খুঁজুন
শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৬ আষাঢ়, ১৪৩৩

বজ্রঝড়ের সময় যে ৫ বিষয় এড়িয়ে চলা উচিত?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:২৯ পূর্বাহ্ণ
বজ্রঝড়ের সময় যে ৫ বিষয় এড়িয়ে চলা উচিত?

বজ্রঝড় বা বজ্রপাতের দৃশ্য দেখতে যতটা রোমাঞ্চকর, সঠিক সতর্কতা না নিলে এটি ততটাই বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। বজ্রপাত কেবল সরাসরি আঘাত করলেই ক্ষতি করে না, বরং এটি পানি, তার, পাইপ এমনকি ধাতব কাঠামোর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আমাদের ওপর আঘাত হানতে পারে।

নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বজ্রঝড়ের সময় এবং ঠিক পরবর্তী সময়ে নিচের ৫টি বিষয় অবশ্যই এড়িয়ে চলা উচিত।

১. ভিজে কোনো কিছু স্পর্শ করা বা পানির সংস্পর্শে থাকা

পানি সরাসরি বজ্রপাতকে আকর্ষণ না করলেও এটি অত্যন্ত শক্তিশালী বিদ্যুৎ পরিবাহী। বজ্রপাত কাছাকাছি কোথাও আঘাত করলে সেই বিদ্যুৎ পানির মাধ্যমে আপনার শরীরে পৌঁছাতে পারে। তাই ঝড়ের সময় পুকুর বা হ্রদে থাকা এবং কোনো ভিজে পৃষ্ঠ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকা জরুরি।

২. তারযুক্ত ফোন এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার

চার্জে থাকা স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ ব্যবহার করা এই সময়ে মোটেও নিরাপদ নয়। বজ্রপাত বৈদ্যুতিক লাইন বা ফোনের তারের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। ঝড়ের সময় বৈদ্যুতিক সকেট থেকে প্লাগ খুলে ফেলাও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, তাই বজ্রঝড় শুরু হওয়ার আগেই সতর্কতা অবলম্বন করা এবং ঝড় না থামা পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত।

৩. ঝড় থামার সাথে সাথেই ঘর থেকে বের হওয়া

বৃষ্টি থেমে গেলেই বজ্রপাতের আশঙ্কা কমে যায় না। বিশেষজ্ঞরা ‘৩০-৩০’ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেন: যদি বিদ্যুৎ চমকানোর ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে বজ্রপাতের শব্দ শোনা যায়, তবে সাথে সাথে ঘরের ভেতরে আশ্রয় নিন। আবার ঝড়ের শেষ গর্জন শোনার পর অন্তত ৩০ মিনিট ঘরের ভেতরে অপেক্ষা করা উচিত, কারণ বজ্রপাত ঝড় থেকে অনেক মাইল দূরেও আঘাত হানতে পারে।

৪. কংক্রিটের দেয়াল ও মেঝের সংস্পর্শে আসা

আশ্রয় হিসেবে কংক্রিটের কাঠামো মজবুত মনে হলেও বজ্রঝড়ের সময় এটি বিপজ্জনক হতে পারে। কংক্রিটের দেয়াল বা মেঝের ভেতরে থাকা ধাতব তার বা রড বিদ্যুৎ পরিবহন করতে সক্ষম। তাই ঝড়ের সময় কংক্রিটের দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়ানো বা সরাসরি মেঝের ওপর বসে থাকা নিরাপদ নয়।

৫. গোসল করা বা পানি ব্যবহার করা

বজ্রঝড়ের সময় গোসল করা অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ কাজ হতে পারে। বাড়ির ওপর বজ্রপাত হলে সেটি সরাসরি প্লাম্বিং বা পানির পাইপের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে আপনাকে বৈদ্যুতিক শক দিতে পারে। এমনকি হাত ধোয়া বা থালা-বাসন ধোয়ার কাজেও বজ্রপাতের সময় ঝুঁকি থেকে যায়।

প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের সময় কেবল সচেতনতাই পারে আমাদের অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ থেকে রক্ষা করতে। তাই বজ্রঝড়ের সময় উপরোক্ত বিষয়গুলো এড়িয়ে চলে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।

তথ্যসূত্রটাইমস অব ইন্ডিয়া

সালথায় মাদক ব্যবসা বন্ধে এক সপ্তাহের আলটিমেটাম, রাস্তায় নেমেছে গ্রামবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৯:৫২ অপরাহ্ণ
সালথায় মাদক ব্যবসা বন্ধে এক সপ্তাহের আলটিমেটাম, রাস্তায় নেমেছে গ্রামবাসী

মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এবার ফরিদপুরের সালথা উপজেলার রামকান্তপুর এলাকায় রাস্তায় নেমেছে সাধারণ মানুষ।

মাদক ব্যবসা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল থেকে স্থানীয়রা মাদক কারবারীদের এক সপ্তাহের সময় বেঁধে দিয়েছেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে রামকান্তপুর বাজার স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত মাদকবিরোধী সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

