খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬, ৫ চৈত্র, ১৪৩২

৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর গণমাধ্যমে আবারও ‘তৈলাক্ত’ সংবাদের উত্থান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৭ এএম
৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর গণমাধ্যমে আবারও ‘তৈলাক্ত’ সংবাদের উত্থান

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে ৫ই আগস্টের গণ অভ্যুত্থান। ওই দিনের গণআন্দোলনে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক সচেতনতা এবং ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তনের বার্তা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছিল। আন্দোলনের সময় দেশের বেশিরভাগ সংবাদমাধ্যম সাহসী ভূমিকা পালন করে, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা তুলে ধরে এবং জনগণের কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দেয়।

তবে অভ্যুত্থানের পর সময় যত এগিয়েছে, সংবাদ পরিবেশনায় আবারও পুরনো ধারায় ফেরার অভিযোগ উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, একসময় যে গণমাধ্যমগুলো প্রশ্ন করেছিল, জবাবদিহিতা চেয়েছিল, সেগুলোর একটি অংশ এখন আবার ক্ষমতাকেন্দ্রিক ও প্রশংসামুখর প্রতিবেদনে ঝুঁকছে—যাকে অনেকেই ‘তৈলাক্ত সংবাদ’ বলে আখ্যায়িত করছেন।

সম্প্রতি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, টেলিভিশন টকশো ও অনলাইন পোর্টালে সরকারের কিংবা বিভিন্ন বড়ো বড়ো দলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে অতিরিক্ত প্রশংসামূলক শিরোনাম, একপাক্ষিক বিশ্লেষণ এবং সমালোচনাহীন উপস্থাপনা চোখে পড়ছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কিংবা প্রশাসনিক দুর্বলতার মতো বিষয়গুলো তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব পাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

একজন গণমাধ্যম বিশ্লেষক বলেন, “৫ই আগস্টের আগে ও পরে গণমাধ্যমে যে পরিবর্তনের আশা তৈরি হয়েছিল, তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। কিছুদিন সাহসী সাংবাদিকতা দেখা গেলেও এখন আবার নিরাপদ ও সুবিধাভোগী ধারায় ফিরে যাওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট।”

অনেকে মনে করছেন, এর পেছনে রয়েছে বিজ্ঞাপননির্ভরতা, রাজনৈতিক চাপ এবং মালিকানাগত প্রভাব। মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকরা অনেক সময় স্বাধীনভাবে রিপোর্ট করতে চাইলেও ডেস্ক পর্যায়ে গিয়ে সংবাদে কাটছাঁট বা দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটে।

একজন সিনিয়র সাংবাদিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,

“গণ অভ্যুত্থানের সময় আমরা সত্যটা বলার সুযোগ পেয়েছিলাম। কিন্তু এখন আবার সেই সীমাবদ্ধতা ফিরে এসেছে।”

সচেতন মহলের মতে, ৫ই আগস্টের গণ অভ্যুত্থান কেবল একটি দিনের ঘটনা নয়; এটি ছিল গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দাবির বহিঃপ্রকাশ। তাই সংবাদমাধ্যমের কাছ থেকেও মানুষ এখনো একই প্রত্যাশা রাখে—সত্যনিষ্ঠ, সাহসী ও জনস্বার্থকেন্দ্রিক সাংবাদিকতা।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গণমাধ্যম যদি আবারও ক্ষমতার ভাষ্যকে প্রাধান্য দিয়ে জনস্বার্থকে আড়াল করে, তাহলে তা শুধু সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতাই ক্ষুণ্ন করবে না, বরং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকেও বাধাগ্রস্ত করবে।

৫ই আগস্টের গণ অভ্যুত্থান সংবাদমাধ্যমকে নতুন পথ দেখিয়েছিল। এখন প্রশ্ন হলো—গণমাধ্যম সেই পথেই থাকবে, নাকি আবারও ‘তৈলাক্ত সংবাদ’-এর পুরনো চক্রে আবদ্ধ হয়ে পড়বে? এর উত্তরই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতে গণমাধ্যমের ভূমিকা ও জনগণের আস্থা।

চাঁদ দেখা যায়নি, সৌদি আরবে ঈদ শুক্রবার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
চাঁদ দেখা যায়নি, সৌদি আরবে ঈদ শুক্রবার

