খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

ডিপ ফ্রিজ ব্যবহারের নিয়ম, যা জানলে ফ্রিজ টিকবে অনেকদিন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৫০ এএম
ডিপ ফ্রিজ ব্যবহারের নিয়ম, যা জানলে ফ্রিজ টিকবে অনেকদিন?

এক সময় প্রতিদিনের রান্নার জন্য মাছ-মাংস সংগ্রহ করতে হতো বাজার, নদী কিংবা পুকুরের ওপর নির্ভর করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীবনযাত্রা বদলেছে, বেড়েছে ব্যস্ততা।

এখন আর প্রতিদিন বাজারে যাওয়া সবার পক্ষে সম্ভব নয়। ঠিক এই জায়গাতেই আধুনিক সংসারে ডিপ ফ্রিজ হয়ে উঠেছে এক অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী।

মাছ, মাংস, সবজি বা রান্না করা খাবার—সবকিছু দীর্ঘদিন সংরক্ষণে ডিপ ফ্রিজ আমাদের জীবনকে অনেক সহজ করে দিয়েছে।

তবে এই সুবিধাজনক যন্ত্রটি সঠিকভাবে ব্যবহার না করলে সহজেই নষ্ট হতে পারে বা নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।

অনেক সময় দেখা যায়, ডিপ ফ্রিজ থেকে অতিরিক্ত শব্দ হচ্ছে, ঠিকমতো ঠান্ডা হচ্ছে না, বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যাচ্ছে কিংবা খাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এসব সমস্যার মূল কারণ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ভুল ব্যবহার ও যত্নের অভাব। তাই ডিপ ফ্রিজ দীর্ঘদিন ভালো রাখতে হলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম জানা ও মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।

সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখা

ডিপ ফ্রিজ ব্যবহারের প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখা। সাধারণভাবে ডিপ ফ্রিজ -১৮° সেলসিয়াস থেকে -২৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পরিচালনা করা উচিত। এই তাপমাত্রায় খাবারের ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির গতি কমে যায় এবং খাবার দীর্ঘদিন সতেজ থাকে।

অনেকে মনে করেন, তাপমাত্রা যত কম রাখা যাবে তত ভালো। কিন্তু বাস্তবে অতিরিক্ত কম তাপমাত্রা ফ্রিজের কম্প্রেসরের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে, ফলে যন্ত্রের আয়ু কমে যায় এবং বিদ্যুৎ খরচও বেড়ে যায়। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী আদর্শ তাপমাত্রায় ফ্রিজ ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

খাবার সংরক্ষণের সঠিক পদ্ধতি জানা

ডিপ ফ্রিজে খাবার সংরক্ষণের সময় সবচেয়ে বড় ভুল হলো খোলা অবস্থায় খাবার রাখা। মাছ বা মাংস সংরক্ষণের আগে অবশ্যই ভালোভাবে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে। এরপর ছোট ছোট টুকরো করে এয়ারটাইট ব্যাগ বা কন্টেইনারে রাখতে হবে।

এয়ারটাইট প্যাকেটে খাবার রাখলে খাবারের ভেতরের আর্দ্রতা বজায় থাকে, ফ্রিজে দুর্গন্ধ ছড়ায় না এবং ফুড বার্ন হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। একই সঙ্গে ফ্রিজের ভেতরের অন্যান্য খাবারও নিরাপদ থাকে।

লেবেল ও তারিখ লিখে রাখা

ডিপ ফ্রিজে একবারে অনেক ধরনের খাবার রাখা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই ভুলে যান কোন খাবার কবে রাখা হয়েছে। এতে করে পুরোনো খাবার ফ্রিজে পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

এই সমস্যা এড়াতে প্রতিটি প্যাকেট বা কন্টেইনারের ওপর খাবারের নাম ও সংরক্ষণের তারিখ লিখে রাখা উচিত। এতে করে সহজেই বোঝা যায় কোন খাবার আগে ব্যবহার করা দরকার। এটি শুধু খাবার ব্যবস্থাপনাই সহজ করে না, বরং স্বাস্থ্যঝুঁকিও কমায়।

