খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

বয়স বাড়লেও স্মৃতিশক্তি ও বুদ্ধিমত্তা প্রখর রাখার ১১টি গোপন কৌশল, জেনে নিন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:৫১ এএম
বয়স বাড়লেও স্মৃতিশক্তি ও বুদ্ধিমত্তা প্রখর রাখার ১১টি গোপন কৌশল, জেনে নিন

আমরা প্রায়ই শরীরচর্চা আর ফিটনেস নিয়ে ভাবি, কিন্তু ভুলে যাই- আমাদের মস্তিষ্কও ব্যায়াম চায়। শরীর যেমন চ্যালেঞ্জ পেলে ফিট থাকে, মস্তিষ্কও নতুন ও মজার অভিজ্ঞতা পেলে আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

ভালো খবর হলো, ব্রেন এক্সারসাইজ মানেই কঠিন কিছু নয়। খুবই সাধারণ কিছু কাজ, প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাস- এসবই মস্তিষ্ককে সুস্থ ও সচল রাখতে পারে।

চলুন দেখে নিই এমন ১১টি সহজ উপায়

১. একটি ‘সুস্থ’ নেশা বা আগ্রহ খুঁজে নিন

যে বিষয়ে আপনি খুব কৌতূহলী- সেটা নিয়ে একটু বেশি সময় দিন। সেটা হতে পারে নতুন একটা ভাষা শেখা, ইতিহাস পড়া, কিংবা স্ট্যাম্প বা কয়েন সংগ্রহ করা।

যখন আপনি এই আগ্রহটা অন্যদের সঙ্গে ভাগাভাগি করবেন, তখন সেটা আরও মজার হয়ে উঠবে এবং মস্তিষ্ক আরও উদ্দীপিত হবে।

২. এক পায়ে দাঁড়ান

দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দাঁত ব্রাশ করছেন? একটু ট্রাই করে দেখুন- এক পায়ে দাঁড়িয়ে ব্রাশ করা। হালকা মনে হলেও এই কাজটি আপনার মস্তিষ্ক ও শরীরকে একসঙ্গে কাজ করতে শেখায়। বয়স বাড়লে ব্যালান্স রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়, আর এই অভ্যাসটা সেই দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে।

৩. একসঙ্গে পাঁচটি ইন্দ্রিয় ব্যবহার করুন

রান্না করার সময় শুধু রান্না করবেন না- গন্ধ, রঙ, স্পর্শ, শব্দ — সব অনুভব করার চেষ্টা করুন। যত বেশি ইন্দ্রিয় একসঙ্গে কাজ করবে, তত বেশি মস্তিষ্ককে কাজ করতে হবে।

৪. রুটিন বদলান, অন্য রাস্তা নিন

প্রতিদিন একই পথে হাঁটেন বা গাড়ি চালান? একদিন অন্য রাস্তা নিন। এই ছোট্ট বদল আপনার মস্তিষ্ককে জাগিয়ে তোলে এবং নতুন কিছু খুঁজে দেখার সুযোগ দেয়।

হয়তো এমন কিছু চোখে পড়বে, যেটা আগে কখনো দেখেননি!

৫. উল্টো হাঁটুন (সতর্কভাবে!)

রিভার্স বা পেছন দিকে হাঁটা- এটি আপনার মস্তিষ্কের জন্য একেবারে নতুন এক্সারসাইজ। শুরু করুন বাড়ির ভেতর সমান জায়গায়। ধীরে ধীরে হাঁটুন, চারপাশ খেয়াল রাখুন।

এটি ব্যালান্স উন্নত করে এবং সম্ভবত স্মৃতিশক্তিও বাড়ায়।

৬. চুইংগাম খান

হ্যাঁ, শুনতে অদ্ভুত লাগলেও চুইংগাম চিবালে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বাড়তে পারে। এতে মনোযোগ বাড়ে এবং শেখার ক্ষমতা উন্নত হতে পারে। চেষ্টা করুন এমন গাম নিতে যার ফ্লেভার দীর্ঘ সময় থাকে।

