খুঁজুন
শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

তরমুজের বীজ গিলে ফেলছেন? এতে কী হতে পারে জেনে নিন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০০ পূর্বাহ্ণ
তরমুজের বীজ গিলে ফেলছেন? এতে কী হতে পারে জেনে নিন

গরমের দিনে ঠান্ডা তরমুজের এক টুকরো মুখে তুলেছেন, আর অসাবধানতাবশত একটি কালো বীজ গিলে ফেললেন—এ অভিজ্ঞতা কমবেশি সবারই আছে। অনেকেই তখন চিন্তায় পড়ে যান, শরীরে কোনো ক্ষতি হবে কি না!

কারণ ছোটবেলা থেকেই প্রচলিত একটি ধারণা, তরমুজের বীজ গিলে ফেললে বিপদ হতে পারে। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। পুষ্টিবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই বীজ মোটেই ক্ষতিকর নয়; বরং সঠিকভাবে খেলে এটি হতে পারে পুষ্টির এক সমৃদ্ধ উৎস। গরমের এই সময়ে তরমুজের বীজ নিয়ে ভুল ধারণা ভেঙে সঠিক তথ্য জানা জরুরি।

তরমুজের বীজ : মিথ থেকে সুপারফুড

তরমুজের বীজ খাওয়া সম্পূর্ণ নিরাপদ। কাঁচা অবস্থায় গিলে ফেললে এটি মূলত আঁশ হিসেবে কাজ করে এবং পরিপাকতন্ত্র দিয়ে প্রায় অপরিবর্তিত অবস্থায় বের হয়ে যায়। তবে আসল উপকার পেতে হলে বীজকে সঠিকভাবে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

ভারতীয় উপমহাদেশে বিভিন্ন মিষ্টান্ন ও রান্নায় তরমুজসহ অন্যান্য ফলের বীজ ব্যবহারের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। গবেষণাতেও দেখা গেছে, উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে প্রোটিন ও খনিজের বৈচিত্র্য বাড়াতে এই বীজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

পুষ্টিগুণে ভরপুর

ছোট দেখতে হলেও তরমুজের বীজ পুষ্টিগুণে ভরপুর, যা আধুনিক খাদ্যাভ্যাসে অনেক সময় ঘাটতি থেকে যায়।

১. প্রোটিনের ভালো উৎস

তরমুজের বীজে প্রায় ৩০ শতাংশ প্রোটিন থাকে। এতে রয়েছে আর্জিনিন নামের অ্যামিনো অ্যাসিড, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

২. উপকারী চর্বি (ফ্যাট)

এতে রয়েছে মনোআনস্যাচুরেটেড ও পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড, যা খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমাতে ও শরীরের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

৩. খনিজ উপাদানের ভাণ্ডার

ম্যাগনেসিয়াম : স্নায়ুর কার্যক্রম ও হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে

জিংক : রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ

আয়রন : রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সহায়ক, শক্তি বাড়ায়

স্বাস্থ্য উপকারিতা

গরমকালে শরীরের পানিশূন্যতা, ক্লান্তি ও ত্বকের সমস্যা বাড়ে। এ সময় তরমুজের বীজ উপকারী হতে পারে।

ত্বক ও আর্দ্রতা বজায় রাখতে সহায়ক : বীজে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। জিংক ও ম্যাগনেসিয়াম ত্বকের সমস্যা কমাতে ভূমিকা রাখে।

হৃদ্‌স্বাস্থ্যে উপকারী : গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে হৃদ্‌যন্ত্রকে বেশি কাজ করতে হয়। তরমুজের বীজে থাকা ম্যাগনেসিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে।

শক্তি ও বিপাকক্রিয়া বাড়ায় : এতে থাকা বি-ভিটামিন (যেমন নায়াসিন ও ফলেট) খাবারকে শক্তিতে রূপান্তর করতে সাহায্য করে। ফলে ক্লান্তি কমে।

কীভাবে খাবেন তরমুজের বীজ : কাঁচা অবস্থায় গিলে ফেললে ক্ষতি নেই, তবে পুষ্টিগুণ পুরোপুরি পেতে হলে বীজ ভেঙে বা প্রক্রিয়াজাত করে খাওয়া ভালো।

ভেজানো, অঙ্কুরিত বা ভাজা : বীজ ভিজিয়ে অঙ্কুরিত করলে খনিজ শোষণে বাধা দেওয়া উপাদান কমে যায়। এরপর রোদে শুকিয়ে বা হালকা ভেজে খাওয়া যায়।

সহজ ভাজা রেসিপি

তরমুজের বীজ ধুয়ে শুকিয়ে নিন। সামান্য ঘি বা তেলে হালকা ভেজে নিন। চাইলে লবণ, শুকনা আমচুর বা মরিচ গুঁড়া ছিটিয়ে স্বাদ বাড়াতে পারেন। এতে বাদামের মতো মচমচে স্বাদ পাওয়া যায়।

খাবারে ব্যবহার

১. সকালের নাস্তায় পোহা বা উপমার সঙ্গে

২. স্মুদি বা লাচ্ছিতে ব্লেন্ড করে

৩. সালাদে টপিং হিসেবে

সতর্কতা

সবকিছুর মতো এটিও পরিমিত খাওয়া জরুরি।

হজমের সমস্যা : কাঁচা বীজ বেশি খেলে পেটে গ্যাস বা অস্বস্তি হতে পারে

ক্যালরি বেশি : অল্প পরিমাণ (২৫–৩০ গ্রাম) যথেষ্ট

শেষ কথা

তরমুজের বীজ কোনো ভয় পাওয়ার বিষয় নয়। বরং এটি প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া একটি পুষ্টিকর উপাদান। তাই পরেরবার তরমুজ খাওয়ার সময় বীজকে ফেলে না দিয়ে সচেতনভাবে খাবারের অংশ করে তুলতে পারেন। ছোট এই বীজই হতে পারে আপনার শরীরের জন্য বড় উপকারের উৎস।

সূত্র : এনডিটিভি

হাসপাতালের ১০ তলায়ও রক্ষা মেলেনি, ফরিদপুরে সাংবাদিককে পেটাল ঠিকাদার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ১১:১১ পূর্বাহ্ণ
হাসপাতালের ১০ তলায়ও রক্ষা মেলেনি, ফরিদপুরে সাংবাদিককে পেটাল ঠিকাদার

ফরিদপুরে ঠিকাদারি কাজের অনিয়ম নিয়ে সংবাদ সংগ্রহের জেরে এক সাংবাদিককে মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ঠিকাদারসহ ৮/৯ জনের বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেছেন দেশ টিভি ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এর ফরিদপুর প্রতিনিধি মো. আনিচুর রহমান।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, এলজিইডির আওতাধীন ভাঙ্গা উপজেলার পীরেরচর সিসি রাস্তা ও আরএই হাটখোলা রোড উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় ১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকার কাজ পায় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজের গুণগত মান ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে সাংবাদিক আনিচুর রহমান, স্টার নিউজের ফরিদপুর প্রতিনিধি আরিফুজ্জামান হিমন এবং আরটিভির ভাঙ্গা উপজেলা প্রতিনিধি মোসলেউদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন।

এসময় অভিযুক্ত ঠিকাদার সাইদুর রহমান জেভির লোকজন তাদের তথ্য সংগ্রহে বাধা দেয় এবং সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে বলে অভিযোগ করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ না করতে টাকার প্রলোভনও দেখানো হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাংবাদিক আনিচুর রহমান অভিযোগ করেন, তিনি প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এমনকি তার গতিবিধিও নজরদারি করা হচ্ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

২১ মে দায়ের করা এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২০ মে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে অসুস্থ স্ত্রীকে দেখতে ফরিদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতালে যান আনিচুর রহমান। হাসপাতালের ভেতরে পৌঁছালে সাব্বির নামের এক যুবকসহ ৬/৭ জন তাকে ঘিরে ধরে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে তারা তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। প্রাণ বাঁচাতে তিনি হাসপাতালের নতুন ভবনের ১০ম তলায় উঠে গেলেও অভিযুক্তরা সেখানে গিয়েও তাকে মারধর করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, অভিযুক্তরা তাকে জোর করে লিফটে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করলে তার চিৎকারে হাসপাতালের স্টাফ ও রোগীর স্বজনরা এগিয়ে এসে উদ্ধার করেন। এসময় অভিযুক্তরা সুযোগ পেলে তাকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেয়। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ হাসপাতালের সিসি ক্যামেরায় রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

শনিবার (২৩ মে) সকালে সাংবাদিক আনিচুর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “সংবাদ সংগ্রহ করা সাংবাদিকদের দায়িত্ব। একটি উন্নয়ন প্রকল্পের অনিয়ম নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল বলেন, “সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো সাংবাদিক হামলার শিকার হলে তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত। আমরা তদন্তপূর্বক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।”

এব্যাপারে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, “সাংবাদিক আনিচুর রহমানের ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। আমরা আসামিদের ধরতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালাচ্ছি।

ওজন মেপে কোরবানির পশু কেনা কি জায়েজ?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ৭:৪৮ পূর্বাহ্ণ
ওজন মেপে কোরবানির পশু কেনা কি জায়েজ?