ডিপ ফ্রিজ অতিরিক্ত বোঝাই না করা

অনেক পরিবারেই দেখা যায়, সুযোগ পেলে ডিপ ফ্রিজ পুরোপুরি ভরে ফেলা হয়। কিন্তু অতিরিক্ত বোঝাই করা ডিপ ফ্রিজের জন্য ক্ষতিকর। এতে ফ্রিজের ভেতরের ঠান্ডা বাতাস সঠিকভাবে চলাচল করতে পারে না।

বাতাস চলাচল ব্যাহত হলে কিছু অংশ অতিরিক্ত ঠান্ডা হয়, আবার কিছু অংশ ঠিকমতো ঠান্ডা হয় না। এর ফলে খাবার নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ফ্রিজের কম্প্রেসরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। তাই ডিপ ফ্রিজে সবসময় কিছুটা খালি জায়গা রাখা উচিত।

গরম খাবার সরাসরি ফ্রিজে না রাখা

রান্না করা খাবার গরম অবস্থায় সরাসরি ডিপ ফ্রিজে রাখা একটি বড় ভুল। এতে ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায়, যার ফলে অন্য খাবার আংশিক গলে যেতে পারে।

এ ছাড়া গরম খাবার রাখলে ফ্রিজকে আবার আগের তাপমাত্রায় ফিরতে বেশি শক্তি ব্যয় করতে হয়। তাই রান্না করা খাবার আগে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ঠান্ডা করে তারপর ডিপ ফ্রিজে রাখাই সঠিক নিয়ম।

ঘনঘন দরজা খোলা থেকে বিরত থাকা

ডিপ ফ্রিজের দরজা যত কম খোলা যায়, তত ভালো। ঘনঘন দরজা খুললে ভেতরের ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে যায় এবং বাইরের গরম বাতাস ঢুকে পড়ে। এতে ফ্রিজকে বারবার ঠান্ডা হতে হয়, যা বিদ্যুৎ খরচ বাড়ায় এবং যন্ত্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

বিশেষ করে শিশুদের অকারণে ডিপ ফ্রিজের দরজা খোলা থেকে বিরত রাখতে হবে। দরজা সবসময় ঠিকমতো বন্ধ হয়েছে কি না, সেটিও খেয়াল রাখা জরুরি।

সঠিক স্থানে ডিপ ফ্রিজ বসানো

ডিপ ফ্রিজ বসানোর স্থানও এর কার্যকারিতার ওপর বড় প্রভাব ফেলে। ফ্রিজ কখনোই দেয়ালের গা ঘেঁষে রাখা উচিত নয়। দেয়াল থেকে অন্তত ১০ সেন্টিমিটার দূরে রাখলে পেছনের ক্যাপাসিটর পর্যাপ্ত বাতাস পায়।

যদি ফ্রিজ দেয়ালের খুব কাছে রাখা হয়, তাহলে ক্যাপাসিটর অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়, ফলে শব্দ হওয়া, ঠান্ডা কম হওয়া কিংবা যন্ত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

নিয়মিত পরিষ্কার ও ডিফ্রস্ট করা

ডিপ ফ্রিজে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বরফ জমে যায়। এই বরফ জমে থাকলে ফ্রিজের কার্যকারিতা কমে যায় এবং বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায়। তাই নিয়মিত ডিফ্রস্ট করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মাসে অন্তত একবার কুসুম গরম পানি দিয়ে ফ্রিজের ভেতর পরিষ্কার করা উচিত। লেবু মেশানো পানি ব্যবহার করলে দুর্গন্ধ ও ব্যাকটেরিয়া দূর হয়। পানি নিষ্কাশনের নল বা ছিদ্র পরিষ্কার রাখাও খুব জরুরি, নইলে ফ্রিজের ভেতরে পানি জমে থাকতে পারে।

বর্তমানে বাজারে নানা ব্র্যান্ড ও মডেলের ডিপ ফ্রিজ সহজলভ্য, এবং ফ্রিজের দাম যাচাই করে বাজেট অনুযায়ী নতুন ফ্রিজ নেওয়াও এখন অনেক সহজ।

পবিত্র শবে বরাতের রাতেও আল্লাহ যাদের ক্ষমা করেন নি?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৩৪ এএম
পবিত্র শবে বরাতের রাতেও আল্লাহ যাদের ক্ষমা করেন নি?