৭. হালকা গুনগুন করুন

নরম গলায় গান গাওয়া বা গুনগুন করা মস্তিষ্ককে শান্ত রাখে। এটি এমন এক নার্ভ উদ্দীপিত করে যা মস্তিষ্ককে শরীরের সঙ্গে সংযুক্ত করে। কেউ কেউ বলেন এটা মন ভালো করে দেয়। যে কোনো জায়গায় করা যায়, খুব সহজ একটি অভ্যাস।

৮. মানচিত্র আঁকুন, মেমোরি থেকে

আপনার পাড়া বা শহরের একটা মানচিত্র কাগজে আঁকার চেষ্টা করুন- গুগল ম্যাপ না দেখে! রাস্তার নাম, দোকান, পার্ক- যতটা মনে পড়ে আঁকুন। পরে দেখে নিন আসল মানচিত্রের সঙ্গে মিললো কিনা।

এই খেলাটির মাধ্যমে আপনার মেমোরি ও ফোকাস বাড়বে।

৯. অন্য হাত ব্যবহার করুন

আপনি ডান হাতে লিখেন? একদিন বাম হাতে লিখে দেখুন। অথবা অন্য হাতে খাওয়া, দাঁত ব্রাশ করারও চেষ্টা করতে পারেন।

প্রথমে অস্বাভাবিক লাগবে, কিন্তু নতুন কিছু শেখার চেষ্টা মানেই মস্তিষ্কে ভালো চ্যালেঞ্জ। প্রতিদিন ২-৩ মিনিট করলেও উপকার মিলবে।

১০. চোখ বন্ধ করে গোসলের সময় এক্সারসাইজ করুন

শাওয়ারে ঢুকে একবার চোখ বন্ধ করে শ্যাম্পু বা সাবান ধরার চেষ্টা করুন। তখন আপনি বুঝতে পারবেন কতটা স্পর্শ ইন্দ্রিয়ের উপর নির্ভর করছেন।

এটা আপনার মস্তিষ্ককে ‘দৃষ্টি ব্যতীত’ অন্য অনুভূতি দিয়ে কাজ করতে শেখায়। তবে পুরো সময় চোখ বন্ধ না রাখাই ভালো, নিরাপত্তার কথা মাথায় রাখুন।

১১. পড়ার ধরন বদলান

সব সময় চুপচাপ পড়ে থাকেন? মাঝে মাঝে উচ্চস্বরে পড়ে দেখুন। বা হালকা গান ছেড়ে রেখে বই পড়ুন- এটা আপনার ব্রেনকে আলাদা করে কাজ করতে বাধ্য করে।

এই ছোট ছোট পরিবর্তন দুপাশের মস্তিষ্ক একসঙ্গে কাজে লাগায়- শেখার ক্ষমতা বাড়ায়।

এই অভ্যাসগুলো শুধু মস্তিষ্কের জন্য ভালো না, বরং আপনাকে আরও মনোযোগী, কৌতূহলী ও প্রাণবন্ত রাখে। ছোট ছোট এই ব্রেন এক্সারসাইজগুলো করতে খুব বেশি সময় বা কষ্ট লাগে না কিন্তু উপকার অনেক।

সূত্র : ব্রাইট সাইড

রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩৬ এএম
রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে আজ বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) ফরিদপুরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ উপলক্ষে ফরিদপুর শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। জনসভাকে ঘিরে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রথম ফরিদপুর সফরে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দুপুরে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টার ফরিদপুর স্টেডিয়ামে অবতরণ করবে। সেখান থেকে একটি সুসজ্জিত গাড়িবহর নিয়ে তিনি সরাসরি শহরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভাস্থলে যাবেন। আজ দুপুর ২টায় শুরু হতে যাওয়া এ জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি।

বিভাগীয় এ জনসভাকে কেন্দ্র করে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ ও আশপাশের এলাকায় তৈরি করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। মাঠজুড়ে বসানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ফরিদপুরসহ বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলা—ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর থেকে নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামবে এই জনসভায়। এতে লাখো মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

