খুঁজুন
, ,

অধিকাংশ মানুষ ডানহাতি কেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৭:৩৮ পূর্বাহ্ণ
অধিকাংশ মানুষ ডানহাতি কেন?

বিশ্বজুড়ে ১০ জন মানুষের মধ্যে ৯ জনই সাধারণত তাদের দৈনন্দিন কাজ করার জন্য ডান হাত ব্যবহার করে থাকেন। ক্রিকেট বা অন্য যেকোনো খেলায় আমরা ডানহাতি ও বামহাতি খেলোয়াড়দের পার্থক্য দেখি, তবে কেন অধিকাংশ মানুষই ডানহাতি হয়, তা দীর্ঘকাল ধরে বিজ্ঞানীদের কাছে এক রহস্য হয়ে ছিল। সম্প্রতি ব্রিটেনের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণায় এই রহস্যের কিছু নতুন দিক উন্মোচন হয়েছে।

গবেষণা অনুযায়ী, মানুষের মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট কিছু অংশ ডানহাতি হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাধারণত মানুষের মস্তিষ্কের বাম অংশ শরীরের ডান অংশকে এবং ডান অংশ শরীরের বাম অংশকে নিয়ন্ত্রণ করে। যেহেতু অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে ভাষা এবং অন্যান্য দক্ষতার জন্য মস্তিষ্কের বাম অংশ বেশি ব্যবহৃত হয়, এর ফলে তাদের ডান হাতটি প্রাধান্য পায় বা ‘ডমিন্যান্ট’ হয়ে ওঠে।

গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন যে, কেউ যদি ডান হাতের পরিবর্তে বাম হাত ব্যবহার শুরু করে, তবে তার মস্তিষ্কের কার্যকারিতাতেও পরিবর্তন আসে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, মানুষের সোজা হয়ে হাঁটার অভ্যাস এবং বড় আকারের মস্তিষ্কের বিবর্তনের সাথে ডান হাতের ব্যবহারের একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের মস্তিষ্কের আকার তুলনামূলক ছোট বা যারা কম সোজা হয়ে চলাফেরা করে, তাদের ক্ষেত্রে হাতের ব্যবহারের অগ্রাধিকার অনেক বেশি নমনীয় বা পরিবর্তনশীল হয়। প্রাচীনকালে মানুষ যখন সোজা হয়ে হাঁটতে শুরু করে, তখন থেকেই হাতের এই ব্যবহারের অগ্রাধিকার অন্যান্য প্রাণীদের তুলনায় আলাদা হতে থাকে।

সামাজিক চাপ ও পরিবেশ

হাজার বছর ধরে মানব সমাজে ডানহাতিদের আধিপত্য বজায় রয়েছে। প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন যন্ত্রপাতি বা সরঞ্জাম ডানহাতিদের ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে, যার ফলে একটি সামাজিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই অভ্যাসটি বংশপরম্পরায় মানুষের মধ্যে স্থানান্তরিত হয়ে আসছে।

জন্মের পূর্বেই নির্ধারণ?

মজার বিষয় হলো, হাতের ব্যবহারের এই অগ্রাধিকার মায়ের গর্ভ থেকেই শুরু হয় এবং কৈশোর পর্যন্ত পৌঁছাতে পৌঁছাতে এটি স্থায়ী রূপ নেয়। এমনকি কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে, শিশু বড় হয়ে কোন হাত বেশি ব্যবহার করবে, তার ইঙ্গিত মায়ের গর্ভেই পাওয়া যায়। তবে এই প্রক্রিয়াটি শুধুমাত্র জন্মগত নয়, বরং পরিবেশগত এবং বিকাশজনিত নানা উপাদানের ওপরও নির্ভর করে।

জেনেটিক রহস্য

যদিও ডানহাতি বা বামহাতি হওয়ার পেছনে জিনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়, তবুও বিজ্ঞানীদের কাছে এটি এখনো একটি গোলকধাঁধা। ২০১৯ সালে ৪ লাখ মানুষের ডেটার ওপর ভিত্তি করে করা একটি গবেষণায় ৪টি এমন জেনেটিক অঞ্চলের কথা জানা গেছে যা হাত ব্যবহারের সাথে সম্পর্কিত, তবে ধারণা করা হয় এর পেছনে আরও অনেক জিন থাকতে পারে। অদ্ভুত বিষয় হলো, বামহাতি বাবা-মায়ের ঘরেও অনেক সময় ডানহাতি শিশুর জন্ম হয়, যা বিজ্ঞানীদের অবাক করে দেয়।

বিজ্ঞানীরা এখনও এই রহস্যের প্রতিটি পরত পুরোপুরি উন্মোচন করতে না পারলেও, তারা এই গবেষণার মাধ্যমে মানুষের বিবর্তন এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সূত্র খুঁজে পেয়েছেন। এই গবেষণায় প্রথমবারের মতো মানুষের ডান বা বাম হাত ব্যবহারের অগ্রাধিকারের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়েছে। বর্তমানে গবেষকরা এটি জানার চেষ্টা করছেন যে, কেন কিছু মানুষ আবার উভয় হাত সমানভাবে ব্যবহার করার ক্ষমতা রাখেন।

তথ্যসূত্র: জিও নিউজ

ফরিদপুরে জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধ ও HPV টিকা নিয়ে সচেতনতা সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধ ও HPV টিকা নিয়ে সচেতনতা সভা

জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি (HPV) টিকার গুরুত্ব তুলে ধরে ফরিদপুরে অনুষ্ঠিত হলো সচেতনতামূলক কর্মসূচি। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের বেগম রোকেয়া ছাত্রী হোস্টেলের হলরুমে এ সভার আয়োজন করে ‘স্বপ্নগড়ি ফাউন্ডেশন, ফরিদপুর’।

​কর্মসূচিতে কলেজের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

​অনুষ্ঠানে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যাপক আব্দুল হালিম মিয়ার সভাপতিত্বে এবং তুহিন বিন আলমগীরের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্বপ্নগড়ি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ডা. মো. মিজানুর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. সাবরিনা গিয়াস।

​মূল প্রবন্ধে ডা. সাবরিনা গিয়াস বলেন, “উচ্চঝুঁকির এইচপিভি সংক্রমণ জরায়ুমুখের ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান কারণ। কিশোরী বয়সে এই টিকা গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে ক্যান্সারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।” টিকার পাশাপাশি নির্দিষ্ট বয়সে নিয়মিত জরায়ুমুখের ক্যান্সার স্ক্রিনিং করার আহ্বান জানান তিনি। একই সাথে বাংলাদেশ সরকার নির্ধারিত বয়সের কিশোরীদের জন্য বিনামূল্যে এইচপিভি টিকা প্রদান করছে বলেও উল্লেখ করেন।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. মো. মিজানুর রহমান বলেন, জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানো ও টিকাদানে উৎসাহিত করা জরুরি। আর্থিক কারণে কেউ যাতে বঞ্চিত না হন, সেজন্য স্বপ্নগড়ি ফাউন্ডেশন একটি বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এই ফাউন্ডেশনের আওতায় দুটি এইচপিভি টিকা গ্রহণ করলে তৃতীয় টিকাটি বিনামূল্যে দেওয়া হবে।

​বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাজেন্দ্র কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল প্রফেসর ওবায়দুর রহমান, সাবেক ভাইস প্রিন্সিপাল প্রফেসর তারেক হোসাইন ও রাজবাড়ী কলেজের সাবেক প্রিন্সিপাল প্রফেসর আব্দুল হামিদ মোল্লা বলেন, ক্যান্সারের চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধ বড়। তাই পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক সচেতনতা সৃষ্টি করা দরকার।

​সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আব্দুল হালিম মিয়া বলেন, এই ধরনের আলোচনা শিক্ষার্থীদের নিজেদের সুরক্ষার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজকে সচেতন করার সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।

​অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বেগম রোকেয়া ছাত্রী হোস্টেলের হল সুপার, প্রভোস্ট, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল নারীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল নারীর

ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মাসুদা বেগম (৬৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয় জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে নতুন করে ২৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে ওই নারীর মৃত্যুর বিষয়টি জানা যায়।

এর আগে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে তার মৃত্যু হয়। মাসুদা বেগম ফরিদপুর শহরের আলিপুর এলাকার বাসিন্দা। জ্বর নিয়ে তিনি গত ২৬ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মাসুদা বেগম ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে তার মৃত্যু হয়।

সিভিল সার্জন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ২৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১০৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তিনি আরও জানান, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ফরিদপুরে প্রায় ৭০০ জন ডেঙ্গু রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

নগরকান্দায় উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের গাছের চারা বিতরণ ও রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন

জাকির হোসেন, নগরকান্দা:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের গাছের চারা বিতরণ ও রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় ৬টি জাতের চারা গাছ বিতরণ ও রোপণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের আওতায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

​মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নগরকান্দার রামনগর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে চারা গাছগুলো স্থানীয় ইউপি সদস্যদের (মেম্বার) হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন চেয়ারম্যান মো. কায়মদ্দীন মন্ডল।

​অনুষ্ঠানে ইউপি চেয়ারম্যান মো. কায়মদ্দীন মন্ডল বলেন, “পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষের বিকল্প নেই। বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় আমাদের বেশি করে গাছ লাগাতে হবে। নিজ নিজ জায়গা থেকে পরিবেশ সুরক্ষায় এগিয়ে আসা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।”

​তিনি ইউনিয়নের ফাঁকা রাস্তার পাশ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদসহ সুবিধাজনক স্থানে চারাগুলো রোপণের নির্দেশ দেন।

​চেয়ারম্যানের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ইউপি সদস্য মো. মুরাদ হোসেন বলেন, “পরিষদের সব সদস্য মিলে নির্দেশিত স্থানে চারাগুলো রোপণ করব। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও বাড়ির আশপাশের খালি জায়গায় গাছ লাগানোর আহ্বান জানাচ্ছি।”

​কর্মসূচিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ রামনগর ইউনিয়ন পরিষদের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।