খুঁজুন
, ,

কারা বেশি কাজে ফাঁকি দেয়, ছেলেরা নাকি মেয়েরা?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৩ পূর্বাহ্ণ
কারা বেশি কাজে ফাঁকি দেয়, ছেলেরা নাকি মেয়েরা?

দুপুর গড়িয়েছে, অফিসের ফাইল টেবিলে জমে উঠছে। কেউ চুপচাপ কাজ এগিয়ে নিচ্ছে, আবার কেউ একটু পরপর মোবাইল স্ক্রল করছে কিংবা চা-আড্ডায় ব্যস্ত। তাই প্রশ্নটা প্রায়ই ওঠে, আসলে কে বেশি কাজে ফাঁকি দেয়? ছেলেরা নাকি মেয়েরা?

এই প্রশ্নের উত্তর কিন্তু এতটা সরল নয়। বরং এর পেছনে আছে সামাজিক বাস্তবতা, কর্মসংস্কৃতি, এবং ব্যক্তিগত মনস্তত্ত্বের জটিল মিশেল।

গবেষণা কী বলছে?

বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন কর্মসংস্থান ও আচরণবিষয়ক গবেষণায় দেখা গেছে, কাজ ফাঁকি দেওয়া বা কাজ পেছানো নারী-পুরুষ উভয়ের মধ্যেই রয়েছে; তবে এর ধরন ভিন্ন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন-এর কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষরা তুলনামূলকভাবে বেশি সময় ‘non-work activities’-এ ব্যয় করেন। সেটা হতে পারে অপ্রয়োজনীয় ইন্টারনেট ব্রাউজিং বা আড্ডা।

অন্যদিকে, হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউ-এ প্রকাশিত একাধিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নারীরা কাজ ফাঁকি কম দিলেও অনেক সময় অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপে ‘burnout’ বা মানসিক ক্লান্তিতে ভোগেন, যা তাদের কাজের গতি কমিয়ে দেয়।

মনস্তত্ত্বের দিক থেকে পার্থক্য

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, ছেলেদের মধ্যে ‘risk-taking behavior’ বা ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। ফলে তারা অনেক সময় কাজ শেষ মুহূর্তে করার ঝুঁকি নেয়।

অন্যদিকে, মেয়েদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও পারফেকশনিজম বেশি থাকায় তারা কাজ ফেলে রাখার প্রবণতা কম দেখায়, তবে অতিরিক্ত নিখুঁত করতে গিয়ে সময় বেশি নেয়।

বাংলাদেশি বাস্তবতায় চিত্রটা কেমন?

বাংলাদেশের অফিস-সংস্কৃতি, বিশেষ করে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে, এই প্রশ্নের উত্তর আরও ভিন্ন হতে পারে।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, পুরুষ কর্মীরা অফিস সময়ের মধ্যে বাইরে যাওয়া, ধূমপান বিরতি, কিংবা আড্ডায় বেশি সময় দেন। আবার নারী কর্মীরা অফিসের পাশাপাশি ঘরের কাজ, রান্না, সন্তান দেখাশোনা; সব সামলাতে গিয়ে অফিসে তুলনামূলকভাবে বেশি ফোকাসড থাকতে বাধ্য হন।

ঢাকার মিরপুরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এইচআর কর্মকর্তা মামুন আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা দেখেছি, নারী কর্মীরা সাধারণত সময় মেনে কাজ শেষ করতে বেশি সচেতন। তবে চাপ বেশি হলে তারা চুপচাপ ক্লান্ত হয়ে পড়েন। পুরুষরা আবার কাজের ফাঁকে একটু বেশি ‘breather’ বা সংক্ষিপ্ত বিরতি নেয়।

সিলেটের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মারূফ জাকির বলেন, কোনো ক্ষেত্রে নারীকর্মীরা বেশি ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ খুঁজেন, আবার কোনো ক্ষেত্রে পুরুষকর্মীরাও এই সুযোগের আশায় থাকেন। তাই বিষয়টি একদম নির্ধারণ করে বলা মুশকিল। তবে এটা সত্য যে, নারীদের তুলনায় পুরুষরা বেশি ভারী কাজ করতে পারেন।

ডিজিটাল যুগে নতুন ফাঁকি

বর্তমানে কাজ ফাঁকি দেওয়ার সবচেয়ে বড় মাধ্যম হয়ে উঠেছে স্মার্টফোন। সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করা, ইউটিউব দেখা এবং অপ্রয়োজনীয় চ্যাটে লিপ্ত হওয়া। এই অভ্যাসগুলো নারী-পুরুষ উভয়ের মধ্যেই সমানভাবে বাড়ছে। ফলে ‘কে বেশি ফাঁকি দেয়’, এই প্রশ্ন এখন অনেকটাই প্রযুক্তিনির্ভর আচরণের ওপর নির্ভর করছে।

তাহলে আসল সত্যটা কী?