পবিত্র শবেবরাত বা লাইলাতুল বরাত মুসলমানদের জন্য এক মহিমান্বিত রজনী। হিজরি শাবান মাসের ১৪ ও ১৫ তারিখের মধ্যবর্তী এই রাতে আল্লাহ তাআলা বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন। শবেবরাত উপলক্ষে সারা বিশ্বের মুসলমানগণ নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ায় মশগুল থাকেন। তবে শুধু একটি রাত ইবাদত করলেই সব গুনাহ মাফ হয়ে যাবে এমন ধারণা সঠিক নয়।

শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতের শুরু থেকেই আল্লাহ তাআলা বান্দাদের প্রতি মনোযোগী হন এবং ঘোষণা করতে থাকেন; কে আছে ক্ষমাপ্রার্থী, আমি তাকে ক্ষমা করব; কে আছে রিযিকপ্রার্থী, আমি তাকে রিজিক দেব; কে আছে বিপদগ্রস্ত, আমি তাকে মুক্ত করব ইত্যাদি ইত্যাদি। তাই আমাদের উচিত এই রাতে নিজের জন্য এবং পরিবারের জন্য দোয়া করা।

তবে এই মহিমান্বিত রাতেও দুই শ্রেণির মানুষ আল্লাহর ক্ষমা থেকে বঞ্চিত থাকবে। এক. মুশরিক (যার জীবনে শিরক রয়েছে)। দুই. মুশাহিন (হিংসা ও বিদ্বেষ পোষণকারী)।

বিখ্যাত সাহাবি মুয়াজ বিন জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মহান আল্লাহ অর্ধ-শাবানের রাতে অর্থাৎ শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে তার সৃষ্টির দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন। (সহিহ ইবনে হিব্বান : ৫৬৬৫)

ইসলামে শিরক সবচেয়ে বড় গুনাহ। আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে উপাস্য মনে করা বা আল্লাহর ক্ষমতা ও কর্তৃত্বে অংশীদার করা মারাত্মক অপরাধ। একইভাবে হিংসা-বিদ্বেষ মানুষের নেক আমল ধ্বংস করে দেয়।

এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, হিংসা থেকে দূরে থাকো। কেননা হিংসা নেক আমলকে এমনভাবে খেয়ে ফেলে, যেমন আগুন লাকড়িকে ভস্ম করে দেয়। (সুনানে আবু দাউদ)

শবে বরাত কোনো ভাগ্যরজনী নয়। ভাগ্য নির্ধারণের রাত হলো লাইলাতুল কদর। শবে বরাত হলো আল্লাহর বিশেষ রহমতের রাত; যা ধারাবাহিক ইবাদতকারীদের জন্য এক ধরনের বোনাস। তবে যারা আন্তরিকভাবে তওবা করে নতুনভাবে আল্লাহর পথে ফিরে আসে, তারাও এ রাতে সৌভাগ্যবান হতে পারে।

সূত্র : কালবেলা

আঙুল ফোটানো ভালো না খারাপ—বিজ্ঞান কী বলে?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:১১ এএম
আঙুল ফোটানো ভালো না খারাপ—বিজ্ঞান কী বলে?