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোরবানির পশুর হাটে বা খামারে লাইভ ওয়েট বা ওজন মেপে গরু কেনার একটি নতুন সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে প্রবাসে এবং দেশের বড় শহরগুলোতে এই পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয়।

কিন্তু মনে প্রশ্ন জাগে, এভাবে ওজন মেপে পশু কেনা কি শরিয়তসম্মত? কোরবানির আসল উদ্দেশ্যই বা কী? এসব বিষয়ে নিজের ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে গুরুত্বপূর্ণ আলোকপাত করেছেন জনপ্রিয় ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ।

ওজন মেপে পশু কেনা কি বৈধ?

বর্তমানে ওজন মেপে পশুর দাম নির্ধারণ করার যে রীতি প্রচলিত হয়েছে, শরিয়তের দৃষ্টিতে তাতে কোনো বাধা নেই। শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, ক্রেতা যাতে ন্যায্যমূল্যে পশু কিনতে পারেন এবং অতিরিক্ত দাম দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য ওজন মেপে দাম নির্ধারণ করা একটি সহজ পদ্ধতি হতে পারে। ইসলাম কাউকে লস বা লোকসান দিয়ে পশু কিনতে বাধ্য করে না। তাই ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ওয়েট স্কেল ব্যবহার করা জায়েজ। তবে, এখানে একটি সতর্কবাণী রয়েছে। যদি পশু কেনাটা নিছক বাণিজ্যিক লাভ-ক্ষতির হিসাব-নিকাশে রূপ নেয়; যেখানে মূল উদ্দেশ্য থাকে কত টাকা লাভ বা লস হলো, তবে তা কোরবানির আধ্যাত্মিক উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করতে পারে।

নিয়ত ও সওয়াবের পরিমাপ

অনেকেই কম দামে বেশি মাংস পাওয়া যাবে এমন পশু খোঁজেন, যাতে গরিব মানুষকে বেশি মাংস বিতরণ করা যায়। শায়খ আহমাদুল্লাহ জানান, এটি একটি ভালো নিয়ত এবং এতে কোনো অসুবিধা নেই। ন্যায্যমূল্যে বড় পশু কেনার চেষ্টা করা জায়েজ, কারণ এতে যেমন নিজের সাশ্রয় হয়, তেমনি গরিবদেরও বেশি দেওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু যদি নিয়ত হয় শুধু মাংস খাওয়া বা সামাজিক মর্যাদা জাহির করা, তবে কোরবানির মাহাত্ম্য ক্ষুণ্ন হয়।

কোরবানি কি কেবলই মাংস বিতরণের উৎসব?

কোরবানির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো দরিদ্রদের মাঝে মাংস বিতরণ করা। কিন্তু এটিই কোরবানির একমাত্র বা মূল উদ্দেশ্য নয়। বর্তমানে অনেকে কোরবানিকে কেবল একটি উৎসব বা সামাজিকতায় রূপ দিয়েছেন। শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, কোরবানির মূল শিক্ষা হলো মহান আল্লাহর নির্দেশের সামনে নিজের ইচ্ছাকে কোরবানি করা, যা ইব্রাহিম (আ.)-এর সুন্নত।

সাদা জামা কাপড়ের দাগ তুলতে কি করবেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ৭:৩১ পূর্বাহ্ণ
সাদা জামা কাপড়ের দাগ তুলতে কি করবেন?

আলমারিতে যত দামি বা রঙিন পোশাকই থাকুক না কেন, একটি ধবধবে সাদা পোশাকের আভিজাত্যই আলাদা। কিন্তু সাদা কাপড়ের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এর যত্ন। একটু অসাবধানতায় চা, কফি, তরকারির ঝোল কিংবা কলমের কালির দাগ লাগলে পুরো পোশাকটিই নষ্ট হয়ে যায়।

অনেকেই ভাবেন, ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করলেই বুঝি দাগ চলে যাবে; কিন্তু অতিরিক্ত ব্লিচ ব্যবহারে সাদা কাপড় দ্রুত হলদেটে ও খসখসে হয়ে পড়ে।

তাহলে উপায়? আপনার সাধের সাদা পোশাকের দাগ দূর করে সেটিকে আবার নতুনের মতো উজ্জ্বল করতে রান্নাঘরেরই কিছু সাধারণ উপাদান ম্যাজিকের মতো কাজ করতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই জাদুকরী উপায়গুলো:

১. লেবুর রস ও লবণের ব্যবহার

সাদা কাপড়ের যেকোনো তাজা দাগ, বিশেষ করে তরকারি বা চায়ের দাগ তুলতে লেবুর রস অত্যন্ত কার্যকর। লেবুর প্রাকৃতিক ব্লিচিং এজেন্ট কাপড়ের সুতা নষ্ট না করেই দাগ তুলে ফেলে। দাগ লাগা অংশে প্রথমে সামান্য লেবুর রস চিপে দিন। এরপর তার ওপর কিছুটা লবণ ছিটিয়ে আলতো করে ঘষুন। ১০-১৫ মিনিট এভাবে রেখে রোদে শুকিয়ে নিন, তারপর সাধারণ ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

২. সাদা ভিনেগার

কাপড়ের কালচে ভাব বা ঘামের হলদে দাগ দূর করতে সাদা ভিনেগার ওস্তাদ। এটি কাপড়ের ফেব্রিক নরম রাখতেও সাহায্য করে। এক বালতি পানিতে আধা কাপ সাদা ভিনেগার মিশিয়ে নিন। এবার দাগ লাগা সাদা কাপড়টি সেই পানিতে ১ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। এরপর স্বাভাবিকভাবে শ্যাম্পু বা ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে নিলে দাগের পাশাপাশি কাপড়ের দুর্গন্ধও চলে যাবে।

৩. বেকিং সোডার ম্যাজিক

কঠিন এবং পুরনো দাগ তোলার জন্য বেকিং সোডা দারুণ একটি উপাদান। সামান্য পানির সাথে বেকিং সোডা মিশিয়ে একটি ঘন পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্টটি কাপড়ের দাগের ওপর লাগিয়ে ৩০ মিনিট রেখে দিন। এরপর একটি পুরোনো টুথব্রাশ দিয়ে আলতো করে ঘষে ধুয়ে ফেলুন।

৪. কর্নফ্লাওয়ার বা ট্যালকম পাউডার

কাপড়ে বিরিয়ানি বা তরকারির তেল ছিটকে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে এই ট্রিকসটি খাটান। কাপড়ের তেলের দাগের ওপর সঙ্গে সঙ্গে বেশ কিছুটা ট্যালকম পাউডার বা কর্নফ্লাওয়ার ছড়িয়ে দিন। এটি কাপড়ের অতিরিক্ত তেল শুষে নেবে। ১০ মিনিট পর ব্রাশ দিয়ে পাউডার ঝেড়ে ফেলে লিকুইড সোপ দিয়ে ধুয়ে নিন।

৫. হাইড্রোজেন পারক্সাইড

সাদা কাপড়ে রক্তের দাগ বা বলপয়েন্ট কলমের কালির দাগ লাগলে সাধারণ ডিটারজেন্টে তা সহজে উঠতে চায় না। সমপরিমাণ পানি ও হাইড্রোজেন পারক্সাইড একসাথে মিশিয়ে দাগের ওপর স্প্রে করুন বা তুলা দিয়ে লাগিয়ে দিন। কিছুক্ষণের মধ্যে দাগ হালকা হতে শুরু করলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

জরুরি কিছু সতর্কতা ও টিপস

সাদা কাপড়ে দাগ লাগার পর কখনোই তা গরম পানি দিয়ে ধোবেন না। গরম পানি দাগকে কাপড়ের সুতার সাথে স্থায়ীভাবে বসিয়ে দেয়।সবসময় ঠান্ডা বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করুন।

দাগ লাগার পর যত দ্রুত সম্ভব তা পরিষ্কার করার চেষ্টা করুন। দাগ যত পুরনো হবে, তা তোলা তত কঠিন হবে।

কাপড় ধোয়ার পর কড়া রোদে শুকাতে দিন। সূর্যের আলো সাদা কাপড়ের উজ্জ্বলতা বাড়াতে প্রাকৃতিক ব্লিচের কাজ করে।

ঝামেলাহীন এই ঘরোয়া উপায়গুলো মেনে চললে আপনার পছন্দের সাদা পোশাকটি থাকবে সবসময় নতুনের মতো ধবধবে ও আকর্ষণীয়।

সূত্র : যুগান্তর