সব গবেষণা ও বাস্তবতা মিলিয়ে একটা বিষয় পরিষ্কার, কাজ ফাঁকি দেওয়ার ক্ষেত্রে লিঙ্গ নয়, বরং ব্যক্তিগত অভ্যাস, কাজের পরিবেশ ও মানসিক অবস্থা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কেউ দায়িত্বশীল হলে সে ছেলে হোক বা মেয়ে, ফাঁকি কম দেবে। আর কেউ যদি অনুপ্রেরণাহীন বা চাপগ্রস্ত হয়, তাহলে ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা বাড়বেই।

শেষ কথা

‘ছেলেরা বেশি ফাঁকি দেয়’ বা ‘মেয়েরা বেশি সিরিয়াস’; এমন একপাক্ষিক ধারণা আসলে পুরো সত্যকে তুলে ধরে না। বরং কাজের সংস্কৃতি, পারিবারিক চাপ, এবং ব্যক্তিগত মানসিকতা; এই তিনের সমন্বয়েই তৈরি হয় একজন কর্মীর কাজের ধরন।

ফরিদপুরে বাসে দুর্বৃত্তদের আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বাসে দুর্বৃত্তদের আগুন

ফরিদপুরে হাইওয়ে থানার পাশে পার্কিং করে রাখা একটি পরিত্যক্ত ও জব্দকৃত বাসে আগুন দিয়েছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক সংলগ্ন ফরিদপুরের করিমপুর হাইওয়ে থানার নতুন ভবনের সামনে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

​খবর পেয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে বাসটির ভেতরের অধিকাংশ অংশ আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায়। হঠাৎ থানার এত কাছে বাসে আগুনের ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

​পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছু দিন আগে আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাসটি জব্দ করে করিমপুর হাইওয়ে থানার নতুন ভবনের সামনের সড়কের পাশে পার্কিং করে রাখা হয়েছিল। রাতে জনশূন্যতার সুযোগ নিয়ে কে বা কারা বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে করিমপুর হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে জানান, “রাত সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ থানার সামনে পার্কিং করা বাসটিতে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনো নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।”

​এদিকে, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে আদালতের সাম্প্রতিক রায়ের প্রতিবাদে আগামী রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় লকডাউনের ডাক দিয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগ। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থানীয়দের ধারণা, ২০ সেপ্টেম্বরের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি ও নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই দুর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।

​অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং মহাসড়কে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফরিদপুর করিমপুর হাইওয়ে থানা ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে রাতের টহলও।

ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে আরও এক নারীর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে আরও এক নারীর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২৫

ফরিদপুরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে রেখা বেগম (৪৫) নামে আরও এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ২৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৮১ জন ডেঙ্গু রোগী।

​শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে পাঠানো এক প্রেস নোটে এ তথ্য জানানো হয়।

​প্রেস নোটে বলা হয়, গতকাল ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রেখা বেগম মারা যান। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার মোকসেদপুর উপজেলার বাসিন্দা। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি।

​জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ফরিদপুরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ৫২০ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে ৪৪১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এই নিয়ে জেলায় ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো পাঁচজনে।

​স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। জ্বর হলে পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার গ্রহণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিতে হবে।

​এদিকে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলায় সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও পৌরসভা যৌথভাবে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সমন্বিত কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে।

সদরপুরে জনতার হাতে মাদক ব্যবসায়ী আটক, ব্যাগে মিলল ১ কেজি গাঁজা

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩১ অপরাহ্ণ
সদরপুরে জনতার হাতে মাদক ব্যবসায়ী আটক, ব্যাগে মিলল ১ কেজি গাঁজা

ফরিদপুরের সদরপুরে এক কেজি গাঁজাসহ কালাম ফকির (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে স্থানীয় জনতা তাকে আটক করে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগ থেকে এক কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর হাটবাজারে খোকন মৃধার চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। আটক কালাম ফকির কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চর দড়ি কৃষ্ণপুর গ্রামের সালাম ফকিরের ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে কালাম ফকির কৃষ্ণপুর বাজার ব্রীজ সংলগ্ন এলাকার খোকন মৃধার চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয় কয়েকজন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তার কাছে মাদক রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। পরে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি পুলিশকে জানান।

খবর পেয়ে সদরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোহসিন মুন্সী সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কালাম ফকিরকে আটক করেন। পরে তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে এক কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানায়।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন শাহ্ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মাদক কারবারের অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।