সমাবেশে স্থানীয়দের পক্ষে বক্তব্য দেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, পুরো পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে। নতুন প্রজন্মকে রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। তাই এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে মাদক ব্যবসায়ীদের এক সপ্তাহের সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে মাদক ব্যবসা বন্ধ না হলে আরও কঠোর সামাজিক কর্মসূচি নেওয়া হবে।”

বক্তারা বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও দায়িত্ব রয়েছে। তারা দাবি করেন, এলাকার তরুণদের সুরক্ষা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় মাদকের বিস্তার রোধ করা এখন সময়ের দাবি।

সমাবেশ থেকে রাত ১২টার পর অকারণে এলাকায় ঘোরাফেরা না করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখলে স্থানীয়দের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বক্তারা আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে যে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে উঠছে, রামকান্তপুরবাসীও সেই আন্দোলনের অংশ হতে চায়। তারা আশা প্রকাশ করেন, স্থানীয় জনগণের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান এলাকায় মাদক ব্যবসা প্রতিরোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা ‘মাদকমুক্ত সমাজ চাই’, ‘তরুণদের বাঁচাতে মাদক রুখতে হবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

পরিবারের কর্মসংস্থান চান ফরিদপুরের ভাইরাল লোকসংগীত শিল্পী লাইলী বাউল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৮:৫৮ অপরাহ্ণ
পরিবারের কর্মসংস্থান চান ফরিদপুরের ভাইরাল লোকসংগীত শিল্পী লাইলী বাউল

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লোকসংগীত পরিবেশন করে দেশজুড়ে আলোচনায় আসা জনপ্রিয় লোকশিল্পী লাইলী বাউল তাঁর দীর্ঘ সঙ্গীতজীবনের স্বীকৃতি ও সফলতার জন্য গণমাধ্যমকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং সর্বস্তরের মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন লাইলী বাউল। এ সময় তাঁর ছেলে আপন শেখসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় আবেগঘন বক্তব্যে লাইলী বাউল বলেন, “গান আমার সাধনা, আমার জীবন। ছোটবেলা থেকেই গান গেয়ে আসছি। মানুষের ভালোবাসা, গণমাধ্যমের সহযোগিতা এবং আপনাদের আন্তরিক সমর্থন না পেলে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছাতে পারতাম না। আমার এই স্বীকৃতি মূলত সাধারণ মানুষের ভালোবাসারই প্রতিফলন।”

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকগান পরিবেশন করলেও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর গান ছড়িয়ে পড়ার পর দেশ-বিদেশের মানুষের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন। এই ভালোবাসা তাঁকে নতুনভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে লাইলী বাউল বলেন, “আমি মানুষের জন্য গান গেয়ে যেতে চাই। সুযোগ পেলে চলচ্চিত্রেও গান গাওয়ার ইচ্ছা আছে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন সুস্থ থেকে গানকে সঙ্গে নিয়ে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকতে পারি।”

এ সময় বক্তব্য দেন তাঁর ছেলে আপন শেখ। তিনি বলেন, “আমার মা পৃথিবীর সেরা মা। সারা বিশ্বের মানুষ আজ তাঁকে চিনছে, এটি আমাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। তিনি অনেক কষ্ট করে আমাদের বড় করেছেন।”

ফরিদপুরের মধুমতী নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনে অভিযান, বাল্কহেড-ড্রেজার জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ১০:২১ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরের মধুমতী নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনে অভিযান, বাল্কহেড-ড্রেজার জব্দ

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার মধুমতী নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে একটি বাল্কহেড, একটি ড্রেজার ও একটি আনলোডার মেশিন জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেল ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের গয়েশপুর ঘাট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন মধুখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিক দত্ত। এলাকাটি মধুখালী উপজেলা এবং মাগুরা সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র মধুমতী নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এমন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালানো হয়। এ সময় নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়ায় ঘটনাস্থল থেকে নড়াইল জেলার বুড়িখালী গ্রামের বাসিন্দা মো. বেলায়েত মোল্লা (৪৫)কে আটক করা হয়। তিনি মো. হান্নান মোল্লার ছেলে।

পাশাপাশি বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত একটি বাল্কহেড, একটি ড্রেজার ও একটি আনলোডার মেশিন জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে জব্দকৃত যন্ত্রপাতি কামারখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রাকিব হোসেন চৌধুরী ইরানের জিম্মায় রাখা হয়েছে। আটক ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানা হেফাজতে সোপর্দ করা হয়েছে।

অভিযান শেষে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিক দত্ত বলেন, “নদী ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অবস্থান কঠোর। যারা আইন অমান্য করে নদী থেকে বালু উত্তোলন করবে, তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

তিনি আরও জানান, মধুখালী উপজেলায় দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ভূমি দখল, অবৈধ বালু উত্তোলনসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে এবং জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।