খুঁজুন
সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

পুরুষেরা কেন নারীদের চেয়ে কম দিন বাঁচে?

অনিমেষ হালদার
প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ১০:০৩ অপরাহ্ণ
পুরুষেরা কেন নারীদের চেয়ে কম দিন বাঁচে?

একটা ব্যাপার কি কখনো খেয়াল করেছেন? আমাদের আশপাশে তাকালে দেখবেন, বয়স্ক দাদুদের চেয়ে দিদিমারা বা নানিমারা যেন একটু বেশিই দিন বাঁচেন। পরিসংখ্যানও কিন্তু একই কথা বলে। সারা বিশ্বেই নারীদের গড় আয়ু পুরুষদের চেয়ে বেশি। ইউএনএফপিএ-এর মতে বাংলাদেশে নারীদের গড় আয়ু ৭৭ বছর, পুরুষের ৭৪ বছর। কিন্তু কেন?

অনেকে বলবেন, পুরুষেরা বেশি রিস্ক নেয়, ধূমপান বেশি করে কিংবা বাইরের ধকল বেশি সামলায়। এ কারণে হয়তো তাদের আয়ু কম। তবে এসব কারণ ভুল নয়। বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি এর পেছনে লুকিয়ে থাকা এক ভয়ানক জেনেটিক বিশ্বাসঘাতকতার খোঁজ পেয়েছেন। আর সেই ভিলেন হলো ওয়াই (Y) ক্রোমোজোম!

আমরা জানি, মানুষের শরীরে ২৩ জোড়া ক্রোমোজোম থাকে। এর মধ্যে এক জোড়া হলো সেক্স ক্রোমোজোম। নারীদের থাকে দুটো XX, আর পুরুষদের একটা X ও একটা Y ক্রমোজোম। এই Y ক্রোমোজোমটাই মূলত ঠিক করে দেয় শিশুটি ছেলে হবে, নাকি মেয়ে।

এতদিন বিজ্ঞানীরা ভাবতেন, Y ক্রোমোজোমের কাজ শুধু একটাই—লিঙ্গ নির্ধারণ করা এবং শুক্রাণু তৈরিতে সাহায্য করা। এর বাইরে এর তেমন কোনো কাজ নেই। কারণ আকারে এটি খুবই ছোট এবং এতে জিনের সংখ্যাও খুব কম। অন্য ক্রোমোজোমে যেখানে হাজার হাজার জিন থাকে, Y ক্রমোজমে থাকে মাত্র পঞ্চাশটির মতো। তাই বিজ্ঞানীরা একে অপ্রয়োজনীয় ক্রোমোজোম ভাবতেন।

কিন্তু সম্প্রতি সেই ধারণা পাল্টে গেছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরুষদের শরীর থেকে এই Y ক্রোমোজোম গায়েব হতে শুরু করে! একে বলা হয় মোজাইক লস অব ওয়াই বা mLOY। গবেষণায় দেখা গেছে, ৬০ বছর বয়সী প্রায় ৪০ শতাংশ পুরুষের রক্তকোষ থেকে Y ক্রোমোজোম হারিয়ে গেছে। আর বয়স যখন ৯০ এর ঘরে পৌঁছায়, তখন ৫৭ শতাংশ পুরুষের শরীরেই এই ক্রোমোজোমের ব্যাপক ঘাটতি দেখা দেয়। বিশেষ করে যারা ধূমপান করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই গায়েব হওয়ার হার অনেক বেশি।

Y ক্রোমোজোম হারিয়ে গেলে কী ক্ষতি

আগে ভাবা হতো, Y ক্রোমোজোম শুধু ছেলে সন্তান বানানোর কাজ করে, তাই বুড়ো বয়সে এটা হারিয়ে গেলে আর কীই-বা ক্ষতি হবে? কিন্তু গত কয়েক বছরের গবেষণায় বিজ্ঞানীরা শিউরে ওঠার মতো তথ্য পেয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ার লা ট্রোব ইউনিভার্সিটির জেনেটিক্স বিশেষজ্ঞ জেনি গ্রেভস এবং তাঁর দল বলছেন, রক্তকোষ থেকে Y ক্রোমোজোম হারিয়ে যাওয়া মানেই শরীরের সর্বনাশ ডেকে আনা। এর ফলে শরীরে বাসা বাঁধতে পারে মারাত্মক সব রোগ। যেমন ক্যানসারহতে পারে।ওয়াই ক্রোমোজোমবিহীন কোষগুলো ল্যাবরেটরিতে সাধারণ কোষের চেয়ে দ্রুত বাড়ে।

