খুঁজুন
, ,

চাষের মাছে গন্ধ হয় কেন, কী করলে গন্ধ থাকবে না?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ
চাষের মাছে গন্ধ হয় কেন, কী করলে গন্ধ থাকবে না?

মাছে-ভাতে বাঙালি’ এই বহুল প্রচলিত প্রবাদটি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আমাদের বাঙালি জাতিসত্তার এক অবিচ্ছেদ্য পরিচয় বহন করে আসছে। বাঙালির দুপুরের তপ্ত ভাতের পাতে ধোঁয়া ওঠা মাছের ঝোল কিংবা নানা পদের সুস্বাদু রেসিপি থাকবে না, তা যেন ভাবাই যায় না।

সময়ের সাথে সাথে নদী-বিলের প্রাকৃতিক মাছের অভাব মেটাতে সাম্প্রতিক দশকগুলোতে বাংলাদেশে কৃত্রিম উপায়ে মাছ চাষের পরিধি ও পরিসর ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ প্রোটিনের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি মাছের উৎপাদন ও রপ্তানি দুই-ই বাড়ছে ইতিবাচক হারে জাতিসংঘের ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারাল অর্গানাইজেশন (এফএও)-এর ‘দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার ২০২৬’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাছসহ জলজ প্রাণী উৎপাদনে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে এক অনন্য গৌরব অর্জন করে পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছে।

কিন্তু এই বিপুল সাফল্যের মাঝেও এক অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা আমাদের প্রায় সবারই হচ্ছে। তাজা দেখে বাজার থেকে সাধের রুই, কাতলা, পাঙাশ বা শিং মাছ কিনে আনার পর ঘরে যখন তা কাটা ও ধোয়া হয়, কিংবা রান্নার সময় নাকে এসে লাগে এক অদ্ভুত কাদা-কাদা বা স্যাঁতসেঁতে গন্ধ। অনেক গৃহিণীই অভিযোগ করেন, লেবু, লবণ, হলুদ কিংবা আদা-রসুন দিয়ে বারংবার ধুয়েও মাছে জমে থাকা এই দুর্গন্ধ পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হয় না। খেতে বসেও সেই একই কাদাটে স্বাদের কারণে পুরো খাবারের তৃপ্তিই যেন মাটি হয়ে যায়।

সম্প্রতি বিবিসি নিউজ বাংলার একটি বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাষের মাছে এই অনাকাঙ্ক্ষিত গন্ধের আসল বৈজ্ঞানিক কারণ এবং এটি দূর করার জন্য বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত অত্যন্ত কার্যকর ও জাদুকরী সমাধান।

চাষের মাছে দুর্গন্ধের আসল রহস্য: কী বলে বিজ্ঞান?

অনেকে মনে করেন চাষের মাছ কাদা বা নোংরা আবর্জনা খায় বলে এমন গন্ধ হয়। তবে আসল কারণটি লুকিয়ে রয়েছে অণুজীবের জগতে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ মাহফুজুল হক বিষয়টির নিখুঁত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, পুকুর বা জলাশয়ের বদ্ধ পানি দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করার কারণে সেখানে প্রধানত তিন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিপুল পরিমাণে তৈরি হয়। একজিনো ব্যাকটেরিয়া, মিকজো ব্যাকটেরিয়া এবংসায়ানো ব্যাকটেরিয়া। এই ব্যাকটেরিয়াগুলোর জীবনপ্রক্রিয়া থেকে নিঃসৃত হয় দুই ধরনের ক্ষতিকর জৈব রাসায়নিক যৌগ—জিওসমিন এবং ২-মিথাইলআইসোবোর্নিওল।

এই দুটি রাসায়নিক যৌগের কারণেই মূলত মাছে সেই তীব্র স্যাঁতসেঁতে ও কাদাটে গন্ধের সৃষ্টি হয়। অধ্যাপক হক আরও জানান, মাছের শরীরে চর্বি যেখানে থাকে অথবা মাছের দেহের উপরিভাগের চামড়া, যেখানে লাল মাংসপেশী (রেড মাসেল) আছে, সেসব জায়গায় জমে এই দুর্গন্ধটা তৈরি হয়।

ব্যাকটেরিয়ার বাড়বাড়ন্ত: যেখানে আমাদের গলদ

গবেষকদের মতে, চাষের পুকুরগুলোতে এই ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও রাসায়নিক যৌগ অবাধে বেড়ে ওঠার পেছনে মূলত তিনটি প্রধান কারণ বা অনিয়ম দায়ী:

অতিরিক্ত খাদ্য সরবরাহ: অধিক ও দ্রুত উৎপাদনের আশায় মৎস্য চাষিরা প্রায়শই পুকুরে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কৃত্রিম খাবার দেন। এই বাড়তি খাবার পানির নিচে পচে ব্যাকটেরিয়ার উর্বর প্রজননক্ষেত্র তৈরি করে।

অতিরিক্ত ঘনত্ব: পুকুরের স্বাভাবিক ধারণক্ষমতার বা আকারের তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণে মাছ মজুদ করা হয়।

পানি পরিবর্তন না করা: বদ্ধ জলাশয়ের পুরোনো পানি নিয়মিত পরিবর্তন না করা ব্যাকটেরিয়া বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ।

অধ্যাপক মাহফুজুল হকের মতে, আমাদের দেশের গ্রামীণ এলাকায় অসংখ্য পুকুর থাকলেও অনেক জায়গায় পুরোনো পানি বের করে নতুন পানি দেওয়ার প্রয়োজনীয় নিষ্কাশন ব্যবস্থা বা সুযোগ নেই। আবার অনেক চাষি বাড়তি খরচের ভয়েও পানি পরিবর্তন করার পদক্ষেপ নেন না। এই ধরনের উদাসীনতাকে তিনি “অ্যাকুয়াকালচার ভায়োলেন্স” বা মৎস্য চাষের ক্ষেত্রে এক প্রকার সহিংসতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মাঠপর্যায়ে চাষিরা মাছ চাষের এই আদর্শ নিয়ম বা স্ট্যান্ডার্ড প্রোটোকলগুলো সঠিকভাবে মানছেন কি না, তা পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। এছাড়াও, নিয়মিত পুকুর পরিষ্কার না করার ফলে সেখানে ক্ষতিকারক ভারী ধাতু জমা হতে থাকে।

গবেষকদের পরামর্শ অনুযায়ী, অন্তত প্রতি তিন বছর পর পর পুকুরের তলদেশ পরিষ্কার করা উচিত। কারণ একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু চাষের মৃগেল মাছে কিডনি ও যকৃতের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর ভারী ধাতু ‘ক্রোমিয়ামের’ মাত্রা নিরাপদ সীমার চেয়ে প্রায় চার গুণ বেশি পাওয়া গিয়েছিল! জাতিসংঘের ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারাল অর্গানাইজেশন (এফএও) বলছে, খাবারে ক্রোমিয়াম দশমিক ১৫ মিলিগ্রাম পর্যন্ত সহনীয়, এর বেশি হলে তা মানবদেহের কিডনি ও যকৃতের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে।

স্বাস্থ্যঝুঁকি ও খাবারের অতৃপ্তি

মাছের এই তীব্র গন্ধ আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য সরাসরি কতটা ক্ষতিকর? অধ্যাপক হক এই বিষয়ে কিছুটা আশ্বস্ত করে জানান যে, বাংলাদেশে আমরা সাধারণত কাঁচা বা আধা-সিদ্ধ মাছ খাই না। মাছকে খুব ভালোভাবে রান্না করার ফলে এর স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকাংশেই কমে যায়। তবে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমলেও, অতিরিক্ত গন্ধের কারণে মাছ খাওয়ার যে আসল স্বাদ এবং পরম তৃপ্তি—তা অনেকটাই কমে যায়।

মুশকিল আসান: দুর্গন্ধহীন মাছ চাষের জাদুকরী প্রযুক্তি ‘বটম ক্লিন অ্যাকুয়াকালচার’

বাঙালির পাতে আবার আগের মতো সুস্বাদু ও সুগন্ধযুক্ত মাছ ফিরিয়ে দিতে মৎস্য বিজ্ঞানীরা এক চমৎকার পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির উদ্ভাবন করেছেন, যার নাম ‘বটম ক্লিন অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম’।

এই প্রকল্পের প্রধান গবেষক মো. মনিরুজ্জামান জানান, এই প্রযুক্তিতে কোনো প্রকার কৃত্রিম রাসায়নিক ওষুধ ব্যবহার ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে মাছের দ্রুত বৃদ্ধির পাশাপাশি এর গন্ধ, স্বাদ এবং মান চমৎকার রাখা সম্ভব।

তলদেশ পরিষ্কার ও অক্সিজেন সরবরাহ: এই পদ্ধতিতে ট্যাংকের বা জলাধারের তলদেশ সবসময় পরিষ্কার রাখা হয়। পাশাপাশি একটি শক্তিশালী ‘এয়ার ব্লোয়ার’-এর সাহায্যে পানিতে সবসময় অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়।

চাপমুক্ত মাছ ও দ্রুত বৃদ্ধি: পানিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন থাকায় মাছ যেকোনো মানসিক চাপ বা ‘স্ট্রেস’ থেকে মুক্ত থাকে এবং অতি দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

অবিশ্বাস্য সময় সাশ্রয়: সাধারণ পদ্ধতিতে যে ক্যাটফিশ বা শিং মাছ চাষ করতে প্রায় ৭ মাস সময় লাগে, এই বটম ক্লিন প্রযুক্তিতে মাত্র ১২০ দিনেই (৪ মাস) কোনো ওষুধ ছাড়াই তা পূর্ণাঙ্গ রূপ পায় ও আহরণের উপযোগী হয়।

অধিক উৎপাদন: খুব কম জায়গায় এই প্রযুক্তিতে অধিক উৎপাদন সম্ভব। যেমন—শিং মাছের ক্ষেত্রে প্রতি ট্যাংকে ৮০ থেকে সর্বোচ্চ ১৩০ কেজি পর্যন্ত সর্বোচ্চ উৎপাদন পাওয়া গেছে।

সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয় হলো, এই পদ্ধতিতে উৎপাদিত মাছে কোনো ধরনের কাদা বা স্যাঁতসেঁতে দুর্গন্ধ থাকে না, মাছের গায়ের রঙ অত্যন্ত উজ্জ্বল ও আকর্ষণীয় হয় এবং স্বাদ হয় চমৎকার। ইতিমধ্যে এই প্রযুক্তির সাহায্যে টেংরা, গুলশা, পাবদা ও শিং মাছ চাষ করে ব্যাপক সফলতা পাওয়া গেছে।

ছাদেই হবে দুর্গন্ধহীন মাছের চাষ!

বিজ্ঞানীদের দাবি, এই ‘বটম ক্লিন অ্যাকুয়াকালচার’ প্রযুক্তির পরিচালন খরচ অত্যন্ত কম এবং এটি পরিচালনা করাও বেশ সহজ। এর ফলে শুধু বাণিজ্যিক খামারেই নয়, বরং ঢাকা বা যেকোনো শহরের বাড়ির ছাদে একটি শেডের ভেতরে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে নিজেদের খাওয়ার জন্য শতভাগ গন্ধহীন ও তাজা মাছ উৎপাদন করা সম্ভব!

খুব শীঘ্রই মৎস্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে এই চমৎকার আধুনিক চাষ পদ্ধতি মাঠপর্যায়ের মৎস্য চাষি এবং নতুন উদ্যোক্তাদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন গবেষকরা। আশা করা যায়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই মেলবন্ধনে বাঙালির পাতের মাছ আবার তার হারিয়ে যাওয়া সুবাস ও অমৃত স্বাদ ফিরে পাবে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

ফরিদপুরে এক পরিবারকে সমাজচ্যুত ও মসজিদে প্রার্থনায় নিষেধাজ্ঞা!

মিয়া রাকিবুল
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে এক পরিবারকে সমাজচ্যুত ও মসজিদে প্রার্থনায় নিষেধাজ্ঞা!

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের শালিস বৈঠকে গ্রামের বাইরের লোক নিয়ে আসার অজুহাতে একটি পরিবারকে সমাজচ্যুত (একঘরে) করে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মাতুব্বরদের বিরুদ্ধে। কেবল একঘরে করাই নয়, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের স্থানীয় মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায়ের ওপরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আধুনিক ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার যুগে এমন সিদ্ধান্তকে মানবাধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

​ঘটনাটি ঘটেছে আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চর নওয়াপাড়া গ্রামে। ভুক্তভোগী পরিবারটি ওই গ্রামের প্রয়াত আব্দুর রফিক শেখের। তার তিন ছেলে—তারেক শেখ, ওবায়দুর শেখ ও খালিদ শেখ বর্তমানে চরম নিরাপত্তা ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুর রফিক শেখের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী ওসমান গণির দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত ২৪ জুলাই গ্রামে প্রথম দফা শালিস বসে। সেদিন কোনো সুরাহা না হওয়ায় ৩০ জুলাই দ্বিতীয় দফায় শালিসের মাধ্যমে বিরোধটি নিষ্পত্তি করা হয়। তবে দুই দিনের শালিসেই নিজেদের পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরতে রফিক শেখের ছেলেরা গ্রামের বাইরের কিছু আত্মীয়-স্বজনকে উপস্থিত করেন।

​গ্রামের শালিসে বহিরাগত লোক আনার বিষয়টি সহজভাবে নেননি স্থানীয় মাতুব্বররা। এর জের ধরে মাতুব্বর আবুল সরকার ও তাজ মোহাম্মদের নেতৃত্বে ৩১ জুলাই প্রথম একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় চর নওয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে পুনরায় সভা ডেকে রফিক শেখের পুরো পরিবারকে সমাজচ্যুত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন তারা। ওই দিন রাতেই আব্দুর রফিক শেখের ছোট ছেলে খালিদ শেখকে সামাজিক সিদ্ধান্তটি জানিয়ে দেওয়া হয়। পরদিন সভার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

​ভুক্তভোগী খালিদ শেখ বলেন, “শালিসে আমরা আমাদের আত্মীয়-স্বজনদের এনেছিলাম। শুধু এই অপরাধে আমাদের পরিবারকে সমাজচ্যুত করা হয়েছে। মাতুব্বররা সমাজের কাউকে আমাদের সাথে কথা বলতে নিষেধ করেছেন। গ্রামে কোনো অনুষ্ঠানে তো দূরের কথা, মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আমরা অন্য গ্রামে গিয়ে নামাজ পড়ছি।”

​অশ্রুসজল চোখে প্রয়াত আব্দুর রফিক শেখের স্ত্রী শিমুল বেগম বলেন, “আমাদের একঘরে করে রাখা হয়েছে। কারও সাথে কথা বলতে পারছি না। আমার ছেলেরা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছে।”

​অভিযোগ স্বীকার করে সমাজপতি আবুল সরকার বলেন, “গ্রামের বিষয় নিয়ে শালিস, অথচ তারা কাউকে না জানিয়ে ৩০-৪০ জন বহিরাগত লোক নিয়ে আসে। তাই মহল্লার সবাই মিলে তাদের সাথে সামাজিক সম্পর্ক না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা পরে আমার কাছে এসেছিল, আমি গ্রামে সবার কাছে ভুল স্বীকার করতে বলেছিলাম, কিন্তু তারা তা করেনি।”

​এ বিষয়ে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আজিজুল তালুকদার জানান, জমি পরিমাপের সময় তিনি শালিসে থাকলেও পরবর্তী সময়ে সমাজচ্যুত করার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তাকে কিছু জানানো হয়নি।

​ঘটনাটিকে সম্পূন্ন বেআইনি আখ্যা দিয়ে আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান হাসিব বলেন, “বর্তমান যুগে এভাবে কাউকে একঘরে করা বেআইনি ও মানবাধিকার বিরোধী। বিষয়টির সত্যতা জেনে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

​আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে থাকা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আল-আমিন জানান, “বিষয়টি এখনো বিস্তারিত জানা নেই। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশের প্রচলিত আইনের বাইরে গিয়ে বিচার করার অধিকার কারও নেই।”

সদরপুরে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলছিল কিশোরীর মরদেহ

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২২ অপরাহ্ণ
সদরপুরে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলছিল কিশোরীর মরদেহ

ফরিদপুরের সদরপুরে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় জান্নাতুল আক্তার (১৪) নামে এক কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

​রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দড়ি কৃষ্ণপুর গ্রামে নিজ বসতঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

​নিহত জান্নাতুল আক্তার ওই গ্রামের মো. জাফার খানের মেয়ে।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খাবার খেয়ে ছোট বোন সাইফাকে (৬) নিয়ে নিজ ঘরে ঘুমাতে যায় জান্নাতুল। রোববার সকালে ঘুম থেকে উঠে সাইফা দেখতে পায়, টিনের ঘরের আড়ার সঙ্গে বড় বোন ঝুলছে। এ সময় তার চিৎকারে পরিবারের অন্য সদস্যরা ছুটে এসে জান্নাতুলকে নিচে নামান। তবে ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।

​নিহতের স্বজনদের দাবি, জান্নাতুল দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিল।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন শাহ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

ফরিদপুরে মাদ্রাসাছাত্রীকে গণধর্ষণের দায়ে দুই যুবকের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মাদ্রাসাছাত্রীকে গণধর্ষণের দায়ে দুই যুবকের যাবজ্জীবন

ফরিদপুর সদর উপজেলায় এক মাদ্রাসাছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগে দুই যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর এক আসামিকে খালাস প্রদান করা হয়।

​রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. আবুল বাশার মিঞা এ রায় ঘোষণা করেন।

​রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে কড়া পুলিশ প্রহরায় তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

​দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের চর দুর্গাপুর গ্রামের সুমন মোল্যা (১৯) ও একই গ্রামের ওসমান বেপারী (২৯)।

​মামলা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ছাত্রী রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার একটি দাখিল মাদ্রাসায় নবম শ্রেণিতে পড়ালেখা করত। এক যুবকের সঙ্গে মুঠোফোনে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর বিকেলে ওই যুবকের সঙ্গে দেখা করতে সে গোয়ালন্দ ঘাটে যায়। তাকে না পেয়ে মেয়েটি তার চাচাতো ভাইকে ফোন করে।

​চাচাতো ভাই তাকে নিয়ে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা দিলে অভিযুক্ত আসামিরা কৌশলে তাদের ফরিদপুর শহরের ভাটি লক্ষ্মীপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান এবং সেখানে রাতে অবস্থান করতে বলেন। পরদিন ১৮ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আসামিরা মেয়েটিকে জিম্মি করে মোবাইল ফোনে ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এরপর সুমন মোল্যা ও ওসমান বেপারী পর্যায়ক্রমে মেয়েটিকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

​ঘটনার পর কাউকে কিছু না বলতে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ভুক্তভোগীকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী বাড়িতে ফিরে স্বজনদের বিষয়টি জানালে, তার মা বাদী হয়ে ২১ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

​পুলিশ মামলাটি দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট জমা দেয়। বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ ও দীর্ঘ শুনানি শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় প্রদান করেন।

​রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, “আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতে এই রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আদালতের এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ফলে সমাজে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে এবং অপরাধীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি হবে।”