খুঁজুন
, ,

মাংস খেতে গিয়ে গলায় হাড় বিঁধলে কী করবেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ৭:১৩ পূর্বাহ্ণ
মাংস খেতে গিয়ে গলায় হাড় বিঁধলে কী করবেন?

ঈদুল আজহার আনন্দ মানেই পরিবারের সবাই মিলে বাহারি সব মাংসের পদের স্বাদ নেওয়া। কিন্তু এই উৎসবের আমেজে অনেক সময় অসাবধানতাবশত ঘটে যেতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা। বিশেষ করে তাড়াহুড়া করে মাংস খাওয়ার সময় ছোট বা ধারালো হাড় গলায় আটকে যাওয়া একটি পরিচিত সমস্যা, যা নিয়ে প্রায়ই রোগীদের হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভিড় করতে দেখা যায়।

খাবারের স্বাদে বুঁদ হয়ে ভালোভাবে না চিবিয়ে গিলে ফেলা কিংবা কথা বলতে বলতে খাওয়ার অভ্যাস এই বিপদ ডেকে আনে। এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে ভুল কিছু করে বসলে বিপদ আরও বাড়তে পারে। তাই উৎসবের আনন্দ অটুট রাখতে গলায় হাড় বিঁধলে কী করণীয় আর কখন দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে, সে বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।

খাবার গিলে ফেলার সময় আমাদের মুখ, জিব এবং খাদ্যনালির পেশিগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করে খাবারকে পাকস্থলীতে পৌঁছে দেয়। কিন্তু মাংসের হাড় যদি খুব ছোট বা ধারালো হয় এবং তা ঠিকমতো চিবানো না হয়, তবে পেশির এই প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে এবং হাড়টি গলার কোনো অংশে আটকে যায়। সাধারণত তাড়াহুড়া করে খেলে, খেতে খেতে কথা বললে, বয়স্ক বা শিশুদের ক্ষেত্রে এবং দাঁতের সমস্যা থাকলে এই ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যায়। এছাড়া খুব শুকনা বা শক্ত মাংস খেলেও এমন সমস্যা হতে পারে।

গলায় হাড় বিঁধলে প্রাথমিক পদক্ষেপ

হঠাৎ গলায় হাড় বিঁধলে ঘাবড়ে না গিয়ে নিচের পদক্ষেপগুলো নেওয়া যেতে পারে:

হালকা কাশি দিন: গলায় কিছু আটকেছে মনে হলে প্রথমেই হালকা করে কাশি দেওয়ার চেষ্টা করুন। অনেক সময় কাশির ধাক্কায় ছোট হাড় সরে আসে। তবে খুব জোরে বা মারাত্মভাবে কাশির চেষ্টা করবেন না।

ধীরে ধীরে পানি পান: কয়েক ঢোক পানি খুব ধীরে ধীরে পান করুন, এতে হাড়টি নিচে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে গিলতে খুব বেশি কষ্ট হলে জোর করে পানি খাওয়া ঠিক হবে না।

নরম খাবার খাওয়া: সামান্য পরিমাণ নরম ভাত, কলা বা পানিতে ভেজানো রুটি খেয়ে দেখা যেতে পারে। তবে এটি করার সময় অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে, কারণ ধারালো হাড় হলে তা উল্টো আরও গভীরে গেঁথে যেতে পারে।

অপেক্ষা করুন: অনেক সময় হাড়ের আঁচড় লেগে গলার ভেতরে ক্ষত তৈরি হয়, যার ফলে মনে হয় কিছু আটকে আছে। যদি অস্বস্তি খুব বেশি না হয়, তবে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলে এই অনুভূতি চলে যেতে পারে।

যা করা একদমই উচিত নয়

আতঙ্কিত হয়ে অনেকেই ভুল পদ্ধতি অবলম্বন করেন, যা পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। যেমন:

আঙুল ঢুকিয়ে হাড় বের করার চেষ্টা করা।

শুকনা ভাতের বড় দলা বা শক্ত খাবার জোর করে গেলা।

শিশুদের ক্ষেত্রে নিজে নিজে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ ঘরোয়া সমাধান চেষ্টা করা।

শ্বাসকষ্ট শুরু হলে কালক্ষেপণ করা।

কখন দ্রুত হাসপাতালে যাবেন?

কিছু লক্ষণ দেখা দিলে ঘরোয়া উপায়ের জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যেতে হবে:

শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া বা দম বন্ধ হয়ে আসার অনুভূতি।

কথা বলতে না পারা এবং অতিরিক্ত কাশি হওয়া।

লালা গিলতে প্রচণ্ড ব্যথা বা একেবারেই গিলতে না পারা।

বুকে ব্যথা হওয়া বা মুখ নীলচে হয়ে যাওয়া।

যদি এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে হাড় আটকে থাকার অস্বস্তি বজায় থাকে।

হাসপাতালে চিকিৎসকেরা সাধারণত এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে এই আটকে থাকা হাড় বের করে থাকেন। দেরি করলে খাদ্যনালিতে সংক্রমণ বা গভীর ক্ষত তৈরির ঝুঁকি থাকে।

জরুরি অবস্থা ও হাইমলিখ ম্যানুভার

যদি হাড় বা খাবারের বড় টুকরো শ্বাসনালিতে আটকে গিয়ে ব্যক্তি কথা বলতে বা শ্বাস নিতে না পারেন, তবে এটি একটি চরম জরুরি অবস্থা। এমন সময় আক্রান্ত ব্যক্তিকে সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে পিঠে ৫ বার চাপড় দিতে হবে। এছাড়া জানাশোনা থাকলে ‘হাইমলিখ ম্যানুভার’ (পেটের ওপর বিশেষ পদ্ধতিতে চাপ প্রয়োগ) করা যেতে পারে, যা আটকে থাকা বস্তু বের করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স বা জরুরি চিকিৎসার সহায়তা নিতে হবে।

সতর্কতাই সর্বোত্তম প্রতিরোধ

উৎসবের দিনগুলোতে একটু সতর্ক থাকলেই এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। মাংস খাওয়ার সময় ছোট হাড় আছে কি না তা ভালো করে দেখে নেওয়া এবং প্রতিটি লোকমা ভালোভাবে চিবিয়ে ধীরে ধীরে খাওয়া উচিত। বিশেষ করে পরিবারের শিশু ও বয়স্ক সদস্যদের খাওয়ার সময় বাড়তি নজরদারি রাখা প্রয়োজন। মনে রাখবেন, একটু সচেতনতাই পারে আপনার উৎসবের আনন্দকে নিরাপদ রাখতে।

তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন, ভিনমেক ও মেডিকেল টুডে

আলফাডাঙ্গার ইউএনওর সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদ নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২২ পূর্বাহ্ণ
আলফাডাঙ্গার ইউএনওর সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদ নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জোবায়ের হাবিবের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) নেতৃবৃন্দ।

​বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

​এ সময় ফরিদপুর জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক আজিজ, সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য কৃষিবিদ শাহরিয়ার আজম ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মো. রঞ্জুসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

​সাক্ষাৎকালে নেতারা ইউএনওর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। একই সঙ্গে তারা আলফাডাঙ্গা উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় ও স্থানীয় সমস্যা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

ওজন কমলে শরীরের চর্বি আসলে কোথায় যায়?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০১ পূর্বাহ্ণ
ওজন কমলে শরীরের চর্বি আসলে কোথায় যায়?

ওজন কমলে শরীরের চর্বি আসলে কোথায় যায়? এ প্রশ্নের উত্তর অনেকেরই অজানা। গবেষকদের মতে, শরীরে জমে থাকা চর্বির বড় একটি অংশ শেষ পর্যন্ত শ্বাসের সঙ্গে কার্বন ডাই-অক্সাইড হিসেবে শরীর থেকে বের হয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার (০১ সেপ্টেম্বর) ইউরো নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহামের দুই গবেষক ‘দ্য কনভারসেশন’-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে জানান, শরীরের চর্বি কমার প্রক্রিয়া শুরু হয় যখন খাবার থেকে পাওয়া শক্তির চেয়ে শরীরের শক্তির চাহিদা বেশি হয়। তখন শরীর জমিয়ে রাখা চর্বি থেকে শক্তি নেওয়া শুরু করে।

খাবারের চর্বি হজমের পর ফ্যাটি অ্যাসিডে ভেঙে যায়। শরীর প্রয়োজনীয় অংশ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে। অতিরিক্ত অংশ ট্রাইগ্লিসারাইডে রূপান্তরিত হয়ে চর্বি কোষে জমা থাকে।

শরীরে মূলত দুই ধরনের চর্বি জমে- ত্বকের নিচে থাকা সাবকিউটেনিয়াস ফ্যাট এবং শরীরের ভেতরে বিভিন্ন অঙ্গের চারপাশে জমা ভিসেরাল ফ্যাট।

শরীরে ক্যালরি ঘাটতি তৈরি হলে হরমোন ও স্নায়ুর সংকেতের মাধ্যমে চর্বি কোষে জমে থাকা ট্রাইগ্লিসারাইড ভাঙতে শুরু করে। এরপর ফ্যাটি অ্যাসিড কোষের মাইটোকন্ড্রিয়ায় গিয়ে শক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়। এ সময় কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি তৈরি হয়।

গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, শরীর থেকে হারানো চর্বির প্রায় ৮৪ শতাংশ কার্বন ডাই-অক্সাইডে পরিণত হয়ে শ্বাসের সঙ্গে বের হয়ে যায়। বাকি প্রায় ১৬ শতাংশ পানি হিসেবে ঘাম, প্রস্রাবসহ বিভিন্ন শারীরিক তরলের মাধ্যমে বের হয়।

তবে এই হারগুলো আনুমানিক বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। শরীরের সব ধরনের নির্গমন নির্ভুলভাবে পরিমাপ করা কঠিন।

গবেষকরা আরও বলেন, দ্রুত শ্বাস নিলেই চর্বি কমে না। শ্বাস-প্রশ্বাস চর্বি ভাঙার কারণ নয়; বরং চর্বি ভাঙার পর তৈরি হওয়া পদার্থ শরীর থেকে বের হওয়ার একটি পথ।

শরীরে ক্যালরি ঘাটতি তৈরি করাই চর্বি কমানোর মূল বিষয়। খাবার নিয়ন্ত্রণ ও শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে এই ঘাটতি তৈরি করা যায়।

সূত্র: ইউরো নিউজ

সালথায় আড়াই লাখ টাকার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪৬ অপরাহ্ণ
সালথায় আড়াই লাখ টাকার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ

ফরিদপুরের সালথায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে অন্তত আড়াই লাখ টাকা মূল্যের ৫০টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করা হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মুরাটিয়া বিলে এ অভিযান চালানো হয়। পরে জব্দ করা জালগুলো আইন ও বিধি অনুযায়ী আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

​ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দবির উদ্দিন।

​অভিযানকালে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তরুণ বসু, সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা আনিসুর রহমানসহ পুলিশ বাহিনীর সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

​সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন জানান, চায়না দুয়ারী জাল মাছের পোনা ও জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। দেশে সব ধরনের নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে উপজেলা প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতিতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখবে।

​একই সঙ্গে নিষিদ্ধ জালের অশুভ প্রভাব থেকে দেশীয় প্রজাতি রক্ষায় স্থানীয় সাধারণ জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।