অতিরিক্ত টেনশন বা কাজের চাপের কারণে অনেকেই নিজের অজান্তে আঙুল ফুটিয়ে থাকেন। আঙুল ফোটানো অনেকের কাছে স্বস্তিদ্বায়ক, আবার অনেকের কাছে অভ্যাস। অনেকের ধারণা, আঙুল ফোটানো, আঙুলের হাড়ের জন্য ক্ষতিকর। আবার অনেকের ধারণা, নিয়মিত আঙুল ফোটালে নাকি আঙুলের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হয়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান কী বলছে এ বিষয়ে? সম্প্রতি হেলথলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে আসে এসব তথ্য।

চলুন জেনে নেওয়া যাক-

আঙুল ফোটানোর পেছনের কারণ

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৫৪ শতাংশ মানুষ নিয়মিত বা মাঝেমধ্যে আঙুল ফুটিয়ে থাকেন। কেউ এই শব্দ শুনে আনন্দ পান, কেউ আবার মনে করেন এতে মানসিক চাপ কমে। অনেকেই আবার একে স্ট্রেস থেকে মুক্তির একটি উপায় হিসেবে দেখেন। কেউ কেউ চিন্তা বা উদ্বেগের সময় চুল পাকান, কেউ আবার নখ কামড়ান। তারাও অনিচ্ছাকৃতভাবে আঙুল ফোটাতে শুরু করেন। একবার এই অভ্যাস তৈরি হলে, তা ছেড়ে দেওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।

আঙুল ফোটালে যে শব্দ হয়, তার উৎস

অনেকেই ভাবেন, হাড় ঘষা লেগেই বুঝি শব্দটি হয়। তবে বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন ভিন্ন কথা। ২০১৫ সালের এক গবেষণায় এমআরআইতে দেখা গেছে, আঙুল ফোটানোর সময় জোড়া টান দিলে অস্থিসন্ধির তরলের মধ্যে একটি ছোট ‘ক্যাভিটি’ বা ফাঁপা জায়গা তৈরি হয়, যেটির সৃষ্টিই শব্দের কারণ। আর ২০১৮ সালের আরেক গবেষণায় বলা হয়, শব্দটি আসলে ওই ফাঁপা অংশটি আংশিক ভেঙে পড়ার সময় তৈরি হয়। আর একই আঙুল কিছুক্ষণ পর আবার ফোটানো যায়। কারণ ওই ফাঁপা জায়গাটি আবার পূর্ণ হতে প্রায় ২০ মিনিট সময় লাগে।

আঙুল ফোটানো কি ক্ষতিকর

অনেক অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, মাঝেমধ্যে আঙুল ফোটানো ক্ষতিকর নয়। তবে কেউ যদি এটি নিয়মিত বা দিনে বারবার করতে থাকেন, তাহলে সমস্যা হতে পারে। এতে অস্থিসন্ধির ভেতরের তরল (সাইনুভিয়াল ফ্লুইড) কমে যেতে পারে। ফলে হাড়ে হাড়ে ঘষা লাগে এবং দীর্ঘমেয়াদে আর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি বাড়ে।

তবে একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত আঙুল ফোটানো সরাসরি বাত বা হাড় ক্ষয়ের কারণ নয়। এক চিকিৎসক টানা ৫০ বছর ধরে শুধু এক হাতের আঙুল ফোটান। পরে তিনি দেখেন, ফোটানো হাত ও না ফোটানো হাতের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এতে প্রমাণিত হয়, আঙুল ফোটানো সব সময় ক্ষতিকর নয়।

যখন সাবধান হওয়া জরুরি

যদি আঙুল ফোটানোর সময় বা পরে ব্যথা হয়, আঙুল ফুলে যায় বা নড়াতে সমস্যা হয়, তাহলে এটি শুধু অভ্যাস নয়। এটি শরীরের কোনো সমস্যা বা রোগের লক্ষণ হতে পারে, যা গাউট, আর্থ্রাইটিস বা জয়েন্ট ইনজুরি হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, কিছু উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। উপসর্গগুলো হলো—

১. আঙুলে ব্যথা

২. ফুলে যাওয়া

৩. জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়া

৪. নড়াচড়া করতে কষ্ট হওয়া

চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, মাঝেমধ্যে আঙুল ফোটানো ক্ষতিকর নয়। তবে যদি কেউ নিয়মিতভাবে এটি করেন, তাহলে কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। তাই সতর্ক থাকা ভালো। আর যদি আঙুলে ব্যথা, ফোলাভাব বা অস্বস্তি হয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সূত্র : হেলথ লাইন