ফরিদপুর জেলা যুবদলের সভাপতি মো. রাজিব হোসেন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন,“তারেক রহমানের ফরিদপুর আগমন আমাদের জন্য ঐতিহাসিক ও প্রেরণাদায়ক একটি ঘটনা। তরুণ প্রজন্মের মাঝে বিএনপির রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এই জনসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যুবদলসহ বিএনপির সব অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে জনসভা সফল করার জন্য কাজ করছে। আমরা আশা করছি, আজকের জনসভা ফরিদপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই জনসভা থেকে তারেক রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন। তরুণ সমাজ তার বক্তব্য থেকে নতুন অনুপ্রেরণা পাবে।”

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আজ নতুন উদ্যমে সংগঠিত হচ্ছে। ফরিদপুরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে তারেক রহমানকে সরাসরি দেখার অপেক্ষায় ছিল। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটছে আজ। আমরা বিশ্বাস করি, এই জনসভা থেকে জনগণ গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও একটি জবাবদিহিমূলক সরকারের পক্ষে আরও ঐক্যবদ্ধ হবে।”

তিনি বলেন, “ফরিদপুর ঐতিহ্যগতভাবে গণতন্ত্রকামী মানুষের এলাকা। আজকের জনসভা প্রমাণ করবে, বিএনপি এখনো জনগণের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক শক্তি। আমরা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি।”

উল্লেখ্য, তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। জনসভা সফল করতে বিএনপির স্থানীয় ইউনিটগুলো একযোগে কাজ করছে। সব মিলিয়ে আজকের জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা।

‘ইনসাফের কথা’

মামুন সিকদার
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৩ এএম
‘ইনসাফের কথা’

মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল,
এক হাদি’কে গুলিবিদ্ধ করে
ক্ষান্ত করিতে পারিবে না বল।

মোরা শত শত হাদি আছি বাংলা জুড়ে
ক’টা গুলি আছে বল? হায়েনার দল,
মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল।

মোরা থামবো না, মোরা থামবো না
ইনসাফের পথে করিবো সংগ্রাম,
বাংলা জুড়ে যারা করে ছল
অপশক্তি বিনাশ করিবো, আমরা আছি যারা।

তবু থামবো না, তবু থামবো না
আসুক যত ঝড় ও তুফান,
মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল।

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সম্পর্কে যা জানা জরুরি: ছড়ায় কীভাবে, লক্ষণ ও প্রতিকার?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০১ এএম
হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সম্পর্কে যা জানা জরুরি: ছড়ায় কীভাবে, লক্ষণ ও প্রতিকার?

হেপাটাইটিস বি একটি মারাত্মক কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য লিভারজনিত ভাইরাস সংক্রমণ। হেপাটাইটিস বি ভাইরাস (HBV) থেকে এ রোগ হয়, যা স্বল্পমেয়াদি (একিউট) কিংবা দীর্ঘস্থায়ী (ক্রনিক) আকার ধারণ করতে পারে। উপসর্গ অনেক সময় দেরিতে প্রকাশ পাওয়ায় একে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘নীরব ঘাতক’ও বলা হয়। বাংলাদেশে এ রোগের প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক বেশি।

চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০০ কোটি মানুষ জীবনের কোনো এক সময়ে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রায় ৩০ কোটি মানুষ দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ নিয়ে বসবাস করছেন। প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় এ রোগের জটিলতায়।

কীভাবে ছড়ায় হেপাটাইটিস বি

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত ও শরীরের অন্যান্য তরলের মাধ্যমে ছড়ায়। যেমন—

সংক্রমিত রক্তের সংস্পর্শ

একই সুচ বা সিরিঞ্জ একাধিকবার ব্যবহার (বিশেষ করে মাদক গ্রহণকারীদের মধ্যে)

অরক্ষিত যৌন সম্পর্ক

প্রসবের সময় মা থেকে শিশুর মধ্যে সংক্রমণ

অনিরাপদ রক্ত সঞ্চালন (বর্তমানে অনেক কম)

