খুঁজুন
, ,

রাতে ভাত খাওয়া ভালো নাকি ক্ষতি? জানালেন পুষ্টিবিদ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৯:১৮ পূর্বাহ্ণ
রাতে ভাত খাওয়া ভালো নাকি ক্ষতি? জানালেন পুষ্টিবিদ

বাঙালি ভাত অন্ত প্রাণ জাতি। সারাদিন কাজ শেষে রাতে এক থালা গরম ভাত না খেলে যেন অনেকের দু’চোখে ঘুম আসতে চায় না। তবে বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবে একদল মানুষ রাতে ভাত খাওয়ার অভ্যাসকে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে দাবি করছেন।

এই দ্বন্দ্বে অনেকেই দোটানায় পড়ে রাতের খাবারের তালিকা থেকে প্রিয় ভাত বাদ দিচ্ছেন। তবে সত্যিই কি রাতে ভাত খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর? এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন কলকাতা শহরের বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ মীনাক্ষী মজুমদার।

ভাতেও রয়েছে প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ

ভাত মানেই কেবল কার্বোহাইড্রেট নয়। শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তির জোগান দেওয়ার পাশাপাশি ভাতে রয়েছে একাধিক জরুরি ভিটামিন ও খনিজ। পুষ্টিবিদ মীনাক্ষী মজুমদারের মতে, ভাতে থাকা কার্বোহাইড্রেট শরীরে শক্তির ঘাটতি দূর করে আমাদের সতেজ রাখতে সাহায্য করে। এ ছাড়া ভাতে থাকে:

আয়রন

ভিটামিন বি৬

ম্যাগনেশিয়াম

পটাশিয়াম

রাতে ভাত খাওয়া কি নিরাপদ?

অনেকের ধারণা, রাতে ভাত খেলে মেদ বাড়ে বা বদহজম হয়। কিন্তু পুষ্টিবিদ বলছেন ভিন্ন কথা। তার মতে, রাতে অনায়াসেই ভাত খাওয়া যায়। ভাত একটি সহজপাচ্য খাবার, যা পেটের সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি কমায়। এ ছাড়া ভাতের একটি বিশেষ গুণ হলো, এটি রাতে ভালো ঘুম হতে সাহায্য করে। তাই অহেতুক ভয় না পেয়ে যারা রাতে ভাত খেতে পছন্দ করেন, তারা নিশ্চিন্তে এটি গ্রহণ করতে পারেন।

পরিমাণ কতটুকু হওয়া উচিত?

ভাত খাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো এর পরিমাণ। একজন সুস্থ মানুষ যার উচ্চতা মোটামুটি ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি, তিনি দিনে প্রায় ১৫০ গ্রাম চালের ভাত খেতে পারেন। এক্ষেত্রে দুপুরে ৭৫ গ্রাম এবং রাতে ৭৫ গ্রাম চালের ভাত রাখা যেতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, প্রত্যেকের উচ্চতা ও ওজন অনুযায়ী ক্যালোরির চাহিদা ভিন্ন হয়, তাই সঠিক পরিমাপ নির্ধারণে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ডায়বেটিস ও ভাতের সম্পর্ক

ডায়বেটিস থাকলে অনেকেই রাতে ভাত খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেন। তবে পুষ্টিবিদ জানাচ্ছেন, সঠিক নিয়ম মেনে ডায়বেটিস রোগীরাও নিয়মিত ভাত খেতে পারেন। এক্ষেত্রে ভাতের পরিমাপ পুষ্টিবিদের কাছ থেকে জেনে নেওয়া জরুরি, যাতে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ভাত বনাম রুটি: কোনটি সেরা?

অনেকে ওজন কমাতে ভাতের বদলে রুটি বেছে নেন। মজার বিষয় হলো, ভাত এবং রুটির ক্যালোরি ভ্যালু প্রায় সমান। রুটিতে ভাতের তুলনায় ফাইবার বেশি থাকে যা সুগার নিয়ন্ত্রণে এবং পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু রুটি অনেকেরই সহ্য হয় না এবং পেটের সমস্যা তৈরি করে। সেক্ষেত্রে পুষ্টিবিদের পরামর্শ হলো, রুটি বা ভাতের মধ্যে অহেতুক তুলনা না করে নিজের শরীরে যা সহ্য হয় এবং পছন্দের খাবারটিই খাওয়া ভালো।

তথ্যসূত্র: এই সময়

ফরিদপুরে পাটক্ষেতে মিলল নিখোঁজ ব্যবসায়ীর মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পাটক্ষেতে মিলল নিখোঁজ ব্যবসায়ীর মরদেহ

ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের লোকমান খান ডাঙ্গি এলাকার একটি পাটক্ষেত থেকে ইউসুফ ফকির (৪৭) নামে এক ভুসিমাল ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যাওয়ায় এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে।

নিহত ইউসুফ ফকির মমিন খাঁর হাটের একজন পরিচিত ভুসিমাল ব্যবসায়ী। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুলাই সন্ধ্যার পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরদিন ১৭ জুলাই তাঁর ভাতিজা সাইফুল ইসলাম ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৩৬০) করেন।

শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে স্থানীয় কৃষক মজিবর সিকদার নিজের পাটক্ষেতে কাজ করতে গিয়ে একজনকে পড়ে থাকতে দেখে কাছে যান। পরে তিনি ইউসুফ ফকিরকে অচেতন অবস্থায় শনাক্ত করেন। তাঁর পাশেই একটি বিষের বোতল পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিষয়টি স্থানীয়দের জানানো হলে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “মরদেহে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।”

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহের শরীরে আঘাতের কিছু চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।”

ভাঙ্গায় বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়ির বেড়া ভেঙে জমি দখলের অভিযোগ

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ
ভাঙ্গায় বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়ির বেড়া ভেঙে জমি দখলের অভিযোগ

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় জমি-জমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার বসতবাড়ির বেড়া ভেঙে জমি দখলের চেষ্টা এবং তাকে ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পর থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. লোকমান হোসেন (৭৫) ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।

এ ঘটনায় বিচার ও নিরাপত্তা চেয়ে ভাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রায়পাড়া সদরদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. লোকমান হোসেনের সঙ্গে একই এলাকার রতন কাজী (৭০), ফরিদ কাজী (৩৫), মমিন কাজী (৫০), মেজবাউদ্দিন কাজী (৪৫)সহ কয়েকজনের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে।

বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে এর আগে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সরকারি আমিন দিয়ে জমি পরিমাপ করা হয়। তবে পরিমাপ শেষে অভিযুক্তদের অংশ বুঝিয়ে দেওয়া হলেও নিজের জমি সঠিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি দাবি করে ওই পরিমাপে আপত্তি জানান লোকমান হোসেন। তিনি অভিজ্ঞ আমিনের মাধ্যমে পুনরায় জমি পরিমাপের দাবি করেন।

এরপর থেকেই অভিযুক্তরা ক্ষুব্ধ হয়ে তার জমি দখলের চেষ্টা শুরু করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তারা বসতবাড়ির টিনের বেড়া ভেঙে ফেলেন এবং জমিতে থাকা গাছপালা কেটে নেওয়ার চেষ্টা করেন। সর্বশেষ গত ১৬ জুলাই সকালে কয়েকজন দলবল নিয়ে বাড়ির সামনে এসে জড়ো হয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর, জমি জোরপূর্বক দখল এবং বাধা দিলে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনার পর থেকে যেকোনো সময় হামলা, ভাঙচুর ও জোরপূর্বক জমি দখলের আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. লোকমান হোসেন বলেন, “আমি দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছি। অথচ আজ নিজ দেশে, নিজের ভিটেমাটিতে আমাকে ও আমার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা চরম আতঙ্কে আছি। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার ও আমাদের নিরাপত্তা চাই।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মমিন কাজী বলেন, “এটি আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। এই জমি নিয়ে ইতোমধ্যে তিনবার সালিশ হয়েছে। সরকারি আমিন দিয়ে জমি মেপে লোকমান হোসেনকে তার অংশ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি সালিশের সিদ্ধান্ত মানছেন না। আমাদের অংশের মধ্যে তার বেড়া ও গাছপালা রয়েছে। স্থানীয় সালিশকারীরা সেগুলো সরিয়ে দিতে বলেছিলেন। তিনি তা না করায় আমরা আমাদের জায়গার বেড়া খুলে দিয়েছি। কাউকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়নি।”

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে পাটের আবাদ, খরচ-শ্রমিক সংকটে হাসি নেই কৃষকের

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ১০:১১ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে পাটের আবাদ, খরচ-শ্রমিক সংকটে হাসি নেই কৃষকের

দেশের অন্যতম পাট উৎপাদনকারী জেলা ফরিদপুরে চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া এবং ভালো ফলনের আশায় কৃষকেরা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত জমিতে পাট চাষ করেছেন। তবে বাজারে পাটের দাম তুলনামূলক ভালো থাকলেও উৎপাদন ব্যয়, শ্রমিক সংকট এবং পাট কাটার অতিরিক্ত খরচের কারণে কাঙ্ক্ষিত লাভ পাচ্ছেন না কৃষকেরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ফরিদপুরে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮৭ হাজার ৩২৮ হেক্টর জমিতে। কিন্তু কৃষকদের আগ্রহে শেষ পর্যন্ত ৮৭ হাজার ৪০২ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭৪ হেক্টর বেশি জমিতে পাট চাষ হয়েছে।

বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাট ও আড়তে প্রতি মণ পাটের দাম ৩ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ৪ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত রয়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, গত কয়েক বছরের তুলনায় এ দাম মোটামুটি সন্তোষজনক। কিন্তু কৃষকদের দাবি, উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এই দামে লাভ খুবই সীমিত।

বোয়ালমারী উপজেলার কৃষক নুর আলম বলেন, “পাটের দাম আগের তুলনায় ভালো হলেও সার, বীজ, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি অনেক বেড়ে গেছে। এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে যে খরচ হয়, সে তুলনায় বর্তমান বাজারদামে তেমন লাভ থাকে না। প্রতি কাটা জমিতে গড়ে আধা মণ পাট উৎপাদন হয়। অন্তত প্রতি মণ পাটের দাম ৫ হাজার টাকার বেশি হলে কৃষক কিছুটা স্বস্তি পেত।”

নগরকান্দা উপজেলার কৃষক আলিম মোল্যা বলেন, “সবচেয়ে বড় সমস্যা এখন শ্রমিক সংকট। সময়মতো পাট কাটার লোক পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক সময় কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে পাট বেশি বড় হয়ে গেলে আঁশের মানও কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।”

ভাঙ্গা উপজেলার কৃষক শহিদ খান বলেন, “পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো ও শুকানো—সব মিলিয়ে অনেক শ্রমের কাজ। এখন একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। এত খরচ দিয়ে পাট চাষ করে খুব বেশি লাভ থাকে না।”

জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, অনেক কৃষক ইতোমধ্যে পাট কাটা শুরু করেছেন। কোথাও কোথাও পাট জাগ দেওয়া হয়েছে, আবার কোথাও আঁশ ছাড়ানোর কাজ চলছে। তবে অধিকাংশ কৃষকেরই অভিযোগ, শ্রমিকের অভাবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা যাচ্ছে না।

কৃষকেরা জানান, কয়েক বছর আগের তুলনায় কৃষি শ্রমিকের সংখ্যা কমে গেছে। অনেকেই বিকল্প পেশায় চলে যাওয়ায় মৌসুমি শ্রমিকের সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে পাট কাটার মৌসুমে শ্রমিকের চাহিদা বাড়লেও সেই অনুপাতে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।

ফরিদপুরের পাট আড়ৎদার সুজন মাতুব্বর বলেন, “এবার বাজারে ভালো মানের পাট আসছে। বর্তমানে প্রতি মণ পাটের দাম ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার ৩০০ টাকার মধ্যে রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা এবং দেশের বিভিন্ন পাটকলের ক্রয় কার্যক্রমের ওপর দাম আরও বাড়তে বা কমতে পারে।”

তিনি বলেন, “কৃষকেরা যদি ভালোভাবে পাট শুকিয়ে বাজারে আনেন, তাহলে উন্নত মানের পাটের দাম আরও বেশি পাওয়া সম্ভব।”

ফরিদপুরের কয়েকজন পাটকল মালিক জানান, বিশ্বজুড়ে পরিবেশবান্ধব পণ্যের ব্যবহার বাড়ায় প্রাকৃতিক আঁশ হিসেবে পাটের চাহিদাও ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে কাঁচাপাটের সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি এবং রপ্তানি আদেশের ওপর বাজারদর নির্ভর করে। তারা মনে করেন, সরকার পাটের ব্যবহার ও রপ্তানি আরও বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নিলে কৃষকরাও ন্যায্য মূল্য পাবেন।

ফরিদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “চলতি মৌসুমে জেলায় পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৭ হাজার ৩২৮ হেক্টর। কিন্তু কৃষকের আগ্রহে ৮৭ হাজার ৪০২ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি।”

তিনি বলেন, “এ বছর আবহাওয়া পাটের জন্য অনুকূলে ছিল। তাই ফলনও ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন, যাতে উন্নতমানের পাট উৎপাদন নিশ্চিত করা যায়।”

তিনি আরও বলেন, “শ্রমিক সংকট একটি বাস্তব সমস্যা। তবে কৃষকেরা যাতে সময়মতো পাট সংগ্রহ করতে পারেন, সে বিষয়ে কৃষি বিভাগ প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে। একই সঙ্গে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একসময় ‘সোনালি আঁশ’ নামে পরিচিত পাট দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। বর্তমানে পরিবেশবান্ধব পণ্যের বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধির কারণে আবারও পাটের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হচ্ছে। তবে উৎপাদন ব্যয় কমানো, শ্রমিক সংকট নিরসন, উন্নত জাতের পাট সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে এ খাত আরও শক্তিশালী হবে।

ফরিদপুরের কৃষকদের প্রত্যাশা, বাজারে প্রতি মণ পাটের দাম যদি ৫ হাজার টাকার ওপরে ওঠে এবং উৎপাদন ব্যয় কিছুটা কমে, তাহলে আগামী বছর আরও বেশি কৃষক পাট চাষে আগ্রহী হবেন। বর্তমানে ভালো ফলনের আশা থাকলেও লাভের হিসাব মেলাতে না পারায় অনেক কৃষকের মুখে এখনো স্বস্তির হাসি ফুটেনি।