কে এই আলোচিত নীলা ইসরাফিল? জানুন তার পরিচয়

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৫৩ এএম
কে এই আলোচিত নীলা ইসরাফিল? জানুন তার পরিচয়

গোপালগঞ্জ জেলার মেয়ে নীলা ইসরাফিল বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনীতিতে এক আলোচিত ও বিতর্কিত নাম। ব্যক্তিগত জীবন, রাজনৈতিক অবস্থান ও সামাজিকমাধ্যমে সক্রিয় উপস্থিতির কারণে তিনি নিয়মিতই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রয়াত উপদেষ্টা হাসান আরিফের ছেলে মুয়াজ আরিফের সাবেক স্ত্রী হিসেবে পরিচিতি পেলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নীলা নিজ পরিচয়েই আলোচনায় উঠে এসেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজপথে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাজনৈতিক অঙ্গনে নীলার দৃশ্যমান উপস্থিতি শুরু হয়। বিভিন্ন কর্মসূচি ও আন্দোলনে তাকে সরব ভূমিকায় দেখা যায়। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রদের গড়া নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেন তিনি। দলটির বিভিন্ন সভা, সমাবেশ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নীলার উপস্থিতি সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

তবে রাজনৈতিক যাত্রা খুব দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। দলের অভ্যন্তরীণ নানা বিষয় নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে নীলা একপর্যায়ে নিজের সাবেক শ্বশুর প্রয়াত উপদেষ্টা হাসান আরিফ এবং এনসিপির নেতা সারোয়ার তুষারের বিরুদ্ধে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন, যা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করে। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে পদত্যাগ করেন নীলা ইসরাফিল। পদত্যাগের পরও তিনি সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে নিজের মতামত প্রকাশ করে যাচ্ছেন, যা তাকে আলোচনায় রাখছে।

রাজনীতির বাইরে নীলা ইসরাফিল একজন পরিচিত মডেল ও অভিনেত্রী। শোবিজ অঙ্গনে তার পথচলা শুরু হয় বিজ্ঞাপনচিত্রের মাধ্যমে। রায়হানের নির্দেশনায় একটি প্রতিষ্ঠানের মশার কয়েলের বিজ্ঞাপনে প্রথম মডেল হিসেবে কাজ করেন তিনি। এরপর ধীরে ধীরে দেশীয় বিজ্ঞাপন জগতে নিজের অবস্থান শক্ত করেন নীলা। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০টির বেশি বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন তিনি। এর মধ্যে মেজবাউর রহমান সুমনের নির্দেশনায় ‘বিকাশ’ এবং পলকের নির্দেশনায় ‘জিপি’র বিজ্ঞাপন উল্লেখযোগ্য।

অভিনয় জগতে নীলার অভিষেক হয় অনিমেষ আইচ পরিচালিত নাটক ‘কুয়া’র মাধ্যমে। এরপর তিনি ‘ঘর সংষার’, ‘টিরিগিরি টক্কা’, ‘ফুল এইচডি’সহ বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয় করেন। গেল ঈদে সকাল আহমেদ পরিচালিত ‘কে খুনী’ ও ‘ব্রেক আপ ইন’ নাটক দুটি প্রচারিত হয়, যা ইউটিউবে দর্শকদের ভালো সাড়া পায়।

চলচ্চিত্রেও নীলা কাজ করেছেন। তার অভিনীত মুক্তিপ্রাপ্ত একমাত্র সিনেমা আবীর খান পরিচালিত ‘পোস্টমাস্টার ৭১’। এ ছাড়া ধ্রুব’র পরিচালনায় আরও একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন তিনি, যা এখনো মুক্তির অপেক্ষায়।

রাজনীতি ও বিনোদন—দুই অঙ্গনেই সক্রিয় নীলা ইসরাফিলকে ঘিরে আলোচনা থামছে না। সমর্থক ও সমালোচক—দুই পক্ষের নজরেই থাকা এই তরুণী ভবিষ্যতে কোন পথে এগোবেন, তা নিয়েই কৌতূহল রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে।