খুঁজুন
বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

পেট ফাঁপা কমাতে সাহায্য করবে যে ৫টি ঘরোয়া ব্যায়াম?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:১৯ পূর্বাহ্ণ
পেট ফাঁপা কমাতে সাহায্য করবে যে ৫টি ঘরোয়া ব্যায়াম?

প্রোটিন, চর্বি, মিষ্টি এবং অ্যালকোহল সমৃদ্ধ খাবার এবং টেটের সময় ব্যায়ামের অভাবের সাথে মিলিত হয়ে অনেক মানুষের পেট ফাঁপা, গ্যাস এবং বদহজম হতে পারে।

বড় খাবারের পর, বিশেষ করে টেট (চন্দ্র নববর্ষ) উদযাপনের সময়, উচ্চ-শক্তিসম্পন্ন খাবার প্রক্রিয়াজাত করার জন্য পাচনতন্ত্র অতিরিক্ত পরিশ্রম করে। যখন শরীর দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকে বা শুয়ে থাকে, তখন অন্ত্রের গতিশীলতা হ্রাস পায় এবং পরিপাকতন্ত্রে সহজেই গ্যাস জমা হয়, যার ফলে পেট ফুলে যায়, পেটে ভারী অনুভূতি হয় এবং এমনকি বমি বমি ভাব বা রিফ্লাক্সও হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে যে হালকা ব্যায়াম সাহায্য করে:

কন্টেন্ট

 ১. গভীরভাবে শ্বাস নেওয়ার সময় স্থির হয়ে হাঁটা পেট ফাঁপা এবং বদহজম কমাতে সাহায্য করতে পারে।

 ২. হাঁটু থেকে পেট পর্যন্ত বাঁকানো নড়াচড়া (কিউ-মুক্ত করার ভঙ্গি)

 ৩. বসার সময় আপনার শরীরের উপরের অংশটি আলতো করে ঘোরান।

 ৪. বিড়াল-গরু ভঙ্গি

 ৫. পেটের ম্যাসাজের সাথে ডায়াফ্রাম্যাটিক শ্বাস-প্রশ্বাস।

– অন্ত্রের গতিবিধি উদ্দীপিত করে, খাবারের হজমকে উৎসাহিত করে।

– পেট এবং অন্ত্রে গ্যাস জমা কমায়।

– পরিপাকতন্ত্রে রক্ত ​​প্রবাহ উন্নত করে।

– স্নায়বিক উত্তেজনা হ্রাস করুন, যা কার্যকরী হজমের ব্যাধিকে বাড়িয়ে তোলে।

তবে, খাওয়ার পরপরই উচ্চ-তীব্রতার ব্যায়াম করা উচিত নয়; পরিবর্তে, ধীর শ্বাস-প্রশ্বাস এবং স্বল্প সময়ের জন্য হালকা ব্যায়ামকে অগ্রাধিকার দিন।

চন্দ্র নববর্ষের ছুটিতে বয়স্ক এবং সীমিত শারীরিক পরিশ্রমের জন্য উপযুক্ত ৫টি সহজ, নিরাপদ ব্যায়ামের তালিকা এখানে দেওয়া হল:

১. গভীরভাবে শ্বাস নেওয়ার সময় স্থির হয়ে হাঁটা পেট ফাঁপা এবং বদহজম কমাতে সাহায্য করতে পারে।

পেট ফাঁপা কমানোর জন্য এটি একটি সহজ কিন্তু অত্যন্ত কার্যকরী ব্যায়াম। হালকা হাঁটা অন্ত্রের গতিবিধিকে উদ্দীপিত করে, অন্যদিকে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস হজমের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, ডায়াফ্রামকে শিথিল করতে সাহায্য করে।

এটা কিভাবে করবেন:

– সোজা হয়ে দাঁড়ান, জায়গায় হালকাভাবে হাঁটুন অথবা ঘরের চারপাশে হেঁটে যান।

– নাক দিয়ে গভীরভাবে শ্বাস নেওয়ার সাথে মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন।

– ৫-৭ মিনিট ধরে রাখুন।

২. হাঁটু থেকে পেট পর্যন্ত বাঁকানো নড়াচড়া (কিউ-মুক্ত করার ভঙ্গি)

হাঁটু থেকে পেট পর্যন্ত ক্রাঞ্চ করার পরামর্শ প্রায়শই স্পোর্টস মেডিসিন এবং থেরাপিউটিক যোগব্যায়ামে দেওয়া হয়। এই নড়াচড়া পেটের গহ্বরে মৃদু চাপ প্রয়োগ করে, অতিরিক্ত গ্যাস বের করে দিতে এবং পেট ফাঁপা কমাতে সাহায্য করে।

এটা কিভাবে করবেন:

– মাদুর বা বিছানায় পিঠের উপর ভর দিয়ে শুয়ে পড়ুন, এক বা উভয় হাঁটু পেটের দিকে বাঁকুন এবং আলতো করে হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরুন।

– ১৫-২০ সেকেন্ড ধরে রাখুন, সমানভাবে শ্বাস নিন।

৫-৮ বার পুনরাবৃত্তি করুন।

৩. বসার সময় আপনার শরীরের উপরের অংশটি আলতো করে ঘোরান।

বসার সময় শরীরের উপরের অংশ মৃদুভাবে ঘোরানো বয়স্কদের জন্য বা যারা ব্যায়ামের সাথে অপরিচিত তাদের জন্য উপযুক্ত। এই ব্যায়ামটি হজম অঙ্গগুলিকে আলতো করে ম্যাসাজ করে এবং পেটের গহ্বরে রক্ত ​​সঞ্চালন উন্নত করে।

এটা কিভাবে করবেন:

– তোমার চেয়ারে সোজা হয়ে বসো, তোমার হাত তোমার উরুতে রাখো।

– ধীরে ধীরে আপনার শরীরের উপরের অংশটি বাম এবং ডানে ঘোরান।

– প্রতিটি পাশে ৮-১০ বার।

৪. বিড়াল-গরু ভঙ্গি

এটি একটি ক্লাসিক ভঙ্গি যা হজমশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে। বিড়াল-গরু ভঙ্গি পরিপাকতন্ত্রের কার্যকলাপকে উদ্দীপিত করে এবং প্রচুর খাবার খাওয়ার পরে পেট ফাঁপা কমায়।

এটা কিভাবে করবেন:

– মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বসুন, হাত এবং হাঁটু মেঝেতে রাখুন।

– শ্বাস নিন, আপনার পিঠ নিচের দিকে বাঁকান (গরুর ভঙ্গি)।

– শ্বাস ছাড়ুন, আপনার পিঠ বাঁকান (বিড়ালের ভঙ্গি)।

– ৮-১২টি পুনরাবৃত্তি করুন।

৫. পেটের ম্যাসাজের সাথে ডায়াফ্রাম্যাটিক শ্বাস-প্রশ্বাস।

এটি একটি মৃদু ব্যায়াম, টেট (ভিয়েতনামী নববর্ষ) এর সন্ধ্যার জন্য উপযুক্ত। এটি মানসিক চাপ কমাতে, মস্তিষ্ক-অন্ত্রের অক্ষ নিয়ন্ত্রণ করতে এবং দক্ষ হজমে সহায়তা করে।

এটা কিভাবে করবেন:

এক হাত পেটের উপর রেখে আরাম করে শুয়ে পড়ুন বা বসুন।

– পেট প্রসারিত না হওয়া পর্যন্ত গভীরভাবে শ্বাস নিন, তারপর ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন।

– ঘড়ির কাঁটার দিকে পেট ম্যাসাজ করুন।

– এটি ৩-৫ মিনিটের জন্য করুন।

খাবারের পরে পেট ফাঁপা এড়াতে ব্যায়ামের নীতিগুলি:

– সঠিক সময় বেছে নিন: খাবারের প্রায় 30-60 মিনিট পরে ব্যায়াম করুন এবং পেট ভরে খাবার খাওয়ার পরপরই ব্যায়াম করা এড়িয়ে চলুন।

– উপযুক্ত সময়কাল: ১০-১৫ মিনিট স্থায়ী প্রতিটি সেশন অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে হজমকে উদ্দীপিত করার জন্য যথেষ্ট।

– নিম্ন থেকে মাঝারি তীব্রতা: এমন একটি স্তরে ব্যায়াম করুন যেখানে আপনি শ্বাসকষ্ট ছাড়াই ব্যায়াম করতে পারবেন এবং ব্যায়াম করার সময় কথা বলতে পারবেন।

– মৃদু ব্যায়ামকে অগ্রাধিকার দিন: স্ট্রেচিং, পেটের ব্যায়াম এবং গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের উপর মনোযোগ দিন।

– উচ্চ-তীব্রতার ব্যায়াম এড়িয়ে চলুন: খাওয়ার পর জোরে জোরে সিট-আপ করবেন না, দ্রুত দৌড়াবেন না বা ওজন তুলবেন না।

– আপনার শরীরের প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করুন: পেটের সমস্যা, রিফ্লাক্স, বা হৃদরোগের সমস্যাযুক্ত ব্যক্তিদের খুব আস্তে আস্তে শুরু করা উচিত এবং যদি তারা কোনও অস্বস্তি অনুভব করেন তবে বন্ধ করা উচিত।

– এটিকে একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার সাথে একত্রিত করুন: পেট ফাঁপা এবং বদহজমের ঝুঁকি কমাতে একটি সুষম খাদ্য খান এবং অ্যালকোহল গ্রহণ সীমিত করুন।

সূত্র: https://suckhoedoisong.vn/5-bai-tap-tai-nha-giup-giam-day-bung-sau-tiec-tet-169260206143502864.htm

সদরপুরে ভূমিসেবা মেলা উদ্বোধন ও আলোচনা সভা

সদরপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৭:৪৫ অপরাহ্ণ
সদরপুরে ভূমিসেবা মেলা উদ্বোধন ও আলোচনা সভা

ফরিদপুরের সদরপুরে ভূমিসেবা মেলা ২০২৬ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে উপজেলা ভূমি অফিস প্রাঙ্গণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উপজেলা ভূমি অফিসের আয়োজন এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এই ভূমিসেবা মেলার আয়োজন করা হয়। মেলার শুরুতে উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে একটি র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত আনজুম পিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন, সদরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ সহ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জনগণকে এখন অনেক দ্রুত ও সহজে ভূমিসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। ডিজিটাল এই সেবার সুফল যেন সাধারণ মানুষ সরাসরি ভোগ করতে পারেন, সেটাই এই মেলার মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, ভূমি সেবাগ্রহীতা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

আলফাডাঙ্গায় শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী ‘ভূমি মেলা-২০২৬’

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৭:৩১ অপরাহ্ণ
আলফাডাঙ্গায় শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী ‘ভূমি মেলা-২০২৬’

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় বর্ণাঢ্য র‍্যালি, জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী ‘ভূমি মেলা-২০২৬’। জনগণের দোরগোড়ায় সহজ, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর ভূমিসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে আলফাডাঙ্গা উপজেলা ভূমি অফিস প্রাঙ্গণে এ মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। মেলা চলবে আগামী ২১ মে পর্যন্ত। উদ্বোধনের আগে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

মেলায় ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত করতে তথ্য বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া নামজারি, খতিয়ান, ভূমি উন্নয়ন কর, ই-নামজারি, অনলাইন ভূমি সেবা ও স্মার্ট ভূমি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সরাসরি সেবা ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।

মেলা উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত নূর মৌসুমীর সভাপতিত্বে এবং আলফাডাঙ্গা আরিফুজ্জামান পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিলন সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ কেএম রায়হানুর রহমান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা আনুষ্ঠানিকভাবে ফিতা কেটে ও শুভেচ্ছা বক্তব্যের মাধ্যমে মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার সাহা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ভবেন বাইন, সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার বসিরউদ্দীন, উপ-সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার রেজাউল করিম, আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নূরজামাল খসরু, পৌর বিএনপির সভাপতি রবিউল হক রিপন এবং উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান মনিরসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিবর্গ।

এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে আগত তহসীলদার, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষক, সুধী সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মেলায় অংশ নেন।

বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার ভূমি ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাল ও জনবান্ধব করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভূমি মেলার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা ও সেবা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পাচ্ছেন, যা হয়রানি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পবিত্র হজের সওয়াবের পথে নেক আমল

রেহেনা ফেরদৌসী
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৬:৩৭ অপরাহ্ণ
পবিত্র হজের সওয়াবের পথে নেক আমল

হজ শুধু সফর নয়, এটি আত্মার পরিশুদ্ধির আহ্বান; আর ইসলামের সৌন্দর্য হলো, নেক আমলের দ্বার সবার জন্য উন্মুক্ত। ইসলামের দয়ার দুয়ার সবার জন্য উন্মুক্তহজে যেতে না পারলেও আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত নন মুমিন- কিছু আমল এনে দিতে পারে হজের সমপর্যায়ের সওয়াব।

পবিত্র হজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম এবং প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য জীবনে অন্তত একবার হজ পালন করা ফরজ। হজ কেবল একটি আনুষ্ঠানিক ইবাদত নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ, ধৈর্য, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণের এক মহিমান্বিত শিক্ষা। তবে বাস্তবতা হলো-সব মুসলমান আর্থিক, শারীরিক কিংবা পারিপার্শ্বিক কারণে হজ পালনের সৌভাগ্য অর্জন করতে পারেন না।

কিন্তু ইসলাম এমন এক দয়াময় জীবনব্যবস্থা, যেখানে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের জন্য রহমতের বহু দরজা উন্মুক্ত রেখেছেন। মহানবী (সাঃ) বিভিন্ন হাদিসে এমন কিছু নেক আমলের কথা সুসংবাদ হিসেবে জানিয়েছেন, যেগুলোর সওয়াব হজ বা ওমরাহর সমতুল্য কিংবা তার ন্যায় মর্যাদাপূর্ণ হতে পারে।

ফজর ও ইশরাকের আমল- দিনের শুরুতেই হজের সওয়াবের সম্ভাবনা:

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেন- যে ব্যক্তি জামাতে ফজরের নামাজ আদায় করে, এরপর সূর্যোদয় পর্যন্ত আল্লাহর জিকিরে মশগুল থাকে এবং পরে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করে, সে পূর্ণ হজ ও ওমরাহর সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করতে পারে। এই হাদিস মুসলমানকে দিনের শুরুতেই ইবাদতের মাধ্যমে আত্মিক শক্তি অর্জনের আহ্বান জানায়।

জামাতে নামাজ- মসজিদে জামাতে নামাজ আদায়:

ইসলামের সামাজিক ও আধ্যাত্মিক সৌন্দর্যের প্রতীক। হাদিসে এসেছে, ফরজ নামাজের জন্য মসজিদে গমনকারী ব্যক্তি যেন হজের উদ্দেশ্যে বের হওয়া মুমিনের মর্যাদা লাভ করে। এতে বোঝা যায়, ইসলামে প্রতিদিনের ইবাদতের মধ্যেও কত বড় পুরস্কারের ঘোষণা রয়েছে।

দ্বীনি শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চা- রাসূল (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি মসজিদে যায় দ্বীনের জ্ঞান অর্জন বা শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে, তার জন্য পূর্ণ হজ আদায়কারীর ন্যায় সওয়াব রয়েছে। ইসলাম জ্ঞানকে শুধু ব্যক্তিগত উন্নতির মাধ্যম নয়, বরং ইবাদতের মর্যাদায় উন্নীত করেছে। তাই কোরআন-হাদিস শিক্ষা ও ইসলামী জ্ঞানচর্চা সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি।

রমজানের ওমরাহ- সহিহ হাদিসে এসেছে, রমজান মাসে ওমরাহ পালন রাসূল (সাঃ) এর সঙ্গে হজ পালনের সমপর্যায়ের সওয়াবের সুসংবাদ বহন করে। এটি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের প্রকাশ, যা মুমিন হৃদয়কে আরও বেশি ইবাদতমুখী করে তোলে।

ইসলামের শিক্ষা- ইসলামে শুধু বাহ্যিক সামর্থ্য নয়, আন্তরিক নিয়তও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেউ যদি হজের প্রকৃত ইচ্ছা রাখেন কিন্তু সামর্থ্যের অভাবে যেতে না পারেন, তবুও আল্লাহ তার নিয়ত ও প্রচেষ্টাকে মূল্যায়ন করেন। এ কারণে মুসলমানের জীবনে নেক আমল, সৎ নিয়ত ও ধারাবাহিক ইবাদত অপরিসীম গুরুত্ব বহন করে।

পবিত্র হজের আকাক্ষা প্রতিটি ঈমানদার হৃদয়ের স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণে বিলম্ব হলেও হতাশ হওয়ার সুযোগ নেই। আল্লাহর রহমত সীমাহীন, আর তার পথে চলার সুযোগ অসংখ্য। তাই হজের সৌভাগ্য লাভের অপেক্ষার পাশাপাশি আমাদের উচিত নামাজ, জিকির, দ্বীনি শিক্ষা ও নেক আমলের মাধ্যমে আত্মাকে পরিশুদ্ধ করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা।

ইসলাম আমাদের শেখায়- আল্লাহ তাআলার রহমত কেবল নির্দিষ্ট স্থানে সীমাবদ্ধ নয়; বরং আন্তরিক নিয়ত, বিশুদ্ধ ঈমান ও ধারাবাহিক নেক আমলের মধ্যেই তাঁর সন্তুষ্টির পথ উন্মুক্ত থাকে। তবে স্মরণ রাখা প্রয়োজন, হাদিসে বর্ণিত এসব আমল হজের ফজিলতপূর্ণ সওয়াবের সুসংবাদ বহন করলেও ফরজ হজের বিকল্প নয়। বরং এগুলো মুসলমানকে ইবাদতের প্রতি আরও আগ্রহী, সচেতন ও আল্লাহমুখী করে তোলার এক মহিমান্বিত প্রেরণা।

আসুন, হজের পবিত্র স্বপ্ন হৃদয়ে ধারণ করে নামাজ, জিকির, দ্বীনি জ্ঞানচর্চা ও সৎকর্মের মাধ্যমে নিজেদের জীবনকে আলোকিত করি। মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে তার ঘর জিয়ারতের সৌভাগ্য দান করুন এবং সেই সঙ্গে নেক আমলের মাধ্যমে তার সন্তুষ্টি অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক: সহ-সম্পাদক, সমাজকল্যাণ বিভাগ, কেন্দ্রীয় পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)।