শরীরের ভেতরেও এরা অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে টিউমার বা ক্যানসার তৈরি করতে পারে। জার্মানির এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব বয়স্ক পুরুষের Y ক্রোমোজোম বেশি হারে হারিয়েছে, তাদের হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগে মারা যাওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। আলঝেইমার রোগীদের মস্তিষ্কে ওয়াই ক্রোমোজোম হারানো কোষের সংখ্যা সাধারণ মানুষের চেয়ে ১০ গুণ বেশি পাওয়া গেছে। আবার করোনায় নারীদের চেয়ে পুরুষদের মৃত্যুর হার বেশি ছিল। এর পেছনেও এই ওয়াই ক্রোমোজোম হারানোর হাত থাকতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন।

ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা ও প্রমাণ

এখন প্রশ্ন হলো, Y ক্রোমোজোম হারিয়ে যাওয়ার কারণেই কি অসুখ হচ্ছে, নাকি অসুখ হওয়ার কারণে ক্রোমোজোম হারিয়ে যাচ্ছে?

এই ধাঁধার সমাধানে বিজ্ঞানীরা ইঁদুরের ওপর একটি পরীক্ষা চালান। তাঁরা কিছু ইঁদুরের শরীরে এমন রক্তকোষ ঢুকিয়ে দেন, যেগুলোতে ওয়াই ক্রোমোজোম নেই। ফলাফল ছিল চমকে দেওয়ার মতো! দেখা গেল, ওই ইঁদুরগুলোর হৃৎপিণ্ড দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং নানা ধরনের বার্ধক্যজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অর্থাৎ, Y ক্রোমোজোম হারানোই সরাসরি অসুস্থতার কারণ।

অর্থাৎ, যে Y ক্রোমোজোমকে বিজ্ঞানীরা দুর্বল ভাবতেন, সেটি আসলে শরীরের এক বিশাল বডিগার্ড। যদিও এতে খুব কম জিন থাকে, কিন্তু এই জিনগুলোই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।

ওয়াই ক্রোমোজোমে কিছু জিন আছে, যেগুলো ক্যানসার দমনকারী হিসেবে কাজ করে। যখনই এই ক্রোমোজোমটি কোষ থেকে হারিয়ে যায়, তখন শরীরের পাহারাদার ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। ফলে ক্যানসার কোষ বা হৃদরোগ সহজেই শরীরে জাঁকিয়ে বসে।

নারীদের শরীরে দুটি এক্স ক্রোমোজোম থাকে। তাই কোনো কারণে একটিতে সমস্যা হলেও ব্যাকআপ হিসেবে আরেকটি থাকে। কিন্তু পুরুষদের ওয়াই ক্রোমোজোম একটাই। তাই এটি হারিয়ে গেলে ব্যাকআপ দেওয়ার কেউ থাকে না।

বিজ্ঞানীরা মাত্র কয়েক বছর আগে মানুষের ওয়াই ক্রোমোজোমের ডিএনএ পুরোপুরি ম্যাপ করতে পেরেছেন। এখন তাঁরা বোঝার চেষ্টা করছেন, ঠিক কোন জিনের অভাবে হার্ট ফেইলিওর বা ক্যানসার হচ্ছে। এটা যদি বের করা যায়, তবে ভবিষ্যতে হয়তো পুরুষদের আয়ু বাড়ানোর কোনো ওষুধ আবিষ্কার হবে।

কিন্তু ততদিন পর্যন্ত কী করবেন? বিজ্ঞানীরা বলছেন, ধূমপান ছাড়ুন এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করুন। কারণ পরিবেশ দূষণ ও ধূমপান এই ক্রোমোজোম হারানোর প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।

লেখক: শিক্ষক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয়, শশিকর, মাদারীপুর

সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট

তীব্র দুর্গন্ধ উপেক্ষা করেই মানববন্ধন, সড়কের পাশে আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ময়লার ভাগাড়

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১০:৫৪ অপরাহ্ণ
তীব্র দুর্গন্ধ উপেক্ষা করেই মানববন্ধন, সড়কের পাশে আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ময়লার ভাগাড়

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের হিদাডাঙ্গা গ্রামে বসতবাড়ি ও সুইচগেট সংলগ্ন খালের পাড়ে উন্মুক্ত স্থানে সমগ্র পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা ফেলে মারাত্মক পরিবেশ দূষণের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (৩১ মে) সকালে উপজেলার হিদাডাঙ্গা গ্রামে পৌরসভার ময়লার ভাগাড়ের সামনে হিদাডাঙ্গা গ্রামবাসীর ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই মানববন্ধনে তীব্র দুর্গন্ধ উপেক্ষা করেই এলাকার সর্বস্তরের নারী, পুরুষ, শিশুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন, সাবেক পৌর কাউন্সিলর সৈয়দ রোমান আলী, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক সৈয়দ মিজানুর রহমান, স্থানীয় ব্যক্তিত্ব নজরুল ইসলাম মৃধা, আব্দুল খালেক সিকদার, শরীফ মোহাম্মদ গোলাম মওলা, আনিসুজ্জামান জনি ও আলী রাজ শরীফ প্রমুখ।

​মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘হিদাডাঙ্গা সুইচগেট সংলগ্ন এলাকাটি একসময় সুন্দর ও মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য পরিচিত ছিল। প্রতিদিন আশপাশের বহু প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ এখানে ঘুরতে ও খোলামেলা পরিবেশে সময় কাটাতে আসতেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, বর্তমানে পাকা সড়কের পাশেই প্রতিদিন সমগ্র পৌরসভার টনকে টন দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা-আবর্জনা এনে ফেলা হচ্ছে।’

​বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ‘ময়লার তীব্র দুর্গন্ধে এই এলাকায় এখন শ্বাস নেওয়াই দায় হয়ে পড়েছে। পথচারীদের চলাচলে পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। শুধু তাই নয়, এই ময়লার ভাগাড়কে কেন্দ্র করে এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে, যা প্রায়ই শিশু ও পথচারীদের কামড়ে জখম করছে। অনেক সময় দুষ্কৃতকারীরা এই ময়লার স্তূপে আগুন ধরিয়ে দেয় যার ফলে সৃষ্ট বিষাক্ত ধোঁয়ায় পুরো এলাকার বাতাস দূষিত হচ্ছে এবং মানুষ ফুসফুসের নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।’ বক্তারা অবিলম্বে এই উন্মুক্ত স্থানে ময়লা ফেলা বন্ধ করে এলাকার বাসযোগ্য পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

​এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক রিফাত নূর মৌসুমী সাংবাদিকদের বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি ও নাগরিক ভোগান্তি তৈরি করে এমন সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

হত্যার আতঙ্কে ঈদে বাড়ি ফেরা হয়নি, কাঁদলেন ফরিদপুরের এনসিপি নেত্রী বর্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৮:২৯ অপরাহ্ণ
হত্যার আতঙ্কে ঈদে বাড়ি ফেরা হয়নি, কাঁদলেন ফরিদপুরের এনসিপি নেত্রী বর্ষা

ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় এক বছর আগে হামলার শিকার হওয়ার পরও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় ছাত্রশক্তি ফরিদপুর জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব বৈশাখী ইসলাম (বর্ষা)। একইসঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোরবানির ঈদে তাকে ও তার পরিবারকে সামাজিকভাবে বয়কট করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

রবিবার (৩১ মে) দুপুরে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় এসব অভিযোগ করেন বৈশাখী ইসলাম বর্ষা।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত বছরের ৩১ মে ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোয় স্থানীয় এক ব্যক্তি বাদল ও বিএনপির এক নেতার নেতৃত্বে তার ওপর হামলা চালানো হয়। ঘটনার এক বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো বিচারিক অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বর্ষা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “একসময় ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী সরাসরি ইভটিজিং ও হামলার সঙ্গে জড়িত থাকলেও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানি ও সাইবার বুলিংয়ের মাধ্যমে একই ধরনের আচরণ করা হচ্ছে। এটাই শুধু পার্থক্য।”

তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমানে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অঙ্গসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তি ফরিদপুর জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারী হওয়ায় তাকে এবং তার পরিবারকে সামাজিকভাবে একঘরে করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তার অভিযোগ, চলতি কোরবানির ঈদে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তার পরিবার নিজেরা পশু কোরবানি দিতে পারেনি। ফলে গ্রামের প্রচলিত রেওয়াজ অনুযায়ী প্রতিবেশীদের কাছ থেকে কোরবানির মাংস পাওয়ার আশা ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাদের পরিবারকে কোনো মাংস দেওয়া হয়নি।

বর্ষা বলেন, “শুধু আমাদের পরিবারই নয়, যেসব আত্মীয়-স্বজন আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখেন বা আমাদের খোঁজখবর নেন, তাদের অনেককেও কোরবানির মাংসের ভাগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এলাকায় গেলে তাকে ‘মব’ সৃষ্টি করে হামলা বা হত্যার হুমকি দেওয়া হতে পারে—এমন আশঙ্কার কথা বিভিন্ন মানুষের মুখে শুনেছেন। পরিবারের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এবং বাবা-মায়ের অনুরোধে তিনি ঈদের সময় নিজ গ্রামে যাননি।

বর্ষা বলেন, “বাবা-মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে এলাকায় যাইনি। ফলে পরিবার নিয়ে স্বাভাবিকভাবে ঈদ উদযাপন করাও সম্ভব হয়নি।”

উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বৈশাখী ইসলাম বর্ষা ফরিদপুর জেলা শাখার একজন সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি জাতীয় ছাত্রশক্তি ফরিদপুর জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে বৈশাখী ইসলাম বর্ষার এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এব্যাপারে ফরিদপুরের নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, এ ব্যাপারে বর্ষার পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী যুবরাজ খাঁনের মায়ের ইন্তেকাল, মধুখালীতে শোকের ছায়া

মো. ইনামুল খন্দকার, মধুখালী:
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী যুবরাজ খাঁনের মায়ের ইন্তেকাল, মধুখালীতে শোকের ছায়া

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার মেগচামী গ্রামে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী যুবরাজ খাঁনের মা ছৈয়েদাতুর রহমান (৭৫)। মঙ্গলবার (২৬ মে) রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে নিজ বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বয়সজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন ছৈয়েদাতুর রহমান। মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে, এক মেয়ে, নাতি-নাতনীসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, শুভানুধ্যায়ী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

মরহুমা ছৈয়েদাতুর রহমান ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রাক্তন শিক্ষক মরহুম হারুন অর-রশীদ খাঁনের সহধর্মিণী। স্বামীর জীবদ্দশায় তিনি শিক্ষা, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এলাকার মানুষের কাছে তিনি একজন ধর্মপ্রাণ, সজ্জন ও পরোপকারী নারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

বুধবার (২৭ মে) দুপুর ১২টায় মেগচামী গ্রামের খাঁন বাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে মরহুমার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় আত্মীয়-স্বজন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ শত শত মানুষ অংশ নেন। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর স্বামী ও এক পুত্রের কবরের পাশে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

মরহুমার মৃত্যুতে মধুখালী উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন।

এদিকে প্রবাসে অবস্থানরত ছেলে যুবরাজ খাঁন মায়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে সকলের কাছে তাঁর মায়ের জন্য দোয়া কামনা করেছেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, মরহুমার স্নেহ, মমতা ও আদর্শ তাদের জীবনের পথচলায় চিরকাল প্রেরণা হয়ে থাকবে।