ট্যাটু, বডি পিয়ার্সিং বা অনিরাপদ চিকিৎসা ও সার্জিক্যাল যন্ত্র ব্যবহার

টুথব্রাশ, রেজারসহ ব্যক্তিগত সামগ্রী ভাগাভাগি

অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান

স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরাও সংক্রমিত রক্তের সংস্পর্শে এলে ঝুঁকিতে থাকেন।

হেপাটাইটিস বি-এর লক্ষণ

অনেক ক্ষেত্রেই সংক্রমণের পর প্রথম ১–৪ মাস কোনো লক্ষণ বোঝা যায় না। শিশুদের ক্ষেত্রে উপসর্গ একেবারেই নাও থাকতে পারে। তবে সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা

জ্বর

ক্ষুধামান্দ্য

বমি বমি ভাব বা বমি

পেটে ব্যথা

গাঢ় রঙের প্রস্রাব

সন্ধি বা অস্থিসন্ধিতে ব্যথা

ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিস)

রোগ গুরুতর হলে লিভার বিকল হলে মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়

হেপাটাইটিস বি সনাক্ত করতে চিকিৎসকেরা কয়েকটি পরীক্ষার পরামর্শ দেন—

রক্ত পরীক্ষা (HBsAg, অ্যান্টিবডি)

লিভার ফাংশন টেস্ট

পিসিআর টেস্ট (ভাইরাসের পরিমাণ নির্ণয়)

আল্ট্রাসাউন্ড

প্রয়োজনে লিভার বায়োপসি

দ্রুত রোগ সনাক্ত হলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

চিকিৎসা কীভাবে হয়

একিউট হেপাটাইটিস বি:

অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের প্রয়োজন হয় না। বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত পানি গ্রহণই যথেষ্ট।

ক্রনিক হেপাটাইটিস বি:

অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ প্রয়োজন হয়। মুখে খাওয়ার ও ইনজেকশন—দুই ধরনের চিকিৎসাই রয়েছে। মুখে খাওয়ার ওষুধ সাধারণত দীর্ঘদিন বা আজীবন চালিয়ে যেতে হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করলে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। বর্তমানে ব্যবহৃত ওষুধ ভাইরাস পুরোপুরি নির্মূল করতে না পারলেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম।

চিকিৎসার পর সুস্থ থাকতে করণীয়

চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা

পুষ্টিকর ও ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্য গ্রহণ

পর্যাপ্ত পানি পান

অ্যালকোহল পরিহার

নিয়মিত হালকা ব্যায়াম

পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম

উপসর্গ বাড়লে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া

হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়

হেপাটাইটিস বি একটি নিরাপদ ও কার্যকর টিকার মাধ্যমে প্রায় ১০০ শতাংশ প্রতিরোধযোগ্য।

বাংলাদেশে ২০০৩–২০০৫ সাল থেকে ইপিআই কর্মসূচির আওতায় শিশুদের জন্মের পর বিনামূল্যে এ টিকা দেওয়া হচ্ছে। পূর্ণবয়স্করাও যেকোনো বয়সে ০, ১ ও ৬ মাসে মোট ৩ ডোজ টিকা নিয়ে সুরক্ষা পেতে পারেন।

তবে টিকা নেওয়ার আগে রক্ত পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হয়—আগে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন কি না বা শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কি না। একবার সংক্রমিত হলে টিকা আর কার্যকর নয়।

সম্ভাব্য জটিলতা

দীর্ঘস্থায়ী লিভার রোগ

সিরোসিস

লিভার ক্যান্সার

লিভার ফেইলিওর

অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া

বিশেষজ্ঞদের মতে, হেপাটাইটিস বি ভয়ংকর হলেও সময়মতো সচেতনতা, টিকা ও চিকিৎসার মাধ্যমে একে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নিয়মিত পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি মানাই এ রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

সূত্র : যুগান্তর