবে তাকে মারধর সহ মিথ্যা মামলায় জড়ান ওই মাতুব্বর ও তার অনুসারীরা। তাই ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করেনা।

> একপাক্ষিক সালিশ ব্যবস্থা:

এলাকায় কোনো ঘটনা ঘটলেই এই অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত মোড়ল সালিশ ডেকে যে রায় দেন সেটাই মানতে হয়! ভয়ে কেউ সঠিক কথা বলতে পারেন না।

> সালিশকে আয়ের উৎস বানানো:

এরপর এই মোড়ল বা মাতুব্বররা এলাকায় যে কোনো ঘটনা মিমাংসার নামে সালিশ বসিয়ে উভয় পক্ষের কাছে থেকে বা যে কোনো এক পক্ষের কাছে থেকে টাকা বা জরিমানা আদায় করেন। অতঃপর সেখানে ভাগ বসানোর অভিযোগ রয়েছে অহঃরহ। কেউ প্রতিবাদ করলে হয়রানির শিকার হন সে ব্যক্তি।

> অসৎ যোগসাজশের অভিযোগ:

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মুষ্টিমেয় কিছু অসৎ কর্মকর্তার সঙ্গে এই মাতুব্বররা যোগসাজশ করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে বিধায় অনেক নিরীহ মানুষ থানা কিংবা প্রশাসনে অভিযোগ করলে উল্টো নিজেই অপরাধী ও মামলা হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাইতো, ভয়ে কেউ কথা বলতে চায় না।

> শিক্ষিত সমাজের নীরবতা:

এ উপজেলার উচ্চ শিক্ষিত ও ভালো চাকরিজীবী, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিল্পপতি আর ব্যবসায়ীরা এলাকায় থাকেন না। হয়রানি ও সম্মানহানির ভয়ে এ এলাকার মোড়ল কিংবা মাতুব্বরের বিরুদ্ধে কিছু বলেন না। সামাজিক প্রতিরোধও গড়ে তুলতে দেখা যায় না। তারা মনে করেন মাতুব্বরদের কিছু বললে উল্টো তারা নাজেহাল হবেন, পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় থাকবে। তাই অযথা ঝামেলায় জড়াতে চায় না।

এ উপজেলায় সংঘর্ষ ও মারামারি এড়াতে বা প্রতিরোধের উপায়-

> . ‘গ্রাম্য শান্তি কমিটি’ গঠন:

এ উপজেলায় মোড়ল কিংবা মাতুব্বর প্রথা বিলুপ্তি করে এলাকার সুশীল সমাজের লোক— যেমন নিরপেক্ষ স্কুল-কলেজের শিক্ষক, ব্যবসায়ী, মসজিদের ইমাম, চাকরিজীবী ও উচ্চ শিক্ষিত ছেলে-মেয়ে কিংবা নিরপেক্ষ একজন মানুষকে প্রধান করে নিরপেক্ষভাবে গ্রামের যেকোনো বিরোধ কিংবা সমস্যা সমাধান কিংবা পরিচালনা করার জন্য ‘গ্রাম্য শান্তি কমিটি’ নামক একটি কমিটি করে দেওয়া যেতে পারে। তারা গ্রামের যেকোনো বিরোধ মিমাংসা করবেন। না পারলে আইনগত সহায়তা নিবেন বা সুপারিশ করবেন।

> মাদকবিরোধী কমিটি:

প্রতিটি এলাকার গ্রামে গ্রামে মাদক নির্মূল ও প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। যারা এলাকার মাদক নির্মূল বা বন্ধে প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে কাজ করবে।

> সংঘর্ষ প্রতিরোধ টিম:

এ ছাড়া প্রতিটি গ্রামে সুশীল সমাজের লোকজন দিয়ে কাইজ্যা কিংবা সংঘর্ষ প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। যারা সংঘর্ষ বন্ধে ভূমিকা পালন করবেন।

> নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগ:

স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থেকে স্থানীয় মোড়ল কিংবা মাতুব্বর অথবা যারা মারামারিতে উস্কানি দেয় তাকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো পক্ষপাতিত্ব করা যাবেনা।

> প্রশাসন ও জনগণের সমন্বয়:

থানা পুলিশ ও প্রশাসন স্থানীয় প্রতিটি গ্রামে গঠন করা শান্তি কমিটির কিংবা সুশীল সমাজের সঙ্গে সমন্বয় করে আইনশৃঙ্খলা ভালো রাখতে কাজ করতে পারেন।

> জরুরি হেল্পলাইন চালু:

সংঘর্ষ ও কাইজা বন্ধে দ্রুত রেসপন্স করার জন্য থানা কিংবা উপজেলা প্রশাসনে হেল্পলাইন নম্বর চালু করা যেতে পারে। যাতে যেকোনো সহিংসতা বন্ধে দ্রুত রেসপন্স করতে পারে প্রশাসন।

> দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার অভিযান:

প্রশাসনের দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার নিয়মিত অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রাখা। যাতে নতুন দেশীয় অস্ত্র তৈরি করতে না পারা ও মানুষের ভয় এবং আতঙ্ক তৈরি হয় কাইজের বিরুদ্ধে।

> সচেতনতামূলক কার্যক্রম:

প্রশাসনের সহযোগিতায় একটি উপজেলায় সংশ্লিষ্ট এমপি, ইউএনও কিংবা ওসিকে প্রধান করে সুশীল সমাজ, চাকরিজীবী, শিক্ষিত ছেলে-মেয়ে, সম্মানি ব্যক্তির দ্বারা কয়েকটি কমিটি গঠন করা যেতে পারে। যে কমিটির কাজ হবে একেকদিন এক একটি স্কুল-কলেজে গিয়ে এভাবে প্রতিটি স্কুল-কলেজে পৌঁছে কাইজা বা সংঘর্ষের কুফল ও খারাপ দিকগুলো বিস্তর আলোচনা করতে পারে শিক্ষার্থীদের মাঝে। যাতে নতুন প্রজন্ম এই কাইজা করতে নিরুৎসাহিত হয়।

> নিয়মিত গণসভার আয়োজন:

থানার ওসি ও ইউনওর অন্তত মাসে এলাকার লোকজন নিয়ে এক একটি ইউনিয়নে গিয়ে কাইজা বন্ধে সভা-সমাবেশ করতে পারেন।

এইভাবেই সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সালথা উপজেলায় সংঘর্ষ ও সহিংসতা কমিয়ে আনা সম্ভব।

লেখক:

হারুন-অর-রশীদ, বিবিএ (অনার্স), এমবিএ (ব্যবস্থাপনা)।

– ফরিদপুর প্রতিনিধি: বাংলানিউজ২৪ ও দৈনিক আজকালের খবর।

– সিনিয়র সহ-সভাপতি : সালথা প্রেসক্লাব

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু, ঈদের আগেই নিভে গেল স্বপ্ন

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:৫৩ পূর্বাহ্ণ
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু, ঈদের আগেই নিভে গেল স্বপ্ন

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার শাওন মির্জা নামে এক প্রবাসী যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তিনি ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং সাবেক পুলিশ সদস্য মরহুম জাহিদ মির্জার একমাত্র ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (০৩ মে) রাতে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে মোটরসাইকেল চালানোর সময় দুর্ঘটনার শিকার হন শাওন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তাকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

শাওন মির্জা তিন বোনের মধ্যে একমাত্র ভাই ছিলেন। জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন তিনি। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে তার দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশা অপূর্ণ রেখেই তিনি চিরবিদায় নিলেন।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের মাঝে চলছে শোকের মাতম।

এদিকে, নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবার ও স্থানীয়রা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার জহুরুল হক মিঠু।

ভাঙ্গায় দুই অটোরিকশা সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:২৫ পূর্বাহ্ণ
ভাঙ্গায় দুই অটোরিকশা সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় দুই অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত শাহ আলম ফকির (৩৫) অবশেষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

দুর্ঘটনার তিনদিন পর মঙ্গলবার (৫ মে) রাত ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

নিহত শাহ আলম ফকির ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের আজিমনগর গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত আব্দুর রব ফকিরের ছেলে। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ মে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে আজিমনগর বাজার এলাকায় দুইটি অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে অন্তত পাঁচজন যাত্রী আহত হন। আহতদের মধ্যে শাহ আলমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রথমে তাকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

তিনদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে আহাজারি, স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি পুলিশ অবগত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।