সৌদি আরবে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে দেশটিতে ১৪৪৭ হিজরি সনের রমজান মাস ৩০ দিনে শেষ হচ্ছে। আর আগামী শুক্রবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন সৌদিবাসী।

বুধবার (১৮ মার্চ) রাতে সৌদির চাঁদ দেখার খবর প্রকাশ করেছে খালিজ টাইমস।

খবরে বলা হয়েছে, সৌদি আরব ঘোষণা করেছে যে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। অর্থাৎ দেশটিতে ২০ মার্চ শুক্রবার হবে ঈদুল ফিতর।

আরবি বর্ষপঞ্জিকা অনুযায়ী, রমজান নবম মাস ও শাওয়াল দশম মাস। শাওয়াল মাসের প্রথম দিন ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়।

সূত্র : খালিজ টাইমস

ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে, বাংলাদেশে কবে?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ৭:২৯ পিএম
ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে, বাংলাদেশে কবে?

পবিত্র ঈদুল ফিতর দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে।  ইতোমধ্যে রাজধানী ছেড়ে গ্রামে ফিরছে মানুষ। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকেই শুরু হয়েছে সরকারি ছুটি। দেশজুড়ে উৎসবের আমেজ চললেও সবার মনে এখন একটাই প্রশ্ন– ঈদ কবে?

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পবিত্র ঈদুল ফিতর আগামী ২০ মার্চ (শুক্রবার) উদ্‌যাপিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

এমিরেটস অ্যাস্ট্রোনমি সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান জানিয়েছেন, এবার আরব দেশগুলোতে রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

আগামী বুধবার (১৮ মার্চ) আরব বিশ্বের আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। ফলে শুক্রবার সেখানে ঈদের দিন হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট আগামী বুধবার সন্ধ্যায় দেশটির নাগরিকদের চাঁদ দেখার আহ্বান জানিয়েছে। যদি বুধবার চাঁদ দেখা যায় তবে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সেখানে ঈদ হবে, অন্যথায় শুক্রবার।

বাংলাদেশে ঈদ কবে?

ভৌগোলিক নিয়মানুযায়ী, বাংলাদেশে সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের একদিন পর ঈদ উদ্‌যাপিত হয়। সেই হিসেবে বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে আগামী ২১ মার্চ (শনিবার)।

প্রবাসী থেকে ঘরমুখো মানুষ—সবার নিরাপত্তায় সরকার কাজ করছে: শামা ওবায়েদ

ফরিদপুর ও সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ৬:৫২ পিএম
প্রবাসী থেকে ঘরমুখো মানুষ—সবার নিরাপত্তায় সরকার কাজ করছে: শামা ওবায়েদ

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে, সে লক্ষ্যে সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেল ৩টার দিকে ফরিদপুরের সালথা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে দুস্থ ও অসহায়দের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

তিনি বলেন, “ঈদযাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক তদারকি জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা নিজ নিজ এলাকায় বাসস্ট্যান্ড, টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করছেন। আমাদের লক্ষ্য—সাধারণ মানুষ যেন কোনো ভোগান্তি ছাড়াই নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন এবং পরিবারের সঙ্গে আনন্দঘন পরিবেশে ঈদ উদযাপন করতে পারেন।”

দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি মহাসড়কে যানজট নিরসন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে একটি জটিল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নিবিড়ভাবে কাজ করছে। যারা দেশে ফিরতে ইচ্ছুক কিন্তু এখনো ফিরতে পারেননি, তাদের দ্রুত দেশে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক ঘটনায় নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রমও চলছে। “নিহতদের মধ্যে ইতোমধ্যে একজনের মরদেহ দেশে আনা হয়েছে, বাকিদের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে,”—যোগ করেন তিনি।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিষয়ে তিনি বলেন, “বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্বাভাবিক কোনো বৃদ্ধি হয়নি এবং জ্বালানি তেলের দামও স্থিতিশীল রয়েছে। সরকার এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেই বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, সহ-সভাপতি শাহিন মাতুব্বর, সাবেক চেয়ারম্যান ওয়াহিদুজ্জামান, ভাইস চেয়ারম্যান আসাদ মাতুব্বরসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ।